সোলমেট কারে কয়?

নীতা মন্ডল


স্কুলের পরীক্ষা শেষ হতেই আমাদের কাজ কমে যায়। ছাত্রদের লম্বা ছুটি। আমাদের আসতে হয় পালা করে। ভর্তির সিজন চলছে। ভর্তির আগে বাবামা’রা আমাদের বাজিয়ে দেখে নেয়। কে, কেমন বা কিভাবে পড়ান? পড়াশুনো ছাড়া এখানে আর কি সুবিধা আছে যা অন্য কোথাও নেই, ইত্যাদি। আমাদের কাজ ওদের ইম্প্রেশ করা ও সিট বিক্রি করা। কেউ না এলে সারাদিন বসে থাকি। তাই ভেবেছি কোনও একটা বিষয়ে আমি কি ভাবি আর অন্যে কি ভাবে সেই নিয়ে একটু গবেষণা করে সময় কাটাবো। আজ দুজনের ডিউটি, আমার আর রাঘবেন্দ্রর। রাঘবেন্দ্রর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দাঙ্গাখ্যাত অযোধ্যায়। ওর ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল কুখ্যাত গুন্ডা হবার। সে স্বপ্ন সফল নাহলেও ভেতরের আগুনটা এখনও আছে। রেগে গেলে বলে ‘পা দুটো ধরে লম্বালম্বি চিঁরে দুটুকরো করে ফেলে দিতে পারতাম!’
দুপুরে খেতেখেতে রাঘবেন্দ্র তথা আমার আজকের গবেষণার প্রথম গিনিপিগকে শুধোলাম, ‘সোলমেট’ বলতে আপনি কি বোঝেন?
‘বন্ধু।’
‘এত সিম্পল না। ধরুন দুজন মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত আকর্ষণ। মনে হয় ওর আনন্দ বা কষ্ট, আসলে আমারই আনন্দ বা কষ্ট। নির্দ্বিধায় যাকে সবকিছু বলা যায়। মনে হয় এর জন্যে অনেক কিছু করি। অথবা কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে হয়।’
‘প্রানের বন্ধু।’
‘অনেকটাই। এমন কেউ আছে আপনার?’
‘এ যুগে আর ওরকম হয় না।’
‘কেন? বন্ধুত্ব, প্রেম, টান এসব তো সর্বকালীন। হয়ত আছে, ভালো করে ভাবুন।’
‘অনেকেই আছে। বাড়িতে আসে। খাওয়াদাওয়া হয়, দু-চার পেগ মারি। আনন্দ পাই।’
‘শুধু আনন্দ নয়, সঙ্গে একটা কষ্টকষ্ট ফিলিংও...হয়?’
‘অতশত বুঝি না। বন্ধুর দরকারে দুদিন ছুটি নিতে পারব, কাউকে দুটো ঘুষি কষিয়ে আসবো।’
‘অনেক কিছুই পারেন তো!?’
‘তবে ম্যাম, কারোর জন্য আমি মানুষ খুন করতে বা রেপ করতে পারবো না।’
ডেটা সংগ্রহের তাগিদে ওকে অনেকক্ষণ জ্বালিয়েছি, বিশ্লেষণ করেছি, উৎসাহ দিয়েছি। এ বিষয়ে নিজে কি ভেবেছি সেকথা থাক। তবে রাঘবেন্দ্র অনেকদূর ভেবে ফেলেছে! না জানি এরপর শুধোলে আরও কি বলবে!
খাওয়া শেষ। আমি টিফিন বাক্সগুলো ব্যাগে ভরি। যেন বাকি প্রশ্নবাণগুলো গুছিয়ে তূণীরে পুরে ফেলি। তারপর পালাই।

আপনার মতামত জানান