প্যাঁচ

সায়ন্তন শাসমল
।।অবিনাশের কথা।।
শীতের সকাল। তাই ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়। তবে মোটামুটি সকাল ৭ টার আগে উঠে পড়ি। উঠেই এক পেয়ালা চা, দুটো বিস্কুট খেয়ে নিই। আর তারপরই কোমর বেঁধে লেগে পড়ি লেখালেখি করতে। লালমোহন গাঙ্গুলীর মতো ওতোটা নাম ডাক না থাকলেও, আমার লেখা রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজের বেশ খানিকটা খ্যাতি আছে।

যাইহোক আজও আমি নিয়মমাফিক সাতটায় উঠে, সবে চায়ের কাপটা নিয়ে বসেছি, এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠল।চেঁচিয়ে উঠলাম, "কে এল দেখ তো রে বুবাই..." এত সকালে কে রে বাবা! কাগজওয়ালা তো কাগজ দিয়ে চলে গেছে অনেকক্ষণ। তবে কি দুধের দাম নিতে এলো? নাহ্, এখন তো মাসের মাঝামাঝি। এসময় তো দাম নেওয়ার কথা নয়। কারও কোন বিপদ আপদ হল না তো! ভাল্লাগে না বাপু। সারাদিনের মধ্যে এটুকু সময়ই কেবলমাত্র নিজের জন্য ব্যয় করি। একপর সারাদিনই তো লেখালেখি আর সাংসারিক কাজের মধ্যে দিয়ে চলে যায়। বিকেলে অবশ্য কলেজ স্ট্রিটে রতনদার দোকানে আড্ডা মারতে যাই। তাহলেও, সকালবেলার এই সময়টাতে কেউ ভাগ বসালে, মনে হয় যেন তাকে গুলি করে মেরে দিই। অবশ্য সাহসের অভাবেই হোক বা পিস্তল না থাকার কারণেই হোক, সে ইচ্ছেটা প্রায়শই দমন করতে হয়।

"বাবা, একটা লোক তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে।", চেঁচাল বুবাই। নিশ্চয় কোন উটকো লোক। কারণ আমার পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে মোটামুটি সবাইকেই বুবাই চেনে। এক যদি না স্কুল কলেজের পুরনো বন্ধু হয়। কিন্তু তারাও কি আর এই কাকভোরে দেখা করতে আসবে! ভদ্রতা বলেও তো একটা ব্যাপার আছে।
--"আমি ব্যস্ত আছি। পরে আসতে বল।", বললাম আমি।
--"বলছে খুব দরকার। অনেক দূর থেকে এসেছে। "
উফফ্, পারি না বাপু। নিশ্চয় আমার পাঠকবৃন্দের মধ্যে কেউ। কোন সম্বর্ধনা সভাটভায় আমন্ত্রন জানাবে। যাগগে্, আসতেই বলি। আমার সকালটা মাটি হবে, এই যা।
--"আসতে বল", চেঁচালাম আমি।

