৭৫এ পঞ্চম

অঙ্কুর কুন্ডু


মহানায়ক উত্তমকুমার , কিশোরকুমার –এই দুই ব্যক্তিত্বকে যদি পাশাপাশি রাখার কারণ জানতে চাওয়া হয় , তাহলে একটা অপ্রিয় সত্য কথা শোনার সুযোগ আসতে পারে ৷ উত্তমকুমার কখনওই অভিনেতা রূপে প্রশংসিত হননি , অপরদিকে কিশোরকুমার তাঁর কন্ঠের জন্য সম্মানিত হননি ৷ উত্তমকুমারের খুব বড় ভক্তও বুক ঠুকে বলতে পারবেন না যে ছবি বিশ্বাস বা জহর রায়ের ব্র্যাকেটে মহানায়ককে বসিয়ে দিলে , মহানায়ক সকলকে হেলায় হারিয় দেবেন , তবু তিনি মহানায়ক ৷ মহম্মদ রফির সাথে কিশোরকুমারের কন্ঠের তুলনা করলে পঞ্চাশ বছর পরেও একই উত্তর আসবে ৷ যদিও এইসব আপেক্ষিক ব্যাপার ৷ কিন্তু এরকম অনেক স্থান – কাল - পাত্র আছে , যেখানে আইনস্টাইনের বুদ্ধিবাদ ‘আপেক্ষিক তত্ত্ব’ ইন্দ্রিয়াভিজ্ঞতার কাছে হেরে যায় ৷ সেইরকমই এক স্থান – কাল - পাত্র হল সুর - সত্তর দশক - রাহুল দেব বর্মন ৷ কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে যে হঠাৎ করে রাহুল দেব বর্মন এল কেন এবং তাও এরকম অপ্রাসঙ্গিকভাবে !

এইরকম অপ্রাসঙ্গিকতার মধ্যেই রাহুল দেব বর্মনের আবির্ভাবের কারণ হল তাঁর পঁচাত্তরতম জন্মদিন ৷ ১৯৩৯সালের ২৭শে জুন শচীন কর্তার পুত্র বিখ্যাত সুরকার রাহুল দেব বর্মনের জন্ম হয়েছিল ৷ যাই হোক পঞ্চম অর্থাৎ রাহুল দেব বর্মনের প্রসঙ্গ আরও একটা কারণে এসেছে এবং তা নিছকই লেখনীর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করার জন্য নয় ৷ কিশোরকুমারের গাওয়া নিয়ে সমালোচনা হলেও , রাহুল দেব বর্মনের গাওয়া নিয়ে তাঁকে সে অর্থে কোনোদিন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি , বলা ভালো খুব বেশি আলোচনাও হয়নি ৷ এবং এখানেই আমার ব্যক্তিগতভাবে অবাক লাগে , কারণ রাহুল দেব বর্মনের গায়েকী সেই অর্থে ‘কনভেনশনাল’ নয় , আবার খুব একটা ‘নতুন’ তাও না ৷ অথচ তাঁর কন্ঠকে সমালোচনা করার মত পর্যাপ্ত রসদ থাকলেও , তা প্রায় নাড়াচাড়া করা হয়নি ৷ প্রায় ১৮টি (মতান্তর থাকতে পারে) সিনেমায় প্লে-ব্যাক্ করেছেন তিনি এবং এছাড়াও নিজের অ্যালবামের জন্য ব্যবহার করেছেন সেই ‘কেমন যেন কন্ঠ’ এবং সাথে ছিল তাঁর ‘হিপনোটাইজিং’ কম্পোজিং ৷

