আত্মক্ষুধার দানগুচ্ছ

সেলিম মণ্ডল

মাছ নড়ে

শরীরের ভিতর জল
পিচ্ছিলতা রূপোলী আঁশের মতো
খেলা করে

চাঁদ উঠেছে

জোছানায় একা জাদুকর
ঘনঘন টেপে কল


কালো টিপ ওড়ে বাতাসে
চোখে জেগে থাকে নুনের কাজল


গাছের জন্মদিন
কেক কাটে কাটুরিয়া প্রেমিক

পাখিরা গান গায়

টুকটুকে ফুল

টপটপ
টপটপ
টপটপ

ঝরে যায়


ভেড়া দৌড়ায়
উর্বর মাঠ
পাতাবাহার গাছ
লোমের সাদায় ফিকে হতে হতে ফকিরি শিখে যায়


রাত কাটে না, কেটে যায়

চেরির লালের প্রতি লোভ
কোনো এক বাগানের ভিতর পথ তৈরি করে
পথে পথে ফেরেস্তারা জিকির তোলে
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্

আমি তোমায় দেখি আলতাপরা মেয়ে
রাত দেখে না, কেটে যায়

কেটে কেটে যায়


হরিণের মাংসে পিকনিক হবে
এমন কথার ভিতর মেঘ তেড়ে আসে

বৃষ্টি নেই
জঙ্গলে মানুষে পায়ের ছাপ
বনদপ্তরে চিঠি আসে
বনমানুষ বেরিয়ে পড়েছে

কোলাহল, শুরু হয় কোলাহল
আর জ্বলজ্বল করে আত্মছাল



ধূপের পাশে ধ্যান স্থির
আলো গড়িয়ে যাওয়া জলের মতো

গান লেখা খাতা, যা গেয়ে ওঠা সম্ভাবনাহীন
তাই ওড়ে
যেভাবে নিজেকে উড়তে দেখে চৈত্রবাতাসে রঙিন খই


মিইয়ে যাওয়া মুড়িদানার মতো ক্লান্ত তুমি
সর্ষেক্ষেতে ফেলে এসেছ ডিসেম্বরের আয়ু

এখনো শীতকাল
রোদের কপালে চুমু এঁকে যে পাখিরা দেশভ্রমণ করে
তারা দানার লোভেই হয়ত ডানাকে হালকা করে তোলে
নিজেকে
এবং পরিবেশকে


অন্ধফকির গান করে
পথ দেখায়
পথে পথে চলকে ওঠে আলো
ওর চোখ পড়ে থাকে সেই বাটির দিকে
যে বাটিতে কোনো দরদি বটিহাত ভরিয়ে দেবে
অলৌকিক আদর

১০
জল ঢোকে
বুক ডোবে, গলা ডোবে, মাথা ডোবে
কীভাবে পালিয়ে যাব?
বাড়ির পাশে ঘুরঘুর করে মাংসাশী বাতাস

ইচ্ছে হয়, জলদেবতা হয়ে উঠি
ভক্ত পাব, ভক্তি পাব

পাব আত্মক্ষুধার দান

আপনার মতামত জানান