কিছুক্ষণ পর দরজা দিয়ে যে মানুষটা ঢুকল, তাকে চিনতে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হলেও, চিনতে পারলাম আমি।
--"সুরেন! তুই!", বিস্ময়ে নিজের গলাটা নিজের কাছেই কেমন যেন শোনালো।
--"হ্যাঁ অবিনাশ, আমি সুরেন।তোদের পাগলা সুরেন, প্রেমিক সুরেন, দুরন্ত সুরেন। অবশ্য এখন আমি খুনে সুরেন।"
--" খু-খু-খু-নে সুরেন! এসব কি বলছিস! আর তোর এরকম হাল কেন..?? চোখের নিচে কালি, মনে হচ্ছে দু-তিন রাত ঘুমোসনি। কি হয়েছে তোর! আর এরকম ছদ্মবেশই বা কেন..?? তোর এই চাঁপদাড়িটার জন্যই তো বুবাই তোকে চিনতে পারলনা।"
--"বলব। সব বলব। বলব বলেই তো তোর কাছে ছুটে এসেছি। আফটার অল, তুই আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড। কিন্তু তার আগে এক গ্লাস জল খাওয়াবি ভাই..??"
--"অবশ্যই, একটু দাঁড়া।"
ভেতরের ঘরে চলে গেলাম আমি। সুরেন আর আমি বাচ্ছা বয়সের বন্ধু, মানে ন্যাংটো বয়সের বন্ধু বলাই চলে। তারপর ওরা গড়িয়াহাটার দিকে শিফট্ করে যায়, আর আমরা বালিগঞ্জেই থেকে যাই। তাতে অবশ্য আমাদের বন্ধুত্বে ছেদ পড়েনি। ফোনে তো বটেই, ইদানীং স্কাইপেও কথা হয় আমাদের। ওর ফ্যামিলিতে একটা প্রবলেম চলছে জানতাম। আজ ওকে দেখে মনে হচ্ছে তা বেশ বড় আকার ধারণ করেছে। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে যে বিয়ের বারো বছর পড়েও ওদের কোন সন্তান জন্মায়নি। এই নিয়ে ও খুব দু:খ করতো আমার কাছে। বহু ডাক্তার দেখিয়েছে, কাউন্সিলিংও করিয়েছে, কিন্তু কিছুতেই কোন লাভ হয়নি। আর না হওয়ার কারনটাও আমি জানি।কিন্তু থাক, সেসব কথা এখন না ভাবাই ভাল। এখন দেখতে হবে এত সকালে কি হল যে সুরেনকে এভাবে ছদ্মবেশধারণ করে ছুটে আসতে হল।

