হাওয়া কে সাথ সাথ

সুপ্রভাত রায়



পছন্দ খুঁজে খুঁজে বুনে নিজের প্রথম প্রিয় মিউজিক ডিরেক্টরের নাম তো সেই শিখেছিলাম আরডি বর্মন। যার পুরো নাম রাহুলদেব বর্মন। ডাকনাম যে পঞ্চম তখনও শিখিনি। পঞ্চম শ্রেণীতে ওঠার আগেই হিন্দি গানটান শোনা শেখার প্রথম দিনগুলো থেকেই তো সেই তিনি। পছন্দ বয়সের সাথে বদলে বদলে গেলেও তার গান সঙ্গে সঙ্গে থেকে যায় মানে বদলিয়ে বদলিয়ে। অনেক অনেক ক্যাসেটের ভিতর থেকে বিভিন্ন আলাদা আলাদা সিনেমার গান শুনতে গিয়ে দেখি... আলাদা করে ভাল লেগে যাচ্ছে কার এই গানগুলো ? ক্যাসেটের কাগজ বের করলে আর ডি বর্মন, আর ডি বর্মন লেখা। তাই এইটা এই সিনেমার গানের থেকেও ওই সব গানগুলো মিলে হয়ে যায় আর ডি বর্মন এর গান। আমার গোটা কৈশোর জুড়ে পরপর পরপর বেজে গ্যাছে। এমপিথ্রি আসার আগেই। রিংটোন আসার আগেই।
শোলেতে ওই যে মাউথ অর্গানের পিসটা যেটা আবার আর এক গুরুদেব লোক লিপ দিচ্ছেন। কি কম্পোজিশন। অনেক ক্যাসেট ছিল টুম্পাদিদির। তাতে শোলের ডায়লগের ক্যাসেটটাও। ওটা শুনতে শুনতে মাউথ অর্গানটা যখন বাজত তখন মনে হত, ইস এটা যদি আলাদা করে গানের মতো শুনতে পাওয়া যেত। বড় হয়ে একদিন ওই সাউন্ড ক্লিপটা একটি চেনা ছেলের ফোনে রিংটোন হিসাবে বেজে উঠল, আমি বলে উঠলাম বাঃ, দারুন তো। নেবে ? না না থাক আমার আছে। মনে হল এও যেন বয়সের সাথে সাথে বদলে যাওয়া আর ডি, যা উচ্চারণ করিয়ে দেয় ‘আমার আছে’ । আর ডি’র গানগুলো যেন সেই গানগুলো যার মানে ফুরিয়ে যায় না। এইচএমভি থেকে ‘দম মারো দম’ বলে একটা ক্যাসেট ছিল। কভারে বস্‌ এর একটা দারুন পোজ দিয়ে ছবি। কালেকশন পুরো। নিজে নিজে টেপে চালিয়ে শোনা তাঁর বাংলা গানের থেকে হিন্দি গানই বেশি। তিনিই প্রথম সেই লোক যে হিন্দি গানের ওই হালকা রেলাটা আমাদের মতো ছেলেদের গায়ে দিয়েছিলেন। ওই খুল্লম খুল্লা প্যায়ার করেঙ্গে হাম দোনো আর কি।
আমি যে দিনকে দিন আরডি ভক্ত হয়ে উঠছি, আমার মামাতো দিদি টুম্পাদি খুব ভাল জানত। যার ক্যাসেট ভান্ডার আমার প্রথম গান শোনা শেখার ইস্কুল। একটা জন্মদিনে টুম্পা দিদি আমাকে আরডি গিফ্‌ট করল। দারুন একটা ক্যাসেট । যেখানে শুধু তিনি মিউজিক ডিরেক্টর না, সবক’টা গানের গায়কও। আহা। খুব প্রিয় ক্যাসেট ছিল আমার। এ ট্রিবিউট টু আর ডি বর্মন। পলি গ্রামের ক্যাসেট ছিল সম্ভবত। সন্ধেবেলা পড়তে বসে খাতায় কত বার যে আরডি টপ টেন বানিয়েছি। কোনো ক্যাসেট কোম্পানি বানিয়ে দেয়নি। রবীন্দ্রনাথ বা রেহমান তো না, আমার গায়ে আরডি’র হাওয়া যে প্রথম এসে লেগেছিল। সমস্ত ‘প্রথম’ এর শিহরণের মতো।
এই লেখাটা লিখতে গিয়ে মনে হল, সেই সন্ধেবেলা পড়তে বসে লেখার মতো আজও একটা আরডি টপটেন বানায়,হিন্দি গানের। যেটা আবার কালই বদলে যেতে পারে।
১। হাওয়া কে সাথ সাথ...
২। দো লাফজো কি হ্যায়...
৩। ইয়ে দোস্তি হাম নেহি ছোড়েঙ্গে...
৪। মেরা কুছ সামান...
৫। সচ মেরে ইয়ার হ্যায়...
৬। প্যায়ার হামে কিস মোড় পে লে আয়া...
৭। কুছ না কহো...
৮। দিলবর মেরে...
৯। তুঝসে নারাজ নেহি জিন্দেগি
১০। শোলের মাউথঅর্গানটা...

আপনার মতামত জানান