দুটি কবিতা

নিত্যানন্দ দত্ত
পরব
আলপথে নিদ্রিত প্রহরী সাপিনী
অপার শূন্যতা তার অসহ্য লাগে
বহুকাল পদধ্বনি সেও তো শোনেনি
দূর গাঁয়ে চাষী বউ কাকভোরে জাগে

নিকানো উঠোন জুড়ে আলপনা আঁকে
সারা ঘর ভরে আছে লুণ্ঠিত ধান
মাটির প্রদীপখানি পিলসুজে রাখে
নতজানু চাষিবউ প্রণতি নামান

গ্রামীণ ভিখিরি প্রতি গৃহদ্বারে থামে
তার পায়ে পায়ে হাঁটে বাউলানি ধুলো
পাখিদের ডানা ছুঁয়ে সুসকাল নামে
দূর গাঁয়ে ছুটে যায় আলপথগুলো

নানাবিধ উপাচার সাজানো উঠোনে
আজকে পূজিত হবে বাস্তুদেবতা
শীতে কাঁপে চাষিবউ সকালের স্নানে
মাঠে মাঠে লেখা হয় সৎকারগাথা...



আবর্ত

বঁড়শিতে খাবার গেঁথে দিলে ছুটে যায় মাছের শরীরে
আর মাছ সুখাদ্য হয়ে উঠে আসে লোলুপ জিহ্বায়

তারপর কোন একদিন ব্যাথাতুর মাছের শরীর বেঁকেচুরে বঁড়শি হয়ে যায়...


যদি মুখ চেপে ধরো
আমার শব্দ ভাষা পাবে তোমার আঙুলে
যদি ভাবো এ তো মুঠোরই আঙুল
জেনো, প্রতিবাদ কখনোই দাসত্ব করেনি কবুল...

আপনার মতামত জানান