সাদা মানুষ

সৌনক দাশগুপ্ত
বেনীআসহকলা। সাতরঙা রামধনুর ডাক নাম। বেগুনি, নীল, আকাশী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। এখন ভাবার বিষয় রঙ গুলো কে নিয়ে। যেমন, বেগুনী রঙের নাম বেগুনী কেন? বাঙালীর ঘরে ঘরে অপরিহার্য ( অ্যালার্জির মানুষেরা সাবধান!!) বেগুন নামক সবজিটির নাম থেকেই কি এর উৎপত্তি? মানে বেগুনের গায়ের রঙটাই তো সেরম ইঙ্গিত দেয় খানিকটা!! বা ধরা যাক নীল আর আকাশী কে। আকাশের গায়ের রঙটা কি? বোকা চোখে দেখে মনে হয় এটা আকাশী ছাড়া অন্য কিচ্ছুটি হতে পারেই না। অথচ কবির চোখে আকাশ কখনও নীল কখনও আকাশী। এবার লেখকের দৃষ্টি নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা ধৃষ্টতা। অতএব “আকাশের অনেক রঙ”। এই একই প্রশ্নে বিজ্ঞান কিন্তু লেখকের যুক্তি নস্যাৎ করে দিয়েছে!! বিজ্ঞানের ব্যাখ্যায়, আকাশের আদতে কোন রঙই নেই। বিবর্ণ। ওই নীল বা আকাশী যাই দেখা যাক না কেন, সেটা আসলে আলোক তরঙ্গের কারসাজি!! তবে সব থেকে আরামদায়ক রঙ বোধহয় সবুজ। সময়ের তাল জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, চোখের সাথে সবুজের কাটাকুটি খেলায় দিব্বি মাতা যায়। সেই প্রস্তর যুগ থেকেই অথবা তার থেকেও নিরীহ যুগ যখন ছিল, তখন থেকেই সবুজ মানে গাছ। সবুজ মানে প্রাণ। অথচ এই পৃথিবীর কোটি কোটি সবুজের উৎপত্তি নাকি এক পুঁচকে কণা, ক্লোরোপ্লাস্ট থেকে!! এহেন সবুজের পাশাপাশি খুব মিষ্টি আর দামি রঙ হল হলুদ। রঙটার সাথে মিষ্টি বিশেষণটা জুড়ে যাবার পিছনে অবশ্যই দায়ী লাল পেড়ে হলদে শাড়ির কন্যে। আর প্রাকৃতিক কারনে কাঁচা সোনার রঙ হলুদ হওয়াতে দামি রঙের তকমাটা হলুদের কাছেই গচ্ছিত!!তবে মজার রঙ হল কমলা। রঙটাকে একটু হালকা করে ভেবে নিলেই (বা জলে গুলে নিলে) সনাতন ধর্মের এক মহান রঙ এসে হাজির হয়, গেরুয়া! ভারতীয় সভ্যতায় ত্যাগ, শৌর্যের প্রতীক ( বি.দ্র- বর্তমান পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে সব রকম ঘটনাবলিকে সন্দেহের তালিকাভুক্ত করা হয়নি)। অবশিষ্ট থেকে যায় বিপ্লবী রঙ, লাল...

-“এই যে চা তো পুরো জল হয়ে গেল। কখন দিয়ে গেছি। জানলার বাইরে হাঁ করে তাকিয়ে কি এতো ভাবছ!!একটু রান্না ঘরে এসে হাতে হাতে কাজটা এগিয়ে দিলে পারতো!! জানতো আজ মালতী আসবেনা!!”

