রিনির গুপ্তকথা/বিশ্বজিৎ রায়

চতুর্থ পর্ব


আগের তিন- কিস্তিতে যা ঘটেছে
রিনি স্কুলমাস্টারি করবে না । কলকাতায় একটা বাড়ি ভাড়া করে থাকে । এটা-ওটা করে চলে যায় । স্কুটি চালিয়ে রবিবারের সন্ধেবেলা বন্ধুনিদের বাড়িতে আড্ডা দিতে যায় – এ তাদের স্ট্যাগ পার্টি । এম কে কলকাতাতে থাকে । থাকে নতুন গড়ে ওঠা আকাশ ছোঁয়া বহুতলে । শরীর নিয়ে তার কোনও ইনিহিবিশান নেই, উদাসীনতা আছে । খেলতে খেলতে রাতশয্যা থেকে সহসা উঠে যেতে পারে এই উদাসীন অ্যাডগুরু । তার নতুন অ্যাডের জন্য মুখ খুঁজছে সে ।

চার
বিকেলে বারান্দায় অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকেন মিনতি । বারান্দাটা খুব বড়ো নয় – তবে আজকালকার ফ্ল্যাটের একফালির থেকে বড়ো । রিটায়ারমেন্টের পরে হলেও নিজেদের বানানো বাড়ি তো । তাই ফ্ল্যাটের সংকীর্ণ ব্যালকনির থেকে নিজের বাড়ির বারান্দা তাঁরা একটু বড়োই বানিয়েছিলেন । ওনার অবশ্য আরও বড়ো করার ইচ্ছে ছিল, মিনতি রাজি হয়নি । বারান্দার পেছনে আরও হাজার দশেক ঢালার মানে হয় না । তখন এমন দ্রুতহারে ফ্ল্যাট তৈরি হত না । তবে ফ্ল্যাটের ব্যালকনি কেমন হয় তার একটা আন্দাজ মিনতিরা পেয়েছিলেন দিদি-জামাইবাবুর কলকাতার ফ্ল্যাট থেকে । ফ্ল্যাট ছোটো বলে দিদি জামাইবাবুর মনে গভীর বেদনা ছিল । কর্পোরেশনের চাকুরে জামাইবাবু খুবই কালীভক্ত ছিলেন । শনি-মঙ্গলে কালীঘাট আর দক্ষিণেশ্বর বাঁধা ছিল । কালী ঠাকুরকে খুবই নিয়মিত পেঁড়া খাওয়াতেন । তবু কালী কোনও অজ্ঞাত কারণে তাঁর জন্য লটারিতে বড়ো ফ্ল্যাট বরাদ্দ করেননি । এতে জামাইবাবু মনে ও মুখে রীতিমতো ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন । তবে পুজো ছেড়ে দেননি । অনেকদিনের অভ্যেস । তাছাড়া লটারিতে বড়ো ফ্ল্যাট দিলে না, কিন্তু ছোটো তো দিয়েছ । সেটাও যদি না উঠত । সুতরাং কালীপুজো চলল । পুজো করলে রিটায়ারমেন্টের পর আর কিছু না হোক সময় কেটে যায় ।
মিনতিদের এই একতলা বাড়িটা বানিয়েছিল ধীরেন মোদক । এ পাড়ায় তখন তার এক-চেটিয়া কন্ট্রাকটারির ব্যবসা । সকালে একটা বাঁধা-ধরা রিকশা করে ধীরেন মোদক পাড়ায় বেরিয়ে পড়ত। ধীরেন মোদকের রিকশা সবাই চিনত । ধুতি আর ঘি রঙের পাঞ্জাবি । মাথায় টাক । হাতে একটা থলে থাকত ধীরেন মোদকের । সে থলেতে দরকারি কাগজপত্র । তাতে মিউনিসিপ্যালিটির পাশ করা বাড়ির প্ল্যান-ট্যানও থাকত । মিনতির