সোহাগ

অবিন সেন
সুখ ক্ষণস্থায়ী, ভঙ্গুর। বরং দুঃখ তারিয়ে তারিয়ে ক্রমশ মানুষকে পুড়িয়ে, ঝলসে প্রাজ্ঞ করে তোলে। ‘প্রাজ্ঞ’ কথাটাই এই ভর-ভরন্ত বেলায় কেন মনে পড়ল তা জানে না বেলা। আজ সে বেলা করেই চানে গিয়েছিল। শাশুড়ি বাড়িতে নেই, থাকলে এই এত বেলায় চানে গেলে দু-চারটে ঠেস মারা কথা শোনাত। আজ দু দিন হল বেলা’র শাশুড়ি হাসপাতালে ভর্তি আছে। যমে মানুষে টানাটানি। সবাই হাসপাতাল ঘর করতে করতে ব্যতিব্যস্ত।
বেলার কোনো হেলদোল নেই। সে নিজের মনের মতো আছে। বাড়িতে কেউ নেই। রান্না বান্নার তাড়া নেই। তাছাড়া রান্না করার মতো ঘরে চাল ডাল কিছুই নেই। সুতরাং অনেক বেলা পর্যন্ত সে ঘুমিয়েছে। তার পরে টুকি টাকি ঘরের কাজ সেরে ঢের বেলা করে সে বুকুদের পুকুরে স্নানে গিয়েছিল। অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে ঘসে মেজে , পরিপাটি করে চান করার আহ্লাদে ভরপুর হয়ে সে চান করেছে। তারপরে এলো চুলে, ভিজে কাপড়ে , বড় রাস্তা ধরে “নবারুণ সংঘ” ক্লাবের চ্যাংড়া ছেলে ছোকরাদের দৃষ্টিকে জালিয়ে পুড়িয়ে সে বাড়িতে ফিরে, ঘরে কাপড় ছেড়ে একটা ফুল ছাপ হাতকাটা নাইটি গলিয়ে উঠোনে টাঙানো নাইলনের দড়ি দিয়ে বানানো দড়ায় ভিজে কাপড় মেলে দিচ্ছিল। তখনি ‘প্রাজ্ঞ’ কথাটা তার মনে পড়ল। সে লেখা পড়া বেশী দূর করেনি। এগারো ক্লাসে পড়তে পড়তে সে পালিয়ে বিয়ে করেছে বুলুকে। এখনো বছর ঘোরেনি তাদের বিয়ের।
ঘরে এসে সে দেওয়ালে ঝোলানো ছোটো আয়নাটার সামনে দাঁড়াল। তারপর দাঁড়িয়েই থাকল। কপালে সিঁদুর দেবে কি দেবেনা এই দোটানার ভিতর সে ফেঁসে থাকল মুহূর্তের পর মুহূর্ত। তারপর। সিঁদুর কৌটো সরিয়ে রেখে চুলে চিরুনি দিতে দিতে সে বাইরের রোয়াকে এসে দাঁড়াল। তার খিদে লাগছিল। খুব। সকালের চা’ও সে খায়নি। ভিজে চুল পিঠে ছেড়ে রেখে অপরিসর বারান্দার একপাশ ঘিরে যে রান্নার জায়গা সেখানে গিয়ে সে বসল। বুলু একটা পয়সাও ঘরে রেখে যায়নি। খিদে আর রাগ এই দুইয়ের ভিতর পৃষ্ঠ হতে হতে তার মাথা গরম আগুন হয়ে যাচ্ছিল। সেই রাগে সে দুর দাড় করে সে আবার ঘরে ফিরে এল। তার পায়ে ধাক্কা লেগে এক মগ জল উল্টে পড়ল। সে ফিরেও তাকাল না। একবার তার ইচ্ছে হল, লক্ষ্মীর ঝাঁপিতে জমানো খুচরো পয়সা ভেঙে সে পাড়ার দোকান থেকে দুটো বিস্কুট কিনে খায়। কিন্তু সে ইচ্ছা সে দমন করল। মোবাইল ফোনটা নিয়ে সে বিছানায় শুয়ে পড়ল। মোবাইলেও কটা টাকা মাত্র ব্যালেন্স আছে। অবশ্য মোবাইলে বেশী পয়সাও তার লাগে না। মিশ কল দিয়েই তার কাজ চলে যায়। সে অনেকক্ষণ ভাবল। তারপর মিসকল দিল প্রশান্তকে।
