আড়াই

দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়
তাদের কথা-

জীবনের পাশ কাটাতে গেলেই জীবন আরো ঘিরে ধরছে। গত বছর ছয় কি সাত। তাই না? যতবার তারা বৃষ্টিতে ভিজে গেছে, ততবার সেই দরজার পাশে চুমুর কথা মনে পড়ে যায়। বৃষ্টি নিয়ে তো আরো কত কত স্মৃতি ছিল। অথচ সেসব কিছুই আসে টাসে না তেমন। মানে সত্যি বললে আসতো টাসতো না আর কি। এখন আসে। এই যে দুজনের মধ্যিকারের কড়কড়ে দানা,দুরত্ব আর পরস্পর পরস্পরের তাগিদ- আমরা পুরো গল্প থেকে সেটুকু হিংসা ও অভিমানই শুনে নেবো।


যাবতীয় ধান্দা, ভালোবাসা, পাশে থাকা, জিন্দাবাদ, মুর্দাবাদ এই সবকিছুর নির্যাস নিয়েই লেখাটা শেষ করে দেবো ভেবেছিলাম। অথচ মধ্যিখানের কথাগুলো আবার নতুন করে লিখতে হলো। লেখার গায়ে আবার লিখতে পেরে লেখক খুশি। বাইরে ঝড়। কারণ আজ আবহাওয়া খারাপ। কারোর কারোর কাছে খারাপ।

এই লেখার আলাপে বলে নেওয়া যাক- ইহা আসলে ছিন্নবিচ্ছিন্ন কিছু কিছু অঙ্গ ও ধারণা মাত্র। দুটো পৃথক জিন্দা লাশের পাশ থেকে আমরা আলাদারকমের যা কিছু কথা কুড়িয়ে পেয়েছি,কিমবা সরল ঋতুর পর পর শুধু বলে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোন কাজ ছিল না। ছিল কি?


এই ভুতুড়ে সন্ধেয়, যেখানে শুধু গাছ ও হাওয়াদের রাগ মত্ত,মানুষজন বাড়িতে থাকতেই পছন্দ ও সুস্থবোধ করছে - তখনই আমরা এই ঋণাত্মক গল্প(আগেই বলে দেওয়া ভালো) সাজিয়ে দিচ্ছি অল্প অল্প করে।

(ওত পেতে থাকা বোঝো? কি শয়তানের কাছাকাছি একটা বিষয় না? আমি অনন্যাকে ওত পেতে বসে থাকতে দেখেছি দিনের পর দিন। প্রলয়ের সমস্ত হাবভাব,অঙ্গভঙ্গি,আচার আচরণ সে লক্ষ্য করেছে নিপুন ভাবে। এসব করার কারণ ছিল। সে প্রলয়কে পাকাপাকি ভাবে শিকার করতে চেয়েছিলো। প্রলয়ের মাংসে সংসার সাজানোর ইচ্ছা ছিল কি তার? অথচ, প্রলয় ধুর্ত শিকারের মত প্রত্যেকবারই অনন্যার অহংকারী জেদকে নষ্ট করে দেয়। দুয়ো দেয়। অনন্যা বুঝতে পারে,এই শিকার তার নয়।অথচ পর মুহুর্তেই তার মাথায় আগুন চেপে যায়। জেদে শিরা দপদপ করে। অথচ আপনি কিন্তু তাকে চাঁদের নিচে শান্ত হয়ে বসে থাকতে দেখছেন। যা দেখছেন-তার ভেতরের গল্পটা শুধুমাত্র বলে দেওয়া হলো)

অনন্যা কথা-
(বালিশের নিচ ও বাথরুমের নর্দমার মুখে জমে থাকা চুল থেকে এইসব কথা পাওয়া গেছে। অনন্যা নগ্ন ছিল ফলে তার দিকে সরাসরি তাকাতে আমাদের এক আড়ষ্টতা ছিল)


