দেয়াল-কথন

সায়ন্তন মাইতি



-কীরে, তোকে তো নতুন রঙ মাখিয়ে দিয়ে গেল। আগে তো এদের এত রমরমা দেখিনি.....

-আস্তে...এ...এ...। আস্তে আস্তে বলো কথা। মানুষেরও কান আছে। কবে প্রোমোটার ডেকে গুঁড়িয়ে দেবে....

-ধূর! দেয়ালের ভাষা কে বুঝবে?

-যে ভাষা ওরা একদম বোঝে না, একদল লোক তারই তো মনগড়া মানে বের করে। ঐ যে, কী যেন বলে ওদের? পরজীবী না মৃতজীবী....

-বুদ্ধিজীবী

-ঠিক বলেছিস। এই, কাল নাকি কোন এক বুদ্ধিজীবী তোর উপর লিখতে আসছে?

-আমিও তাই শুনছিলাম। আজকাল এই এক ফ্যাশান হয়েছে। প্রার্থী নিজে লিখছে, বুদ্ধিজীবী এনে লেখাচ্ছে। কত্তো ঘটা। আর মিডিয়া তিরতির করে হাজির হচ্ছে কভারেজ নিতে। মানুষগুলোর এত টাইমও আছে? আমরা সারাদিন ঠায় দাঁড়িয়ে থেকেও এত অকাজের টাইম....

-তুই কিন্তু আবার চিল্লাচ্ছিস। ভয়েস নামা না।

-থাম তো। এখন ছেলে-বুড়ো সবাই চেঁচাচ্ছে। বলার মওকা পেলেই গলা ফাটাচ্ছে। আর প্রার্থীরা করছে খিস্তিখাস্তা। এত চেঁচানির মাঝে আমাদের ভয়েস কারোর কানে যাবে না।

-যাক গে একটা মজার ঘটনা শোন। কাল ওয়ালবুকের ফেসে একজন আপডেট দিয়েছে। কোথায় নাকি একদল দেয়াল লিখছিল। ‘দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ে তুলতে এই চিহ্নে ভোট দিন’ লিখতে গিয়ে ‘ম’টাকে ‘য’এর মত লিখেছে। আর কী কেলেঙ্কারি!

-যাক, ভুল করে হলেও একজন অন্তত সত্যি কথাই লিখেছে।

-সবই দেয়ালের লিখন রে পাগলা। কে আর খণ্ডায়।

-আমি একটা ঘটনা শুনলাম। কোথায় নাকি নতুন করে আর দেয়াল লেখে নি। গতবারেরটাতে শুধু ‘পঞ্চায়েত’ কেটে ‘লোকসভা’ করেছে আর সিম্বল পাল্টে দিয়েছে।

-তার মানে?

-মানে আবার কী? গতবারের পঞ্চায়েতে এ দলের হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর এবার লোকসভায় ও দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উল্টি - পাল্টি - কালারমাল্টি.....

-মানুষগুলোও এখন দেয়ালের মত হতে চাইছে। বছর বছর নতুন রঙ।

-হ্যাঃ হ্যাঃ হ্যাঃ। দ্যাখ, ওদের জন্যই কিন্তু গুরুবচন, ধারাহাস্যকারদের যুগেও লোকে আমাদের দিকে তাকায়। কী বলিস?

-তাই তো। আর প্রতিবার যতই আলাদা আলাদা রঙে আমাদের সাজাক না কেন, একটা ব্যাপার কিন্তু সেদিন থেকে আজ অবধি একটুও পাল্টায় নি।

-কী ব্যাপার?

-বল দেখি ভেবে.....

-যাঃ। সবই তো পরিবর্তন হয়েছে। কী আর এক আছে আমাদের? তুই আমি এখনো বন্ধু, এই যা.....

-হলো না। আগেও কুকুরে আমাদের গায়ে হিসি করত, এখনো করে। আর ক’বছর পর নতুন কেউ রঙ করে গেলেও করবে। ঠিক কী না?

আপনার মতামত জানান