শুধু কি আর জল দেওয়া যায়, চক্ষুলজ্জা বলেও তো একটা ব্যাপার আছে। তাই জলের সঙ্গে 'টল' টাও দিলাম। (এখানে টল বলতে খাবারের কথা বলা হয়েছে। অন্য কিছু ভেবে বসলে সেটা আপনার বিকৃত মনের কল্পনামাত্র। তার জন্য লেখক দায়ী নহে।) যাইহোক, দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুরেন গোগ্রাসে খেয়ে নিতে লাগল। ততক্ষণ আমি ওকে লক্ষ্য করতে লাগলাম। পরশু রাতেই ওর সাথে ভিডিও চ্যাট করেছি। তখন কিন্তু এরকম ছিল না ও। দাঁড়িটা নিশ্চয় দুদিনে গজিয়ে যাবে না। তাছাড়া মুখটাও কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। চোখগুলোও যেন ঢোকা ঢোকা লাগছে। সত্যি, এক রাত্তিরে একজন মানুষের এতোটা পরিবর্তন কি সম্ভব! সিনেমায়, গল্প-উপন্যাসে এ যদিও হতে পারে, বাস্তব জীবনেও কি---!! নাহ্, নিজের চোখে না দেখলে এ আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতাম না।
--"কিরে! কোথায় হারিয়ে গেলি। প্লিজ আমায় হেল্প কর ভাই। তুই ই এখন বাঁচাতে পারিস আমাকে। কিছু একটা বুদ্ধি দে আমায়।", সুরেনের কথায় সম্বিত ফিরল আমার।
চায়ের কাপটা তুলে নিয়ে চুমুক দিয়ে বললাম," আহা, প্রবলেমটা তো আগে বল। কি হয়েছে না জানলে আমি কি করে হেল্প করব?"
--" কি বলব.. মানে কোথা থেকে শুরু করব... কিছুই বুঝতে পারছি না আমি... সব কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে।"
--" নিশ্চয় রত্নাবৌদির সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে এসেছিস, আর এখন আমায় ম্যানেজ দিতে হবে... তাই তো..?? আমি কিন্তু--"
--" না অবিনাশ না, সেকি এখন নিজের অবস্থায় আছে...? আমি যে নিজের হাতে তাকে খুন করে এসেছি... খুন.."
--"মানে..???", চেঁচিয়ে উঠলাম আমি। মাথাটা যেন বোঁ করে ঘুরে উঠল। এসব কি বলছে সুরেন! রত্না.. খুন... আমি যে সহ্য করতে পারছি না....। চট করে ক্যালেন্ডারটায় চোখ বুলিয়ে নিলাম। না এ তো ফার্স্ট এপ্রিল নয়। সবে মার্চের ৪ তারিখ। আর সুরেনও প্র্যাক্টিকালজোক করার ছেলে নয়। তবে কি সত্যি সত্যি রত্নাকে... আমার রত্নাকে ও খু---ন---। মাথায় রক্ত চড়ে গেল আমার।
হঠাৎ একটা দৃশ্যপট ভেসে উঠল আমার সামনে। সুরেন, এগিয়ে আসছে আমার দিকে, হাতে ছুরি, রক্ত--- পাশেই পড়ে রত্নার মৃতদেহ, সুরেন এগিয়ে আসছে, আরও এগিয়ে আসছে, আর চাপা গলায় বলছে, "খুনি---আমি খুনি--- ওকে মেরেছি---এবার তোর পালা---মারব --- সব শালাকে মারব--- কেউ বাদ যাবে না--- কেউ না---"
--"সুরেন! না, সুরেন না!", চেঁচিয়ে উঠলাম আমি, " এসব কি বলছিস তুই, কি বলছিস!"
--"শান্ত হ্ অবিনাশ, শান্ত হ্।এখন তো তুই ছাড়া আমার আর কেউ নেই, তুই আমাকে বাঁচা অবি, বাঁচা"
শান্ত! আমার রত্নাকে মেরে ও আমাকেই বলছে শান্ত হতে! এ যে অসম্ভব। আমাদের মধ্যে তো আর শুধুমাত্র দেওর-বৌদির সম্পর্ক ছিল না, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু ছিলাম আমরা। ওদের সন্তান না হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে দায়ী ছিলাম আমি। কিন্তু সেসব কি সুরেন জেনে গেছে! না, তাহলে তো ও এভাবে আমার কাছে ছুটে আসত না। এখন দেখতে হবে ও কতোটা কি জানে। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করতে হবে আমায়। এই বয়সে আমি আর কোন কেচ্ছা সহ্য করতে পারব না। এখন আমার বৌ-বাচ্চা আছে, সাজানো সংসার আছে, তাছাড়া সমাজে লেখক হিসাবে আমার বেশ নাম আছে, প্রতিপত্তি আছে। এখন দেখা যাক্, সুরেন কি বলে।

