ঠান্ডা পাহাড়

জিয়া হক


আমি পাহাড়, পাহাড় গুম্ফার তলায় লাজুক
দাসত্বের 'সোনাঝরা' দিনগুলো ঘোড়ার গাড়ির মতো আওয়াজের
আগাছা ক্ষেতের ভেতর দিয়ে যৌবন--
জলপ্রপাত বানাতে বানাতে এগোয় আমার বুড়োতম বুড়ো
দাদাজানের নামে।
তখনও পা মাটিতে ধরে রাখা ছিল; রাতগুলো--
ছিল আলোমুক্ত সিড়ি বাওয়ার মতো হাস্যকর।
টুপির নিচেও সাদা ছেঁড়া পর্দায় ঢাকা, লাফ দিয়ে
সমাজ পালটানোর কাজ তার আড়ালেই একদিন বর্ষাকালীন শীতশীত--
দিনে হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড সংগীতের মধ্যে আমাদের শোকের বাণীগুলি
শোনাতে চাইনি বলে অনিচ্ছাকৃত নোনা রঙের বন্দুক ছুঁড়েছি; যুদ্ধ
শেষ হয়ে এলে দেখা গেল
শত্রু হবার মতো, বুজুর্গ দোস্ত, কোন ইস্যু নেই
যে সরোদে দুলেছিল পা, যে সেতারে
আজ তার চিকিতসায় ব্যবহৃত হল
সাদা চামড়া মদ বয় নিগ্রোদের দিকে শ্রীসাহেবান!
গত ষাট সাল দাড়ি বেড়েছে আর তোমাদের মনে করে
রেখেই দিয়েছি সেই ছবি--যতগুলো মানুষ মেরেছো ততগুলো ট্রফি হাতে ফটো

আমার ছবিতে হাসি নেই। হাসবার জ্ঞান রয়েছে শুধু
ধরে রাখতে আজও জানিনা।
জানালার প্রতিটা শার্সি তুলে প্রতিটা দয়ালু শরীর
পাঠিয়ে দিচ্ছে চোখের ওষুধ, মানে হল--
যে চোখ নিজেই ওষুধ অংশত
এ জায়গা ছেড়ে কেউ যাবেনা; ক্রীতদাস পাওয়া যাচ্ছে এখনও বিকেলে।
তুমি বটগাছের মতো রোগা আর স্কিনি
সর্বভারতীয় মায়েদের পেটে তোমার আওলাদ


(অলংকরণ- নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়)

আপনার মতামত জানান