২৩৪/১-এ মিলটন্ ও আর.ডি :
যাঁরা নিয়মিত বি.টি.রোড অতিক্রম করেন , তাঁরা জানেন যে ২৩৪/১ হল বেলঘরিয়া-গল্ফগ্রীন্ রুটের বাস ৷ আমি কলেজে যেতাম ঐ বাসটিতে ৷ কলেজের প্রথমদিকে বেশিরভাগ সময়েই মিলটনের “প্যারাডাইস্ লস্ট্”-পড়তাম এবং ওটা নিয়ে এতটাই চাপ ছিল যে বাসেও সেটাই পড়তাম , মলটনের ইনভোকেশন্ ৷ কিন্তু পাশাপাশি চিৎকারেস্বভাবতই পড়া হত না ৷ তখন প্রায় শুনতাম ‘মিউজিক’ নাকি মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম ৷ একট চেষ্টা করলাম ৷ হাতে মিলটন্ , কানে হেডফোন্ ,আঙুলে এফ্.এম্ অন্ … ‘নদীর পাড়ে উঠছে ধোঁয়া / মনে হয় কেউ পুড়ছে’ ৷ আমার এখনও মনে আছে , সেইসময় একটা ‘রং নম্বর’ আসে এবং গানটা মাঝপথে থেমে যায় , পুনরায় গানটা শুনতে গেলে , ততক্ষণেতা শেষের দিকে ৷ কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে গানটি ডাউনলোড করে শুনি , এটাই বোধহয় গানটির ‘চার্ম’ ছিল ৷ এতক্ষণ অবধি মিলটন্ হেরে যাচ্ছিল , আমার সামনে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল ৷ কিন্তু , নাহ্ , অবিশ্বাস্যভাবেই মিলটন জিতেছিল ৷ ২০১৪-য় ফুটবল বিশ্বকাপ ইদানীং পিছিয়ে পড়া টিমকে যেমন জিতিয়ে একটা ট্রেন্ড তৈরী করেছে , ঠিক তেমনই “প্যারাডাইস্ লস্ট্” পড়তে আরও বেশি ইচ্ছা করছিল ৷ তখনকার মতো গানের কথাটা আর মাথায় ছিল না ৷ পঞ্চম হারল ? মেনে নিলাম , হারকে জিতনেওয়ালে কো. . .

বিউটি ইন্ দ্য ড্র্যাবনেস্ :
এরপর একদিন রাহুল দেব বর্মনের একটি সিডি কিনলাম ৷ গানগুলো একের পর এক চালিয়ে দেখে নিচ্ছিলাম সিডিতে কোনও ‘ফল্ট’ আছে কিনা ! সেইসময় বাড়িতেও হাজির আমার এক বন্ধু ৷ সে আবার পপ্ , জ্যাজ্ ছাড়া শোনে না ৷ তাও ওকে ধরে-বেঁধে বসালাম ৷ আর আমার দুর্ভাগ্য যে সেইসময় না জেনে যে গানটি চালিয়ে ছিলাম , তার সেটি পছন্দ হয়নি , কারণ ৩০সেকেন্ড্ , ৪৫সেকেন্ড্ , ১মিনিট , সোয়া এক মিনিট্ দেড় মিনিট্ পেরিয়ে গেল , গান শুরু হল না , চলল সুর বা মিউজিক্ ৷ সে নিজেই গানটি বন্ধ করে গল্প শুরু করল ৷ সেদিন রাতেই আবার গানটি চালালাম ৷ বিরক্তিকর , শুধুই মিউজিক্ ৷ এমনিতেই আমার ‘ইগো’টা মারাত্মক ৷ তার ওপর বন্ধুটি আমাকে হেয় করে গেল ৷ গানটি চলছিল , হঠাৎ কানে এল –‘তুমি কত যে দূরে / কোথা যে হারিয়ে গেলে’ ৷ তড়িঘড়ি গানটি বন্ধ করে আবার চালালাম , এবং দশ সেকেন্ড্ , পনেরো সেকেন্ড্ করে পার করতে করতে দেখি গানের কথা শুরু হল প্রায় পৌনে দু’মিনিটের কাছাকাছি সময়ে ৷ কিন্তু প্রথমবার শুনে ভালো লাগল না , তখনও বোধহয় ইগো এফেক্ট্ ছিল ৷ তারপর বেশ কয়েকবার গানটি শুনে বোঝার চেষ্টা করলাম যে এর কি-ফ্যাক্টরটা কোথায় ! অনেক পরে বুঝলাম , এর প্রথম কি-ফ্যাক্টর্ হল সেই পৌনে দু’মিনিটের ‘টোন’ ৷ দ্বিতীয়টা হল গানের কথার স্টাইল্ , অনেকে শুনে বলতে পারেন যে গানে এরকম আধ-পরিষ্কার উচ্চারণ কাম্য নয় , কিন্তু এখানেই ওনার ‘ইন্ডিভিজ্যুয়ালিটি’ প্রাশ পায় ৷ জেমস্ জয়েসের “অ্যারাবি”-তে পড়েছিলাম ‘বিউটি ইন্ ড্র্যাবনেস্’ (মতান্তর থাকতে পারে) , এ গানেও তা হাড়ে-মজ্জায় বুঝলাম ৷ পৌনে দু’মিনিটের ‘মিউজিক’ শেষ হওয়ার পর রাহুল দেব বর্মন যখন ধরলেন ‘তুমি. . .’ , তখন খুব সহজেই মনের মধ্যে একটা ‘ফিল্ গুড্’ ফ্যাক্টর্ কাজ করে ৷ এরপর থেকেই গান নিয়ে টুকিটাকি গবেষণা শুরু করি , গান বেশি করে শুনে শুরু করি ৷ এতক্ষণ যে গানটার কথা বললাম , তার দ্বিতীয় লাইনে ‘হারিয়ে গেলে’-কে উনি ‘হারিয়ে গ্যালে’ উচ্চারণ করেছেন , এভাবেই অনেক গানে বিভিন্ন উপভাষাকে মিলিয়ে দেওয়া বোধহয় ওনার পক্ষেই সম্ভব ৷ এই ছোট-ছোট ব্যাপারগুলোই আর.ডি.বর্মনকে ‘ইউনিক’ করে তুলেছে , সাথে আমাকেও প্রভাবিত করেছে ‘মিউজিক’ বুঝতে ; গান নয় কিন্তু !

