আমি এবং

সায়ন্ন্যা দাশদত্ত

ইচ্ছে হয় দুদ্দাড় করে ভেঙ্গে ফেলি ছবির আগপাশতলা । ইচ্ছে হয় সটান বাড়ি যাই তোর । কলিংবেল নয় ; সোজাসুজি কিল মারবো তোর বুকে । সোজা চোখে জিজ্ঞেস করবো - " কিকরে পারলি? "
জানতে ইচ্ছে হয় লজ্জা হয়নি ? একসাথে হাঁটবি বলে সবদিন ছায়া খুঁজেছিস । সুযোগ পেলেই নাক গুঁজে সুখের গন্ধ নিয়েছিস ভরপুর । আনন্দ চাস বলে কাঙ্গালের মতো ঘুরে বেড়িয়েছিস এগলি ওগলি ।
শোন , আমি ছায়া ভালোবাসিনা । আমি রোদের জন্যে বুক পেতে দিই । পুড়ব বলে নগ্ন হতে পারি এককথায় । একটানে ছিঁড়ে ফেলতে পারি পৃথিবীর সবকটা সুখবালিশ । কোলবালিশে পা দিয়ে নিজেকে বোকা বানাতে করুণা হয় আমার ।
তুই সুখ খুঁজিস ! বেশ বলতো ; সুখ দেখতে কেমন ? তিনটে হাত , একটা পা , মুন্ডুবিহীন জংধরা একটি বাড়ি . . . ভেতরে এক বিণবিণে সুর দিনরাত বেজে যায় । যেমন আলো ঢোকে , তেমনি বেরিয়েও যায় । ওবাড়ির পর্দা পাল্টায়না কেউ । একঘেঁয়ে সুখপাতারা আড়াল করে রাখে ধুলোবালি ।
আমি ধুলো ভালোবাসি । দুহাত ভরে বালি মাখি রাত বাড়লে । আমি দুর্গন্ধে বসে একলাখ চুমু দিতে পারি তোকে । ভাবিসনা ঘেমে উঠলে স্নানে যাই । দিনের পর দিন আমি জমিয়ে রাখি সমস্ত ঘামের ঘ্রাণ । তুই কি জানিস , এক একটি ঘামের আলাদা জীবন থাকে ! থাকে আলাদা রং ! যেদিনেরটা টকটকে লাল , সেদিন ভীষণ আদর । খুনোখুনি হলে গভীর নীল । যেদিন রাগ ; কথা বন্ধ ঘন্টা দুয়েক . . . ওইদিন হয় গাঢ় সবুজ ঘাম । তোর আধপাকা চুলে আঙ্গুল চালিয়েছি । বুনেছি সম্পর্ক । সম্পর্কের জীবন থাকেনা ? তুই কি ভাবিস ইচ্ছেমত পারবি ছিঁড়ে ফেলতে ! ? বেশ , ছিঁড়ে ফেল তবে । ছিঁড়ে ফেল . . . এগারোটা বৃষ্টি . . কয়েকহাজার সিগ্রেট . . লক্ষ কাপ চা . . দু চারটে বোতাম . . ধেবড়ানো রাত . . খান পঞ্চাশ কবিতা . . কিছুটা ঘুম আর বুড়িয়ে যাওয়া সময় ।
পারলে কুটিকুটি কর । ভাসিয়ে দে যেখানে খুশি । ঠিকানা দিসনা । কুড়িয়ে আনার ইচ্ছে হয়না আর ।

আপনার মতামত জানান