দুটি কবিতা

দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়
।।গজল।।

যে আমাকে মোক্ষ দেবে তার বিরহে আজ বিষণ্ণ
আকাশ- পাতাল স্বর্গ- মর্ত এই ধরণী ধ্রুতির জন্য

অপেক্ষা তো কর্মনাশা, গর্ভে তবু বাড়ছে আশা
মৃত্যু জেনেও বর্ম কেন তাও পরো নি? ধ্রুতির জন্য

আঘাত যা যা শেখায় সে তো বাঁচার জন্য অভিপ্রেত
প্রবল স্রোতের ও খড়কুটো তাও ধরো নি? ধ্রুতির জন্য

ভালোবাসা এরই মধ্যে জোয়ার জলে ঢেউয়ের গদ্যে
স্বপ্নে ভাসায় পদ্যে ভাঙা নাও তরণী, ধ্রুতির জন্য

বসন্ত তো কয়েক মাসের, ধ্বংস তো তার পরেই আসে
শিমূল রাগে ছেয়ে গেছে তাও সরণী... ধ্রুতির জন্য

তাও হাতে হাত রাখলে যদি, অমন আকাশ অদ্যবধি
পেলাম কোথায়? আঁকড়ে ধরি শেষ রজনী, ধ্রুতির জন্য

শেষের পর তো আবার শুরু, আতঙ্কে বুক দুরুদুরু
জয় নিশ্চিত, নিজের সঙ্গে তাও লড়ো নি? ধ্রুতির জন্য

মদের নেশায় মাতাল যারা, সোহাগ কি আর বুঝবে তারা?
লুটিয়ে পড়ে না পায় যদি তার চরণই, ধ্রুতির জন্য

উল্লাসও তো স্তব্ধতাতে বাড়তে থাকে রক্তপাতে
এত মারেও হায় দেবায়ুধ, তাও মরো নি? ধ্রুতির জন্য।।


মেরি জেন, মেরি জান
মেরি জেন, মেরি জান, ভালোবাসা যাপনেই থাকে
যেভাবে তোমার খিদে মাতোয়ারা করেছে আমাকে
যেভাবে তোমার উরু, সব শেষ সব শুরু
পাগল ত্রিভুজ এঁকে শট মারি জয় গুরু
শীৎকার মিশে যায় প্রলাপের সহজিয়া বাঁকে
মেরি জেন, মেরি জান খোলা পিঠে স্ট্রিট আর্ট আঁকে

মেরি জেন, মেরি জান, স্বেদে নুন, নারীতনু স্বাদে
তৃপ্তির আশ্লেষে জলের ভাষায় যোনি কাঁদে
তুমিও সবল, তুমি খসখসে মরুভূমি
বলো কোন স্রোতে হবে আজ রাতে মরশুমি
নেশা বাড়ে ক্রমে ক্রমে, গলে যাই নিয়তির ফাঁকে
শূন্য ভিন্ন কোনো রাতের ছিন্ন ছায়া চাঁদের পতন লিখে রাখে... ।।


আপনার মতামত জানান