কিছুদূর অন্যরাস্তায়ঃ ২

ফজলে আজিজ আব্বাসী
দিল্লি মেট্রো, আলিয়া ভট্ট, মাঙ্কি ক্যাপ

সেদিনই কোন একটা ওয়েবসাইটে পড়ছিলাম, ৯০এর জাতকদের বড় মুশকিল এখন। ওজন বাড়ছে। বান্ধবীদের তো বটেই, বন্ধুদেরও অনেকেরই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। মাথার ঘাসপাতা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হচ্ছে। কেরিয়ার - রিলেশনশিপ - ডিপ্রেশন নাকি নাক বরাবর এসে দম নিচ্ছে। সুযোগ পেলেই সর চঢ়কে বোলে গা, 'চল বেটা সেল্ফি লে লে রে!' যে সেলিব্রিটি মহিলাদের দেখে পুরুষদের পেট ও বুকের ভেতর প্রজাপতি উড়তে শুরু করছে, তাঁরাও বয়সে ছোট! ফিলিংটাই এমন যে শালা আমার থেকে কমবয়সী একটা মিষ্টিমত মেয়ে বলিউডে শাহরুখ আমিরের সাথে চুটিয়ে রোমান্স করছে, সুন্দর সুন্দর লোকেশনে গিয়ে প্রেম করছে উইথ আধবুড়ো নায়ক অ্যান্ড ৬৯ আদার্স! আর আমি এমনই অপোগণ্ড (বাবার ভাষায় আরকি!), পতঞ্জলির মত খাঁটি শুদ্ধ নির্ভেজাল একখান প্রেম করতে পারলাম না! এর পিছনের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতেই পারে, কিন্তু তা অন্য কোনওদিন হবে।

আমি যে রাজধানীতে, মানে দিল্লীতে, তা নিশ্চয়ই এতক্ষণে অরবিন্দস্যরও জেনে ফেলেছেন। (আজ্ঞে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কথা-ই বলছি) তা দুপুরের খাওয়াদাওয়া সেরে বেরিয়েছিলাম। বের হবার সময় জানতে পারলাম, আমার চলাফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধাজনক মেট্রো। কারণ? অত্যন্ত সিম্পল! ট্র্যাফিক থাকে না। তাই সারা বিকেল সন্ধে এদিকওদিক ঘুরেফিরে উইন্ডোশপিং সেরে ফের রাজীব চক থেকে মেট্রো ধরেছি, প্রায় ৯টা বাজে রাত্তির। রাজধানীতে শীত এখনও পড়েনি সেভাবে, তাই বেশ ভিড় মেট্রোয়। রাজীব চক থেকে আমাদের পিছুপিছু এক মাঝবয়সী লোক উঠলেন। উঠে সামনের দরজাটার গায়ে ঠেস দিয়ে মেট্রোর মেঝেয় চুপ করে বসলেন। রাজীব চক পেরোতেই বেশ চেঁচিয়েই ডিমানিটাইজেশনের ব্যাপারটাকে ভীষণ গালিগালাজ করতে লাগলেন। আমি দাঁড়িয়ে আছি ওনার ঠিক পাশেই; আচমকা ওরকম গালিগালাজ শুনে আমি তো তাজ্জব! একিরে বাবা! একটু পর বোঝা গেল, উনি থোড়া ড্রিঙ্ক আছেন! বোঝো! তা খানিক পর চুপও হয়ে গেলেন।
রাজীব চক পার হয়ে ঝান্ডেওয়ালান ঢোকার ঠিক কিছুক্ষণ আগে সিটে বসা আমার সঙ্গী বেশ জোরেই চেঁচালেন, “কাহাঁ জাওগে আপ? শরাব পি রকখি হ্যায় ক্যা!?” যাকে উদ্দেশ্য করে বলা, তিনি বেশ কিছুটা এলিয়েই পড়েছিলেন সঙ্গীর কাঁধে। ঘুমঘুম লালচোখে তাকিয়ে জড়ানো স্বরে কিছু একটা বললেন, সঙ্গী বুঝতে পারলেন হয়তো! আমি বুঝতে পারিনি। আমার সঙ্গীঃ “হ্যাঁয়? ও তো কবকি নিকল চুকী!” ইতিমধ্যে বোঝা গেল অসলি মাজরা। ইনিও কিঞ্চিৎ সোমরস পান করেছেন। আর কিভাবে জানি উঠেও পড়েছেন মেট্রোর মত কড়া প্রহরাময় অঞ্চলে! বিনা টিকিটের যাত্রী যে নন, তা বোঝা-ই যায়। (হেঁহেঁ, এ তো আর ৯টা ৩৫এর রামপুরহাট বর্ধমান লোকাল না কাকু! ইহারে কয় দিল্লী মেট্রো।) তাহলে? সে যাগগে! এসব ইন্টিবিন্টিতে সময় যেতে লাগল।
ইতিমধ্যে ঝান্ডেওয়ালান পেরিয়ে গেছে। দ্বিতীয় মহানুভব ব্যাক্তি গেটের সামনে এগিয়ে গিয়ে ফের পিছন ফিরলেন। উল্টোদিকের দরজায় বসে থাকা প্রথম মহানুভবকে জিজ্ঞাসা করলেন, “অরে ভাই, ......(স্টেশনের নাম) নিকল গ্যয়া ক্যা?”
