‘মহারাজ’ আপনাকে লিখছি...

সুশোভন


প্রিয় দাদা,
বিনা অনুমতি তে ‘দাদা’ সম্বোধনের ধৃষ্টতা নিজগুণে মার্জনা করবেন। আসলে দীর্ঘদিন ধরেই আপামর বাঙালির কপিরাইটচিত ‘দাদা’তো আপনিই । তাই আশাকরি এই অযাচিত সম্বোধনে, আপনার বিশ্বজোড়া খ্যাতির অমৃত- সুধায় নতুন করে আর কোন চোনা মিশে যাবে না। তবে হ্যাঁ, আপনার জনপ্রিয় টিভি রিয়েলিটি শো’র বিভিন্ন প্রতিযোগীরা যেমন প্রথম সাক্ষাতেই আপনাকে ‘বড় আপন’ মনে করে, ‘তুমি’ সম্বোধন করে বসেন, এই অধমের সেই গায়ে- পড়া বিদ্যায় যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। সেই সংকোচ বোধ থেকেই ‘আপনি’ সম্বোধন।
আপনার সাথে পরিচয়ের সৌভাগ্য আমার হয়নি। আপনাকে অল্প- বিস্তর যতটুকু জেনেছি বা চিনেছি, সবটাই ঐ বোকা- বাক্সের দৌলতে। কখনও বাইশ গজের কাব্যে, কখনও পোস্ট বা প্রি- ম্যাচ ইন্টার্ভিউর নির্ভীক বিশ্লেষণে, কখনও কমেন্ট্রি বক্সের তীক্ষ্ণ বাগ্মিতায় আবার কখনও টিভি চ্যানেলের অসাধারণ সঞ্চালনায়। আমি অবশ্যই আপনার গুণমুগ্ধ, কিন্তু ‘সৌরভ গাঙ্গুলি’ সম্পর্কিত বাঙালির ব্যাপক উন্মাদনা ও প্রবল উচ্ছ্বাসের শরিক আমি নই। কোনদিনই ছিলাম না। তবুও, আমারও, গত কয়েকদিনের ঘটনা প্রবাহের নিরিখে আপনাকে একটু অচেনা, অজানা ঠেকেছে। আর তাই কয়েকটি বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই পত্রের অবতারণা।
ক্রিকেটের ‘মক্কায়’ আপনার যখন স্বপ্নের অভিষেক হচ্ছে, আমি তখন সবে নয়। ‘ইট ক্রিকেট, স্লিপ ক্রিকেট ড্রিঙ্ক অনলি কোকাকোলা’র দেশে আর পাঁচটা সাধারণ মধ্যবিত্ত ভারতবাসীর মত ক্রিকেট তখন আমারও ধর্ম। আপনি লর্ডস টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন। বল হাতে গ্রেম হিক, নাসের হুসেনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিলেন। খুশির স্রোত বয়ে গেলো দার্জিলিং থেকে সুন্দরবনে। ট্রেন্টব্রিজে আবারও সেঞ্চুরি। আরও তিনটি উইকেট। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় যাকে বলে ‘ম্যান উইথ অ্যা গোল্ডেন আর্ম’। আমাদের ছোট্ট গাঁয়ে কোন কেবেল কানেকশন ছিল না। তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে নিয়ম করে সংবাদপত্রের খেলার পাতা গুলো পড়তে গিয়ে খেয়াল করলাম, আপনার ১৩৬’র জন্য বরাদ্দ সিক্সটি পয়েন্টের হেডিং, ফ্রন্ট পেজে ছবি, ব্যাক পেজে আরও একটা। সাতের পাতায় আপনার সুখী পরিবারের মিষ্টি বিতরণের খবর। বাংলা সংবাদ মাধ্যমের প্রবল ক্রিকেট-ভাবাবেগে খড়কুটোর মত ভেসে গিয়েছিলো শচীনের ১৭৭’র খবরটাও। আপন গতিতে ভেসে গেছে সময়ও, জীবন এগিয়েছে, ক্রিকেট সম্পর্কে আমার পাগলামি কর্পূরের মত উবে গেছে, মুক্তমনে নিছক একটা খেলা হিসেবেই ক্রিকেট কে বোঝার-জানার-শেখার চেষ্টা করেছি। আপনি তখন, ক্রিকেট জগতের এক একটি কঠিন সিঁড়ি অবহেলায় টপকে যাচ্ছেন, নিত্য নতুন কৃতিত্বের পালক যুক্ত হচ্ছে আপনার মুকুটে। ভারতীয় ক্রিকেটের কালো দিনে অধিনায়ক হয়ে, বেটিং ‘র লজ্জা থেকে টেনে তুলে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। মুলতান-রাওয়ালপিন্ডি-হ রারে-অ্যাডিলেডে বধ্যভূমিতে টেস্ট জিতিয়ে চমকে দিচ্ছেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে। গাব্বার বাউন্স সামলে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস উপহার দিচ্ছেন। বিতর্কও কিছু ছিল। অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন। দল