একটা মুখোশ থাকলেই মানুষ সব সত্যি বলে ফেলতো। নগ্ন মুখ আর ঠান্ডা চোখ নিয়ে সত্যি কথা বলতে কজনই বা পারে? বরং একটা মুখোশ থাকলে বেশ সুবিধাই হয়। দিব্য সেটার আড়াল থেকে ফটাস ফটাস ছুঁচলো সত্যি ফুটিয়ে দেওয়া যায়। আমার তো মুখোশ ছিল,তাও কেন তোমাকে সত্যিটা বলতে পারিনি প্রলয়? কেন বলিনি এখনও প্রশান্তকে আমার মনে পড়ে। এখনও শীতের রাতে ব্যাটমিন্টন খেলে ফেরা আমার যে প্রেমিক,তাকেও মনে পড়ে। আমি বহুগামী নই ঠিকই,কিন্তু অনেকের প্রেমিকা তো আমি ছিলামই। একটা পাগল কবি ছিল। সে যদিও আমার প্রেমে তেমন পড়েনি,কিন্তু আমি তার প্রেমে পাগল ছিলাম। আমার এখনও তার কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ে। মনে পড়ে খড়খড়ে শক্ত হাত টার কথা,তালুর তিনটে কড়া। কবির জীবন লেগে থাকে ওই তিনটে কড়ায়। ওই হাত দিয়ে কবি কিন্তু একদিনও আমার বুকটা মুচড়ে টিপে ধরেনি...।যদিও আমি মনে মনে খুব করে চেয়েছিলাম বোধহয় এমনটাও না...। তবু আজকাল মাঝেমধ্যে সেই কবির কথা মনে পরে। প্রলয়,আজ থেকে তুমি নেই। মরে যাও নি, হারিয়ে যাওনি। অথচ তুমি চাইছো,একটা সময়ের পর মানুষ যেন তোমায় ভুলে যায়। একটা মৃত মানুষ যেভাবে স্মৃতিতে হাল্কা হয়ে আসে,সেভাবে তুমিও হাল্কা হয়ে যেতে চাইছো এই বিশ্বের সব মানুষের কাছ থেকে। কেমন যেন নেই হয়ে গেছো। আমি নেইয়ের সামনে নগ্ন হয়ে দাঁড়াই। আমার তোমাকে পেতে ইচ্ছা করে। একদিন ঝাঁপিয়ে পরি যদি তোমার ওপর? পরেও তো ছিলাম। তুমি কেমন আড়ষ্ট হয়ে যাও। বুঝতে পারি তুমি সবটাই অভিনয় করো। সেই কবির মত কড়া ভাবে বুক টিপে দাও। অথচ তুমি নিজেও জানো,তোমার হাত অতোটা শক্ত নয়।তালুতেও কড়া পড়ে যায় নি খাটতে খাটতে। এই যে আমার শরীর থৈ থৈ আদর,তুমি দেখতে পাওনা প্রলয়? ওই যে দেখো,এক খনড মাংস টুকরো ঝুলে আছে,সেটা দেখেও কি তোমার লোভ হচ্ছে না? এগিয়ে এসো।

প্রলয় কথা-
(এক নির্জন কল্কে পাওয়া গেছিলো কষাইখানার পাশে। তারপাশে প্রলয়ের জামা জুতো। সেই কল্কের গায়ে তেলচিটে জমে থাকা গল্প এসব)