মেট্রোসুদ্ধ লোক হোহো করে হেসে উঠলো! কেউ কেউ তো বলেই ফেললেন সালে বেওড়ে! এক বয়স্ক রসিক আঙ্কলজি (এদিকে মেসোমশাই কেউ বলে না। বয়স্কদের সবাই আঙ্কলজি কিংবা স্যর বলে। বেশ মিষ্টি, তাই না?) বললেন, “অরে ভাই, এক মহাপুরুষ দুসরে মহাপুরুষ কে সাথ উচ্চমার্গকি আলোচনা কর রহে হ্যাঁয়!” হাসতে হাসতেই নেমে গেলাম আমরা।
পরেরদিন। আবার মেট্রো। সাকেত থেকে ফিরছি। আপাতত মিনিট আধেক দাঁড়ানোর পর রাজীব চকে যে মেট্রোটা ঢুকল, সেটার গায়ে আলিয়া'র আলোয়ান জড়ানো। দেখেই আমার চোখ দুখানা বড়বড় লাভসাইনে পরিণত হল। ওই যে, ৯০এর জাতক এবং অন্যান্য ইচিংবিচিং গল্পটল্প। আলিয়া'র প্রথমদিককার ছবিগুলোয় আলিয়াকে খুবই লাউড মনে হত। হাইওয়ে, কপূর অ্যান্ড সন্স, হাম্পটি শর্মা, ডিয়ার জিন্দেগিতে এসে অসম্ভব পরিণত লেগেছে। সে যাইহোক। আলিয়া'র আলোয়ানের ভেতর ঢুকে বেশ প্রেমপ্রেম পেতে লাগল। আমি মেট্রোর ভেতরে ঢুকবার পরেই দরজার পাল্লাদুটো গুড়গুড়িয়ে একে অন্যের দিকে এগিয়ে এল। তারই মধ্যে এক ভদ্রলোক গেটে ঢুকবার চেষ্টা করলেন।

আমার ধারণা ছিল মেট্রোর গেট খোলাবন্ধর সময় মধ্যিখানে কেউ ফেঁসে গেলে সে ব্যাটা গিয়ো। গেট বন্ধ হবার সময় অর্ধেক গেট খোলা অর্ধেক বন্ধ অবস্থায় ঢোকার চেষ্টা করলে ওখানেই আটকে থেকে যেতে হয়। ‘তারচেয়ে দাদা অনেক সরল আমার সমীকরণ!' গেট বন্ধ হবার উপক্রম হলে কদাচিৎ ঢোকার চেষ্টা বা বেরোনোর চেষ্টা না করাই মঙ্গল। এই নিপাট বংগালিমন যে ভীষণই বোকা, তা বুঝলাম যখন জানলাম, একটা সেন্সর কাজ করে, যার ফলে যদি গেট বন্ধ হবার সময় যদি কেউ ভেতরে আসতে চায়, সেক্ষেত্রে আপনা আপনি গেট ফের খুলে যাবে। (হ্যাঁ, স্বয়ংক্রিয় দ্বার। উফ! কি মিষ্টি বাংলা!) তো সেই ভদ্রলোক আটকে গেলেন। দরজা স্বয়ংক্রিয় সৌজন্য দেখিয়ে 'সরি স্যার' বলে ফের খুলে গেল। সেই সুযোগে টুক করে এক সুবেশা তরুণী ঢুকে পড়লেন। হুঁ হুঁ বাবা! কত এস্মার্ট দেকেচেন! তরুণীর সঙ্গে বয়সজনিত স্বভাবদোষে কিংবা স্বভাবগুণে এক তরুণ ছিলেন। দৌড়ে এসেও তিনি ঢুকতে পারলেন না।

মেট্রোটি গায়ে আলিয়া'র আলোয়ান জড়িয়ে রেখেছে, সে বোধহয় পুরুষই। বোধহয় কেন, নিশ্চিত সে পুরুষমানুষ। আর পুরুষ তো জন্মগতভাবে পজেসিভ। আলিয়া’র বর্তমান মেন্টর এখন হয়তো ‘জিন্দেগি ও হ্যায়, জিন্দেগি ইয়ে হ্যায়’ বলে সবার মাথা ধরিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু শুরুর দিকে তিনিও ভীষণই পজেসিভ ছিলেন। (কেন, ‘ক-ক-ক-কিরণ’ মনে পড়ে না?) তরুণটি বাইরেই দাঁড়িয়ে রইল। মেয়েটি ভেতর থেকে দেখছে ছেলেটিকে। ছেলেটিও। কেমন মনখারাপ করতে লাগল আমার। ইশ যদি আর কয়েক সেকেন্ড আগে ছেলেটি আসত, তাহলে হয়তো দুজন একসাথেই চলে আসত। একটু আগেও ওরা দুজনে