ছুট

রঙ্গীত মিত্র


উৎসর্গঃ ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী

অবহেলিত ঘুম গাছের পাতায় আটকে আছে।এখনো বেশ দুপুরের বিশাল বিশাল ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটেদের আদমসুমারি শেষে কলেজ থেকে বাড়ি বাড়ি ফেরা ছেলে মেয়েদের দলের ভিতর কেউ কেউ আলাদা হয়ে প্রেম হয়ে যায়।প্রেম মানেই টাকা খরচ।প্রেম মানেই দেরি করে বাড়ি ফেরা।টিউসানি বা কোচিং ক্লাস মিস করে সিনেমা দেখা...টাকা খরচের উপর ক্লাস টেনের ছাত্র পড়ানো...বাড়িতে ভয় ভয় মিথ্যে বলে পড়ার ঘরে গিয়ে এস-এম-এস রিচার্জ করা। কিন্তু টেকনোলজির হাত ধরে এখন হোয়াস্ট অ্যাপ এসেছে।তাছাড়াও ফেসবুক আছে। তবু বেশি রাতে কথা বলা যায় না।বাড়ির লোকজন সন্দেহ করে। কলেজের বন্ধুরাও কেমন যেন করে।তাছাড়া আজকাল নাইট-স্টে তো কোনো ব্যাপারই নয়। বন্ধুদের তো দেখি , সুযোগ পেলেই কোথাও চলে যায়।কিন্তু জানেন আমার ওসব ভালোলাগেনা। ভালোলাগেনা বলে ভোটদি।ভালোলাগেনা বলেই,দেখি কমিউন্যাল শক্তি আমার শহর ঘিরে ধরেছে।দেখতে পাই আমাদের বাইরেটা বদলেছে।এই তো একটি মেয়েকে দেখলাম জিমের থেকে বেরিয়ে স্কুটি চালিয়ে বেরিয়ে গেলো। আমি দেখেছে,আমার পাশ দিয়ে হুস করে বেরিয়ে গেলো।আমি দেখেছি,অন্ধকারে তার বন্ধুর জন্যে অপেক্ষা করছে একটি মেয়ে। কিন্তু তাও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে বাইরেটা বদলেছে।আসলে আমরা যতই বলতে চাই দেখুন আমি কত বদলে গেছি। ছুটিতে অলিপাব যাই । মধ্যরাতে বাড়ি ফিরি।আমিও ওয়েস্ট্র্যান। তবু কোথাও আমরা পিছিয়ে। আমাদের ভিতরের সেই প্রিমিটিভিটিটা থেকেই গেছে।না হলে,আমাদের ভিতর এতো বিভাজন।আর আমি যে ভাষায় কথা বলি সেখানে লালন এসেছেন,রবিবাবু এসেছেন...আমার সংস্কৃতি ঘিরে ধরে সারা দিন...বিভিন্ন মানুষের নাম মনে আসে। স্মৃতি যৌনতার মতো...সে একবার ধরলে নগ্ন করে দেয়। আমি যেন নেশাঋক্ত হয়ে শাওয়ারের নিচে দেখছি লাড্ডুর মতো সূর্য সিদ্ধ হচ্ছে আকাশের জলে। এর ভিতর কিছুটা অন্ধকার পেয়ে প্রেমিকা তার প্রেমিককে চুমুকে খেয়ে নিয়ে,জিন্সের চেনের ভিতর জীবনের সাথে পরিচয় করে নিয়ে দেখে নিচ্ছ পুলিশ আছে কি না।পুলিশ থাকলেই ধরে নিয়ে যেতে পারে। কিম্বা হয়তো বোতামের পিছনের দিকের গোপন বেলুন...সেখান থেকে নামতে গিয়ে জিন্সের শক্ত কোমর...ইনারে বার বার আটকে যায়...প্রেম বিরক্ত হয়ে দেখে কেউ দেখছে কি না। আসলে যৌনতাও কেউ কেউ দেখতে চায়। রাতে আড়ালে আড়ালে লুকিয়ে রাখতে চায়।কখনো লাইন দিয়ে যৌনতা করতে করতে লজ্জা প্রজাপতি হয়ে যায়। আর পুলিশ তো ঘুঁষ জাতক । সে টাকা পেলেই সব ছেড়ে দেয় বলে ট্যাক্সি ভর্তি সময়...স্কার্ট থেকে বেরিয়ে আসা পা...পা থেকে বেরিয়ে আসা আঙুল...আঙুলে নেল পালিশ...মুখের সুখটান...তার আসতে আসতে সরিয়ে টরিয়ে তবেই স্বাদ।স্বাদ যেন লেগে থাকা প্যান্টের কালো দাগ।স্বাদ যেন প্রাক্তন নেশা। সেখানে শুধুই আমার মনে হয় বিভাজন পুরুষ হয়ে গিয়ে বকে।পুরুষের রাষ্ট্রচোখ হিংসে নিয়ে এসে বলে , “আমার অধিকার নিয়ে নিয়েছিস কেন?”...ক্ষমতা দখল রক্তবমি করে যায়। কখনো ইউজড কন্ডোমের প্যাকেট পরকিয়া/আরব্যরজনী = জীবন ইত্যাদির কামসূত্র নামক দাঁত হয়ে থাকে। সেখানেই তো জ্যামিতি।সেখানেই তো গান।সেখানেই লাইব্রেরি। আমার প্রেমের পড়ার পরও মেয়ে দ্যাখা কমে না। বরং বাড়তে থাকে। মাস্টারব্রেসন করতে থাকি।পর্ন গ্রাফি দেখা বাড়ে। আমি আসলে ভাবতে চাই,আরো যদি প্রেম করা যেতো।আরো শরীর। শরীর তেষ্টা রাতের ছিপি খুলে বেরিয়ে আসে । কিন্তু আমার কথায় তো কেউ পটে না । সবাই কেমন দূরে সরে যায়।আমি একবার দুবার পরকিয়া করে হেবি কেস খেয়েছি।তাছাড়া আমার সাথে এমন কেউই মেশে না যারা একাধিক সম্পর্ক্যে বিশ্বাস করে...গ্রুপসেক্সের ফুটো দিয়ে বুলেট উঠে গেছে উপরে সেখানে কোনো আস্তানা নেই...শুধু ৩৭৭ দৌড়াচ্ছে...মানুষের যন্ত্রের দিকের বিবর্তন...কানের ভিতর দিয়ে না শোনা পিছন...আরো ভিতরটাকে দুর্বল করে দিয়ে ক্যাপিটালিজম...পাম তারা রা রা গাইছে...আমি লিখেই ফেললাম
রাতের দেওয়ালে হাত দিয়ে সূর্য দাঁড়িয়ে দেখে ফ্যালে
আকাশের তারার অ্যাস্ট্রোলজিক্যাল ভিউ ;
এখানে মাঝরাতে পাহাড়াদাররা ডেকে যায় ঘুমকে।
অথচ সময়েটা উলটে গেলেই পেইংগেস্ট থাকা মেয়েরা
পরীক্ষা শেষের বাড়ির ধরার হাওড়ার বাস।
সকাল থাকতেই তাদের বাড়ি যাওয়ার ডাক
পাখি উড়ে যাওয়ার মত
লাল ডিমের কুসুমের মত ।
আমার নিজের চোখে তোমাদের রং লেগে থাকতে দেখি;
তোমাকে দেখি,ছেলেকে নিয়ে স্কুল বাসের জন্যে বাসস্টপ হয়ে আছো ।
সম্পর্ক্যের গিঁট খোলার জন্যে,অন্য একটা বাইপাস চাইছে,বন্ধুত্ব।