প্রশান্ত আর বেলা এক সঙ্গে এক প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ত। প্রশান্ত খুব ছোক ছোক করত তার পিছনে। দু একটা প্রেম পত্র লিখেছিল। তার পর যখন দেখল এতে তেমন কাজ হচ্ছে না অর্থাৎ বেলা তাকে পাত্তা দিচ্ছে না তখন সে অন্য রাস্তা ধরল। সে এটা সেটা জিনিস কিনে দিতে শুরু করল বেলাকে। ইমিটিশানের কানের দুল। মুখে মাখার ভালো ক্রিম। বেলা, দেখল—বাহ:। না চাইতেই যখন এত কিছু, তখন সে একটু প্রশ্রয় দিতে শুরে করল প্রশান্তকে। টিউশন থেকে পড়ে ফেরার পথে সন্ধ্যাবেলা অন্ধকারে প্রশান্তর হাত বেলার বুক ছুঁয়ে যেত। বেলা এমন ভাব দেখাত যেন কিছুই হয়নি। সে যেমন হেসে হেসে কথা বলছিল, তেমনি হেসে হেসে কথা বলতে থাকত। বরং হাসিটা আরো বেড়ে যেত। হা হা করে গলা ফাটিয়ে। বেলার মনে হত প্রশান্ত যেন গঙ্গা ফড়িঙের মতো তার চারপাশে নেচে নেচে বেড়াচ্ছে। পরদিন আরো একটা এমনি উপহার পেতো বেলা। কিন্তু কখনোই বেলা এই খেলাটাকে এই টুকুর বেশী আর এগোতে দেয়নি। বেলার মোবাইল ফোনটাও প্রশান্ত কিনে দেয়। বেলা খুব খুশী হয়ে তাকে একটা লিপ কিস্ দিয়েছিল।
বেলা চোখে লাগার মতো সুশ্রী। সেক্সি। প্রশান্ত ছাড়াও আরো অনেকে তার পিছনে ঝাড়ি দিত। বুলুও তাদের মধ্যে একজন।
বুলু স্কুলে পড়ত না। তখন। সে ক্লাস সেভেনে ওঠার পরেই পড়া ছেড়ে দিয়ে রাজ-মিস্ত্রীর কাজে লেগে গিয়েছিল। বুলু দেখতে সুশ্রী না। তবে শরীর স্বাস্থ্য খুব ভালো। বুলুও মাঝে মাঝে এটা সেটা উপহার কিনে দিত বেলাকে। মাঝে মাঝে হাত খরচাও দিত। বেলার বাবার বাড়ির অবস্থাও হা ঘরে। সেটার বেশ সুযোগ নিয়েছিল বুলু। মাঝে মাঝে তাদের বাড়িতে গিয়ে বাজার দোকান করে দিত। মাসকাবারি মুদিখানার বাজার করে দিত। বেলাদের বাড়িতে বসেই সন্ধ্যাবেলা তারা আড্ডা দিত। গল্প করত রাতের খাবার সময় পর্যন্ত। তার পরে রাতের খাবারটা সেখানেই খেয়ে বুলু বাড়ি ফিরত।
একদিন তারা দিল ছুট। পাঁচ-সাত দিন তারা উধাও হয়ে গেল। তারা কোথায় গেল কেন গেল, এই নিয়ে তাদের দু-জনের বাড়িতেই কোনো তাপ উত্তাপ আলোচনা হল না। সবাই জানল যা হবার তা হয়ে গিয়েছে। মধুরতার নেশা পাতলা হয়ে গেলে তারা নিজেরাই ফিরে আসবে। হাঘরেদের প্রেম এমন সহজ আর এমন স্বাভাবিক। ইরাক, সিরিয়ায় যুদ্ধ, সেন-সেক্স এই সব অর্বাচীন বিষয় তাদের কাছে অর্থহীন। তাদের জীবনে ফেসবুক নেই, টুইটার নেই, তাদের ফটো-ফ্রেমে কোনো ছবি নেই। শুধু ভালোলাগার নেশা আর সহজ শরীর হেমন্তের শিশিরের মতো টুপ টুপ করে ঝরে ঝরে অক্লান্ত।