মনে পড়ে উনি ধীরেন মোদককে রুমালে বেঁধে টাকা দিতেন । একসঙ্গে এতগুলো টাকা কখনও এর আগে তারা চোখে দেখেনি । দেখা সম্ভবও ছিল না । কত টাকাই বা বেতন পেতেন ! প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় বাড়ি । রিটায়ারমেন্টের পর টাকা এল কিন্তু থাকল না, বাড়ির পেছনে চলে গেল । ধীরেন মোদক বিচিত্র কায়দায় টাকা গুনত । প্রথমে টাকার বান্ডিলের খোলা দিকটা অনেকটা তাস বাঁটবার কায়দায় ফরফরিয়ে নিত । তারপর গোনা শুরু । স্পঞ্জের জলের বালাই ছিল না, টাকার গায়ে টাকা আটকে গেলে তর্জনীতে থুতু লাগিয়ে সেই আঙুল বুলিয়ে টাকার শরীর অন্য টাকার থেকে আলাদা করে দিত । এটা খুবই নোংরা লাগত মিনতির । ধীরেন মোদক তোতলা ছিল । মাঝে মাঝেই কথা আটকে যেত । আটকে যাওয়া কথা যখন ফের চালু হত তখন সঙ্গে খানিকটা থুতুবৃষ্টি বিনামূল্যে পাওয়া যেত । আজকাল মিনতির মনে হয় এ বাড়িটা না করলেই বুঝি ভালো ছিল । উনিও চলে গেলেন – মিনতিও বাড়িতে আটকা পড়ে গেল । যতই হোক নিজের বাড়ি, ভাড়া তো আর নয় । বন্ধ করে চলে যাওয়া যায় না । এখন ধীরেন মোদকের অনেক বয়স । ফ্ল্যাট ধীরেন মোদক বানায় না । ধীরেন মোদকের রিকশার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে রাস্তার নালিতে যে ছেলেটা কিশোরবেলায় হিসু করত সেই শিবু এখন এ পাড়ার প্রমোটার । ও পার্টির অফিসে বসত না, এ পার্টির অফিসে মাস গেলে দিয়ে গুনে প্রণামী দিয়ে আসে ।
একটা বেঞ্চি বারান্দার গ্রিলের দিকে ঠেস দিয়ে রাখা । বেঞ্চির তলায় জুতো থাকে । আগে তিনজোড়া রোজের ব্যবহারের জুতো থাকত । এখন সেটা দুয়ে ঠেকেছে । তার মধ্যে দু-নম্বরটা এখন খুব একটা কাজে লাগে না । মাসে একবার, কোনও কোনও মাসে দু-বার । জোড়ার তিন-নম্বরটা মুছে একটা বাক্সে ঢুকিয়ে দিতে বলেছিলেন কাজের মেয়েটিকে – ওটাতো আর লাগবেই না । অনেকে বলেছিল, ‘চলে যাওয়া মানুষের ব্যবহার করা জিনিস বাড়িতে রাখতে নেই, চলে যাওয়া মানুষের ছায়া, মায়ায় মায়ায় ঘুর ঘুর করে । তাই বন্ধন কাটানোর জন্য কাউকে দিয়ে দিতে হয়।’ কিন্তু কাকেই বা দেবেন ! তাই মুছে জুতোর বাক্সে ঢুকিয়ে দিতে বলেছিলেন । থাক ওটা । মায়া হোক ছায়া হোক যদি থাকার হয় বাড়িতেই না হয় রইল । বেঞ্চি রাখার পর বারান্দায় যেটুকু জায়গা আছে সেখানে চার-পাঁচজন মানুষ পাশাপাশি বসতে পারে । তবে আজকাল আর অতো পাশাপাশি বসে থাকার মানুষ কার বাড়িতেই বা থাকে ! কোনাকুনি করে বারান্দায় একটা নাইলনের দড়ি টাঙানো । তাতে একটা গামছা ঝুলছে । ফাঁকা মেঝেতে শুধু মিনতির পা । আজকাল অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসলে ফুলে যায় । কেমন যেন রসস্থ। বয়স হচ্ছে । নানারকম ভাবনা ।