আমি একবার হারিয়ে গেছিলাম। তখন বয়স কত? এই সাত আট হবে। মেলায়। তাও মাত্র মিনিট কুড়ির জন্য। আমি তাঁবুর পেছনে সংয়ের সাজা দেখতে গিয়ে মায়ের থেকে আলাদা হয়ে গেছিলাম। আসলে তার আগে আমি কোনদিন সংদের সাজা দেখিনি। সংরা নিজেরাই সাজে। একে অন্যকে সাজিয়ে দেয়। অন্যের নাকে লাল রঙ করে দিতে দিতে ওদের হাসি পায় না? আমি তো হাসতে দেখিনি সেদিন। একটা লোক,ছোট ছোট অথচ পাকা আঙুল দিয়ে আরেকটা লোকের মুখে রঙ মাখিয়ে দিচ্ছিলো। এটাই ছিল সেদিন।আমার কাছে শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ। যখন বুঝতে পেরেছিলাম মা আর আমার পাশে নেই,খুব কেঁদেছিলাম। তারপর একটা সময় মাইকে আমার নাম বলা হচ্ছিলো। মাইকে নিজের নাম শুনতে ভালোলাগছিলো। ইচ্ছা করছিলো মা আরেকটু দেরী করে আসুক,তাহলে আমার নাম আরেকটু বেশি সময় ধরে বলবে মাইকে।আর মা আসছিলো না বলে ভয়ও করছিলো।এটাই আমার একমাত্র হারিয়ে যাওয়ার গল্প। সেই থেকে আমার হারিয়ে যাওয়া নিয়ে একটা ভয় কাজ করে ভেতরে। এই কাল যখন বুঝতেই পারলে, আমি আর থাকবো না,তখন কেন জানি না হাল্কা লাগছিলো। আমিও আর সত্যিটা লুকিয়ে বেঁচে থাকতে পারছিলাম না। এক ঘর, এক বিছানা। তাও একটা সত্যি লুকিয়ে যেতে হচ্ছে দিনের পর পর দিন। অনন্যা,মনে আছে,এক কালে তুমি বলতে আমার চোখ প্রেমিকের চোখ না,বরং সেই চোখে থৈ থৈ করছে কাম? নিশ্চই মনে আছে তোমার। সেদিন তুমি যখন আমার ছুঁলে,আমার আড়ষ্ট লাগছিলো। আমার কাম নিভে গেছে। বরং বলা যায়, তার হত্যাকান্ডের কোন তদন্তই হয় নি। সেটা খুনও হতে পারে। কেন? আমিও একদিন নিষ্কাম প্রেমিক হয়ে যাবো ভেবেছিলাম- যেদিন তুমি আমার চোখে প্রেম খুঁজে পাওনি,সেই দিনই ভেবেছিলাম। এখনও অনেক কিছু বলার ছিল। যদিও এত কথা এই অবস্থায় আর বলতে পারছি না। ক্লান্ত লাগছে...


অনন্যা মনোলগ-
(আলোর অভাবের সুযোগ নিয়ে যেমন শয়তান ঘিরে ধরে ঈশ্বরকে,সেরকমই একটা ঘিরে ধরার মধ্যে থেকে পাওয়া গেছে এই কথাগুলোকে।যথেষ্ট ক্ষত বিক্ষত।ফলে।যতটা সম্ভব কম কথায় বয়ান নেওয়া যায়,নিন)


আমার সারা শরীর এখন ছায়ার মত।এসো প্রলয় ছায়ায় এসে বসো। আমাকে ভুলিয়ে দাও সমস্ত প্রেমিকদের কথা। আমারও শরীরে আর কোথাও কোন কষ্ট থাকবে না। নির্লজ্জের মত কি বলেই ফেলবো,ছিন্নভিন্ন করো? নাকি আলগা করে দেবো বুকের আঁচল ইচ্ছাকৃত সমুদ্র ধারে? উস্কে দেবো মিষ্টি করে? আমার বুকে তোমার কামড়ে দাগ করে দিতে ইচ্ছা করে না? কি হলো উত্তর দাও। আমি জানি,আমি জানি তোমার আর ইচ্ছা করে না। একদিন বুঝবে,তোমার এই না চাওয়া মিথ্যে ছিল। ভুল ছিল। আমার নিঃশ্বাস দেখো ঘন হয়ে আসছে। কালবৈশাখীর সময় এখন। আজ কি যেটা হচ্ছে,সেটা কালবৈশাখীই?

কাল থেকে তুমি নেই হয়ে যাবে। আর তখন? এই এত রাতে কার সাথে কথা বলব তখন? কোথায় যাবে তুমি? মরে তো যাচ্ছো না। চলেও যাচ্ছো না কোথাও। তাহলে? কি হয়েছে? বলো না।আজকাল কিছুই বলো না তুমি। আর কোনদিনও বলবে না। অনেককিছু না জানা রয়ে গেল। একি?তুমি যাচ্ছো কোথায়? শোন। প্রলয় দাঁড়াও। যেও না। তুমি যাচ্ছো কোথায়? তুমি কোথায়? আমি তোমাকে দেখতে পারছি না কেন? প্রলয়?