থেকে অনভিপ্রেত কারণে বাদও পড়েছেন। আবার দাঁতে দাঁত চেপে, লড়াই করে, সাফল্য, দক্ষতা, দায়বদ্ধতা আর ব্যক্তিত্বের চওড়া ব্যাটে বলের লেন্থে পৌঁছে গিয়ে সব প্রতিকূলতা কে স্টেপ আউট করে মাঠের বাইরে ফেলে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়কও হয়েছেন। ভারতবর্ষের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারও। তবে মার্জনা করবেন, আমার অতি সীমিত ক্রিকেট বুদ্ধি দিয়ে আমি আপনাকে কখনই বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মনে করতাম না। এখনও করি না। অবশ্যই তাতে কিছু যায় আসেও না।
সফল ক্রিকেট কেরিয়ারের শেষে আপনি একজন অত্যন্ত দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত দশভুজ পেশাদার। সফল ব্যবসায়ী, বিলাসবহুল ফুটবল লিগের সফল টিমের ফ্রাঞ্চাইজি, সিএবি’র যুগ্ম সচিব, জনপ্রিয় স্পোর্টস চ্যানেলের বাগ্মী ধারাভাষ্যকার এবং একাধিক রিয়েলিটি শো’র সঞ্চালক। এ পর্যন্ত বেশ চলছিলো। কিন্তু বোর্ড প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর তিনদিনের মাথায় আপনি যেভাবে বাংলার ক্রিকেটের মাথায় চেপে বসলেন বা আপনাকে বসানো হল তাতেই বোধহয় প্রথম একটু তাল কাটল। আপামর বাঙালির হিমালয়সম আবেগ কোথায় যেন একটু ধাক্কা খেলো। কারণ বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ নবান্নের ঝাঁ চকচকে ১৬ তালা থেকে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী যখন ঘোষণা করে দিলেন যে, আপনিই নতুন সিএবি প্রেসিডেন্ট, তখন ব্যাট-প্যাডের মধ্যে টেকনিক্যালি একটা গ্যাপ কিন্তু রয়েই গেলো। আর কপিবুকে স্টাইলে, সেটা যে ভালো ব্যাটসম্যানের লক্ষণ নয় সেটা নিশ্চয় আপনি বিলক্ষণই জানেন। বাস্তবিক অর্থেই ২০০৬’র মহাকরণের অলিন্দ থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সিএবি নির্বাচন সম্পর্কিত অনুচিত মন্তব্যের থেকে অনেক গুণ বেশী বিপজ্জনক পথ অবলম্বন করে ঐ মুকুট চাপল আপনার মাথায়।
রাজনীতির কথা না হয় আপাতত বাদই দিলাম কিন্তু তারপরেও তো কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। ভারতীয় খেলাধুলার ইতিহাসে এমন নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ, আঁচল ধরে চেয়ারে বসা আদেও কি আপনার নিজের সম্মানের পক্ষে উৎকর্ষ বিজ্ঞাপন? দেশের একাধিক স্বয়ংশাসিত ক্রীড়া সংস্থাকে যখন নগ্ন সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থা সাসপেন্ড করেছে তখন এই মনোনয়ন কি ‘অবস্ত্রাক্টিং দি ফিল্ড’র আওতায় পড়ে না? ইডেন গার্ডেনসের ক্লাব -হাউস যদি সিএববি’র প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারই না হবে তাহলে কি সেখানে শুধুই বিজল গ্রিলের লাঞ্চ প্যাক পাওয়া যাবে? আপনি তো বেশ কিছুদিন সিএবি’র যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন, সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মৃত্যুর ষাট দিনের মধ্যে বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে প্রেসিডেন্ট পদে অনুমোদন করানোর নিয়ম কি নেই? সেখানে আপনার বিপক্ষে কেউ দাঁড়ালে কি নির্বাচনও কি সম্ভব ছিল না? এসবই আপনার অজানা? সত্যি বিশ্বাস করা কঠিন। আর তাহলে সভা নেই, নির্বাচন নেই ---মুখ্যমন্ত্রী আর আপনারা ৪ জন কর্তা মিলে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে ১২১ জন ভোটারের