হয়তো হাতে হাত দিয়ে এদিকওদিক ঘুরছিল। অল্প শীতের রোদের ওমে সেঁকে নিচ্ছিল নিজেদের ভবিষ্যতকে। আইসক্রিম বা চাউমিনের সাথে ভাগ করে নিচ্ছিল একটু আঙুলের ছোঁয়া। ছেলেটির সিগারেটের ধোঁয়ায় উড়ে যাচ্ছিল ওদের মধ্যেকার যাবতীয় সমস্যা, হয়তো বা ছেলেটির বেকারত্বের বিরক্তি। ফ্রাস্ট্রেশন। মেয়েটির পছন্দ হওয়া ঝকমকে কানের দুল, ছেলেটির জন্য সুন্দর একটা টিশার্ট! পাশের মেয়েটির হিংসেচোখে তাকানো। পার্কের ভিড়েও একটু আড়াল খুঁজে আদরবিনিময়... অথচ এই পাজি মেট্রোর চক্করে পড়ে আলাদা হয়ে যেতে হল।
সত্যিই তো! জীবন আসলে এমনই। চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যেকার যে ফারাক, অন্য কিছুর সঙ্গে তার তুলনা চলে না। আমরা যা চাই, তা হয় না। আমরা যা পাই, সেটাকেই চাওয়া বলে ধরে নিয়ে এগোতে হয়। যা পাই, তাই নিয়েই হাসিখুশি থেকে জীবনে সামনের দিকে এগোতে হয়। নইলে জীবন বলে, আরেকটু পথ। আরেকটু এদিকসেদিক, অল্পস্বল্প কৈফিয়ত!
সুতরাং, তরুণটিকে ফেলে রেখেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো মেট্রোপুঙ্গব। দরজা বন্ধ হবার পর। একটা টিং ডিং টাইপের মিউজিক বাজে। যার অর্থ, এইবার দৌড় শুরু হবার সময় হল। কিন্তু সে বাজনা আর বাজে না। কি ব্যাপার! সবাই বেশ উৎকণ্ঠায়। কি এমন হল যে দরজা বন্ধ হয়ে গেল, অথচ বেল বাজছে না, ট্রেনও চলছে না! কেসটা কি হল! এদিকে মেয়েটি তখনও মরাচোখ নিয়ে বাইরে দাঁড়ানো ছেলেটির দিকে তাকিয়ে। চোখ ছলছল করছে কি মনে হল একটু? হতে পারে! আমার পাশেই বসে ছিলেন এক এক সিনিয়ার সিটিজেন সর্দার দম্পতি। সর্দারনী মেয়েটিকে পরামর্শ দিলেন, ‘বেটি অগলে স্টেশন মে উতর যানা। ও আ জায়েগা!’ হুম। প্র্যাকটিকাল পরামর্শ। এইটাই তো বুদ্ধিমানের কাজ। প্রেমের কাজ।
কিন্তু পরের স্টেশনে যে নামবে, তার জন্য ট্রেনটাও তো ছাড়া দরকার। ট্রেনটাও ছাড়ছে না, একজন আরেকজনকে দেখতে পাচ্ছে, অথচ হাত ধরতে পারছে না। খুনসুটি করতে পারছে না। মাঝে এক স্বচ্ছ দেওয়াল উঠে গেছে। কি ভয়ানক এই ব্যাপারটা! ভীষণই কষ্টদায়ক। ইশ! ওরা হয়তো কত প্ল্যান করেছিল। মেট্রোয় উঠে ছেলেটির হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে মেয়েটি। যখন এক একটা স্টেশনে দাঁড়াবে মেট্রো, গতিজাড্যের কারণে হওয়া মুভমেন্টের ফলে এ ওর গায়ে আচমকা পড়ে যাওয়ার বাহানায় দুজনের দুজনকে ছুঁয়ে দেওয়ার ইচ্ছেটুকু, কিংবা সারা মেট্রো ছেলেটির জামার হাতা ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে মেয়েটি। আর ছেলেটির চোখে চোখ রেখে অল্প হাসিটুকু ঝুলিয়ে রাখবে ঠোঁটে... অলপ্পেয়ে মেট্রো! সব প্ল্যান বরবাদ করে দিল।