--" আমি যে কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। প্লিজ তুই সব কিছু খুলে বল।তুই--রত্না---খুন---। তোদের তো বেশ হ্যাপি ম্যারেড লাইফ ছিল, অন্তন আমি যতদূর জানতাম। তাহলে--"
--" ওথেলো, অবিনাশ, ওথেলো, ডেসডিমোনা এপিসোড, ওটাই সব শেষ করে দিল।"
--"মা-মা-মানে..?? বিবাহ বহির্ভূত প্রেম!! পরকীয়া..!! এসব কি বলছিস!!", ভয়ে বুক কেঁপে উঠল আমার, তবে কি সুরেন জেনে গেল আমার আর রত্নার সম্পর্কের কথা!
গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করলাম, "ছেলেটা কে? রত্নাদির পুরনো প্রেম?"
--"না, সেটা হলেও তো একটা সান্তনা থাকত। ছেলেটা যে আমার ভাই, নিজের পিসতুতো ভাই। সন্দেহটা অনেকদিন ধরেই ছিল, কিন্তু কাল রাত ১টায় ফোনে ওদের একসঙ্গে কথা বলতে শুনে কনফার্ম হলাম। আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। কথাগুলো শোনার পর থেকেই গা টা কেমন যেন ঘিনঘিন করছিল।ঘুমোইনি, মটকা মেরে পড়ে ছিলাম। তারপর ও ঘুমে ঢলে পড়তেই দাঁ নিয়ে এসে ওকে বীভৎসভাবে কুপিয়েছি। ওর আর্তনাদ এখনও আমার কানে বাজছে অবিনাশ, কানে বাজছে। ওর লাশটা এখনও আমার ঘরে পড়ে আছে। আমি আর কোনদিনও ওই বাড়িতে ফিরতে পারব না অবিনাশ। অবশ্য এর জন্য আমার কোন অনুশোচনা নেই, ওর অপরাধের উচিত শাস্তি দিয়েছি আমি। এ শাস্তি আমাকে ঠকাবার জন্য নয়, এ শাস্তি আমার জীবনের বারোটা বছর নষ্ট করার শাস্তি, আমায় সন্তান দিতে না পারার শাস্তি। কিন্তু এখন আমি কি করব বলতে পারিস অবিনাশ..?? পুলিশ আমায় খুঁজবে, ওর আত্মীয়-স্বজনরা আমায় ছিঁড়ে খাবে, রাস্তা দিয়ে গেলে সবাই চেঁচিয়ে বলবে, 'খুনি, ওই দেখ খুনি যাচ্ছে, খুন করেছে নিজের বউকে,খুনি--খুনি--' আমি কি করব এখন..?? তুই আমাকে বাঁচা অবিনাশ, তুই আমাকে বাঁচা।"

পনেরো মিনিট পর
না, আমি বাঁচায়নি সুরেনকে।আমি বাঁচায়নি আমার ছোটবেলার প্রাণের চেয়ে প্রিয় সঙ্গীকে।চলে যেতে বলেছি আমি ওকে। চলেও গেল এইমাত্র। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই আমার।ওর প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই আমার। কারণ ও অপরাধী, আইনের চোখে অপরাধী, সমাজের চোখে অপরাধী। কিন্তু শুধু কি এটাই ওকে না বাঁচানোর কারণ..?? না, আর একটা কারনও আছে। যে রত্না আমার বুকে ঝড় তুলেছিল, একুশ বছরের আমি প্রেমে পড়েছিলাম যে অষ্টাদশীর, যে রত্নার সাথে ভিক্টোরিয়া, কফি হাউস, শহীদ মিনার গুলজার করেছি আমি, সেই রত্নাকে হত্যা করেছে ও। হ্যাঁ, আমিও প্রেমে পড়েছিলাম এক কালে, এক বসন্তের বিকেলে, প্রেমে পড়েছিলাম তার চুলের ফাঁকে, প্রেমে পড়েছিলাম তার চলার ছন্দে, প্রেমে পড়েছিলাম তার ভাষার বাঁধুনিতে। তারপর যা হয় আরকী, সাড়ে চার বছর প্রেম করার পর ওর বিয়ে হয়ে যায় পরিবারের চাপে। আমিও ছিলাম ম্যাদামারা বাঙালি, মুখে আস্ফালন থাকলেও কাজে অষ্টরম্ভা। সুরেনকে আমার প্রেমের কথা বলিনি কোনদিনও। কোথায় যেন একটা পড়েছিলাম যে বেষ্ট ফ্রেন্ড প্রেমে পড়লে মানুষ নাকি হিংসা করে। সুরেনের বিয়েতে যাওয়া হয়নি আমার, কারন সেদিন ছিল আমার প্রিয়তমারও বিয়ে। কাজেই রত্না আর সুরেনের বেটার হাফ যে একই ব্যক্তি, তা জানার ফুরসত আমার হয়নি। পরে সব জানাজানি হলে, রত্না একদিন ছুটে এসেছিল আমার কাছে। বলেছিল যে ওর বিয়ে হয়ে গেলেও কোনদিনও ও সুরেনকে মন থেকে মেনে নেবে না। ও আমার ছিল, আমারই আছে আর থাকবেও। তাই ও গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহার করত। আমি অনেক বুঝিয়েছিলাম ওকে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। আমার বুবাইএর দিব্যি দিয়ে বলেছিল, এসব কথা আমি যেন ঘুর্ণাক্ষরেও সুরেনকে না জানাই।