রায় এ ভাবে ঠিক করে দিলেন? অন্যায় ভাবে আপনাকে দল থেকে বাদ দেওয়া যদি লবি-বাজি হয়ে থাকে দাদা, তাহলে এটা কি? লবি-বাজি নয়? আপনিই নিশ্চয় জানেন, আপনার সতীর্থ, ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার, অনিল কুম্বলে এখন কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাশোশিয়েশেনের প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। কিভাবে? মহীশুরের দোর্দণ্ড প্রতাপ প্রাক্তন রাজা শ্রীকান্ত দত্ত নরসিংহ ওয়াডিয়রকে ভোটে ২২-২ ব্যবধানে হারিয়েই। মুখ্যমন্ত্রীর দয়াই নয় কিন্তু।
যদিও একজন সফল \'ক্রিকেটার\', একজন সফল \'অধিনায়ক\', সফল ক্রিকেট প্রশাসকও হবেন এমন কোন নিশ্চয়তা নেই তবুও আমি তর্কের খাতিরে না হয় ধরেই নিলাম আপনিই সিএবি প্রেসিডেন্টের হওয়ার ‘আদর্শ’ এবং ‘যোগ্য’ দাবিদার। কিন্তু ক্রিকেটের মাঠে এবং এই হতভাগা দেশের নির্বাচনী গঠনতন্ত্রে আদর্শবান \'যোগ্যতমের উদ্বর্তন\' হবেই এমন ডারউইনোচিত বিবর্তনবাদে কোন নিশ্চয়তা তো নেই। যেমন ধরুন আগের বছরের ইংল্যান্ড সিরিজের এজবাস্টনে প্রথম টেস্ট তখন ড্র’র দিকে আগাচ্ছে। আপনি কমেন্ট্রি বক্সে বসে বললেন... “ইংল্যান্ড নিডস আ স্পিনার”...। আপনার সহ ধারাভাষ্যকার মঈন আলির কথা উল্লেখ করলেও আপনি বলেন “আই রিপিট। ইংল্যান্ড নিডস আ স্পিনার”। অথচ \'ভাগ্যের\' কি নিদারুন পরিহাস দেখুন, সিরিজ শুরুতে আপনি যাকে ‘অযোগ্য’ বলে মনে করেছিলেন সেই মঈন আলিই কিনা চারটি টেস্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, ১৫টি উইকেট নিয়ে শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইন- আপের মেরুদণ্ডই ভেঙ্গে দিলেন। আসলে ‘ক্রিকেট ইস অ্যা ক্রুয়েল গেম’। অ্যান্ড সো ইস \'রাজনীতি\'। নাহলে কি আর পরিবর্তনকামী বঙ্গবাসী কে আজ পিস্তল উঁচিয়ে মিছিলের সাক্ষী থাকতে হয়? তাই যে পরীক্ষা হলই না তার ‘যোগ্য’, ‘অযোগ্য’ বিচার করব কি করে? আর যোগ্যতমের উদ্বর্তনটাও কিন্তু একটা লড়াই। একটা সংগ্রাম। যিনি বিশ্বজুড়ে অশ্ব-মেধের ঘোড়া ছোটানো অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক কে পিচের মাঝে টসের জন্য দাড় করিয়ে রাখতে পারেন, যিনি লর্ডসের ব্যালকনি থেকে জার্সি ঘুরিয়ে গোরাদের যোগ্য জবাব দিতে পারেন, যিনি ফলো-অনের পরও ম্যাচ জেতার সাহস দেখাতে পারেন, তিনি এই ‘তুচ্ছ’ লড়াইয়ে ভয় পেয়ে গেলেন? মেনে নিতে কষ্ট তো হবেই। আর আপনার কথা না হয় ছেড়েই দিলাম কিন্তু কোন অলৌকিক ক্ষমতাবলে, যে জগমোহন ডালমিয়া বরাবর চেয়েছিলেন রাজনীতি যেন কখনই ক্রিকেট প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক না হয়ে উঠুক, তার পুত্র অভিষেক নতুন যুগ্ম-সচিব হলেন ? কে এই অভিষেক? সিএবি’র কোনও পদাধিকারী ছিলেন উনি? কোনও ক্লাবে কাজ করেছেন? আপনার মত তারও কি নির্বাচনের কোন প্রয়োজন নেই? তাহলে সিএববি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তার নির্বাচন কি এবার থেকে কালীঘাটের ভাইপোদের উত্থানের স্টাইলেই হবে? কাজেই যে বিপজ্জনক পথে আপনার ক্ষমতায়ন হল, সেই পথ কিন্তু \'যোগ্যতমের উদ্বর্তন\' নিশ্চিত করে না।
এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের শুরুতেই, আপনি নিখুঁত ভাবে দর্শকদের জন্য বুঝিয়ে দিলেন, শিখর ধাওয়ান যখন ফ্রন্টফুটে খেলেন, কভার ড্রাইভ, স্কয়ার ড্রাইভে মাথা ঝুঁকিয়ে শরীরের ওজন সামনের পায়ে ট্রান্সফার করেন, তখন তাঁর খেলাই বদলে যায়। অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেলো আপনার বিশ্লেষণ। ডেল স্টেইন মর্নে মর্কেলের আগুনে পেসের সামনে মেলবোর্নে বুক চিতিয়ে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি করলো শিখর। আর সেই আপনিই কিনা এখন ফুটওয়ার্ক ভুল করে বারবার \'করিডর অফ আন সার্টেনটিটির\' ফাঁদে পা দিচ্ছেন? সংবাদপত্রে প্রকাশ, আপনি নাকি, শিল্পের পরিবেশহীন, উদ্যোগহীন, রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে বাংলা টিভি চ্যানেলের ‘বিজনেস রিয়েলিটি শো’, ‘এগিয়ে বাংলা’র সঞ্চালনাও করবেন । যে রাজ্যে সিঙ্গুরের ‘অনিচ্ছুক’ কৃষকরা ছয় মাস তো দূর ছত্রিশ মাসেও এখনও নিজেদের জমি ফেরত পেলেন না, যে রাজ্যে আপনাকে ২০১১ নির্বাচন কমিশনের ব্র্যান্ড-অ্যাম্বাসে র হতে বাধা দেওয়া হল, যে রাজ্যে শাসক দলের আসামী সাংসদের সংবাদপত্রে, কলকাতা নাইট রাইডার্স প্রথম আইপিএল জেতার পর আপনাকে নগ্ন ভাবে আক্রমণ করা হল, সে রাজ্যের সরকার কোন রিভার্স সুইং-এ আজ আপানকে মহিমান্বিত করতে ব্যস্ত? আপনার ইমেজ বেচে ভোটের বৈতরণী পার হবার এই \'গুগলিটা\' রিড করতে আপনার মত ধুরন্ধর মস্তিস্কের এতো অসুবিধা হচ্ছে? না পেশাদারিত্বের অজুহাতে এসব এখন নিছকই তুচ্ছ? সল্টলেকের স্কুলের জমি আর তারপর মহেশতলায় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মূল্য এখন নৈতিকতা আর আদর্শের থেকে অনেক বেশী দামী? জুলাই\'র পর হয়ত আপনি নির্বাচনেও জিতবেন। হয়ত ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে আপনি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন। বিসিসিআই হয়ে আই সি সি –হয়ত লম্বা রেসের ঘোড়া আপনি। কিন্তু ইতিহাস আপনার এই অনুগ্যতের ওপেনিং ইনিংসটাও মনে রাখবে।
যাই হোক যেভাবেই হোক ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে বাংলা ক্রিকেট কে টেনে তোলার গুরুদায়িত্ব কিন্তু এখন আপনার কাঁধে। আপনার চওড়া ব্যাটে ভর করেই ৯০-এ শেষ রঞ্জী জিতেছিল বাংলা। তারপর দীর্ঘদিন রঞ্জী তে সাফল্যের মুখ দেখিনি আমরা। বরং এলিট থেকে প্লেটে অবনমনের লজ্জাও হজম করতে হয়েছে। সদ্য শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলার সিনিয়র প্লেয়াররা নাকি শুধু গরমের কারণেই প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার \'বেয়াড়াপনা\' করেছেন। তাই আপনার এখন দায় অনেক দায়িত্বও অনেক। ভারতীয় ক্রিকেট কেও আপনার এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। আপনি উঠতি ক্রিকেটার দের রোল মডেল। একটা গোটা প্রজন্মের হাটথ্রব। আপনার লড়াই শুধু বাইশ গজেই না, শুধু বাঙালির কাছে না, বরং গোটা বিশ্বের কাছেই অনুপ্রেরণা। আপনার জেদ আমাদের শিক্ষা। আপনার সাফল্য আমাদের পাথেয়। তার সাথে সুস্থ ও আদর্শ নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকেও এই অস্থির সময়ে আপনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। পথ দেখান। আশাকরি ক্রিকেট মাঠের চৌহদ্দির মতই মেরুদণ্ড সোজা রেখেই আপনি সে দায়িত্ব পালন করতে ‘হেসিটেট’ করবেন না। নাহলে, অ্যাজ স্টিভ ওয়া ওয়ান্স ফেমাসলি সেড “দি মিনিট ইউ হেসিটেট, ইউ আর ইন ট্রাব্যাল” ।
ভালো থাকুন। ভালো রাখুন। সুস্থ থাকুন। ক্রিকেটে বাঁচুন।
ধন্যবাদান্তে
আপনার গুণমুগ্ধ
সুশোভন

আপনার মতামত জানান