ব্রতীন খেয়ালই করেনি গীতবিতানের উপর রাখা চশমাটা কখন যেন চায়ের খেয়ালি ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে গেছে। মাধবী না ডাকলে হয়ত ভাবনা চিন্তা গুলো নিয়ে আরও চুলচেরা বিশ্লেষণ জমে উঠত।

প্রসঙ্গত পাঠকের সাথে এইখানে একটু আলাপচারিতার প্রয়োজন আছে। শুরু হয়েছিল রঙের কাটাছেঁড়া দিয়ে, হঠাত করে দুটি মানুষ এর আবির্ভাব কি করে!! কারসাজিটা এইখানেই। ব্রতীন এর চিরকালই রঙের প্রতি দুর্বলতা। এইবার সেই দুর্বলতার আখ্যানে মাধবী কিছুটা গোঁজ প্রার্থী হিসেবেই আসন্ন।

ব্রতীন জানত আজ মালতী আসবে না, রবিবার হওয়া স্বতেও (যেহেতু সপ্তাহের বাকিদিন একটাও কাজ থকেনা ঘরের, রবিবার ছাড়া!!)। আগেভাগেই বলে গেছে। অকাট্য যুক্তি সমেত, “অন্য দিন তো বৌদিদি বুলিকে দেইকবার মত কেউ থাকিনি। রোব্বার তমরা দুজনিই আচ। আমার ছাওয়ালটারে অনেক দিন হল দেকিনি। এ রোব্বার টা ছুটি দেও। বাড়িডা ঘুরে আসি ক্যানে।“মাধবীর আপত্তি টেকেনি। আসলে ব্রতীন বুঝতে চেয়েছিল, রঙের পরিবর্তনটা।
ছেলেবেলায় দেখত, যেটুকু দুধ বাঁটে থাকলে ভোলা কাকার ব্যবসায় কোন ক্ষতি হয়না সেটুকু দুধই খাবার জন্যেই ওদের খয়রী ঘিয়ে বাছুরটা ছাড়া পেত। তখন ওর মনে হত বাছুরটা এক দলা প্রাণের উচ্ছ্বাস। সবুজ। কিন্ত গাইটাকে দেখে কিছুতেই বুঝতে পারতোনা কোন রঙে মেলাবে ওই ভাবলেশহীন প্রাণীটাকে। সেটা অবশ্য মালতীকে দেখেও বুঝেতে পারেনি ওর বাড়ি যাবার সকালে।

সবুজ রঙটা ব্রতীন অনেক জায়গাতেই বুঝত পারে। যেমন ওদের মেয়ে বন্যা বা আদরের নামে বুলি। বয়স ৫ বছর ৯ মাস ২৫৪ দিন (হিসেবের কৌতূহল পরে মেটানো হবে অবশ্যই)। বন্যা নামটা সার্থক। বুলি বন্যার জলের মতই বাঁধ ভাঙা। প্রাণে ভরপুর ওটুকু মেয়েটা যতক্ষণ জেগে থাকে নিজের সাথে বাকিদেরও ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সবুজ। ব্রতীন তো জানে ছেলেবেলা মানেই সবুজ। ওর নিজের ছেলেবেলা তো কেটেছে ধামাইতলায়। ব্যাঙাচি জীবন। খালে বিলে মাঠে ঘাটে। স্কুল থেকে ফিরেই বাস রাস্তার ধারের মাঠে বল নিয়ে লাথালাথি, কোনোদিন ভোলা কাকার পেয়ারা বাগানে দল বেঁধে কবাডি। মনে আছে বর্ষার প্রথম পানি পরার সাথে সাথেই ওরা ছুটত চুবড়ি নিয়ে, বিলের ধারের চান করা ঘাস গুলো থেকে ব্রতীন সবুজ গন্ধ পেত। মাছের থেকেও ওই গন্ধ ওকে টানত বেশি। ব্রতীন বোঝে ছেলেবেলা মানেই সবুজ।

আধা ঠাণ্ডা (ইতিবাচক ভাবলে অবশ্য আধা গরম!!) চা-টা শেষ করে ব্রতীন উঠে পরল। বাজার যেতে হবে, ফেরার পথে বুলিকে নাচের ক্লাস থেকে নিয়েও আসতে হবে।

-“মাধু, বাজারের ব্যাগটা কোথায়? সবজি কি আনতে হবে বল। এই সপ্তাহে কিন্তু আমার ফিরতে রোজ দেরি হবে। অফিস ফেরত বাজার করতে পারব না!!”

-“সব কিছুই কি এখন এভাবে বলা যায় নাকি!!ফ্রিজটা খুলে দেখ কি কি আছে। মাঝে লাগলে কিছু আনতে তো হবেই!”

