কান্নার রঙ

দেবারতি ঘোষ দস্তিদার
বিড়াল কাঁদে। সমস্তরাত পড়শির ঘরের আনাচে কানাচে প্যাঁচা ডাকে। এক মেঘ থেকে আরেক মেঘে উড়ে যাওয়া সন্যাসব্রত কিভাবে চুইয়ে পড়ে তোমার চিবুক বেয়ে! সে আমার পুরুষ নয়, সে আদতে তোমার পুরুষও নয়। তার ঘুণপোকা জন্ম তাকেই কুরে কুরে খায় আলতো আদরে। অক্ষরের গান নাকি শিলালিপি তা ঠিক করতে গেলেই দরজায় ভিক্ষাপাত্র নিয়ে দাঁড়ায় জমা জল। এক বাঁও, দুই বাঁও করে জলের আলপনা এঁকে যায় পিঁপড়ের দল। ওদের কি ঘুম পায়! ঠিক যেমন গাছের আয়ু পিছলে যায় বারবার। আরও গভীরে শিকড় ছড়িয়ে সে ডাকে, এসো। ফিরে এসো। আজকাল যখনি আয়নায় দাঁড়াই তোমার মাথার রূপোলী রেখাগুলো শ্বাস নেয়। বয়স বাড়ছে। তোমারও। জলেরও। চিরকালীন আধোঘুম থেকে একটা করে মোম জ্বলে ওঠে প্রার্থনাসমেত। সেই ঘণ্টাধ্বনি শুনলে আজকাল আর সোয়ালোর শীত করেনা। গরম পড়ে খুব। বৃষ্টিও পড়ে প্রথামাফিক। তবু শহর খাঁখাঁ করে ভরদুপুরে। আলো থাকে না। তুমি থাকো না বলে নয়। সে আলোরও মাঝে মাঝে রাত পেতে ইচ্ছে করে। সেইসব রাতে করিডরে আবার বিড়াল ডাকে। আবার। ডেকেই যায়। আর খিদে পাক খেতে থাকে। বিশাল হাঁ মুখ গিলে ফেলবে বলে অপার অপেক্ষার উল কাঁটা খুঁজতে থাকে দোকানে দোকানে। ঋতু বোনা হয়, শীতের অংশের গাঢ় নীল উলের জন্য যেটুকু যা দেরি। তারপরই উলুধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। এক এক করে সবকটা কোষে নেমে আসতে থাকে অবিকল সন্ধের মতো কিছু একটা। ঘন হলুদে ভরে যায় তার অবয়ব। তুমি তাকে মুগ্ধতা ভাবতে পারো, বা নিয়তি। সময় হয় কি তোমার? আর কি হবে কোনোদিন! এই পথ ধরে তুমি হেঁটে গেছ বহুদূর। সেই পথের খুচরো কুড়িয়ে ফিরতে গিয়ে দেখি এক আকাশ মনখারাপেরা ঝাঁপ দিয়েছে সমুদ্রে। অন্ধকার আসছে। আড়মোড়া ভেঙ্গে আবার বুকফাটা কান্নার প্রস্তুতি নেয় বিড়ালেরা। আমাদের সুতীব্র ওড়াউড়ির এবার ইতি, ভালো থেকোর শেষ লাইনে। কালি ফুরোলো বলে। তার আগেই অনন্ত সৎকারগাথা লিখে নিব ভেঙ্গে দিতে হবে পরবর্তী বৃষ্টির অপেক্ষায়।

আপনার মতামত জানান