বিশ্ব ভরা গান...

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়


গরমকালে সন্ধেবেলা কারেণ্ট চলে যাওয়া, এক বড়ই বেদানাদায়ক মুহূর্ত। সন্ধেবেলা প্রতিদিন নিয়ম করে কারেণ্ট চলে যাওয়া, এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা হারিকেন জ্বালিয়ে মশা মারার অভিজ্ঞতা, সে যারা সয়েছেন, তারাই ভাল বুঝবেন। এই ইনভার্টার-জেনারেটর তখন ঘরে ঘরে থাকত না। আর সন্ধে হলেই কেউ না কেউ চেঁচিয়া বলে উঠত “হ্যারিকেনে তেল ঢাল... এক্‌খুনি অন্ধকার হবে!” ঠিক সেই অন্ধকারের মধ্যেও, প্রতি সন্ধ্যায় একটি বাড়ির একতলা থেকে ভেসে আসত গানের শব্দ। একজন সংগীত শিক্ষক তার ছাত্রীটিকে গান শেখাতেন। গানের একটাই লাইন হয়ত বার বার গাওয়া চলছে... যতক্ষণ না মনে হয়, এই বার ঠিক হ’ল। তারই মাঝে, অন্য একদিকে কান পাতলে আর একদিকে থেকে ক্ষীণ শব্দে ভেসে ভেসে আসত, প্রতিবেশী এক কলেজ-পড়ুয়া দাদা’র গীটারের শব্দ... সে গীটাররের আওয়াজ গভীর রাতেও অনেক সময় শুনতে পেতাম। মাঝে মাঝে শোনা যেতো, তবলায় শিক্ষানবিশ এক ব্যক্তির তবলা লহড়া। আর সন্ধের অবসরে, একদম কম করে বাড়ির কোনও ঘরে হয়ত রেডিও চালানো হ’ত... আকাশবাণী, কলকাতা ক। সেখানেও কোনও না কোনও গানই চলত।
কেবলমাত্র বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পাখা-টিভির মত যান্ত্রিক শব্দের যে অনুপস্থিতি তৈরী হ’ত, সেই ফাঁকেই চারদিক থেকে এই সংগীতময় ধ্বনিগুলো অদ্ভুত ভাবে জায়গা করে নিতো। এখনও ছোটবেলার সেই অন্ধকার গরমকালের সন্ধের কথা মনে পড়লে। প্যাচপ্যাচে ঘাম, মশা, বা হারিকেনের আলোয়ে ফুটে ওঠা বেয়াড়া অঙ্কগুলোর আগে এই চারদিক থেকে ভেসে আসা কোলাজ সংগীতের কথা আগে মনে পড়ে। কখনও বিরক্ত লাগত, কখনও ভাল লাগত, কখনও এইসব শুনতে গিয়ে অন্যমনষ্ক হয়ে পড়তাম। কিন্তু এই সংগীতই যেন স্মৃতির ক্যানভাসে এক এক বর্ণের রঙের পোঁচ হয়ে থেকে গেছে। তা আজও দেখি বেশ উজ্জ্বল... সময়ের ধূলো পড়ে ম্লান হয়নি।

ঠিক যেমন রবি ঠাকুরের সহজপাঠে, কোনো বোষ্টমকে খঞ্জনী নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়... হাটে রাস্তায় অন্ধ কানাই গান শুনিয়ে ভিক্ষে করে। সেইরকম শহরের রাস্তা দিয়েও এক সময় বোষ্টমদের খঞ্জনী বাজিয়ে গান গাইতে দেখা যেতো। গৃহস্থবাড়ি থেকে কেউ কেউ বেরিয়ে চার-আনা, আট-আনা... কিংবা এক কুনকে চাল আর দুটো আলু দিয়ে দিতো। আমাদের বাড়িতেও এমন এক বোষ্টম রোজ ভোরবেলা নামগান শুনিয়ে যেতো পুরো ফাল্গুন মাস। সকাল সাতটার মধ্যে কপালে রসকলি, গলায় তুলসির মালা, গায়ে