যেদিন মাংসে পচন ধরেছিলো,মাছি এসে বসেছিলো-আমি সেদিনই জানতাম প্রলয় তুমি আর মাংসের কাছে আর ঘেঁষবে না। ফলে আমিও অনেকদিন আগেই জানতাম-তোমাকে শিকার করাটা আমার আর হয়ে উঠবে না। তুমি কাল থেকে একটু দুরেও আসবে না। অথচ আমি কিন্তু অপেক্ষা করবো।ততটাই হিংস্রতা নিয়ে অপেক্ষা করবো।


প্রলয় মনোলগ-
(একটা পার্বত্য ধাপের ওপর এই কথাগুলো বেওয়ারিশ লাশের মত পড়েছিল। পচনও ধরে গেছিলো। শুধুমাত্র কিছু শনাক্তকরণ চিহ্ন পাওয়া গেছে। যদিও খুব জোর দিয়ে বলা যাবে না-এগুলো প্রলয়েরই কথা। ঘাড়ে জড়ুল অনেক মানুষেরই থাকে)

আমার বেনারস শহরটা খুব ভালোলাগে। দেখো,একদিন আমি সত্যিই চলে যাবো। আর ফিরবো না কখনও এই কোলকাতায়। এখানে আমার ভূত থাকতো।আর সেই ভূতটার কেউ ছিল না। এরকম কতজনেরই তো কতকিছু থাকে না। তবে আমার ভূত হয়ে যাওয়ার গল্পটা জানো তো খুব মজাদার। আমার মনে হয় আমি মরে গেছি আহত হতে হতে। খুব আস্তে আস্তে একটা আস্তো ভূত হয়ে গেছি। আমি অনেকদিন বুঝতে পারিনি-আমি পুরোপুরিভাবে একজন ভূত। আমি সেই বোকা শিশুদের মত,যারা শক্তিমান জামা পরে ঝাঁপ দিয়েছিলো ছাদ থেকে। আমি নিজেকে খুব ভয় পাই এখন। বিকেলের আমি টাকে আয়নার সামনে দাঁড় করালে আরো ভয় পেয়ে যায়। তার চোখ গুলো কেমন ঘোলাটে,আর মুখের ত্বক কেমন ফ্যাকাশে।আমি ভয় পেয়ে তোমায় সন্ধেবেলা ফোন করি। মিথ্যে পর আসে সত্যি। সত্যির পর আসে নেই- আমার চলে যাওয়াটাকে পারলে এভাবেই দেখো। আর হ্যাঁ,আমার আর তিয়াসার মধ্যে সত্যিই কোন সম্পর্ক ছিল না। সম্পর্ক তৈরীই হয় নি। তুমি খামোখা আমাকে সন্দেহ করলে খানিক। মানুষ মৃত্যুর আগে মিথ্যে কথা বলে না। আমার এই চলে যাওয়া মৃত্যুসমই বা খুব কাছাকাছি। ফলে এক মৃত্যু আসন্নের জবানবন্দি হিসাবে তুমি ওপরের সব কটা কথাকে খাঁটি সত্যি হিসাবে বিশ্বাস করতে পারো।

অনন্যা স্বপ্ন-
(এই স্বপ্ন প্রলয় নেই হয়ে যাওয়ার পর থেকে অনন্যা প্রায় নিয়ম করে রোজ রাতে দেখে থাকে। মানে জানে,ঘুমালেই সে এই স্বপ্নটাই দেখবে। এরকম হয় না? হয় তো)

একটা কালো সিঁড়ি কোথাও চলে যাচ্ছে।সেই সিঁড়ির শেষ কোথায় কেউ জানে না।আমি আর প্রলয় যাচ্ছি সেখানে। অথচ আমরা কিছুতেই পৌঁছাতে পারছি না। সম্ভবত আমরা দুজনেই জানি,আমরা কোনদিন সিঁড়িটার শেষে পৌঁছাতে পারবো না। তাও...তাও আমরা হাঁটছি। দীর্ঘ দিন ধরে হাঁটছি। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়েছি বহু। তারপর? এক সময় তুমি আর নেই প্রলয়। সামনে পেছনে অখন্ড সিঁড়ি। আমি একলা দাঁড়িয়ে। পেছনের সিঁড়ি গুলাতে তোমার শেষতম পায়ের দাগগুলো রয়ে গেছে। সামনে অখন্ড কালো সিঁড়ি। আমি একা। ক্লান্ত লাগছে প্রলয়। ক্লান্ত...লাগছে। বাজে স্বপ্ন একটা। আমার দেখা সবথেকে বাজে স্বপ্ন।এই স্বপ্নটা আমাকে রোজ দেখতে হয় প্রলয়। ইউ বাস্টার্ড।

অনন্যার প্রেশিক্রিপশনে লেখা ছিল- the very suicidal tendency generates from a weird(?) dream about his ex-boyfriend(?).