কয়েকদিন পরেই শাঁখা সিঁদুর পরে বেলা ফিরে আসে। বুলুর বাড়িতে শুধু একটা খাবার পেট বাড়ল, তার বেশী আর কেউ কিছু কেউ মনে করল না।
বেলা, মাঝে বেশ কিছুদিন আর প্রশান্তর খোঁজ খবর করল না। ফোনের সিমটা সে বদলে নিলো শুধু। এমনি করে বেলা তার জীবনের পুরুষটিকে সিম বদল করার মতো করে বদলে নিলো।




প্রশান্তকে মিশ কল দিয়ে অপেক্ষা করে থাকল বেলা। কয়েকদিন কাগে প্রশান্তর সঙ্গে দেখা হতে বেলা তাকে তার নতুন নাম্বার দিয়েছিল। অপেক্ষা করতে করতে সাত পাঁচ ভাবল শুয়ে শুয়ে। প্রশান্ত যদি কল ব্যাক না করে ! তার কোলের কাছে ভাবনা এসে জড় হল। কিন্তু, তার মন বলছে প্রশান্ত তাকে ফোন করবে। প্রশান্ত এখন তার এক জামাইবাবুর সঙ্গে কলকাতার এক কারখানায় কাজ করে। ভালোই পয়সা-কড়ি রোজগার করে। আবার গুঁড়ো গুঁড়ো পতঙ্গের মতো তার মনের ভিতর ভাবনা উড়ে এল...প্রশান্ত যদি তাকে কলব্যাক না করে ! সে কি করবে এর পরে? এই ভাবনা তাকে ঘুণ পোকার মতো কুরে কুরে খাচ্ছে কয়েকদিন থেকে।
আজকাল বুলু তাকে মার-ধোর করে।
আগেও তো করত! করত না! জন্তুর মতো যৌনসংগম করতে করতে কিলটা চড়টা কি দিত না সে! কিন্তু বেলা জানে সে গুলো ছিল অন্যরকম। ছিল সোহাগ। বেলাও রাক্ষসীর মতো আঁচড়ে কামড়ে একাকার করত। করত না ! বুলুর গায়ের ঘামের গন্ধ, মুখ থকে বিড়ির গন্ধ তাকে কি পাগল করত না! তবে !
কিন্তু বুলু তাকে এখন এমনিই মারধোর করে। সবার সামনেই তাকে চড় থাপ্পড় দেয়।
বাইরে থেকে কেউ ডাকল-
--বৌমা !
বেলা প্রথমটায় খেয়াল করেনি। তারপরে আবার ডাকাতে সে বিছানায় উঠে বসল। অলস পায়ে বাইরে বেরিয়ে দেখল, বুলুর এক মাসী আর সঙ্গে তার এক নাতনি এসেছে।
বেলা নিরুৎসাহের গলায় বলল
--বসো মাসী।
সে সরু বারান্দায় একটা মাদুর পেতে দিল।
--বৌমা, তোমার শাশুড়ি কেমন আছে?
--ভালোই তো। ডাক্তার তো তাই বলছে।
--তুমি দেখতে যাওনি?
--সবাই তো গেছে।
--বুলু কখন ফিরবে?
--জানি না। বলে যায়নি।
বেলা কাঠ কাঠ জবাব দিচ্ছিল।
তার পরে তাদের কথা থেমে যায়। বেলা আবার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে।
বুলুর মাসী আর তার নাতনি বাইরের দাওয়ায় বসে থাকে। বেলা তাদের খাবার জল পর্যন্ত গড়িয়ে দেয়না।
অনেকক্ষণ পরে আবার মাসী ডাক দেয়।
--ও, বৌমা। রান্না চাপাও নি?
