হ্যাঁচ্চো

স্বপ্না মিত্র


হ্যাঁচ্চো !
- এলি, এক কাপ গরম চা দিয়ে যা তো । সবসময়ের কাজের মেয়েটিকে নির্দেশ দিয়ে অর্পিতা ঘর চটিতে চটাৎ চটাৎ আওয়াজ তুলে সদ্য শিফট হওয়া ফ্ল্যাটের বেডরুমে চলে এল ।

গত সোমবার থেকে সর্দিকাশিতে অর্পিতার এক্কেবারে হড়হড়ে অবস্থা । প্রথম তিনদিন অর্পিতা গা বাধায়নি । শিফটিংয়ের কারনে থার্মোমিটারও হাতের কাছছাড়া । বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেয় অর্পিতা সুমনের পাশে গিয়ে বললো , দ্যাখো তো জ্বর এসেছে কিনা। হাতের চেটোটা কি গরম ! সুমন ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই বিজ্ঞের মত বললো , হাতের চেটো গরম মানে নো জ্বরজারি । চেটো গরম শুভ লক্ষ্মণ , জ্বরের ক্ষেত্রে । অভয়বাণীর পরেও অর্পিতা দাঁড়িয়ে আছে বুঝে সুমন চোখ তুলে তাকালো । দেখলো, অর্পিতার চোখে সন্দেহ। ক্লান্তিও । সুমন তার ঠোঁটজোড়া অর্পিতার কপালে ছুঁইয়ে বললো , মেরেকেটে সাতানব্বই । ঠোঁট দিয়ে জ্বর মাপার পদ্ধতিটা অর্পিতার একেবারেই নিজস্ব । বাবুনের ছোটবেলায় মাঝরাতে ঠোঁট দিয়ে অর্পিতা প্রায় নিখুঁত তাপমাত্রা বলে দিত । সুমনের ঠোঁটজোড়াকে ভরসা করে অর্পিতা কিচেনে চলে গেল ।

রাতের দিকে অর্পিতার শরীর খারাপ বাড়লো । কাকতালীয়ভাবে থার্মোমিটারও বেডসাইড টেবিলের ড্রয়ারে আবিষ্কৃত হল । তাপমাত্রা একশো দুই । পরদিন ডাক্তার , ভাইর্যাবল ফিভার, ওষুধ পথ্যি ।

রবিবার সকালেও অর্পিতার গায়ে চিমটির মত জ্বর । শনিবার দুপুর থেকেই অর্পিতার মনে সন্দেহের বুড়বুড়ি শুরু হয়েছিল। ভাইর্যা ল ইনফেকশন তো ছোঁয়াচে ! এলি, সুমনের জ্বর তো দূরের কথা সর্দিকাশির ছিটেফোঁটাও ধরলো না। ভাইর্যানলই তো ! আজকাল কাগজ খুললেই সর্দিকাশির সাতরকম অসুখ। সারস, মার্স কত কি ! সাধের ফ্ল্যাটে অর্পিতার ভেতরটা কেঁপে কেঁপে ওঠে । ছোটোপিসীদের গৃহপ্রবেশের দিনই মশাইয়ের হার্টফেল হয়েছিল । রবিবার সে সুমন, এলির দিকে শ্যেন দৃষ্টি জারী রেখে সামান্য নাক টানা কিংবা ছোটোখাটো হাঁচিও দেখতে পেল না ।

সোমবার সকাল থেকে অর্পিতার আর জ্বর আসেনি । তবে সর্দিকাশি তাকে জাপটে ধরে আছে । আবার অর্পিতার চিন্তা, ভাইর্যারলই তো ?

মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা বাজতেই ডোরবেল । অর্পিতা ভাবলো, আজ সুমন এত তাড়াতাড়ি ? এলি দরজা খুলে দিল। ল্যাপটপের ব্যাগ স্টাডিতে রাখতে রাখতেই সুমনের হ্যাঁচ্চো। একটু থেমে আবার জোড়া হ্যাঁচ্চো। অর্পিতা তাড়াতাড়ি বেডরুম থেকে বেরিয়ে চোখ বড়বড় করে সুমনের দিকে তাকাতে সুমন রুমাল দিয়ে নাক মুছতে মুছতে বললো, আজ লাঞ্চের পর থেকেই ...। অর্পিতা এগিয়ে এসে ঠোঁটজোড়া সুমনের কপালে ছোঁয়াল। একগাল হেসে বললো, বেশী না । একশো । নিশ্চিত ভাইর্যারল। চা খাবে ? আদা দিয়ে ?

আপনার মতামত জানান