নামাবলী জড়িয়ে ঠিক হাজির হ’ত। সে কোথায় থাকত, কি করত... কেন শুধু ওই দোলের সময়তেই আসত নামগান শোনাতে সেসব জানি না। জিজ্ঞেসও করিনি কাউকে কখনও। শুধু দেখতাম, সমস্ত ফাল্গুন মাস সে ভোরবেলা এসে ‘কৃষ্ণ কৃষ্ণ... হরে হরে’ করে নামগান গেয়ে যেত খঞ্জনী বাজিয়ে। মাসের শেষে তার পারিশ্রমিক হ’ত টাকা, চাল, ডাল, তেল, সবজি... নামাবলী লেখা ঝুলিতে ভরে ‘জয়ে গৌর-নেতাই’ বলে চলে যেতো। আবার আসত পরের বছর, ঠিক ফাল্গুন মাসে। এই বোষ্টম ছাড়াও, কেউ কেউ হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে মাঝে মধ্যে রাস্তাঘাটে গানটান শুনিয়ে যেতো। তবে তারা কেউ নিয়মিত ছিল না। ওই দুপুরের দিকে হারমোনিয়ামের রিডে কাঁপা কাঁপা শব্দ, কখনও সুরে কখনও বেসুরে... এ গলি ও গলি দিয়ে চলে যেতো। ঠিক সেভাবেই যেতো বেহালা-ওয়ালা বা বাঁশিওয়ালার সুর, আর ঝুলি কাঁধে নিয়ে ভেলকি দেখতে বেরোনো সাপুড়ের বীণে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর... নাগীন।

লতায়পাতায় এইভাবেই সুর জড়িয়ে থাকে, সংগীত জড়িয়ে থাকে। তালিম, রেওয়াজ, বাদ্যযন্ত্রের আরম্ভরেই সে আবধ্য থাকে না... যা জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা এই ভাবে জীবনের আনাচে কানাচে নিজের জায়গা করে নেয় পাকাপাকি ভাবে। সাদাকালো টিভিতে ধুতির ওপর সাদা-ফুলশার্ট, মোটা কালো ফ্রেমের চশমা পরা একজন ব্যক্তিকে গান গাইতে শুনেছিলাম। মানে, বাড়ির সকলে শুনত, আমি তাদের সঙ্গে বসে থাকতাম। পরে জেনেছিলাম, ওনার নাম শ্রী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ঠিক সেইরকমই সাদা হাফ-শার্ট, কালো ফ্রেমের চশমা পরে গাইতে দেখতাম ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, সতীনাথ মুখোপাধ্যায় প্রভৃতিকে। বাংলা আধুনিক গানের সঙ্গে পরিচয়ের এই প্রাচীনতম স্মৃতি। এখন, কত রকম বায্য যন্ত্রের ব্যবহার, প্রযুক্তির ব্যবহার... যেমন আলোর খেলা তেমন শব্দের খেলা, তেমন গায়ক-গায়িকাদের মন-মাতানো উপস্থাপনা। পুরোটাই এক এন্টার্টেনমেণ্ট প্যাকেজ। বেশ ভালই, যুগের সঙ্গে সঙ্গে যেমন চাহিদা, তেমন বিবর্তন। কিন্তু এই বিশ্বব্যাপী ‘কনসিউমারিজ্‌ম’ এবং সংগীতের মধ্যে এত রঙচঙে ব্যাপার দেখে ভাবি... সেই লোকগুলো কেমন হারমোনিয়াম নিয়ে বসে, ধুতি-পাঞ্জাবী পড়ে গান গেয়ে গেল। আর সে গান তো দিব্যি এখনও শোনা হয় সমান আগ্রহ ভরে। তবে তখন এইসবের প্রয়োজন হ’ত না? নাকি চায়ের সঙ্গে টা এর মত সংগীতের সঙ্গে আনুষঙ্গিক প্রয়োজনটা এখন সত্যিই অনেক বেড়ে গেছে? যত বেশি