-“কে আনবে শুনি? তুমি অফিস ফেরত বাজারে ঢুকবে মাধু!! থাক তার চেয়ে আমি নিয়ে আসি আজ যতটা যা পারি।“

-“হ্যাঁ তোমার তো ধরতে বললে বেঁধে আনার স্বভাব! তারপরে সবজি পচলে বলতেও ছাড়বে না!”

ব্রতীন আর কথা বাড়ায় না। এমনিতেই আর একটু বেশি দেরি হলে বাজারের রঙ গুলো সব হাপিশ হয়ে যাবে। বিশেষ করে রবিবারে। বাজারে যেতে ব্রতীনের বরাবরই বেশ ভাল লাগে। চরিত্রের উথালপাতাল। ধরা যাক মাছ ওয়ালা কে। পারলে হিমঘরের কাতলা মাছটাকেও কয়েক ঘণ্টা আগে জ্যান্ত বানিয়ে দেয়। তার উপরে আছে রকমারি হাঁক। যেমন মতিন মিয়াঁ, মোটামুটি পুকুরের তাজা মাছ আনে লোকটা। বাজরে ঢুকতেই শোনা যায় মতিন হাঁকছে, “খালি পাতলা করে বেগুন বড়ি ঝোল, খালি পাতলা করে”।নতুন নতুন বাজারে বাবুরা একটু চমকে যায় বটে, কিন্তু ব্রতীনের মত বারো মাইস্যারা জানে আজ মতিন নির্ঘাত জ্যান্ত পোনা মাছ এনেছে। সবজি-ওয়ালাদের তো আরও বড়সড় ব্যাপার। এরা তো পাইকারি মার্কেটকেই অস্বীকার করে। সবার দাবি, সব সবজি তাদের নিজের ক্ষেতের মাল। এদের সবথেকে মজার মিল হল, দাম কমাতে বললেই এদের মুখটা ঠিক বাসি বেগুনের মত চুপসে যায়!! এমনিতেই ব্রতীন মনে করে, বাজারের খদ্দের গুলো সব বেগুনী রঙের লোক। গুণী জনে বলে যে, বেগুনী নাকি স্বপ্নের রঙ, কল্পনার রঙ। তা বাজারের খদ্দেরের থেকে বেশি কল্প বিলাসী তো কেউ হয়না!! ইলিশ কেনার আগে দুবার চোখ বুজে ভেবে নেয় ভাপা না শর্ষে!! চিংড়ির সাথে কচু না এঁচোড় ভাবতে ভাবতে বিকালের চায়ের সাথে চিংড়ীর চপের জোগানও হয়ে যায়!! ব্রতীন নিজে অবশ্য চিংড়িতেই বেশি ঝোঁকে। আজও তালে ছিল গলদা হাতাবার, জুতসই পেলনা। অগত্যা পারশে আর ভোলা তুলেই ছুটল সবজির দিকে। বুলির নাচের স্কুল ছুটির সময় হয়ে এসেছে। মেয়েটা একা দাড়িয়ে থাকবে ওর দেরি হলে।

নাচের স্কুল থেকে ফেরার সময়টুকু বাপ বেটির একান্ত আপন। আগডুম বাগডুম কথা।অন্তহীন জিজ্ঞাসা। ব্রতীন তখন বিক্রমাদিত্য, বুলি বেতাল!! আসলে বুলি হল ব্রতীনের মিঠে পাকের রোদ্দুর বা বলা ভাল সোনার জিয়ন কাঠি। হলুদ আবির। বুলির প্রতিটা দিনকে ব্রতীন ধরে রাখতে চায়। আজব খেয়াল ওর, বুলির জন্মের দিন থেকেই বুলিকে নিয়ে ডায়রি লেখা শুরু। দিন ধরে ধরে রোজনামচা (পাঠক এবার হিসেব পেয়ে গেলেন??)! মাধবী বলে আদিখ্যেতা!! কিন্তু ব্রতীন জানে বুলি ছাড়া ওর হলদে গোলাপটা ফ্যাকাসে হয়ে যাবে, ভেজা বালির মত। তখন ডায়রির পাতা গুলোই বুলি হয়ে আদর খাবে।

-“তুমি আজও আইসক্রিম কিনে দিয়েছ বুলি কে!! এরপরে ঠাণ্ডা লাগলে কি তুমি সামলাবে শুনি??”