জানি না হঠাৎ কেন চোখের পাশটা জ্বালা করে উঠছে, গলার কাছে একটা বাস্প জমে উঠছে আমার! আমি ফিরে যাচ্ছি আমার অতীতে, আমার সোনা ঝরা দিন গুলোয়, বুকের বাম প্রকোষ্ঠটা না জানি কেন আমার আজ বড্ড ফাঁকা ফাঁকা মনে হচ্ছে। বুবাইএর মা মারা যাওয়ার পরও তো এমনটা হয়নি আমার, আমার সর্বাঙ্গ তো জ্ব্বলে ওঠেনি আজকের মতো। তাহলে, এই নামই কি ভালবাসা, যা পোড়াতে পারেনা অগ্নি, যা ছেদিত হয় বা অস্ত্রের দ্বারা! আহ, কি যন্ত্রণা! এ যন্ত্রণাই আমার প্রাপ্য, এ যন্ত্রণাই আমার ঈশ্বর, আমার প্রেম, আমার বেঁচে থেকেও মরে যাওয়ার দূত।

সুরেনের কথা
নামও একটা রেখেছিল বটে অবিনাশের বাবা-মা। কি নাম..?? না, অবিনাশ, যার বিনাশ নেই, যাকে বিনষ্ট করা যায় না। তেমনটা যে সম্ভব নয়, অবিনাশেরও যে বিনাশ আছে, তা আজ করে দেখিয়েছি আমি। রত্নার ডাইরিটা আমি স্টোররুমে খুঁজে পেয়েছিলাম। আগেই সন্দেহ করেছিলাম অবিনাশকে। বারবার ওর বাড়িতে আসা, ছুতো পেলেই রত্নাকে ওর বাড়িতে নিমন্ত্রণ করা, না জানি কেন আমার খুব একটা ভাল লাগত না। ডাইরিটা পড়ার পর দুয়ে দুয়ে চার করতে খুব একটা অসুবিধে হয়নি আমার। তারপর কাল ঘুমের মধ্যেই চলে গেছে ও।আপাতদৃষ্টিতে খুবই সাধারণ মৃত্যু। কিন্তু তা যে ঘুমের ওষুধের ওভারডোজের ফল, তা আর কতজনই বা বুঝবে! অবশ্য বুঝলেই বা কি, তখন তো আমি ধরাছোঁয়ার বাইরে। একটা শেষ কাজ বাকি ছিল। অবি আর রত্না যাতে মৃত্যুর পরও একসাথে থাকে, সেটা এনসিউর করা খুব দরকারি ছিল। তবে সেটা হয়ে গেছে। অবিকে জল আনার অছিলায় ঘরে পাঠিয়ে ওর চায়ে বিষ মিশিয়ে দিয়েছি। বেশিক্ষণ নয়, আর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ওর সাথে রত্নার দেখা হয়ে যাবে। অবি কিন্তু সেই বোকাই রয়ে গেল, ম্যাদামারা ভেতো বাঙালি হলে যা হয়। নাহলে কি আর কেউ তার প্রেমিকার খুনিকে হাতের সামনে পেয়েও ছেড়ে দেয়! তা সে যতোই ছেলেবেলার বন্ধু হোক। যাইহোক, এসব ভেবে কি আর এখন কোন লাভ আছে, ওই তো ট্রেন দেখা যাচ্ছে। যাই, এবার লাইনের ওপর গিয়ে দাঁড়াই। নাহলে আবার ভবপারে যেতে দেরি হয়ে যাবে, বড্ড দেরি...

আপনার মতামত জানান