এই প্রযুক্তির জগতে গান শুনি। আর পুরনো গানগুলো আবার করে শুনি (সে হিন্দি হোক, কিংবা বাংলা) একটা স্পষ্ট তফাৎ টের পাই। আগে গায়ক-গায়িকা গান গাইতেন, যন্ত্রশিল্পীরা তাদের সঙ্গত দিতো। গানের মধ্যে থাকত প্রিলিউড (যা গান শুরু হওয়ার আগে বাজে), থাকত ইন্টারলিউড (যা গানের মাঝে বাজে)। কিন্তু এখন এই যন্ত্রানুষঙ্গই প্রধাণ এবং প্রবল হয়ে উঠেছে। কন্ঠশিল্পীর স্বরের কাজ, এবং গানের কথাকে ছাপিয়ে শুধু যান্ত্রিক প্রযুক্তি। দেখি, কথায় কথায় ইয়ুরোপ, আমেরিকা... মানে পশ্চিমী ঘরানার সংগীতের উদাহরণ টানা হয়, ওরা কত এগিয়ে গেছে। আমরা কত ঘরকুনো, ইত্যাদি। কিন্তু ওরা এখনও ওদের প্রতিটি ‘ফর্ম ওফ মিউজিক’ সমান ভাবে সাজিয়ে রেখেছে। একটাকে অন্যটাকে খেয়ে নেয়েনি। অথচ এখানে সামাজিক বিবর্তন এবর পশ্চিমি প্রভাবের জোরটাই এতই... যে একতা সাংস্কৃতিক আঙ্গিককে একেবারে ধারে সরিয়ে রেখে, আর একটিকে বিপনন করা হয়। আর সেই ধারিয়ে সরে যাওয়া চর্চাগুলোকে আলোর মুখ দেখতে হ’লে এই জনপ্রিয় জগঝম্পর হাত ধরে, বা এদের আদলে নিজেদের ফেলা আসতে হচ্ছে। তবেই তারা পৌঁছতে পারছে মানুষের কান অবধি। দৃষ্টিগোচর হচ্ছে তাদের প্রতিভা। পন্ডিত বীর্জু মহারাজকে একবার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন ‘ফিউশন মিউজিক’ নিয়ে ওনার চিন্তা... এবং মার্কিন দেশে উনি এই নিয়ে কিছু করতে চান কি না। তাতে উনি বলেছিলেন, “ফিউশন কি? হিন্দুস্তানী আর পাশ্চাত্য সংগীতকে মিশিয়ে একটা কিছু প্রস্তুত করা? সেতো আগেও কেউ করেছেন, এখনও করছেন এবং পরেও করবেন। কিন্তু মুশকিল কি জানো? ওরা ওদের সংস্কৃতিটা খুব ভাল চেনে, ওরা আমাদের থেকে শিখতে চায়। তাই ফিউশনের থেকে আমাদের হিন্দুস্তানী সংগীতের আসল রূপটা ওরা দেখতে চায়... গান বল, নাচ বল, যন্ত্রসংগীত বল... সবেতেই... মূল ধরণটা নিয়ে ওদের আগ্রহ বেশি। আর আমাদের এখানে নিজেদেরটাও ভাল করে সবাই চেনে না, আর ওদেরটা ভাবে খুব চিনেছে... ফিউশনটা এখানেই বেশি পপুলার ওখানে নয়। যারা করছেন করুন না... আমি আপাতত এই নিয়ে ভাবছি না।” কথাটার সঙ্গে হয়ত অনেকেই সহমত হবেন না। বলবেন বড় বেশি রক্ষণশীল মনোভাব। কিন্তু খাঁটি বস্তুর সংরক্ষণ খুব জরুরি হয়ে পড়ে, এটা না বলেও পারি না।

