তোমায় ‘মা’ ডাকব কেন ?

অঙ্কুর কুন্ডু


কান শুনতে ধান শোনা অবস্থা মা-এর , নাহলে মেয়ে ক্লাস্ এইট্ থেকে নাইনে উঠতে গিয়ে ফার্স্ট হয়েছে –এই কথা শুনেও কেউ চুপ থাকতে পারে ! কিন্তু এইরকমই অবস্থা দেবার্পিতার মা-এর –গুরুগম্ভীর ও অনুভূতিহীন ৷ দেবার্পিতা অনেকবার মা-এর মুখের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে দেখেছে ঠোঁটের কোণে শরতের এক ফালি মেঘের মত হাসিটুকুও নেই ৷ তবে বর্তমানে ওর মা-এর যা ওজন তাতে ঝড় হলেই একমাত্র ঠকঠক করে কেঁপে ওঠে , যা দেখে দেবার্পিতা আবার মা-কে জড়িয়ে ধরে ৷ যদিওবা অপরপ্রান্ত থেকে কী অনুভূতি আসে , তা ব্যক্তিগত !

দেবার্পিতার মা বরাবরই শান্ত প্রকৃতির মানুষ ৷ নিজের মেয়ের দিকে কতটা টান আছে , তা কোনোদিনই বোঝা যায়নি ৷ মা মেয়ে অন্ত প্রাণ কিনা জানা নেই , তবে মেয়ের কাছে মা-এর মূল্য অনেক ৷ দেবার্পিতার বাড়িতে দু’জন সর্বক্ষণের কাজের লোক ৷ বাবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফিস ৷ বড়ো বাড়িটায় অন্তত নিজের কথা শোনানোর জন্য দেবার্পিতা ওর মা-কেই বেছে নিয়েছে ৷ তবে মা-এর প্রতি ওর টুকরো কিছু অভিমান আছে ৷ প্রতিটা মা-এর মত দেবার্পিতার চুলে তেল দিয়ে কখনও চুল বেঁধে দেয়নি ওর মা ৷ জ্ঞান হওয়ার পর থেকে মা-এর হাতে কখনও খায়নি. . . খাওয়া তো দূরের কথা , যখন দেবার্পিতা খেতে বসে , তখন মা তার নিজের ঘরে ! কি করে , তা জানা নেই ৷ তবে বাবার মুখে শোনা যে দুপুরটা নাকি মা-এর বই পড়ার সময় ৷ দেবার্পিতা মা-কে বহুবার বলেছে যে মা যেন তার কষ্টটা ওকে বলে , কিন্তু ওর মা খুব চাপা স্বভাবের ৷ মা-এর চুপ করে থাকাটা দেবার্পিতার মনে একটা কষ্টের জন্ম দেয় ; যে কষ্ট খুব কম মেয়েরই হয় , অন্তত না হওয়াই ভালো !

দেবার্পিতার যখন কষ্ট হয় , তখন মা-কে ডাকে , দু’হাত বাড়িয়ে বলে , “মা , কোলে নাও না !” কিন্তু মা কখনও দেবার্পিতার চোখ মুছিয়ে দেয় না ৷ দেবার্পিতার জন্মের পরেই মা মারা গেছে ৷ ইদানীং টেবিলের ওপর রাখা মা-এর ছবিটার দিকে তাকিয়ে ও ‘মা’ বলে ডাকে না ৷ দেবার্পিতা বলে , “তুমি তো শুধু কাঁদাও , তোমাকে মা ডাকব কেন ?” বাইরে এক ভিখারিণী ডাকছে , “মা কিছু দেবে ?” আজ বাড়িতে দেবার্পিতা একাই. . . সাড়া দিল ! ‘মা’ ডাকার উত্তর না পাওয়ার যন্ত্রণা ও বোঝে ! “মা বোঝে ?”

আপনার মতামত জানান