তেইশের শেষে

মৈনাক দাস
'তোমাকে আমার তোমার বয়সী সবকিছু দিতে বড় সাধ হয়'- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

১.
হেমন্ত শেষে আজকে প্রথম শীত,
আলসেমি ভোর, উষ্ণ চায়ের জল;
এই mug টা কার যেন বেশ দেওয়া?
'শুভেচ্ছা নিস', আচ্ছা সুনির্মল!

নির্মলদা'র কাজটা কিন্তু বেশ-
Deneen pottery, USA র hand-job!
এদেশে থেকে কিছুই হলো না যার,
দূর প্রান্তরে গুছিয়ে নিয়েছে সব।

আমি বাবা এই বেশ ভালো আছি,
বেডরুম থেকে অফিস-cubicle;
বাজলো ক'টা- হাতড়িয়ে খুঁজি ফোন,
চারটে message, তিনখানা missed call।

বারান্দা ভেঙে রোদ্দুর আসে ঘরে-
আটটা সাতাশ, সকাল সকাল কে?
পর্দার ফাঁকে আরেক টুকরো আলো-
'দুঃখিত ভাই, belated birthday'!

প্রীতি, শবনম, নিখিল, অনির্বাণ,
রেলিং এর পারে শহর কলকাতা;
খানিকটা কি বেড়ে গেছে গলিপথ?
পাশ ফিরে রই, এখনো ছাড়েনি মাথা।

২.
জানলার কাঁচে আজকে প্রথম শীত-
কাঁচের জানলা দুভাগ করেছে ঘর;
একদিক ভেজা party র ভস্ম ছাই,
অন্যদিকটা -'পূর্ণগ্রাসের পর'।

তারা এসেছিল, তাদের বৃত্তি এক,
কারো কারো চোখে একই স্বপ্ন-সুখ;
আবঝা আবঝা কিছু কিছু মনে পরে,
সাদা-কালো-নীল কিছু মানুষের মুখ।

'লোক দেখানো বারীন ঘোষের স্বভাব'!
'সবাইকে বুঝি সব পোশাকে মানায়?'
'মেহতা কিন্তু প্রকৃতই সুন্দরী!'
প্লেট হাতে মুন দাঁড়িয়ে থেকেছে কোণায়

কিচ্ছু বলেনি- কিছু কি বলার ছিল?
এক নিঃশ্বাসে মদ গেলে অম্বর,
Mr. Basu কাজ দেখে বেশ খুশি-
তার প্রস্তাবে ডাকছে ব্যাঙ্গালোর!

বহু লোকজন এসেছিল কাল রাতে,
কত উপহার, কত শুভেচ্ছা ফোনে;
একবারও শুধু জানায়নি কিছু লিপি,
বাকি সবকিছু পরে আছে গৃহকোণে।

একটা বাক্স, সানগ্লাস, persol,
এই রাংতা টা i-phone ছিল মুড়ে;
মা-ও চেয়েছিল দিতে কিছু উপহার,
'পায়েস রেঁধেছি, যা না একটু ঘুরে'।

৩.
যাইনি কোথাও, কোথাও যাবোনা আর,
আমি এইখানে, এই বেশ ভালো আছি;
মুখ ফিরিয়েও পালাবার পথ কই!
টেবিলে জঞ্জাল, মেঝেটায় ওড়ে মাছি।

পাশ কাটিয়ে ফিরে আসি সংসারে,
অন্দরে তার paper, calling bell;
বহির্জগৎ ডাক ফেলেছে কি কোনো?
inbox খালি, বাক্সেতে ক'টা mail।

কিছু দেনা-দায় কোম্পানি পাঠিয়েছে,
কিছু কালি-রং বয়েছে greetings card;
আর একটা খাম, অন্তরে তার
handmade sketch, অন্তে আশীর্বাদ।

নামহীন চিঠি, নিশ্চয়ই রুকুপিপি!
ভেতরে ছন্দ, স্বাক্ষরে শশধর;
হতে চেয়েছিল দুর্ভাগাদের কবি,
হয়ে গেল শেষে রুকুপিসিমার বর!

'হেমন্ত শেষে আজকে প্রথম..', থাক-
বড্ড বড়, পরে পড়া যাবে 'খন;
পিকু-মুনিয়ারা এইটুকু, মনে পরে
ভরা বাড়িটায় থাকতাম পাঁচজন।

মা বাবার মাঝে বনিবনা ছিল কম,
পিসির কাছেই প্রথম শিখেছি গান;
কেউ কেউ বলে এ পৃথিবীতে তুই একা,
কারো কারো মতে আমিই ভাগ্যবান।

আমি বলি আমি এই বেশ ভালো আছি-
একটা আকাশ, চারধারে বনসাই;
ভালোবাসা-gift আলাদা করতে গিয়ে,
আরো চারখানা মোমবাতি খুঁজে পাই।

তেইশের শেষে আজকে প্রথম শীত,
তেইশ দু'মাসে সাতদিন ছুটি পায়,
নতুন বছর একলা দেখবে বলে
খালি হাতে কেউ নেমে এলো রাস্তায়।

আপনার মতামত জানান