মফঃস্বলের বিকেলগুলোর চরিত্র এখনও খুব বদলে যায়নি । কলকাতা থেকে খুব দূরবর্তী নয় ট্রেন লাইনের ধারে-ধারের এই শহরতলি । একদিকে গঙ্গা । বিকেলবেলায় লোকাল ট্রেন থেকে নেমে আসেন শহরতলির মানুষেরা । কলকাতা থেকে তখন তাদের অফিস শেষে বাড়ি ফেরার সময় । সকালে যখন যাচ্ছিলেন অফিসে তখন তাদের ফুরসুত ছিল না । ফেরার সময় অলস ভঙ্গি । সবাই যে হেঁটে আসেন তা নয় । অনেকেরই সাইকেল স্টেশনের স্ট্যান্ডে রাখা থাকে । তবে সেই সাইকেলের শরীরেও তখন বাড়ি ফেরার আলস্যি লেগেছে । ঘরে ফেরার টান আছে তবে সেই টান শরীরের মধ্যে তেমন গতি সঞ্চার করে না । অলস বিষণ্ণতা । হয়তো সাত পাঁচ চিন্তা মধ্যবিত্তের মাথায় ঘোরে । ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা, সংসার খরচ, পরদিনের অফিস । স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের দিক থেকে বাইরে এলেই একটা মস্ত অশত্থগাছ । কতদিনের কে জানে ? মিনতির থেকে সে গাছ বয়সে অনেক অনেক বড়ো । বিকেলে ঘরে ফেরা পাখিগুলো কিচকিচ করতে থাকে । সে গাছতলায় একটা তেলেভাজার দোকান । সে দোকানের মাথায় নীলরঙা ত্রেপল । নিচে একটা পাতা-উনুন । উনুনের পাশে দু-সারি ইঁটের ওপর একটা কাঠের পাটাতন । সেই পাটাতনের ওপর তেলেভাজার সরঞ্জাম আর তেলেভাজাওয়ালা বসে । দুপুরটুকু বাদ দিয়ে সারাদিন সে দোকানের উনুনে কড়া চাপানো । তেলেভাজাওয়ালা টুপটুপ করে কড়ায় ফেলছে আলুর চপ, বেগুনি, ফুলুরি । বিকেলবেলায় ট্রেন থেকে নেমে ঘরের মানুষেরা দোকানের সামনে লাইন দিয়ে তেলেভাজা কেনেন । তেলেভাজাওয়ালার তখন নিঃশ্বাস ফেলারও সময় নেই । বড়ো লোহার কড়াইতে আলুর চপ ছেড়ে দিয়ে সে আর একটু বেসন গুলে নিল । একটা প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে বেসন রাখা থাকে । বড়ো লোহার সানচা কড়ার ওপরে উলটে রেখে দ্রুত বাঁ হাতে বেসনের প্যাকেটের ‘গার্ডার’ খোলে । তারপর অনেকটা বেসন ঢেলে দেয় অ্যালুমিনিয়ামের বড়ো ডেকচিতে । ভালো করে ফেটায় । ফেটানো হয়ে গেলে লম্বা ফালি বেগুনগুলো একটা একটা করে ফেলে দেয় বেসনের গামলায় । আলুটা উঠলে তারপর বেগুনি ছাড়বে । দোকানের ছেলেটা তেলেভাজাওয়ালার দিকে ঝুড়িটা এগিয়ে দেয় । আলুর চপগুলো তখন রাঙা হয়ে উঠছে ।
