গুচ্ছ কবিতা

তাপসকিরণ রায়
(১)

অঙ্ক

অঙ্ক খাতায় কবিতা লিখেছি,
সূত্রগুলি কিছুতেই মনে করতে পারি না--
সংখ্যাগুলি এত কেন মাপাজোপা ?
যথেচ্ছা পা ফেলতে ফেলতে তোমার পাশে এসে যাব কথা ছিল।
ঝাপরানো গাছের শাখা প্রশাখা ধরে একদিন শিকড় খুঁজে পাবো।
যতাবৎ চলা হয় নি,
নিয়ম মেনে হয়ত সুষ্ঠু একটা জীবন গড়ে নেওয়া যেত,
কবিতার পাতাগুলি জীবনের মাঝে মিশে গেলে --
তা কতটা যথাযথ হয় ?

(২)

কবিতা

যা লিখি তাই যদি কবিতা হত,
তবে গুলাল আবীরে ভরে দিতাম তোমাদের মন,
নীলাকাশ নিয়ে সাঁঝের পাখিদের ফিরে আসা লিখতাম,
তোমার নীল বিষ বেদনাকে ঢেকে দিতাম লাল গোলাপে,
বিরহ মনে সেই প্রেমিকার কথা মেখে দিতাম।

কবিতায় নাকি কিছু দুঃখ থাকতে হয়, না হলে তো ভুলে যাওয়া।
প্রতিদিন একই এক সেই মুখ যদি হারায় ভালবাসা,
তার চে তো এই ভালো, তুমি দূরত্বে থাক।
আমি মর্মন্তুদ কিছু কবিতা তোমায় লিখে পাঠাব।

(৩)

উল্টো

ঠিক উল্টো যদি হত, এতদিনের ছিঁড়ে যাওয়া পালক গুছিয়ে
আবার যদি পাখির প্রাণ দিতে পারি!
জলজ বায়ু-উপাদানে মৃত মানুষের চেহারা যদি আবার ফিরিয়ে দিতে পারি !
জীবনের মালা যদি বৃত্তে গেঁথে নিই,
অমরত্বে ফিরে আসার গান কার না ভালো লাগে !
সেই একই মত উপাদান ঘিরে বৃদ্ধ যদি ক্রমে ক্রমে শৈশব শিশুতে এসে
আবার স্পর্শ করে মাতৃসদন ?
কিন্তু সেই মত মৃত্যু থেকে জন্ম কথা, সুখ দুঃখের সেই গাঁথা ভার বোঝ,
সেই ধারাবহ জীবন কথা !
তবু বন্ধন তুমি নিজেই বেঁধে নিয়েছ !

(৪)

অগ্নি

অগ্নি স্পর্শে তুমি পুড়বে না জানি,
তোমার ঘি-দেহ ছুঁয়ে বারবার গলে যাওয়া আদল
বপিত দেহাধারে তোমার জন্মান্তর।
অগ্নিনাভ পদ্মকাঁপ মন্থনে মৃণাল প্রহরায়
তোমার ফুটে ওঠা, আগুন উষ্মায় তোমার বেড়ে ওঠা,
জন্ম মৃত্যুতে তোমার এই অগ্নি স্পর্শকাতরতা।

(৫)

নাভকুম্ভ

নাভির পাশ থেকে ছুটে যাওয়া যায় না--
দেশান্তর হলেও তুমি গন্ধ পাও,
হামাগুড়ি খাওয়া সেই দিনগুলি তোমার
দুর্দম্য আলোর উত্তরণে দুরে যেতে যেতে
যত দুরে উড়ে যেতে চাও
তোমার দূরত্ব আঙ্গুলের মাথায় বসানো লাটাই,
সমস্ত রং মেখলায় বাসন্তী চমক শেষ হলে
তোমায় আবার ফিরতে হবে, সেই নাভকুম্ভ জীবনে।

আপনার মতামত জানান