অন্বেষণ

সুবীর বোস


“জানালাফ্রেম
আরো অনেক ডালপালা” (সৌমিত্র সেনগুপ্ত)

বাইরে তখন বৃষ্টি! দৃষ্টিপথে কচি কলাপাতার উপর ফোঁটা ফোঁটা জল। এক জোড়া শালিক ঘাড়ের রোঁয়া ফুলিয়ে গা ঝাড়া দিচ্ছিল। সেনবাড়ির পোষা পায়রাটা একটা ডানা মেলে দিয়েছিল বৃষ্টিতে। পুরো ব্যাপারটাই একটা ছবির মতো বাঁধানো ছিল জানালার ফ্রেমে। ওই ফ্রেমেই বাঁধানো আছে কিছু অতীত তার ডালপালা মেলে। যে মেয়েটা রোজ ফুল তুলতে আসত ভোরবেলা – তার ছবিও ওই ফ্রেমেই ধরা পড়েছিল কোনও এক সকালে। জানালাপথে ইশারা আর “মনেতে তার নিত্য আসা-যাওয়া” আজও একই রকম ডালপালা ছড়ানো ওই ফ্রেমের বাইরে।

“একবার চাইলেই অচেনা বুকের
আড়াল ছেড়ে ফিরত হেমন্ত” (সৌমিত্র সেনগুপ্ত)

ফুল তোলার পথ মোটেও ফুল ছড়ানো ছিল না। চোখ থেকে মনে পৌঁছতে সময় লেগেছিল প্রায় এক বছর। মাঝ কিছু কাঁটার খোঁচা – এ ডাল, সে ডাল থেকে। যা শুরু হতে লেগেছিল প্রায় এক বছর – শেষ হয়ে গিয়েছিল মাত্র কয়েক মাসেই। লার্নিং টাইমে আর্নিংয়ের কোনও ব্যবস্থা ছিল না – তাই ফুলের মালাটা – অন্য কারও গলায়। এক দলা ব্যথা আজও গলার কাছে জমাট বেঁধে আছে। ফুল – অন্যের গলায় মালা হবার আগে শেষবার এসেছিল ওই জানালার ফ্রেমে – শেষ আশা নিয়ে। কিন্তু সেদিন আমার নিজের ডালপালার জোর এত কম ছিল যে ফুলের সে ভার বইতে পারিনি।

“আকতে পারিনি আমি ইচ্ছের চেয়েও দামি
চুপ করে তোর জানালায় বসে থাকা” (সাগরনীল)

আজ এত দিন পর বাইরের ঝড় থামলেও ভিতরে তা একইরকম। আজও – হিসেবের খাতা খুললেই – জানালার ফ্রেম, দুটো বড় বড় চোখ, কোচড়ে ফুল আর ফুল ছাপ জামা। বুকের গভীরে দাপাদাপি করে কী এক আকুলতা! খুঁজে যাওয়া আর খুঁজে যাওয়া! জীবনের উপান্তে – যখন সময় তার খাজনা মিটিয়ে নিচ্ছে দু-হাতে – মনের গভীরে তখনও একটানা বেজে চলে রবীন্দ্রনাথ, “মাঝে মাঝে তব পরশখানি দিও”।

কৃতজ্ঞতা – কবি সৌমিত্র সেনগুপ্ত ও কবি সাগরনীল (সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়)।

আপনার মতামত জানান