মিনতি আগে ওনার সঙ্গে স্টেশনের দিকে টুকটাক বাজার করতে গেলেই তেলেভাজা কিনে বাড়ি ফিরতেন । রিনি তেলেভাজা খেতে ভালোবাসত । এখন অবশ্য খায় না । মেয়েটা অনেক বদলে গেছে । মিনতি মেয়েকে খুব একটা বুঝতে পারেন না । মাঝে মাঝে অনেক দূরের মনে হয় । আগে মাঝে মাঝে খুব ভয় হত । গলায় জমে উঠত চাপা কান্নার দলা । এখন সয়ে গেছে । মেনে নিয়েছেন । তবে কষ্টটা আছে । সেটা সবসময় প্রকাশ করেন না । প্রকাশ না করলেও মুখে সে কষ্ট বিষণ্ণতা হয়ে লেগে থাকে । রিনি তা টের পায় । তবে সামনা-সামনি কিছু আর বলে না । আগে তিনি বলে ফেলতেন, রিনিও । ফলে কথা কাটাকাটি, ভুল বোঝাবুঝি । এখন আর কেউই কাউকে কিছু বলে না – ফলে স্থিতাবস্থা বজায় আছে । রিনি যে খারাপ কিছু করছে তা হয়ত নয় তবে তিনি রিনিকে যেভাবে দেখতে চেয়েছিলেন সেই চেহারায় রিনি ধরা দেয়নি । দুঃখ সে জন্যই, ধরা না দেওয়ার জন্য । তারা ছোটোবেলায় এমন অবাধ্যতার কথা ভাবতেই পারত না । মিনতির বাবা-মা মিনতিকে যে চেহারায় দেখতে চেয়েছিলেন মিনতি সেই চেহারাতেই আজীবন ধরা দিয়েছেন । ধরা দেওয়াটাই তখন দস্তুর ছিল । রিনিদের সময়টা অবশ্য আলাদা । কত কিছু গেল, কত কিছু এল । কত নতুন নতুন যন্ত্র, খোলা ও খোলস । ভাবলে থই-কুল মেলে না । মিনতি আর ভাবেন না তাই । নীরবে নিজের বাড়িতে কাটিয়ে দেন । অশান্তি করে কী লাভ ! রিনির বিয়ের জন্য টাকা গয়না রাখা আছে । মেয়েটার এদিকটাও তিনি বুঝতে পারেন না । আলগা চটক আছে রিনির । ছেলেরা পছন্দও করে । তবে রিনি তো কারও সঙ্গেই লেগে থাকে না । আঠা নেই যেন । হ্যা হ্যা করছে মোবাইলে । ওই পর্যন্ত । মিনতি চোখ বুজলে কী যে হবে ! থাকতে থাকতে রিনির বিয়েটা হলে ! এক-দুবার বলার চেষ্টা করেছিলেন মুখ ফুটে । রিনির মুখ চোখ দেখে আর সাহস করেননি । মাসে একবার কোনও কোনও মাসে দুবার আসে । বাজার ওষুধ কিনে দেয় । চাকরি করে না তেমন পাকা-পোক্ত, তবে উপার্জন করে । ওই ফ্রি- ল্যান্সিং না কী যেন বলে রিনি । এই কাগজে টাগজে লেখা । প্রোজেক্ট-মোজেক্ট কী সব যেন । মিনতি বোঝেন না খুব ভালো । তবে বোঝেন মেয়ে চালিয়ে নিচ্ছে । তাঁর গলগ্রহ নয় । তাই অশান্তি এড়িয়ে চলেন মিনতি । বাড়িতে শান্তিটা থাক । সবসময় মায়ে-মেয়ে কথা কাটাকাটি পাড়ার লোকজনই বা কী বলবে !