রবীন্দ্রনাথ এবং পঞ্চম :
মিল কোথায় ? খোঁজার চেষ্টা করবেন না ! “অচলায়তন” মনে পড়ে নিশ্চয় ! সেখানকার কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম ছিল পঞ্চক ; নাহ্ , আমি এই নিয়ে কিছু বলব না ৷ শচীন দেব বর্মন তাঁর পুত্র রাহুল দেব বর্মনকে ‘সঙ্গীত’ বিষয়ে অনেক পরামর্শ দিয়েছিলেন ৷ তারই একটা হল “মিটার ব্রেকিং প্রসেস” ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে / চাঁদ উঠেছিল গগনে” গানটি হল এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ৷ কিভাবে সুরগুলো ‘মিটার’-এর চক্রাকারে ফিরে আসার সাথে সাথে ছন্দ তৈরী করে , তা রাহুল দেব বর্মন দেখিয়েছিলেন ‘রাহে না রাহে হাম্’ গানটির মাধ্যমে ৷ আমার পক্ষে রবীন্দ্রনাথ পড়ে এগুলো জানা অসম্ভব ছিল , কারণ রবীন্দ্রনাথ রাহুল দেব বর্মনকে দেখেননি , তবে রাহুল দেব বর্মনের সুযোগ ছিল রবীন্দ্রনাথকে বোঝার ৷ শুধুমাত্র মনে মনে একটা সুর গুনগুন করে , তা তৈরী করাটাই শেষ কাজ নয় ,তাকে নিয়ে অভিনব ভাবনাগুলো রাহুল দেব বর্মনই প্রথম প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন ৷ ভাবনাগুলোকে বাস্তব রূপদানের উদ্ভট প্রক্রিয়াকে যথাযোগ্য করে তোলার জেদ আমি তাঁর কাছেই শিখেছি ৷