প্রথমবার বেলা কোনো উত্তর দেয় না। দ্বিতীয়বার ডাকার পরে বেলার মাথায় আগুন জ্বলে যায়। সে ধড় মড় করে বিছানায় উঠে বসে। বাইরে এসে চিৎকার করে বলে
--কি রান্না, করব! ঘরে কিছু আছে? না টাকা পয়সা আছে? কিনে আনব!
মাসী চুপ করে যায়। তার পরে কয়েক মুহূর্ত পরে আমতা আমতা করে বলে
--কিছু নেই? মুড়ি নেই? নাতনিটার খিদে পেয়েছে!
বেলা ঝাঁঝিয়ে ওঠে।
--না, নেই কিছু নেই! আমার পেটেই কি সকাল থেকে দানা পানি পড়েছে!
রাগে অভিমানে তার ভীষণ কান্না পায়। সে আবার ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। কাঁদে। সে বুলুকে ফোন করল না। সে আবার প্রশান্তকে মিস কল করল। আবার সে অপেক্ষা করে থাকল।
মাসী নিজেই রান্না ঘরে গিয়ে মুড়ির টিন, চালের ডিবে হাতড়ে দেখল। কোথাও খাবারের দানা পানি নেই।
মাসী প্রায়ই আসা যাওয়া করত বলে পাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার চেনা জানা ছিল। পাশের বড় বাড়ির বৌদির থেকে একটা বড় ডিশের এক ডিস মুড়ি চেয়ে নিয়ে এল।
একটা বাটিতে করে এক বাটি মুড়ি সে নাতনিকে দিল। আর একটা বড় বটিতে এক বাটি মুড়ি নিয়ে সে বেলাকে ডাকল।
বেলা খাওয়া নিয়ে আর অভিমান করল না। জানে এ টুকু ফিরিয়ে দিলে আর কিছুর জুটবে না। সে ভেবে অবাক হয়ে যাচ্ছে। তার কোনো রাগ, বুলুর উপরে হচ্ছে না। এই ভেবে সে আরো অবাক হচ্ছে । কেন হচ্ছে না?
তার ভীষণ রাগ হচ্ছে প্রশান্তর উপরে। আর তার নিজের উপরে। তার পরে সেই দুপুর বেলা তিনটে বাসন নিয়ে সে পুকুর-ঘাটে গেল। পুকুর ঘাটে যাবার দরকার ছিল না। তবু সে গেল। নিজের প্রতি রাগটা তার চরমে উঠে গিয়েছে। পুকুর পাড়ে গিয়ে সে একটা আধা ইট দিয়ে ঠুকে ঠুকে তার শাঁখা পলা গুলো ভাঙল। পুকুর ঘাটে পাশের বাড়ির নারানের বউও ছিল। এ সব দেখে সে তো অবাক। সে বলল
--এই বেলা কি করছিস?
বেলা কোনো উত্তর দেয় নে। সে এক মনে শাঁখা পলা ভাঙতেই থাকে। পলার একটা ভাঙা টুকরো তার হাতে বিঁধি গিয়ে তার হাত কেটে যায়। হাত দিয়ে রক্ত বেরিয়ে যায়। সে দিকে যেন তার হুশ নেই।
নারানের বউ বার বার জিজ্ঞাসা করে
--এই বেলা, কি করছিস?
বেলা ঝাঁঝিয়ে ওঠে।
--দেখতেই তো পাচ্ছ।
--শাঁখা ভাঙছিস কেন?
--আমি আর ঘর করব না।
নারানের বউ অবাক হয়ে যায় যেন। কত অবলীলায় কথাটা বলে দিয়েছে বেলা। যেন কথাটা কত সহজ আর স্বাভাবিক।
--এমন করে তুই ঘর ভাঙছিস?
--হ্যাঁ, ঘর ভাঙছি।
বেলা আবার ঝাঁঝ দেখিয়ে বলে।
নারানের বউ ঠেস মেরে বলল
--বছর ঘোরার আগেই নেশা কেটে গেল?