-“ আরে সপ্তাহে একটা আইসক্রিম খেলে কিচ্ছু হয়না মাধু।“

-“না কিচ্ছু হয়না!! উনি এলেন আমার বিলেত ফেরত ডাক্তার!! কদিন আগেই তো ভুগল মেয়েটা। নিজে তো দিব্বি অফিস এর কাজে পুনে চলে গেলে। যত ঝঞ্ঝাট তো আমাকেই পোহাতে হল।“

-“দেখ মাধু বাড়ি থাকলে আমিও রাত রাত জেগে বুলির মাথায় জলপট্টি দিই জ্বর হলে। আমি ওর বাবা। আমি কখনই ওর খারাপ চাইব না। ওটুকু মেয়ের আর তো কোন সাধ আহাল্লাদ নেই, না খেলনা চায় না অন্য কিছু। শুধু তো আইসক্রিম দেখলেই ওর একটু…”

-“ দেখ ব্রতীন তর্ক করতে ভাল লাগছে না আমার। বাড়িতে থাক কতক্ষণ তুমি?? মেয়ের ভাল মন্দ নিয়ে আমায় বোঝাতে এলেন উনি!!” ব্রতীন চুপ করে যায়। একথার কোন উত্তর নেই ওর কাছে। ওর মা কেও দেখত বাবার সাথে এভাবে ওকে নিয়ে ঝগড়া করতে। বাবা বলতেন, “শাসনের শিকল পায়ে বেঁধে মানুষ করা যায়না। ” আর মার এতেই আপত্তি। অনুশাসনের লক্ষণ গণ্ডি । মাঝে মাঝে তো মাকে রামায়ণের রাক্ষুসীও ভেবে বসত!! কিন্তু মা যে আজকাল স্বপ্নে অন্য রকম ভাবে আসে ব্রতীনের। গেরুয়া তে। ঠিক যেন সাধিকা। সংসারের জোয়াল ঠেলতে নিজের সব কিছু ত্যাগ করেছে। সকালে উঠে হেঁশেলে ঢুকে পরা, বাবা বেরোবে তার জলখাবার, ব্রতীন স্কুল যাবে, তাকে খাবার দেওয়া। তার নিজেরও যে খিদে বলে কোন অনুভূতি আছে, সেকথা তাকে মনে করাবার কেউ ছিলনা!! সমুদ্র মন্থনে সবাই অমৃত নিয়ে লিখল, হলাহল নিয়ে বললে, কূর্ম, মোহিনী, বাসুকি, ঐরাবত সব্বাই এলে, কিন্তু কেউ মন্দার পর্বত কে নিয়ে বললে না। নিজের ক্ষয় সয়েও মন্দার মন্থন থামতে দেয়নি। মা বুঝি ওই মন্দার এর ব্রতীনের মাথায় হাওয়া করা থামায়নি, ছেলে যে কাল সকালে উঠে যে পড়তে যাবে। এখন যেমন মাধু করে।

