দুঃস্বপ্ন

কিঙ্কিণী বন্দ্যোপাধ্যায়
(১)

পুরুষের কাছে ভালোবাসা চেয়ে চেয়ে ফিরি
কিন্তু সব স্নেহকণা যখন গুটিয়ে নিয়েছে পাল
সন্ধ্যের বন্দরে
আর শেষমেষ পড়ে থাকা ছোঁয়াছুঁয়িগুলো কোথায়ই বা যাবে ভেবে
পথ খুঁজে খুঁজে দিশাহারা
তখন ধুলোবালি থেকে কুড়িয়ে নিই তোমার মুখ
তোমার দুই চোখের শিশিরবিন্দুতে ঘষে ঘষে ধুয়ে নিই
নিজের মুখ-চোখ-হাত-গলা
তারপর স্নানমুক্তি
যে টবে যত্নে বসিয়েছিলাম কৃষ্ণচূড়া বুনো মল্লিকা আর দোপাটির চারা
তারপাশে বসিয়ে দিই মুখখানা
রোজ সকালে জল দিই
ফুরিয়ে গেলে অশ্রুও কখনও সখনও
কিন্তু চুম্বন নয় একবারও
কারণ কে না জানে ঠোঁটে পাপ আছে আর পাপে ক্ষয়
যদিও চূড়ান্ত ক্ষয়ের পরেই আসে ষোড়শ কলা
তবুও তো সেই জ্যোৎস্না নতুন সভ্যতার
বড় যত্নে পুরনো করে ফেলি তাই শেষ সম্পদ আমার
বড় যত্নে শিকড়ে গেঁথে রাখি শেষ পুরুষের মুখ
আবারও যদি হারিয়ে যায়, হারায় আবার
ফিরে পাওয়ার পথ নেই
ভ্রষ্টজন্মের শেষ পুরুষের সুখ

(২)

হরিণের চোখ থেকে হীরে মুক্তো সব খুলে নিয়ে
মাছধরা ছিপে গেঁথে তুলে রাখি
কারণ আবার তো সামনে সেই আঁশটে জীবন
আবার তো সবুজ জলে শামুক -গুগলি খুঁজে চলা
তখন পথে পথে ঘুরে ঘুরে কোথায় যে ঠাঁই পাবে হরিণ আমার!
কোথায় পাবে দুটো দুর্বাঘাস-শান্তির জল?
এর চেয়ে বুকে চেপে ঘুম পাড়িয়ে রাখি
স্তন ফুঁড়ে হৃদয়ে লুকিয়ে
আঁচলে মুড়ে রেখে যদি স্বস্তিতে কাটে বারোমাস
তাহলেই শ্যাওলাপড়া পিচ্ছিল জল আর ছুঁতে পারবে না হরিণের চোখ
এই ভেবে ঘর ছাড়ি
এই ভেবে সব ছেড়ে পথ খুঁজে যাই
হরিণের বনে

আপনার মতামত জানান