আজ, ২১ শে জুন... এই তারিখটা চিরকালই বছরের দীর্ঘতম দিন হিসেবে মনে রেখেছি। আর এই দিনটাই বিশ্ব সংগীত দিবস বলে বিশ্ব জুড়ে পালিত হয়। কেমন যেন কাকতালীয় ভাবেই... সংগীতের ‘বড় দিন’। ঠিক যেমন ফ্রান্সে মরিস ফ্লোরেট (Maurice Fleuret), জোয়েল কোহেনরা (Joel Cohen) ঘরে ঘরে এত সংগীত শিল্পীদের সকলকে রাস্তায় একজোট করে সংগীত উৎসব পালনা করেছিল। ঠিক সেই ‘স্পিরিট’-এই তো আমাদের পৌশমেলায় বাউলেরা একত্রিত হয়ে গান করে, কেরালাতে দক্ষিণী লোকগানের উৎসব হয়, রাজস্থানের কবিয়াল আর লোকসংগীতের দল রাত জেগে গান করে যায়, মধ্যবিত্ত পরিবারেও ঘরে ঘরে কেউ না কেউ সংগীত চর্চা করে (ঠিক যেমন ওনারা ফ্রান্সে দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন)। গানের দিন কি আর একটা দিন? এই উৎসব তো সারা বছর, প্রতিমুহূর্তে। সম্রাট ঔরঙ্গজেবের প্রৌঢ় বয়সে যে মস্তিষ্কে বিকার ঘটেছিল, তার একাধিক উদাহরণের একটি হ’ল –
তিনি সংগীত চর্চাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন! তাঁর পিতা শাহজাহানের সময় অবধি যে সব সংগীত শিল্পীরা বাদশাহী অনুদান ভোগ করত, তা কমিয়ে দেওয়া হয় বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একদিন কিছু সংগীতশিল্পী বাদ্যযন্ত্রগুলোকে জেনাজা’র মত বেঁধে সম্রাটের বারন্দার সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, সম্রাট জিজ্ঞেস করেছিলেন এ কার জেনাজা? তাতে সকলে মাথা নিচু করে উত্তর দেয় ‘সংগীতের’। সম্রাট তখনও শীতল অবিচলিত ভাবে বলেন, “যতটা পারবে গভীর কবর খুঁড়বে... যেন কবরের ভেতরে বাজলেও, বাইরে থেকে শোনা না যায়।” এ’ছাড়া আমাদের ভারতবর্ষে সংগীতকে কখনও সার্বিক ভাবে রুদ্ধ করার চেষ্টা কোনও অমানবিক মস্তিষ্ক করেছে বলে মনে হয় না। সেই বেদের সময় থেকে গান আঁকড়ে বসে থাকা আদি সভ্যতা, সনাতন ধর্মের দেশ। এমনকি ইসলাম ধর্মের উত্থানেও, সুফি-কালওয়াতি এবং হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সংগীত আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অগনিত ভাষায় এবং সামাজিক ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়ে বেঁচে লোকসঙ্গীতের মূর্ছনা দেশের পাহাড়ে, নদীতে, জঙ্গলে, গ্রামের পথের ধূলোয়ে মিশে আছে। তাই এই আন্তর্জাতিক বিশ্ব সংগীতের দিবসে, একাধিক পাশ্চাত্য সংগীতের দিকপালদের স্মরণ করে কপাল ঠোকার আগে, বার বার সেই যুবক বাউলের মুখটা মনে পড়ছে, যাকে লোকাল ট্রেনের কামড়ায় কামড়ায় গাইতে শুনতাম ‘তোমায় হৃদমাঝারে রাখিবো, ছেড়ে দেবো না’... আর কামড়ায় একসাথে অনেকে ‘আর এক বার! আর এক বার!’ বলে চেঁচিয়ে উঠছিল।

