তিনটি কবিতা

অস্মিতা রায়
মেহেফিল

যেমনটি যুবতী ছিল মেহেফিল
তেমনটি রেখেই,জেনো,ছেড়ে যাচ্ছি বন্দর।

নিবে আসা প্রদীপের আলো বন্ধ দরজা পেরিয়ে যায় গুটি গুটি,
দোতলার ছাদের ফুলকাটা রোশনাই জাগে
এ সকলই মেহেফিল..
এ সকলই বেমানান বিবর্ন চলচ্চিত্র...

প্রশ্নেরা ছায়া ফেলে যায় নোঙ্গরবিহীন...
‘যতটা চিনেছি আমি,
ততটা কি চিনেছ তুমিও?’
সূর্য নিভে আসে দেবদারুটির আড়ে,
শিশির ফুরোবার আগেই তুলে ফেলি নোঙর, শেষতম বার।

বছর ফুরোলে প্রেমিকেরা ফিরে আসে,
লেপ্টে থাকে চোখের নিচে-কালিসম।

এ সকলই কথকতা,
এ সকলই মেহেফিল এর অপর নাম।
এই পর্যন্ত বুঝে নিয়ে কথকও
ঝাঁপ ফেলে সন্ধ্যাবাতি জ্বালে।

মেহেফিল জমে ওঠে।


বহুদিন বেজেছে স্নেহময় সরোদ।

শীত তীব্র হলে,
মফস্বলে ছবি আঁকা শুরু হয়...
উবু হয়ে আগুন আনে ঠাম্মা।
আশীতিপর ও বৃদ্ধা।
সঙ্গে বৃদ্ধ- শ্বাসবায়ুহীন।
তাই রাসমন্চ, দলমাদল পিকনিকে ঝলমল
এইসব কম্পমান গোধূলি ছাড়াই।

বহুদিন বেজেছো স্নেহময় সরোদ।
তারেরও ঘোরলাগা ব্যাথা।
তারেরও শীতকালীন জড়তা…
তারেরও ক্লান্তি বিকেলজোড়া।

ছিড়ে যাক্।
চিনচিন লেগে থাকবে,
উত্তর পূর্বের টালি বরাবর।

বাকী সব বয়ে যাবে,
কাঁসাই কিম্বা দ্বারকেশ্বর জলে জলে...



আরশি
ভেবে রাখা আপনবোধে পুড়ে গেছে হাত।
অনন্ত রাত্রির শেষে ছিল
ঘুমঘুম ট্রেন ধরার তাড়া।
এমন এক কমলাবেলায়-
আকাশ আলো করে তোলে,
আরশি এক।
বহুদূরের পথ বটফুলের মতো ঝরে যায়...
শূন্যগর্ভে চলকে পড়ে আলো।
প্রজাপতি বুদবুদ হয়ে
আরশির প্রতিফলন নিজের করে ডাকে।

আপনার মতামত জানান