ইয়ে... ওই যা হয় আর কী আজকাল

অভীক দত্ত
তিতিরের সামনে ক্লাস নাইনের অ্যানুয়াল পরীক্ষা। পড়তে বসেছে সন্ধ্যা ছটা নাগাদ। হিস্ট্রি আর জিওগ্রাফি সারাবছর দেদার ফাঁকি মেরেছে। একদিনে বেশ কয়েকটা চ্যাপ্টার পড়তে হবে। এখন প্রথমে হিস্ট্রি নিয়ে বসল। পড়া শুরু করতেই দেখল মোবাইলটায় নোটিফিকেশন এসে গেছে।
সাগ্নিক পিং করছে। থার্ড ইয়ারে পড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং। ফেসবুক থেকে এক্কেবারে জোর করে ফোন নাম্বার নিয়ে ছেড়েছে। তিতির দেখল একবার । সাগ্নিক লিখেছে “একটা সেলফি প্লিজ”
তিতির প্রথমে ইগনোর করল। কিন্তু পড়তে বসে দেখল মন বসছে না। শেষমেশ একটা সেলফি তুলে পাঠিয়ে দিল। সেলফি তোলার সময় কোলে টেডিটাকে নিয়ে তুলল যাতে কিউট লাগে আরও। ফটোটা যেতেই সাগ্নিক একগাদা চুমুর ইমো পাঠিয়ে দিল। তিতিরও কতগুলো চুমুর রিপ্লাই পাঠিয়ে দিল। নোটিফিকেশন বারে দেখল ফেসবুকেও নোটিফিকেশন এসছে। ফেসবুক খুলতেই দেখা গেল একগাদা নোটিফিকেশন। কালকে যে ডিপিটা দিয়েছিল তাতে লাইকের সংখ্যা দেড়শো ক্রস করে গেছে। সাগ্নিক, শান্তনু, ঋদ্ধি সবাই এক্কেবারে ঝাঁকে ঝাঁকে কমেন্ট করে গেছে। সবার কমেন্টের তলাতেই থ্যাঙ্কু লিখল সে। তারপর মনে হল সাগ্নিককে যে সেলফিটা পাঠিয়েছিল সেটা আবার ফেসবুকে পোষ্ট করলে কেমন হয়?
নাহ, ইন্সটাগ্রামে আগে পোষ্ট হোক। তারপর ওখান থেকে ফেসবুকে শেয়ার করা যাবে। এক ঢিলে দুই পাখি যাকে বলে এক্কেবারে।
কিন্তু... ফটোটা তো একটু ফেটে গেছে মনে হচ্ছে। তিতির আবার ভাল করে তুলল ফটোটা। সামান্য এডিট করে ইন্সটাগ্রামে পোষ্ট করে ফেসবুকে শেয়ার করল। সাথে সাথেই আরেকটা নোটিফিকেশন। রাঘব। ছেলেটা দারুণ হ্যান্ডু। মানসীর ক্রাশ আছে ওর ওপর। কিন্তু তিতির মানসীকে বলে না, রোজ রাত তিনটে অবধি রাঘব তার সাথে গল্প করে। রাঘব একটা সেলফি পাঠিয়েছে। রাঘব এরকমই। সেলফি ফ্রিক। তিতির সেলফিটা দেখেই একগাদা চুমু পাঠিয়ে দিল। রাঘব উত্তরে লিখল জিমে আছে। রাতে পিং করবে। তিতির আবার একগাদা চুমু পাঠিয়ে দিল।
সাগ্নিক লিখেছে “আমার ছবিটা ফেসবুকে কেন দিলি? ওটা শুধু আমার”।
তিতির বিরক্ত হল। ছেলেটা মাঝে মাঝে ভীষণ ন্যাকামি করে। সে লিখে পাঠাল “সরি। আচ্ছা তোকে আবার একটা তুলে পাঠাচ্ছি”।
আবার একটা ছবি তুলে সাগ্নিককে পাঠাল। তারপরেই মনটা খুঁত খুঁত শুরু করল। নতুন ফটোটা লাইক পেল একটাও? ফেসবুক খুলতেই দেখতে পেল সবার আগে সাগ্নিক একটা দুঃখিত মুখের ইমো পাঠিয়েছে। সেটার রিপ্লাইতে একটা হাসি হাসি মুখের ইমো পাঠাল। বেশ কয়েকটা লাইক পড়ে গেছে।
একগাদা মজার ছবি পাঠিয়েছে পৌলমী তাদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে। সেগুলি দেখেই আবার অন্যগ্রুপগুলিতে ফরোয়ার্ড করে ফেলল সে। সেখানেও নতুন কিছু ফটো এসছে। সেগুলিকে আবার অন্য গ্রুপে পাঠাল। মাঝখানে দু একবার ফেসবুকও দেখা হল।
সাড়ে আটটা নাগাদ তিতিরের খেয়াল হল কখন যেন আড়াই ঘণ্টা কেটে গেছে। সে শিগগিরি রিংয়ের ভলুউম কমিয়ে ফোনটা রেখে পড়তে বসল।
খানিকক্ষণ বাদে ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল। তিতির ঠিক করল কিছুতেই ধরবে না। কিন্তু হঠাৎ মনে হল যদি রাঘব হয়? নাকি ফেসবুকে নতুন ডিপিতে কেউ যদি বাজে কমেন্ট করে দেয়... নাহ... একবার দেখেই ফোনটা রেখে দেব... একদম...
তিতির আবার ফোনের দিকে হাত বাড়াল।

আপনার মতামত জানান