বিশ্ব সঙ্গীত দিবস... খুব বিশাল ব্যাপ্তি দাবী করে এই শব্দগুলো। সংগীত কি শুধুই পিট সিগার, বিটল্‌স আর বব ডিলান? সংগীত মানেই কি আমাদের বলিউডি এবং আঞ্চলিক আধুনিক সংগীত? জাপান থেকে জামাইকা, প্রসান্ত মহাসাগর থেকে অতলান্তিক... ঢেউয়ের তালে তালে যে সংগীত ভাসছে! আফ্রিকার প্রত্যন্ত জঙ্গলে অর্ধনগ্ন আদিবাসী শিকার করা বন্য প্রাণীর হাড় ঠুকে ঠুকে আলো-আঁধারিতে সুর সৃষ্টি করে... স্কটল্যাণ্ডের সবুজ পাহাড়ী ঢাল বেয়ে নেমে আসে ব্যাগ-পাইপারের অদ্ভুত সুরধ্বনি, আমেরিকার টেক্সাসে ধূলো ঝরের মধ্যেও, কোনও অনামী বিয়ার বারে এক কৃষক বেহালা চোখ বন্ধ করে বেহালা বাজিয়ে যায়... যার নাম ফিডলার, জয়সালমেরের কোনও পরিত্যক্ত পাথুরের দুর্গের সামনে বসে রাওয়ান-হাত্তায় হৃদয়ে মোচর দেওয়া মূর্ছনা তোলে - বিদেশীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে দেওয়া বৃদ্ধ সুরের যাদুকর, তিব্বত আর মঙ্গোলিয়ার বৌদ্ধ সংঘারামে প্রকৃতির এক একটা রূপ হয়ে ওঠে বৌদ্ধ ভিক্ষুক-সাধকদের একত্র ধ্বনি; সকলে এক একটি স্বর একত্রে গম্ভীর নাদ করে ওঠে, তার ওঠা নামায় কখনও ধরা পড়ে পাহাড়ের গাম্ভীর্য, কখনও নদীর চঞ্চলতা, কখনও বাতাসের হাহাকার, কখনও পাথুরে মরুভূমির তৃষ্ণা। কোনও আন্তর্জাতিক কনসার্ট নয়, অ্যালবাম কভার নয়, ট্রিবিউট শো নয়... ঠিক যেমন বেঁচে থাকার তাগিদেই জীবনের অস্তিত্ব... তেমনই মৃত্যুঞ্জয় সংগীত। যেখানে প্রাণ আছে, সেখানে সংগীত থাকবেই। সে মানুষের সৃষ্টি হোক, বা প্রাকৃতিক... সংগীত যেন নিজের তাগিদেই স্বয়ম্ভূ হয়ে ওঠে। আস্তিকের কাছে সংগীতই ঈশ্বরের প্রতি উৎসর্গ করার সব থেকে উৎকৃষ্ট অর্ঘ্য... আর কখনও সংগীত নিজেই ঈশ্বর। আক্ষরিক অর্থেই বেথোভেনের সেই উক্তি সত্য – “Music is a higher revelation than all wisdom and philosophy.” আর সেই সূত্রেই এক প্রবাদপ্রতিম ভারতীয় সংগীত শিল্পী, সানাই-বাদক উস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের একটি সাক্ষাৎকার মনে পড়ে গেল। ভারত রত্ন সংগীত শিল্পী বেনারসে খুব সামান্য সরকারি ভাতায় অনারম্বর জীবন কাটাতেন। একাধিক সংগীত শিল্পী বিদেশে অনেক বেশি সমাদর পেয়েছেন, ওনাকে সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করায় বলেছিলেন “লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে একজন এসেছিল... ওখানে শাস্ত্রীয় সংগীতের স্কুল খুলতে চায়, আমাকে ডাকল শানাইয়ের জন্য। আমার এখন অনেক বয়স, এই গঙ্গাজীর ধারে থাকি, দিন কেটে যায়। ওরা কি লস অ্যাঞ্জেলেসে গঙ্গাজীকে নিয়ে যেতে পারবে? পারবে না... তাই আমাকেও পারল না... এই বেশি আছি।” কথা শেষ করে এমন ভাবে হাসলেন, সামনের বাঁধানো দাঁতগুলো তাদের জায়গা থেকে সরে গেল।

আপনার মতামত জানান