মুদ্রারাক্ষস

ঋত্বিক সরকার
একের পর এক পাখি উড়ে চলে গেল,
চারপাশ তখন ব্যস্ত গুলি খুঁজতে,
কেউ ভেবে দেখলনা একটা ইট ছুঁড়ি
দেখি,কি হয়?

বাপ মা ভাবল ছেলেটাকে নাম-“কড়া”
ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করতে হবে,
কাল যে সে একটা ক্রিকেট ব্যাটের বায়না করেছিল
সেটা সব্বাই ভুলে গেল।
আস্তে আস্তে সে হারাল মাঠ ময়দান, সরস্বতী পুজো,
হলদে শাড়ির ঝাপটা, আড়চোখের চাহনি,
বুকের মাঝে উথাল পাথাল।
এরপর সে মাল খেয়ে খানায় পরে ঠ্যাং ভাঙল।

তারপর সবাই তেড়ে গেল
তেড়ে গিয়ে শুঁড়িখানা ভাঙল।
কিন্তু কই? কারুর তো মনে পড়ল না,
যে সে একটা ক্রিকেট ব্যাট চেয়েছিল।

বউয়ের চাই পিছি চন্দ্রের ডায়মন্ড নেকলেস,
ফোর জি ফোন, চাই ব্রান্ডেড ইংলিশ ড্রিঙ্কস,
না হলে নাকি আত্মীয়দের ঠিকমত খাতির করা যায় না,
হ্যানা ত্যানা হাজার বায়নাক্কা।

শেষে বর হাজতে গেল, চেক জাল করতে গিয়ে অফিসে,
চাকরি গেল, বউ দিয়ে দিল ডিভোর্স, চোর স্বামী বলে কথা,
যাওয়ার আগে ভাবতে তো পারত, কোন এক সন্ধ্যায় হাতটা ধরে
বলা যেতে পারত “ভালবাসি”।

রোজ রোজ একটা ছায়া দানব খুশি চুষে নিচ্ছে,
চেটে নিচ্ছে রক্ত, হাড় থেকে ছিঁড়ছে মাংস,
আমার, তোমার, পাশের পাড়ার
রাম শ্যাম যোদো কিংবা মোধোর।

জনস্রোত চলেছে তার হাঁ করে মুখের দিকে,
হাততালি দিতে দিতে, আসলে যেন হিপণোটাজড,
যেতে যেতে আমরা ক্ষতবিক্ষত করছি সহযাত্রীদের;
কখনো সে বাবা,মা, বউ, প্রিয়তম, কখন তাকে চিনিও না।

তবুও আঘাত করছি ঘোরের বশে,
আসলে কেউ তো ভেবে দেখল না,
লাল ঝাণ্ডাটা তুলে, স্রোতের বিপরীতে
চলার চেষ্টা করলে কেমন হয়!

আপনার মতামত জানান