সন্তুষ্টি

রওনক জাহান সম্প্রীতি


ক)
মিশু মিতুর চেয়ে ২ বছরের ছোট । মিশু গোলগাল বাবু বাবু চেহারা ,কিন্তু দস্যি । পাড়ায় তার সমবয়সী অনেকে আসে তার কাছে ঘুড়ি বানিয়ে নিতে । লেখার খাতার থেকে ছেড়া সাদা কাগজ আর উঠান ঝাড়ু দেওয়া ঝাটার খিল দিয়ে মিশু উড়ার উপযোগী ঘুড়ি বানাতে বেশ পারদর্শী । শ্যামলা চেহারার মিতু মিশুর চেয়ে বড় হলেও ভোলা ভালা । মিতু ঘুড়ি বানাতে পারে না । ‍মিশু ঘুড়ির পিছনে পিছনে ঘুড়ির লেজ ধরে মাঠে মাঠে দৌড়ায় । এভাবেই দুই ভাইবোন ধুলো মাখামাখি করে খেলায় খেলায় কাটায় সারাদিন । এদিকে মিশুর মা সারাদিন তাদের বাড়ির পিছনে এই সবজিটা ও সবজিটা লাগাতে , পেয়ারা গাছগুলো বেয়ে ওঠা শিমের গাছ পরিচর্যা করতে , হাস মুরগিকে খাওয়াতে ব্যস্ত থাকে । আর ওদের বাবা সকালেই বেরিয়ে যান চাকরিতে । সারাদিনের দৌড়া দৌড়ি শেষে হাত পা ধুয়ে দুই ভাই বোন সামান্য পড়ার পাঠ চুকিয়ে বাবা, মায়ের সাথে খাওয়া দাওয়া সেরে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে । এরই মধ্যে বড় পেয়ারা গাছটির মধ্যদুরত্ব দিয়ে সূয্যি মামার বদলে চাঁদ মামা উকি দেয় । শান্তি ও সন্তুষ্টির জীবন তাদের । মিশু মিতুরা বড় হচ্ছে, ওদের ভাল স্কুলে ভর্তি করতে হবে । ওদের বাবা চান ওদের অনেক বড় করতে । মিশু ও মিতুদের গ্রামের পরিবেশ ভাল নয় । দিন দিন অবস্থা খারাপের পথে । ওদের বাবা মা ওদের নিয়ে নিকটবর্তী শহরে চলে আসে ।
খ)
মিতু গার্লস ও মিশু বয়েজ স্কুলে ভর্তি হয় । মিশু মিতু দুজনেই ভাল গান গায় । মিশু , মিতু এখন অনেক বড় । মিশু পড়াশনার জন্য ঢাকায় থাকে, আর সেই ভোলা ভালা শ্যামলা সুন্দর মেয়েটি থাকে চিটাগাং এ । না, অন্য মেয়েদের মত তার এখনও বিয়ে হয় যায় নি । তার বাবা চান তাকে ম্যাজিস্ট্রেট বানাতে । মিতুও অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখে । মিতুর নগর জীবনের রাতগুলোয় কোন কোন দিন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে…. সেই বাশের চালের বেড়ার ফাক দিয়ে চাদকে অনেক অংশে ভাগ ভাগ হতে দেখা যাচ্ছে । দুর থেকে বাতাসে বাশির সুর ভেসে আসছে । বাবা মা অঘোরে ঘুমাচ্ছে । হঠাৎ লোড সেডিং এ ঘুম ভেঙ্গে যায় মিতুর । মিতু বালিশের পাশে রাখা মোবাইল ফোন টি নিয়ে ফেসবুকে লগ ইন করে । “ কিরে………..? আজ পরীক্ষা ছিল । খুব ভাল হয়েছে ।” মিশু ইনবক্সে মেসেজ করছে ।
শহর সব দিয়েছে... কিন্তু শৈশবের সেই শান্তিটুকু দিতে পারে নি।

আপনার মতামত জানান