হঠাৎ কেন মনে পড়ল অর্কুটকে...

অভীক দত্ত

আদরের নৌকার অর্কুট কমিউনিটি

হ্যাঁ, জানি জানি আপনি কি বলতে চাইছেন। এত প্রেম কোথায় ছিল হে? এত প্রেম থাকলে তো অর্কুটটাই বন্ধ হত না। কিংবা, সোশ্যাল ধ্যাস্টামির চূড়ান্ত করে ফেলেছি।
ঠিকই বলছেন, সবই মেনে নিচ্ছি বললাম তো। সত্যিই তো, ফেসবুক করে করে এখন এমন হয়ে যাচ্ছে আমাদের, শেষ কবে অর্কট খুলেছিলাম মনে করতে পারি না। এখন বন্ধ করতে যাচ্ছে বলে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
আসলে আমাদের কাছে ব্যাপারটা সেরকম না। আমার ক্ষেত্রেই বলি একটু শুনুন প্লিজ। তখন মফস্বলের গন্ধ গায়ে নিয়ে কলকাতায় এসছি। অপ্রতিভ মুখ, লজ্জা, কলেজে বাঙ্ক... সব কিছু করে চলছিল ঠিকই কিন্তু খুব একটা ভাল চলছিল না। অস্তিত্ব সংকট যাকে বলে বাংলা ভাষায় এক্কেবারে তাই ছিল। তখন অর্কুট এসেছিল যেন ঝড়ের মত। আমাদের মুখচোরা লাজুক অস্তিত্বগুলিকে গুরুত্ব দিল অর্কুট। সেই যে একটা কথা আছে না, প্রথম প্রেম ভোলা যায় না, অর্কুট আমাদের কাছে এক্কেবারে সেরকম ছিল। পরে হয়ত আমরা ফেসবুকের সাথে ঘর করছি, কিন্তু অর্কুটই প্রথম আমাদের একটা আত্মবিশ্বাসের জায়গায় আনে। আমাদের মত যারা মুখচোরা লাজুক ছিলাম, কাউকে তেল টেল দিতে পারতাম না, একটা লেখা ছাপার জন্য কোন সম্পাদকের পেছন পেছন ঘুরতে পারতাম না তাদের জন্য অর্কুট একটা মরূদ্যান ছিল। অর্কুট থেকেই আমাদের লেখা পত্তর লোকের ভাল লাগল, আমাদের সামান্য হলেও পরিচিতি এল,এমন কিছু বন্ধু পেলাম, শুভানুধ্যায়ী পেলাম যাদের অর্কুট না থাকলে পাওয়া সম্ভব ছিল না কোনমতেই... আদরের নৌকার অর্কুটের কাছে অনেক ঋণ।
অর্কুট আমাদের অনেক দিয়েছে, ফেসবুক এসে পড়ার পর ছেড়ে গেছিলাম ঠিকই কিন্তু যেই মুহূর্তে শুনলাম অর্কুট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, মনটা এমনিই খারাপ হয়ে গেল।কোন সময়ে অর্কুট ছেড়েছিলাম সেটা এখনো ভাল মনে করতে পারি না, তবে বেশ কিছুদিন পরে হঠাৎ একদিন বুঝতে পেরেছিলাম এই ফেসবুক বিপ্লবের যুগে কখন যেন হঠাৎ অর্কুটকে পিছনে ফেলে চলে এসেছি। ভাল পোশাক পরে চাকরি করতে করতে যখন হঠাৎ একদিন কানে আসে আমাদের ছোটবেলার স্কুলটা ভেঙে মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং হবে, এই দুঃখ একেবারেই তার সাথে তুলনীয়।
এই সংখ্যা তাই আমাদের সেই অতীতকেই মনে করার একটা সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র... আর কিছু নয়...

অভীক দত্ত
৬জুলাই, ২০১৪

আপনার মতামত জানান