দুটি কবিতা

নিত্যানন্দ দত্ত
শ্মশান
সে এক ছিন্নমূল দিনে
কাঁটাতার সগোপনে বাড়ে
আজ দেখো নিজের মৃতদেহ
কাঁধে নিয়ে চলেছি সৎকারে

শ্মশান বন্ধু ছিল যারা
ঘরে ফিরে গেছে বহুক্ষণ
প্রেতাত্মা জেগে বসে ছিল
আমি শুধু পুড়েছি তখন

শেয়ালের মুখ থেকে হাড়
খসে পড়ে ছড়িয়েছে কত
সৎকার শেষে স্বজনেরা
গৃহগামী ক্রন্দনরত

আঁধার দ্বিপ্রহর হলে
শবদেহ একে একে জাগে
ঘুমঘুম আগুন তখনো
মৃত্যুকে জড়ায় সোহাগে

ছাইমেখে প্রতিবেশী নদী
বয়ে গেছে বহু দূর গ্রামে
আগুনের চোখ বুজে এলে
শ্মশানের চোখে ঘুম নামে...



আগন্তুক
এভাবেই জলের তলায়
নুড়িটির বসত বাড়ি
অভিমান চিবুক ছুঁলে
খেলাদের সঙ্গে আড়ি

সে খেলা আবছা মতন
খেলাটির নাম জানা নেই
তৃষাতুর হরিণ শাবক
আলগোছে ঠোঁট ছোঁয়ালেই

ভেঙে যায় জলের শরীর
মুঠোতেই ঘুমিয়ে পড়ে
মুঠোহাত যেই খুলেছি
রোদ্দুর নরম ঝরে

রোদ্দুর শ্যাওলা রঙের
জল ছুঁয়ে আলতো ভাসে
নুড়িটির ঘুম এসে যায়
মাছেরাও ডাকতে আসে

তবু তার ঘুম ভাঙে না
গুটিসুটি পাশ ফিরে শোয়
মাছেদের ঘর সংসার
শ্যাওলার ডালপালা ছোঁয়

এভাবেই মেঘলা দেহে
নুড়িটির হাত পা হবে
কোন এক আদর জলে
একলাই সাঁতার দেবে।।


আপনার মতামত জানান