ভাবনায় ও একাগ্রতায় ইয়ে শাম্ মাস্তানি :
ক্যান্টিন বা কফি হাউসে কফির টেবিলে কলেজের প্রথম দিনগুলো বরাবরই জেদি ও একগুঁয়ে হয় ৷ এইরকমই একদিন কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউসে একা একা বসে আছি ৷ দেখি যে , পাশের টেবিলে কলেজের বন্ধুদের মধ্যে দুটো গোষ্ঠী তৈরী হয়েছে , জেনারেশন গ্যাপের পক্ষে ও বিপক্ষে ৷ প্রায় আধঘন্টা তর্কাতর্কি চলার পরে দেখলাম জেনারেশন গ্যাপের বিপক্ষে যারা কথা বলছিল , তারা হেরেই গেল , নিজেদের স্বপক্ষে তো কোনো যুক্তিই খাঁড়া করতে পারল না ! তখন মনে হয়েছিল যে ওদেরকে গিয়ে রাহুল দেব বর্মনের সেই ‘আজকাল’-এর ইন্টারভিউটা দেখায় , যার জন্য আমার কলেজ জীবনে এইরকমই এক বিতর্কে আমি জিতেছিলাম ৷ ‘আজকাল’-এর তরফে সমীন্দ্র বাবু গিয়েছিলেন রাহুল দেব বর্মনের ইন্টারভিউ নিতে ৷ এবং সেখানে সমীন্দ্র বাবু নিজস্ব ‘ক্যাজুয়াল’ ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করেন , “The complain that recent composers are Westernised is much prevalent nowadays..” উত্তরে রাহুল দেব বর্মন বলেছিলেন , “This word ‘nowadays’ is very confusing.In my young life also I heard the same words.See,people likes to listen to Western tunes.During our time we had the desire but didn’t have money.Now people has that.But owing to a few childish and light music becoming hits,producers also are demanding those things.Quality is being hampered.But you’ll have to adjust yourself with this change.It cannot happen that the hero and the heroine falling in love in the speed of a jetplane and the instrument ‘khol’ is being played in the soundtrack.” আমি ওনার এই ইন্টারভিউটা পড়ার আগে পর্যন্তও ‘এখন-তখন’-এ বিশ্বাসী ছিলাম ৷ কিন্তু সত্যিই তো , ‘এখন-তখন’-এর পরিবর্তন তো একটা অভিযোজিত ব্যাপার ৷ যেখানে মানুষ অভিযোজিত হয়ে গ্রহণযোগ্যতা পায় , সেখানে পরিবর্তিত ঘরানার গান , সাহিত্য প্রভৃতি আনুষঙ্গিক শিল্প কেন বিতর্কের মধ্যে ঢুকে যাবে ! ‘লেজেন্ড্’ ও ‘গ্রেট্’ তাঁরাই , যাঁরা কোনো একজনের বহু পুরানো চিন্তাধারাকে নিমেষেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে ; এটা অনেকটা সাপ-লুডোর মত ৷ সাপের মুখে পড়ে নামার মজাই হল মই-এ আবার ওঠর সুযোগ থাকে ৷ এই সুযোগটাই দিয়েছিল রাহুল দেব বর্মনের ইন্টারভিউয়ের ঐ অংশটুকু ৷ তাঁর এইধরনের চিন্তাধারাই তো ‘চুরা লিয়া’ গানে গ্লাসে চামচ ঠুকে ‘টিউন’ সৃষ্টি করেছে ৷ এই ভাবনায় তিনি বিখ্যাত ‘ও মাঝি রে’ গানে একটি বোতলে বিভিন্ন স্তরে জল ভরে তাতে ফুঁ দিয়ে শব্দ সৃষ্টি করে অর্কেষ্ট্রায় ব্যবহার করেছেন ৷ তাঁর এইরকম অভিনব চিন্তা এবং একাগ্রতা যে কোনো মানুষের কাছেই শৈল্পিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে বাধ্য ৷ যাঁরা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের “শব্দ” দেখেছেন , তাঁরা ভালোই জানেন যে ‘সাউন্ড্’ সৃষ্টি করতে কতটা আত্মনিমগ্নতা ও সচেতনতা প্রয়োজন ৷ কিন্তু একজন মিউজিক্ ডিরেক্টর্ স্বয়ং সেই কাজে পারদর্শী হলে নতুন করে সাউন্ড্ ইঞ্জিনিয়ার খোঁজার প্রয়োজন নাও হতে পারে , যার উদাহরণ রাহুল দেব বর্মন স্বয়ং ৷

