দিদিমণিকে, শূন্য ঘাসের বীজ

উজান
ক্লাসরুম

মুখ ঝাঁকিয়ে চুল সরিয়ে নাও,
বোঝাও বোঝাও আমাকে বোঝাও
কিভাবে সকাল হয়-

বুঝবনা,

তবু বোঝানোর আশে পাশে যদি থাকি...

পাল্লাহীন দরজার ক্লাসে
দিদিমণি ও দিদিমণি,
আমি পেন্সিল ভাঙ্গা ছাত্র,
আমি মন ভেঙে ধরা পাখি !



মাঠ

দিদিমণির বৃষ্টি ভেজা পা...
স্কুলবাড়ি উড়ে যাচ্ছে প্রজাপতির মতো,
খাতা পেন্সিল চিত সাঁতারে ভাসে

দিদিমণির বৃষ্টি ভেজা পা...
জলের থেকে যুবক শব্দ তুলে
স্বর ভেঙ্গে দেয় মেঘলা তাজা ঘাসের !




জ্বর

জ্বর নিয়ে বাড়ি ফেরে দিদিমণি..

ঘর খুঁজে খুঁজে
ঘর খুঁজে খুঁজে
মাঠে এসে পড়ে



জ্বর যত বাড়ে, আলগা হয় দেহতাপ

মাঠের কোমরে ছাত্রের ঘর;
সেই ছাত্র-
জল থেকে সুতো,
সুতো থেকে আঙুল,
আঙুল থেকে জলপট্টি বানানো
যার গালভরা গোপন স্বভাব ।




প্রথম

আসলে স্কুলহীন তুমিও দিদিমণি,
ছাত্র বেছে ওঠা সোজা না

আকাশে যেটুকু আড়ালে মেঘ করে
কিভাবে যায় তাকে বোঝানো?

আসলে খাতাহীন তুমিও দিদিমণি,
আমারও পকেটে চূর্ণী

নৌকো ভেঙ্গে দেয়, নৌকো কাগজের
নৌকো মাঝিহীন, ঘূর্ণি !

ঘূর্ণি জল ছোঁড়ে , ছাত্র ঢেকে যায়-
ওরা তো সক্কলে পিছনের

আমিই প্রথম আর তুমিও প্রাথমিক,
কোথাও আর কোন স্কুল নেই ।



বৃক্ষরোপণ

এখন আমি ধুয়ে দিতে চাই--
অকালপক্ক বৃষ্টি যেমন এসে
উড়ন্ত এই স্কুলবাড়ীটি ধোয়

এখন আমার এই কবিতার জল
দিদিমণির বরের থেকে দূরে
টবে পোঁতা গাছের ভিতর শোয় ।



মিড -ডে -মিল

দিদিমণি ও ছাত্র
থালা থেকে চোখ তুলে দেখে-
একজোড়া চোখ খোঁজে কাটা মাংস,
এক জোড়া চোখ খোঁজে নুন,
একজোড়া চোখ হাড় ভেদ করে বসাচ্ছে দাঁত

দিদিমণি ও ছাত্র
চোখ থেকে চোখ তুলে দেখে-
কি পরম স্নেহের ভঙ্গিমায়
এক পাহাড় ভাত ভেঙ্গে দিচ্ছে
এক হাতা গরম আঘাত !




স্কুলছুট

দিদিমণি ফিরে আসে পৃথিবীর গোপনতম ইঙ্গিতময় ঘরে;
সাহসী পাথরের উপরে বসে মনে পড়ে
      ফেলে আসা ছাদহীন স্কুলের কথা-
ফর্সা কোমরে বাঁধা পুরনো মাদুলি ভেঙে
     যেই বের করেছে ভেজা ফুল-পাতার ইঙ্গিত...
ওমনি ওমনি,
চোখ মুখ বুক ঊরু
শরীর ছেড়ে উড়ে চলে যায় জঙ্গলে-
সেখানে আমি ছবি আঁকি,
ইঙ্গিত ভাঙি বৃষ্টিপাত হলে ।

আপনার মতামত জানান