মাধবীর সাথে ব্রতীনের পরিচয় পর্বটা বেশ গোলমেলে। বলা ভাল গোলমালের মধ্যে। মাধবী গেছিল ইউনিভার্সিটির ফর্ম তুলতে। ব্রতীন তখন ছাত্র ইউনিয়নের উঠতি মুখ। প্রাগৈতিহাসিক সমাজ ব্যবস্থাকে যেকোনো মুহূর্তে বিপ্লবের ধারে ভেঙে ফেলবে। লাল রঙের মতই চড়া টগবগে ভাষণ। শ্রেণী বিদ্বেষ, দিশাহিন উদার অর্থনীতি, রাষ্ট্র যন্ত্রের শোষণের বিরুদ্ধে তখন ব্রতীনের ভাষণ তখন বিপ্লবের লাল রঙের মতই ধারাল। ইউনিভার্সিটিতে তখন ছাত্র ভোট আসন্ন। এহেন অবস্থায় যেদিন মাধবী ওর বান্ধবীদের সাথে ফর্ম তুলেতে এলো, মদন দেবের (পাঠকের ভ্রম দূর করতে বলে রাখা ভাল ইনি হলেন হিন্দু পুরাণ মতে মিলনের দেবতা) কারসাজিতে বা কোন পূর্ব নির্ধারিত সমাপতনে ছাত্রদের দু পক্ষের মধ্যে তুমুল গণ্ডগোল শুরু হল। ধাক্কাধাক্কিতে পরে গিয়ে বেশ চোট পেয়েছিল মাধবী। ওর ডোরা কাটা নীলচে শাড়ীটা রক্তে ভিজে কালচে হয়ে গেছিল। তবে ওই সমাপতনের কারনেই বোধহয় এইসবের মধ্যে ব্রতীনের জরিয়ে পরা। মাধবীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসার সময় ব্রতীন বুঝল ওর আশপাশটা আর লালচে নেই। বসন্তের নীল রঙের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। অ্যাক্সিডেন্টে বাবা মা মারা যাবার পরে কলেজ, পার্টি আর বইয়ের মধ্যেই নিজেকে লুকিয়ে ফেলেছিল ব্রতীন। থেঁতলে যাওয়া লাল কালচে মুখ দুটো বিড়ালের চোখের মত রাতের অন্ধকারে জ্বলজ্বল করত ওর সামনে। লাল রঙটা যেন সবসময় ওকে তাড়া করে বেড়াত। এই সময় মাধু এলো। আকাশের মত নীল দুটি চোখ, কি গভীর অথচ শান্ত। ব্রতীনের মনে হল ও ‘অমলকান্তি ‘ হয়ে যায় বা এক পশলা মেঘ। আকাশী হয়ে মেখে থাকে নীলচে মাধবীলতার গায়ে পায়ে। মাধবী ও বুঝেছিল আকাশী আর নীলকে একসাথেই থাকতে হয়, মেঘ হয়ে।

-“কিগো কোন জামাটা বের করবো তোমার জন্যে?”

-“জামা??”

-“কি হয়েছে কি তোমার আজকাল বলত? কিছুই কি মনে থাকেনা!!”

-“না মানে... আমি আসলে ...”

-“বুলির ডায়রি লিখছিলে তো? সারাদিন কি এই করলে চলে ব্রতীন? তুমি ভুলে গেলে আজ সুনন্দর জন্মদিন। সেদিন এতো করে বলে গেল যেতে।“

-“ও হ্যাঁ...তুমি বরং ওই সাদা রঙের জামাটা বের কর,যেটা তুমি পুজোয় দিলে।“

-“আমি আর দিলাম কই। নিজেই তো বেছে নিলে। কি যে সাদায় পেয়েছে তোমায়!!”

সাদার প্রতি মাধুর বিরক্তির কারন আছে অনেক। একে তো রঙটাকে কিরম ফ্যাকাসে লাগে ওর। যবে থেকে ভাল করে রঙ চিনতে শিখেছে, তবে থেকেই দেখছে মা, ঠাকুমা সাদা পরে। তবে ব্রতীনের ব্যাপার আলাদা। ও বেশ বুঝতে পারে আগে যে রঙ গুলো ওর চারপাশে গাছ-পাখালি, হরতন-ইস্কাবন হয়ে দাপিয়ে বেরাত, তারা সব চুপচাপ হয়ে আসছে। স্বপ্নের অজুহাতে ওর অনুভুতির চৌকাঠটা ফ্যাকাসে করে দিচ্ছে, মালতীর মত। বিছানা, বালিশ, আদর, রাস্তা, ছাদ, সূর্য সব কিছু থেকে ওরা সরে যাচ্ছে, ওরা একসাথে। ব্রতীন জানে, ওরা ব্রতীনের কাছেই আসছে। গাণিতিক অনুপাতের সমান হারে একসাথে মিশে যাচ্ছে ব্রতীনের জন্যে। সাদা মানুষ হয়ে!!

আপনার মতামত জানান