বেলা কোনো উত্তর দিল না।
নারানের বউ আবার বলল
--আমরা জানতুম, তুই একবার পালিয়েছিস। আবার পালাবি।
বেলে যেন নিজের মনের সঙ্গে কথা বলছে তেমন করে বলল
--পালাবই তো।

বিকেলে বুলু ফেরার আগেই বেলা বাপের বাড়ি চলে যায়। তার বাপের বাড়ি কাছেই । এ পাড়া ও পাড়া।
সন্ধ্যাবেলা বুলু তাকে ফোন করে। বেলা ফোন কেটে দেয়। বার বার ফোন কেটে দিয়ে অবশেষে বেলা ফোন ধরে। ফোনে তাদের তুমুল ঝগড়া হয়।
ঝগড়া হয়ে গেলে বেলার খুব শান্তি লাগে। অনেক আরামের শান্তি।
কয়েক মাস থেকে বুলু বাচ্চা চাইছিল। প্রথমটায় বেলা নিমরাজি ছিল। পরে সে রাজি হয়েছিল। ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল সে। বাচ্চা আসেনি। বুলু তাকে কয়েকবার বাঁজা মাগি বলে গাল দিয়েছে।
বেলা এখন ভাবছে বাচ্চা পেটে আসেনি ভালোই হয়েছে। বাচ্চা এসে গেলে কি সে এমন করে পালিয়ে আসতে পারত! তা ছাড়া বাচ্চাকে খাওয়াবে কি তারা ?
শুয়ে শুয়ে এই সব সাত পাঁচ ভাবছিল বেলা। সে যে পালিয়ে এসেছে এ নিয়ে তার বাপ মার কোনো তাপ উত্তাপ নেই। বরং তার মা একটু যেন খুশীই হয়েছে। মেয়ে হাঘরে বাগদির ছেলের সঙ্গে পালিয়েছিল বলে মনে মনে তার একটু ক্ষেদ ছিল। তার বড় মেয়েও পালিয়ে বিয়ে করেছে। কিন্তু সে ভালো ঘর, বর দেখে পালিয়েছে।
রাত নটা নাগাদ প্রশান্তর ফোন এল।
--বল কেমন আছিস?
--তুই কেমন?
--দুপুর বেলা ফোন করলি না কেন?
--ফোন টা ঘরে ছিল। আমি কাজে গেছিলাম।
তাদের গল্প শুরু হল। এই ভাবে গল্প শুরু হলে গল্পের কোনো বিষয় থাকে না। বিষয় হীন ভাবে গল্প চলতেই থাকে। গল্পে গল্পে সে খেয়াল করেনি বুলু কখন এসে তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে। তার কথা শুনছে।
বুলু নেশা করে এসেছিল। ভারি গলায় বলল
--কার সঙ্গে ভাটাচ্ছিস?
আধো অন্ধকারে বেলা পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে তাকাল। তার বুক থেকে কাপড় সরে গেছিল। বুলু সে দিকে তাকিয়েছিল। তার চোখে কি কাম? বেলা ঠিক বুঝতে পারছিল না। বুলুর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। চিৎকার করে বলল
--খানকিপনা হচ্ছে? খানকিপনা শুরু করেছিস তুই। সে টান মেরে বেলার হাতের মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলে দিল। তার পর তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার গালে ঠাস ঠাস করে কয়েকটা চড় দিল। বেলাও ছাড়ল না। সেও আঁচড়াল। কামড়াল। বেলার শরীর উপচে সোহাগের প্লাবন বয়ে যাচ্ছিল। বুলুর উপর তার ভীষণ ভীষণ রাগ হল। এবার। বুলু ততক্ষণে তাকে পেড়ে ফেলেছে। তার মনের পাশ থেকে প্রশান্ত সরে যাচ্ছিল। ক্রমশ। বেলা কি একদিন সত্যিটা বলে দেবে বুলুকে? কি ভাবে এক পুজোর রাতে প্রশান্ত তাকে সারা রাত পেয়েও পেতে পারেনি ! এমন পৌরুষহীন সে।
সোহাগের ভিতর ডুবে যেতে যেতে বেলা ভুলে যাচ্ছিল টাকা পয়সা, বাড়ি ঘর... হিসেব নিকেশ...

আপনার মতামত জানান