প্রলয় স্বপ্ন-
(এই স্বপ্নটা কবে,কোথায়,কিভাবে শুরু আমরা কেউ জানি না। শুধু জানা গেছে-অনন্যার পাশে শুয়েও প্রলয় এই একই স্বপ্ন দেখেছিলো। দেখেছিলো বললে যদিও মিথ্যে বলা হয়-কারণ প্রলয় স্বপ্নটা বানতো)


আমি কারোর সাথে কোথাও একটা চলে যাচ্ছি। জায়গাটা পাহাড়। নেশায় ধুম। আমার এমনিতে পাহাড়ে ভয় লাগে কিন্তু এখন লাগছে না। ক্রমশ অনুসরণ করতে করতে লোকালয়,শেষ জনপদ ছাড়িয়ে কোথাও একটা চলে যাচ্ছি। যেতে যেতে ক্লান্ত লাগছে।গতি কমালে সামনের লোকটা দৃষ্টির আড়ালে চলে যাচ্ছে। আবার সমস্ত দম এক জায়গায় করে লোকটাকে ধরে ফেলেছি। কোথায় যাচ্ছি আমি জানি না অনন্যা। সেখান থেকে আর ফিরতে পারবো কিনা তাও জানি না। তোমাকে সব কিছু আবার নতুন করে শুরু করার কথা বলার মত মুখও আমার নেই। আমি জানি না আমি কোথায় চলে যাচ্ছি অনন্যা।শুধু জানি,আমাকে কোথাও একটা পৌঁছাতে হবে। আমার আরাম লাগছে। আরো অনেকক্ষণ ওই একই জিনিস দেখে যেতে ইচ্ছা করছে। আমাকে আর ডেকো না ঘুম থেকে অনন্যা।



এবং

একটি ভাঙা পুতুল ও এই ঘটনা-
(এই ন্যারেটিভটি আপাদমস্তক তৃতীয় ব্যক্তির বয়ান থেকে। কারণ এরপর আমরা ওপরের দুজনের আর কোন বয়ানের কাছে পৌঁছাতে পারিনি বা খুঁজে পাইনি।পরিচয়হীন কিছু বেওয়ারিশ কথার সাথে দুজনের কথার যথেষ্ট মিল পাওয়া গেলেও যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে কখনই বলা যাবে না-কথাগুলো তাদেরই। ফলে আমরা সেসব বলা থেকে বিরত রইলাম।)

অনন্যাকে কোনদিন ভাব্বে আজকে পুতুলটা ভাঙলো বলেই কাল প্রলয় চলে গেল?আস্তে আস্তে কি তার মধ্যে পুতুল নিয়ে একটা ভীতি তৈরী হবে? যখনই কোন না কোন পুতুল ভেঙে যায়,অনন্যা ভাবে এবার তার কাছের কেউ একটা তাকে ছেড়ে চলে যাবে। খুব সাধারণ একটা মানসিক সমস্যার স্বীকার অনন্যা। প্রলয়ের কোন খোঁজ আমরা করে দেখিনি। করে দেখার প্রয়োজনবোধও করিনি। সে যেখানে আছে,যে ভাবে আছে ভালো থাকুক। আমরা শুধু যেটা করেছি,তা হলো,ওই ভাঙা পুতুলটাকে একটা শক্তমান জামা পরিয়ে বহুতলের ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছি। সেটা মাটিতে পরে টুকরো টুকরো ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর এই পুরো দৃশ্যটা, অনন্যাকে জোর করে দেখানো হয়েছে। সে অস্বাভাবিক ভাবে চিৎকার করেছে যন্ত্রণায়। অথচ,এটাই সবথেকে সহজ উপায় ছিল,অনন্যাকে বাস্তবটা জানিয়ে দেওয়ার।











আপনার মতামত জানান