রূপচর্চা

সুস্মিতা মৈত্র

ধপাস করে সোফায় বসে বহ্নিশিখা বলল, “তোর জামাইবাবু মাঝেমাঝে এমন করে, অপ্রস্তুতের একশেষ”। আগুনসুন্দরী বহ্নিশিখা গ্রাজুয়েট হতেই বিয়ে হয়ে যায় আট বছরের বড় দেবেনের সাথে। আইএএস অফিসারের বউ বহ্নিশিখা সারাদেশ ঘুরে আপাতত কলকাতায়। সরকারি হসপিটালের চাকরি ছেড়ে অগ্নিদীপাও নিজের চেম্বার খুলেছে কলকাতায়। অনেকদিন পর দুইবোন এক শহরে, তাই সময় পেলেই দুইবোনের গল্প জমে ওঠে। অগ্নিদীপা পিটপিটিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে দিদির দিকে ফিরল, “কোথায় জামাইবাবু? কি করেছে?”
পঁয়তাল্লিশের বহ্নিশিখার প্রকৃতিদত্ত রূপ দামি পার্লারের নিয়মিত মাজাঘষায় আজও জ্বলজ্বলে। দেবেনই ওকে পার্লারে নিয়ে যায়। বহ্নিশিখা বলে, “কালকে বিয়ের নেমন্তন্ন বলে বিউটিপার্লারে গিয়েছিলাম। বাইরে বেরিয়ে দেখি গাড়িটা দাঁড়িয়ে অথচ তোর জামাইবাবু নেই।”
“সেকি?”
“ফোন করতে যাব, পার্লারের মেয়েটা শুধোয়, কাউকে খুঁজছি? ‘আমার হাজব্যান্ডকে’ বলতেই বলে ‘নীলজামা, গোঁফওলা? উনি ছেলেদের পার্লারে ফেসিয়াল করাচ্ছেন।’ তুই ভাব, যে মানুষ সারাবছর মুখে ক্রিমও লাগায় না, সে করাবে ফেসিয়াল! আমি বলি, ‘নিশ্চয় বাইরে কোথাও গিয়েছে, এসে যাবে’। মেয়েটি বলে ‘আপনি গিয়ে দেখুন, দাদা ভিতরেই আছেন’। এতবার বলছে মেয়েটা, ভেতরে গেলাম”।
“গিয়ে কি দেখলি যে অপ্রস্তুত?”
“ভিতরে ঢুকে দেখি লাইন দিয়ে ছেলেরা বসে আছে। চাদর দিয়ে শরীর ঢাকা। বেশিরভাগেরই মুখে প্যাক লাগানো। কারোর কারোর চোখদুটো শসা দিয়ে ঢাকা। যাদের চোখ ঢাকা নেই, তাদের চোখ আরামে বন্ধ। ওই ভিড়ে তোর জামাইবাবুকে দেখতে না পেয়ে বেরিয়ে এলাম।”
“তারপর?”
“মানুষটা কোথায় যেতে পারে ভেবে না পেয়ে আবার ঢুকলাম। কাছে গিয়ে মুখগুলো দেখতেই হল।’
“অ্যাঁ, তুই লোকগুলোর মুখের উপর ঝুঁকে দেখলি?”
“সবার চোখ বন্ধ ছিল, কেউ টের পায় নি যে আমি মুখগুলো দেখছি! কিন্তু তোর জামাইবাবুই এমন হাঁক দিল যে সবাই জেনে গেল। ওর হেঁড়ে গলায় ‘আমি এখানে, আর দশ মিনিট’,শুনে সবাই ঘাড় ঘুড়িয়ে ড্যাবড্যাব করে দেখছিল আমাকে! ভাব, অতগুলো চোখ শুধু আমাকে দেখছে, কেমন অপ্রস্তুত লাগে?”
“তোমার দিদি বরকে হারিয়ে কেঁদে ফেলছিল। বাধ্য হয়েই আমাকে চেঁচাতে হল,’ বলে হাসিমুখে দেবেন ভিতরে ঢুকে শ্যালিকাকে চোখ টিপল, “আরে, সুন্দরী বউকে নিয়ে বিয়েবাড়ি যাব, একটু রূপচর্চা করবো না?”

আপনার মতামত জানান