‘কাটি পতঙ্গ’ , ‘ছোটে নবাব’ , ‘আরাধনা’ , ‘কাগজ কে ফুল’ , ‘অমর প্রেম’ প্রভৃতি তিনশোরও বেশি সিনেমায় ‘মিউজিক’ দেওয়া রাহুল দেব বর্মন সুন্দরভাবে প্রথম শোনান যে রোম্যান্টিক মিউজিকে ‘ক্যাবারেট্ (পাব বা বার বিষয়ক) টিউন’ যোগ করলে কতটা ভিন্ন স্বাদের ‘মাজিক’ গান তৈরী হয় ৷ উদাহরণ হিসেবে বলা যায় তাঁর ‘তিসরি মঞ্জিল’ সিনেমার গানের কথা ৷ ১৯৬০সালে ‘বাহারো কে স্বাপ্নো’-তে লতা মঙ্গেশকরের যে গান ছিল , তার ‘রিদম্’টি আর.ডি.বর্মন ইলেকট্রিক্ গিারে রেখেছিলেন , তাও তবলা ছাড়া ৷ এমন আত্মবিশ্বাসের কণামাত্র পেলে সফলতার প্রথম ধাপ খুব কাছে মনে হয় , অন্তত আমার ক্ষেত্রে তো তাই ! তিনবার ফিল্মফেয়ার্ অ্যাওয়ার্ড্ পাওয়া এ সুরকার তাঁর শেষ কাজ ‘নাইনটিন্ ফর্টি টু : আ লাভ্ স্টোরি’-র জন্যও ফিল্মফেয়ার্ অ্যাওয়ার্ড্ পেয়েছিলেন ৷ তাঁর কাজের গতি শ্লথ হয়েছিল , কিন্তু কখনও গুণগত মান নিয়ে আোস না করার সততা বারবার আমার সামনে আয়না হয়ে দাঁড়ায় , এটা ‘বাতুলতা’ হলে বাতুলতা , আর ‘খিদে’ বললে খিদে , ‘শ্রদ্ধা’ বললে . . . তাঁর অনেক কাজ আছে যেখানে গানের কথা বাদ দিয়ে ইন্স্ট্রুমেন্টাল শুনলেই মন ভরে যায় , তাঁর গানকে কম্পিউটারের কারসাজিতে ‘আনপ্লাগড্’ বা ‘রিমিক্স’ না করলেও , জনপ্রিয়তর সীমা ছিল অন্তহীন , যেমন , ‘তুমি কত যে দূরে’ অথবা ‘ইয়ে যো মহব্বত্ হ্যায়’ আবার ‘হামে তুমসে প্যায়ার হে কিতনা’ (মিউজিকে রাহুল দেব বর্মন) অথবা অপূর্ব মাউথ্ অর্গ্যানের ভাবনায় ‘তোলো ছিন্নবীণা , বাঁধো নতুন তারে’ ৷

বারবার একটা প্রশ্ন মনে ঘোরাফেরা করে -২৫ বছর , ৫০ বছর , ৭৫ বছর এমনকি ১০০ বছর-কেও বিভিন্ন নামে , যেমন – সিলভার্ জুবিলি , গোল্ডেন্ জুবিলি , প্ল্যাটিনাম্ জুবিলি , টাইট্যানিয়াম্ জুবিলি , অভিহিতকর হয় , কিন্তু তারপর . . . রাহুল দেব বর্মনের মত মানুষেরা তো এই সকলের উর্দ্ধে ! সময়ও কি অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগতে থাকে নাম না পেয়ে ! শিল্পীর অমরত্ব কি সূর্যকেও থাময়ে দেয় ! ‘CARPE-DIEM’-এর সৃষ্টি এইভাবে হয় ?! পঞ্চম মানেই মিউজিক্ , পঞ্চম মানেই ‘SENSE OF RHYTHM’ ৷ শুভ জন্মদিন , রাহুল দেব বর্মন –

‘বিতে হুয়ি বাতে কোয়ি দোহরাইয়ে ,
ভুলে হুয়ে নাম সে কোয়ি বুলাইয়ে ৷’


আপনার মতামত জানান