ডিভোর্স

সরোজ দরবার


ডিভোর্স শব্দটা ঘোষবাড়ির বউদির মুখেই প্রথম শুনল নমিতা। তাদের পাড়ায় বলে, ছেড়ে পালিয়েছে। আকছারই তো ঘটে।বর ছেড়ে পালালে বউয়ের কপাল পোড়ে। পেটের ভাত জোটানো তো আছেই, ওদিকে আবার সাত পুরুষে হামলে পড়বে।
বউদি অবশ্য বলছে, ব্যাপারটা সম্মানের। দাদার সঙ্গে অফিসের এক ছেনালির লটঘট চলছে। তাই মাথা উঁচু করে তাতানকে নিয়ে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছে।
তাহলে সেও তো বেরিয়ে যেতে পারে। তার বরও তো বেধবা বউদির ঘরে পড়ে আছে একমাস। ফোন করলে বলে, আমি অসুস্থ, তুই কাজে যাস, আমাকে কে দেখবে?
নমিতা জানে অসুখটা আসলে কী! ইদানিং হুট হাট দুপুরে রাতে বউদির বাসায় যাওয়া বেড়েছিল। এমন পুরুষের সঙ্গে আবার ঘর করা কী! খেটেই যখন খেতে হবে, সম্মান নিয়ে বাঁচবে। নমিতা ঠিক করল, এবার ফোন এলে, ডিভোর্স চাইবে।
ফোন এল। বরের বউদির। কোনও কোয়াক ডাক্তার বলেছিল, টিবি ছোঁয়াচে, দূরে থাকবেন। তাই নমিতার কাছে থাকেনি। ফোনেও বলতে মানা ছিল, পাছে নমিতা এলে তাকেও রোগে ধরে। দুজনকেই রোগে ধরলে ছেলেমেয়ে দুটোকে দেখবে কে! ঘর ভালোবাসত, তবু ঘরে ফেরা হল না...আর বড় হাসপাতালে নিয়ে যাবার খরচই বা কোথায়..
ডুকরে কেঁদে উঠতে গিয়ে নমিতার মনে পড়ল, কাল রাত্তিরেই সে ডিভোর্স চাইবে ভেবেছিল...

আপনার মতামত জানান