স্থিতাবস্থা টিকে থাকার জন্য জরুরি তবে টিকে থাকাকে বেঁচে থাকা বলে কি না কে জানে ! মিনতি আগে মোটা মোটা শাঁখা পরতে খুব ভালোবাসতেন । সাদা শাঁখা । একটুও মালিন্য নেই । সুন্দর কাজ করা । এই কলকাতার কাছেই মফস্বলে গঙ্গার ধারে কালিবাড়ি । কালিবাড়ির বাঁধানো উঠোনে নানারকম দোকান । ফুলের, কাপড়ের, দশকর্মার, শাঁখার । তার মধ্যে একটা দোকান থেকে শাঁখা কিনতেন মিনতি, লোকটা চেনা । যে পাড়াতে মিনতিরা ভাড়া থাকত সেই পাড়াতেই একটা ছোটো খাপরার বাড়িতে থাকত সেই শাঁখাওয়ালা । একঘরের সেই বাড়িতে শাঁখাওয়ালা আর শাঁখাওয়ালার বউ । বউটি মাঝে মাঝে মিনতির কাছে দুপুর বেলায় আসত । উনি অফিসে । রিনি স্কুলে । শাঁখাওয়ালার বউ এসে একটু তেল চাইত, কোনও কোনও দিন দুটো আলু । কথায় কথায় জেনেছিলেন মেয়েটি বড়লোকের বাড়ির মেয়ে । কালীবাড়িতে পুজো দিতে গিয়েছিল মায়ের সঙ্গে । মেয়েকে নিয়ে পুজো দিয়ে ফেরার পথে মা শাঁখা কিনছিলেন । আর তখনই সেই যুবক শাঁখাওয়ালার কী যে হল ! আইবুড়ো মেয়েটিকে শাঁখা পরিয়ে দিল । ঠিক যেন গল্পকথা । শাঁখা যখন পরিয়ে দিয়েছে তখন তো বিয়ে হয়ে গেল । এই ছিল নাকি বিশ্বাস । শুনে মিনতি বিশ্বাস করতে চাননি । ‘হ্যাঁ গো বউদি তাই । আমার বাবা-মা খুব রেগে গেল । পাড়ার ছেলেরা তো শাঁখাওয়ালা যুবককে এই মারে তো সেই মারে । সে মুখ নিচু করে থাকে । কিছু বলে না । মারতে উদ্যত হলে মার খাওয়ার জন্য নিজেকে এগিয়ে দেয় । আমারও তখন কেমন যেন হল । আমি বললাম আমি ওই ছেলেকে ছাড়া বিয়ে করব না । তা আমার বাবা-মা কী আর করে । শাঁখাওয়ালার অবস্থা ভালো নয় , কিন্তু মনটা বড়ো । চলে যাচ্ছে গো । শাঁখার তো আর আগের মতো বিক্রি নেই । তোমাদের মতো আছে কিছু খদ্দের।’ মিনতি আলুর সঙ্গে দুটো পটলও দিয়ে দিতেন । মনে হত তাঁর অভাব থাকতে পারে কিন্তু শাঁখাওয়ালা আর তার বউ বেঁচে আছে । আচ্ছা তিনি আর রিনি কি বেঁচে আছেন ! নাকি তাঁদের সম্পর্ক টিকে আছে শুধু । ষাট ষাট । নিজের অজান্তেই কপালে একবার হাত ঠেকান, প্রণামের ভঙ্গি । সন্ধেবেলা বারান্দায় বড্ড মশা । আর বসা যায় না । আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকে পড়েন মিনতি । ঘরের আলো জ্বেলে দিলেন । উনি চলে যাওয়ার পর আর শাঁখা পরেন না মিনতি, পরার কথাও নয় । শাঁখা খুলতে খুব মনে লেগেছিল তাঁর । রিনি বোধহয় সামনের শনি-রবি আসবে । এলে একবার বলবেন শাঁখাওয়ালার বউয়ের খোঁজ নিতে । পুরনো পাড়াটা তো এ বাড়ি থেকে খুব দূরে নয় । সন্ধেবেলার টিভির দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে যান মিনতি ।
(চলবে)

আপনার মতামত জানান