অভিস্রবণ

মালিনী ভট্টাচার্য


সে ক্রমে উপরে উঠছিল, সবার নজর এড়িয়ে। সামনে একটা হার্ডল, দেখতে কাঁচা বাঁশের মতো। সেই অব্দি গিয়ে থমকে দাঁড়ালো। আর কি যাওয়া যাবে? কিন্তু যাওয়া তো খুব প্রয়োজন। আজ না হলে আর কোনদিনই সুযোগ পাওয়া যাবেনা বোধহয়। সারাজীবন সে শুধু নিম্নগামীই থেকেছে, মাধ্যাকর্ষণের মতো কোন অলঙ্ঘ্য নিয়মানুসারে হেঁট হয়ে মাটিতে মুখ গুঁজে চলার অন্যথা হয়নি। কিন্তু আজ ব্যতিক্রমী হওয়া জরুরী। বাঁশের মতো দণ্ডটা বেয়ে উঠতে থাকলো সে। দণ্ডটা যেন তার প্রাণশক্তি শুষে নিচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। কিন্তু শেষ অব্দি পৌঁছতে হবে। অনেকক্ষণ পর সে সফল হল দণ্ডের শেষ সীমায় পৌঁছতে। সামনে আর পথ নেই। নিজেকে মাধ্যাকর্ষণের হাতে পরাজিত হতে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। নিজেকে শিথিল হতে দিল এবং টুপ করে ঝরে পড়লো। যে সাদা জমিটার ওপর পড়লো তাতে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়লো লাল।
জমিটাও, দণ্ডটার মতো, শুষে নিতে থাকলো তাকে।

নামজাদা কলেজের রাশভারী পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপকের বাড়ী আজ সরস্বতী পুজোর ধুমধাম চলছে। অন্যান্য বারের থেকে এবার জাঁকজমক বেশী। সদ্য বিপন্মুক্তি ঘটেছে স্যারের। সমস্ত অপপ্রচার ও কুৎসা মিথ্যে প্রমাণ করে। বাগদেবীর নিষ্ঠ উপাসকের এই আরাধনায় সামিল দেশবিদেশের খ্যাতনামা প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা। শ্বেতশুভ্রতার উৎসবে ছায়া পড়েনি রক্তাক্ত পায়ু আর অপমানের বোঝা সমেত ভারা বেয়ে উঠে অ্যাপার্টমেন্টের ছাদ থেকে ঝাঁপ মারা ছাত্রটির। শুধু সবার অলক্ষ্যে খাগের কলম বেয়ে উঠে এসেছিলো দোয়াতের সমস্ত লাল কালি। ঝরে পড়ছিল এক দিস্তা সাদা কাগজে। অবিশ্রান্ত।

আপনার মতামত জানান