বৈচিত্র্যের সাথে আলাপ রাহুল দেব বর্মনের গান শুনে

ফুলমণি সরেন

হঠাৎ মুগ্ধ হয়ে গেলাম শুনে, “মেরা আপনা গুলাবি পামোলিভ”। অবশ্যই পরে দেখলাম আমির খান মুখরায় গাইছেন “উওহ হাসিনা জুলফো ওয়ালি......”। বাবা বললেন, “সে আবার কী, ‘গুলাবি পামোলিভ’? আমি তো জানতাম শাম্মি কাপুরের লিপে ‘তিসরি মঞ্জিল’ আর আশা ভোঁসলের পার্টটায় হেলেন নেচেছিলেন ‘মৈ আনজানা ঢুঁড়তি হুঁ’...” সে টেপরেকর্ডারবিহীন জীবনে জ্ঞান সীমাবদ্ধ রয়ে গেল।
তারপরে ইস্কুলের গাইয়েরা শোনালো “তুমসে মিলকে অ্যায়সা লাগা”। টেপরেকর্ডারের দিনে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শোনা হত ‘ঘর’ আর ‘ইজাজৎ’। কলেজ ক্যুইজে কিশোর কুমারের গলায় ‘তুম বিন যাঁয়ু কাঁহা’ শুনিয়ে প্রশ্ন করা হতো “অনেকেই জানে এই গানটা ‘প্যর কা মৌসুম’ ছবির। কিন্তু কার লিপে?” যারা শশী কাপুর বলেছিল তাদের উত্তর ভুল ছিল। সেই সময়ে বোধ হচ্ছিল যে রক এন্ড রোলের কুড়কুড়ে বাজনাটা কেমন, আর গুনগুনিয়ে চলেছিলাম ‘সারে কে সারে গামা কো লেকার গাতে চলে’ আর ‘মনে পড়ে রুবি রায়’। আবার একলা দুপুরে তখন শুনে শুনে আশ মিটত না “বড়ে আচ্ছে লাগতে হৈ”। এদিকে সর্বত্র বাজছিল ‘১৯৪২: এ লাভস্টোরি’-র ‘কুছ না কাহো’ আর ‘রুঠ না জানা’। কিংবা কলেজের প্রথম দিনে এক্সটেম্পোর টপিক ছিল, “এক লড়কি কী দেখা তো অ্যায়সা লাগা”।
হোস্টেল ফেরতা বিকেলের বাসে নতুন খেলা ছিল, একজন যদি “হুজুর ইস কদর ভি” গায় তো তার জবাবে গাইতে হবে “তুঝসে নারাজ নহী জিন্দেগী’ কিংবা “হামে তুমসে পেয়ার”। কারণ কোনো বিকেলে চায়ের পেয়ালায় তুফান থেমেছিল এই সিদ্ধান্তে যে গায়ক গানটার পরিবেশক কিন্তু সুরকারই স্রস্টা। তাই স্রস্টাপুজোর ঝোঁক চলেছিল আমাদের।
এফএম রেডিওর জুগে বাড়ির লোক চমকে যেত “বন্ধদ্বারের অন্ধকারে থাকব না” শুনে। না, কোনো ঘোষণা ভেবে নয়। কারণ ছিল এই যে এ গানটা পরে বেশি বিখ্যাত হয়েছিল “আপকে কামরে কোঈ রহতা হৈ” হিসেবে। আর এরপর ‘চুরালিয়া হৈ তুমনে’-এর কথা বলছি না। নস্টালজিয়ায় ভাসতে ভাসতে আর ইউটিউবে সাঁতরে সাঁতরে লেখাটা শেষ করার সময় থাকবে না। অনেক অনেক বছর পরে ডলার স্টোরে বাজতে শুনেছি “হোয়েন আই নিড ইউ”। ১৯৭৮-এ লিও সেয়ার-এর অ্যালবামের গান। গানটার ছায়াতেই ‘তুমসে মিলকে অ্যায়সা লাগা”। কিন্তু আর ডি-র মোহ এসব ঘটনায় ভাঙল না। বরং বোধ হলো একটা বদ্ধ জগতে আফ্রিকান বিটস শোনাবার জন্য ‘মেহবুবা মেহবুবা’ বানানো ছাড়া আর কী উপায় ছিল? সারা পৃথিবী যখন বিটলস-এর “লাভ মি ডু” বা “সি লাভস ইউ”-তে আচ্ছন্ন তখন রক এন্ড রোল শুনিয়েছিলেন আর ডি নিজের মতো করে। ‘দিওয়ানা মুঝসা নহি’-তে আভাস দিয়েছিলেন হুলার।
আজও সকালের আলসেমি ভেঙে কাজে লাগার টোটকা যেমন ‘উস্তাদ বড়ে গুলাম আলি’র “ভোর ভায়ে” তেমনই ‘আশা তাই(ঈ?)’-র গলায় ‘পঞ্চম দা’-র সুরে “ভিনি ভিনি ভোর”। সেই সকাল শুরুর গানটাই এখানে দিলামঃ

আপনার মতামত জানান