জনি সোকো অ্যান্ড হিজ ফ্লায়িং রোবট

ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী
সকালবেলা আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সুকান্ত বলে উঠল, " মান্তু, চা টা দে, বেরোতে হবে। ’ রান্না ঘর থেকে মান্তু বলে ওঠে, ' আজ কোথায় বের হবি আবার? আজ তো রোববার ।’ ‘ না রে কাজ আছে দুঃখ খুঁজতে বেরোতে হবে,' এই বলে সুকান্ত বিছানা ছেড়ে উঠে পরে। তারপর চা ব্রেকফাস্ট খেয়ে, রেডি হয়ে নটা নাগাৎ বেরিয়ে পড়ে। প্রথমে মনে মনে ভেবে নেয় কি ভাবে দুঃখকে খুঁজবে? কাজটা কোনও ভাবে সহজ না, বরঞ্চ কঠিন । দুঃখ তো আর যেখানে সেখানে পাওয়া যায় না, ঠিক ঠিক জায়গায় খুঁজতে হবে, তবেই তাকে পাওয়া যাবে। কিন্তু কোথায় তাকে সে খুঁজবে? কোন নির্দিষ্ট জায়গাতো সুকান্তর জানা নেই। তবু তাকে চেষ্টা করতে হবে দুঃখকে খুঁজে পাবার জন্য। দুঃখকে খুব দরকার সুকান্তর। এই রোজকার থোর বড়ি খারা আর খারা বড়ি থোর সুকান্তর আর ভালো লাগছে না। তাই বেরিয়ে, প্রথমে সে ঝিল রোডের অটো ধরে সে ৮-বি বাস স্ট্যান্ডের সামনে চলে আসে। অটো চালককে দুঃখের কথা জিগ্যেস করলে সে এমন খিঁচিয়ে ওঠে যে সুকান্ত মনে মনে ঠিক করে নেয় যে আর কাউকে জিজ্ঞেস করবে না। সে নিজেই খুঁজে বার করবে, সে যত সময় লাগুক না কেন তার জন্য। ৮ -বি বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে সুকান্ত ভেবে পায় না সে কোনদিকে যাবে। 'আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে সুকান্ত "এস-৩১” নম্বর বাসে উঠে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত যায়। বেহালা চৌরাস্তা নামার পর সে মোটামুটি ঠিক করে নেয় যে শহর ছেড়ে ডায়ামনড হারবার এর দিকে যাবে। সেখানে গেলে হয়তো দুঃখের দেখা পাবে। কিন্তু যদিও বা দেখা পেল, তাহলে কি দুঃখ তার সাথে আসবে? এক কথায় কি রাজি হবে? সুকান্ত খুব একটা নিশ্চিন্ত হতে পারে না। কিন্তু পরের কথা না ভেবে সে এগিয়ে যেতে থাকে। গাড়ি ভাড়া করে নেয়। হাতানিয়া দোহানিয়া নদীর উপর আসতে সে আশ্চর্য হয়ে যায়। তার ভাড়া করা গাড়ি যখন ভেসেলের উপরে ওঠে, সে অবাক হয়ে দেখে নদীর মধ্যে দিয়ে একটি মানুষ আকৃতি রোবট কে ভেসে যেতে । খুব অবাক হয়ে ভাবতে থাকে যে এই রোবটের মুখটি তার খুব চেনা। কিছুক্ষণ দেখার পর সে মুখটি চিনতে পারে, জনি সোকওর ফ্লায়িং রোবটটির মত দেখতে এই রবোটটিকে। যদিও আয়তনে অনেক ছোট কিন্তু কি অদ্ভুত সাদৃশ্য এই রোবটের সাথে ছোটবেলায় দেখা টিভি সিরিয়ালের সেই ফ্লায়িং রোবটটির। যতবার সুকান্ত রোবটটিকে ভেসে যেতে দেখে, ততবার তার ছোটবেলার খুব প্রিয় সিরিয়ালটির রোবটটির কথা মনে পড়ে যায়। ধীরে ধীরে রোবটটি নদীর মধ্যে ভেসে যেতে যেতে চোখের বাইরে চলে যায়। সূর্যের আলো কমে আসতে থাকে, বিকেল হয়ে যায়। সুকান্তর আর ডায়মন্ড হারবার যাওয়া হয়না, সে বাড়ির দিকে ফিরতে থাকে। গভীর রাতে সুকান্ত বাড়ি ফিরে আসে আর মান্তু ঘুম চোখে দরজা খুলে দেয়। আর জানতে চায় , "পেলি দুঃখ?” সুকান্ত কোনও উত্তর না দিয়ে ঘরে চলে যায়। ইউটিউবে জনি সোকো অ্যান্ড হিজ ফ্লায়িং রোবট সার্চ দেয়।






আপনার মতামত জানান