লেখার পরই আমি রামকৃষ্ণ মিশনের উল্টো দিকে ফুটপাতে দেখলাম একটা পত্রিকার সাথে নুন লেগে আছে আর কিছু বিদেশি ছাড়া মানুষ...এদিকে সাউথসিটিটা বেশ টুরিস্টস্পট...লেডিস লেডিস বলে চলে গেলো...আসলে গড়িয়াহাটের মোড়টা বেশ সুইট ও সেক্সি... খাবার, নেশা, শরীর গন্ধ নিয়ে আমি বেশ ঘুরতে ঘুরতে ত্রিভূজ বানিয়ে ফেলেছি।আসলে গত কাল আমাদের পরীক্ষা শেষ। সুভেচ্ছারা কাশ্মির বেড়াতে গেছে।তাই আমি একা।এইবার আমাদের বেড়াতে যাওয়া হলো না।বাপির কাজের চাপ খুব।তাই গরমের ছুটিতে আদুরের বেড়াল ঠেলতে ঠেলতে সন্ধ্যে নিয়ে এসেছি...এখানে কোনো প্রতিযোগিতা নেই...কোনো রাজনীতি নেই...খারাপ ভালো কিছু নেই...শুধু দেখা আর অনুভব করা...হঠাত মাথায় কি লাগলো।উপর তাকিয়ে দেখি গাছেরা ডাকছে।আকাশের মেঘের রংও লাল।কিন্তু কি লাগলো মাথায়? আর আমার হাতের কনুইটা চিন চিন করছে।আমি খেয়াল করলাম এতোক্ষণ আমি অন্য জগতে ছিলাম ...এইবার খেয়াল হলো বৃষ্টি আসছে...আমি দৌড়াতে আরাম্ভ করলাম...আর আমার পিছনে পিছনে বৃষ্টি...এমন সময় ফোন বেজে উঠলো...সুভেচ্ছা ফোন করেছে...না না এখন ধরা যাবে না।ফোন ধরলেই ভিজে যাবো...আমি জানি না বৃষ্টির আগে বাড়ি যেতে পারবো কি না...আর বৃষ্টি আগে গেলে তো সবাই জেনেই যাবে...সারা পৃথিবী নিয়ে আমি ছুটছি।এই দেখো কলকাতা আমি এখনো ছোটাটা ভুলে যাইনি।

আপনার মতামত জানান