শের ও কাতিলের কাহিনী

প্রবুদ্ধ ঘোষ
-আজ দাদরিতে অপারেশন আছে। যাবি তো?
-জানি, আমারই তো সেকেন্ড লিড্। পাঁড়েজি অ্যারেঞ্জ করছে মালপত্র। ছেলেগুলোকে ম্যানেজ করা আমার কাজ।
-তুই কখন যাবি? টাঈম ক’টায় ঠিক করেছিস?
-আমি যাব না, ছাড়।
-মানে?
-ওই গন্ধটা বিচ্ছিরি লাগে। চিমসে, মাংস পোড়া গন্ধ...
-হঠাৎ একথার মানে?
-গতমাসে তাউজিকে নিয়ে গেলাম না শ্মশানে? তার পর থেকেই। আগে তো কতবার গেছি। কিন্তু, সেদিন গা গুলিয়ে উঠল। সকাল থেকে ভুখা পেট। বমি পেয়ে গেল ওই গন্ধে। হঠাৎই...
-শ্মশানে গিয়ে উল্টি এল তোর? পোড়া গন্ধে? ইয়ার, শ্মশান সবচেয়ে পবিত্র জায়গা... সেখানে গিয়ে...
-জানি জানি। আমিই কতজনকে বলেছি আগে। একটা শের শোন।
জানা হ্যায় জিসম্ জহাঁ, দিল্ ভি জ্বল্ গ্যায়া হোগা
কুরেদ্তে হো যো অপ্ রাখ জুস্তজু কেয়া হ্যায়?
-ধুর্, আমি বাল বুঝি শের! কিন্তু, এই গন্ধে তোর অ্যালার্জি? হাসাস না ইয়ার। কেশোপুর ঝোপরির সেই রাতটা ইয়াদ্ কর? মাত্র ৪৪ মিনিটে জ্বালানো শেষ?
-ইয়াদ থাকবে না কেন? আমিই তো শ্লা ঘড়ি দেখেছিলাম। বাচ্চা কোলে যে মাগিটা পালাচ্ছিল, আমিই তো ধরে ফেললাম। তারপর... কিন্তু, শেরটা বুঝলি? মির্জা গালিব! আহ, মানুষকে আর ইনসানিয়াৎকে এত নিখুঁত ক’রে আঁকতে কে আর পেরেছে?
-ওসব শের দিয়ে কাম্ হবে না ভাই। কবিতা দিয়ে কিছু বদলায় না। এই যে, মুজফ্ফরপুরে আমাদের তিনজনকে খতম করল, কোন বালের শায়ের কি বলল? কোনও কবি শ্লা একটা কথা বলল?
-সে জানি, ওসব বখোয়াস। নাজম্ দিয়ে, শ্লোক দিয়ে আমাদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হবে না। মন্দির তো আমরা বানাবোই, আর, সেটা আমাদের তাকৎ দেখিয়েই। তবে, কিছু শের দিল্-এ গেঁথে থাকে-
মাৎ সাহ্ল হমেঁ জানোঁ ফিরতা হ্যায় ফল্ক বরসোঁ
তব্ খাক কে পর্দে সে ইন্সান নিকলতেঁ হ্যায়
-তোর লেখা নাকি?
-আরে নাঃ! এই শের লিখতে পারলে খুশ্ হয়ে যেতাম পুরো জিন্দেগির জন্য। তবে, আমি শেরের সমঝ্দার। এটা মীর সাবের লেখা শের, পড়িস নি তুই?
-এই শের পড়ে আর বলেই তোর মনটা ম্যাদা মেরে যাচ্ছে মাইরি। তাও আবার একটা মোল্লা শায়রের শের?
-শের তো একটা শিল্প। শিল্প আর মজহব্ কি এক নাকি? আমি হনুমান চালিশা পড়ি রোজ ভোরে। আর, শের রাতে শোওয়ার আগে। সে তো প্রেম, ইয়ার।
-আচ্ছা, প্রেম শুনে মনে পড়ল। ওই লাভ-জিহাদ কেসটায় শম্ভুলাল তো শুধু কুপিয়ে দিলেই পারত! জ্বালানোটা ইন্টারেস্টিং, কিন্তু দরকার ছিল? আর, ভিডিও...
-আলবাৎ দরকার ছিল! মোল্লাকে জিন্দা জ্বালানো হচ্ছে। ওদের তো দাফন্ করা হয়, সেই সুযোগটাই দেওয়া হচ্ছে না ওকে! এটাই তো উদ্দেশ্য... হিন্দুদের দেশে থাকবি আর, ইসলাম মেনে দাফন্ করবি, তা হবে না।
-জ্জিও। সঙ্ঘ যুগ যুগ জীয়ে! ছাড়্। আজ যাবিই না? তা’লে প্রোগ্রাম?
-সব হবে। চাপ কীসের?
-কী করে হবে? প্ল্যান ফাইনাল?
-আলবাৎ! ওই মহল্লায় রটিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে ওই আখলাখের ফ্রিজে গোরুর মাংস আছে। হালাল করে এনেছে গতকাল রাতে। রজনীশ আর ইজ্জতভাই সাক্ষী দেবে। তবে, নাড়া কিন্তু তোকেই তুলতে হবে ইয়ার।
-গ্রুপে কারা থাকবে রেডি করেছিস?
-সব রেডি। ছেলেরা রেডি, আমাদের বিকাশ যাবে, ক্যামেরা করবে ও পুরো সিন... আখলাখের বাড়ির সামনে নাড়া থেকে ওকে মারতে মারতে জিন্দা জ্বালানো। পুরোটা ভিডিও হবে...
-জিও মেরে লাল! কাজ হয়ে গেলে, তোকে রিপোর্ট করব এসে। লেকিন ওই ভিডিওটা তুইই শেয়ার ক’রে দিস... তুই যাচ্ছিস না শ্লা, মন খারাপ করছে...
-বুকে আয় ইয়ার। জাস্ট নর্ম্যাল কাজ, নো টেনশন। আরেকটা নাজম্ শুনে যা, দিল আসমানের মতো হাল্কা করে যা। কাজ ভালো হবে।
কহিঁ নহিঁ হ্যায় কহিঁ ভি নহিঁ লহু কা সুরাগ্
না দস্ত-ও-নাখুন-এ-কতিল্ না আস্তিন পে নিশান
না সুর্খি-এ-লব-এ-খঞ্জর না রঙ্গ-এ-নোক-এ-সিনান
না খাক্ পর কোঈ ধব্বা না বাম পর কোঈ দাগ্
কহিঁ নহিঁ হ্যায় কহিঁ ভি নহিঁ লহু কা সুরাগ্


আপনার মতামত জানান