কিন্তু... হ্যাঁ, টুইস্টখানা এইখানেই মেসোমশাই! আচমকা বাইরে মেট্রোপুলিশের হুইসল বেজে উঠল... ফুর ফ্রুর ফ্রুরররররর! সবাই আবার সচকিত হয়ে উঠলেন। চঞ্চল হয়ে অনেকেই উঁকিঝুকি মারতে লাগলেন। উশখুশ করছেন অনেকেই। বোঝা গেল, এক মাঙ্কিক্যাপ পরা মাঝবয়সী মেট্রোপুলিশ হুইসল দিয়ে বসেছেন।
আচমকাই সব্বাইকে অবাক করে দিয়ে, গুড়গুড়িয়ে মেট্রোর দরজা স্বয়ংক্রিয় ভাবেই খুলে গেল!!! হইহই করে উঠলেন সব যাত্রী! বাইরে দাঁড়ানো ছেলেটি অবাকচোখে তাকিয়ে রইল! কিভাবে সম্ভব এটা!! তার যেমন বিশ্বাসই হচ্ছে না, মেয়েটিরও ঠিক একই পরিস্থিতি। মেট্রোর বাকি যাত্রীদের এমন অভিজ্ঞতা সচরাচর হয় না। আমার তো বাদই দিন। আনন্দের আতিশয্যে মেয়েটির চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল। ছুট্টে গিয়ে ছেলেটির বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল সে। অমনি যেন তুষারপাতের শব্দ হতে লাগল। বুঝলাম, মেট্রোর যাত্রীরা তুমুল হাততালিতে অভিবাদন জানাচ্ছেন তাদের। মূহুর্তে করতালির শব্দে ভরে গেল গোটা প্ল্যাটফর্ম। বাকি মেট্রোপুলিশেরাও মুচকি হাসিতে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁরাও করেন ভালবাসার কাজ, ভেতরে ভেতরে তাঁরাও বিরাট ইশকবাজ! আবার ফুর ফ্রুরর ফ্রুররর...!! ফের হুইসল দিলেন ম্যাঙ্কিক্যাপ পরা মেট্রোপুলিশ আঙ্কল। এবারের হুইসলের বাংলা মানে করলে বোঝায়, অনেক হল, এবার ওঠো। নয়তো আমার চাকরি যাবে। দুই কপোতকপোতী মেট্রোর ভেতরে ঢুকে এল। মেয়েটির কান মুখ লজ্জায় রাঙা। আচমকা আনন্দে দৌড়ে গিয়ে ছেলেটির বুকে লাফিয়ে পড়েছে বটে, কিন্তু ফের সবার সামনে ওর ভীষণ লজ্জাবোধ হচ্ছে। স্বাভাবিক। কোনওমতে ভেতরে এসে এককোণে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল দুজনে। মাথা তুলতে পারছে না কেউই। মনে হচ্ছে যেন পুরো কামরার লোক তাদেরকেই হাঁ করে দেখছে। পরের কয়েকটা স্টেশন পর দুজনে নেমে গেল। সত্যিই এখানেই নামত, নাকি লজ্জায় নেমে গেল, জানা গেল না।
এইবার, আমার পাশে বসে থাকা সিনিয়ার সিটিজেন সর্দার দম্পতির সর্দারজী কাঁপাকাঁপা হাতে আস্তে করে হাতটা ধরলেন প্রিয়তমার। সর্দারনী মুখ তুলে চাইলেন। ইশারায় জানতে চাইলেন, কি হয়েছে? ফিসফিসিয়ে জবাব পেলেন, “কুছ নহী, অ্যায়সে হি।” সর্দারনী আলতো হেসে, সর্দারজীর পুরো হাতটাই জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা দিলেন। (এখনকার অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা যেমন করে আরকি। সিনেমাহলে বা পাশাপাশি বসলে যেটা তাদের প্রিয় পশ্চার) আমার মনে হল, বললেনও হয়তো, কিংবা আমিই ভুল শুনলাম, “ম্যাঁয় ভি জি!” হয়তো ওঁদেরও মনে পড়ল ৪৫ বছর আগের পাগলামি ভরা দিনগুলোর কথা।
আমার স্টেশন এসে গেছে। নামতে হবে।

আপনার মতামত জানান