রাধিকা রিডিফাইনড

দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়




না আপনারা জানেন না কিছুই, আসলে আমিই ওকে লাথ মেরে কাটিয়ে দিয়েছি
এই দুঃখ, এই রোগ, ঘুম-না-আসা আর্ত অপরাধ, একান্তই আমার এটা
না, এখানে কোনো পুরুষের অধিকার নেই
যা আপনারা জানেন তা দার্শনিক তত্ত্বকথা, নপুংসক কবির ছেঁদো পদ
প্রেমের চেয়েও মিথ্যেবাদী আসলে তো প্রেমের কবিতা
শূন্যতা ভরাট করে অন্য এক শূন্যতার রঙে
ভালোবাসা নগ্ন করে নগ্নতার উলঙ্গ আখ্যান



ছোকরা খারাপ নয়, টল ডার্ক হ্যান্ডসাম, সিক্স প্যাক আবস আছে,
রোম্যান্সটাও মোর অর লেস পারে, বাঁশিও বাজায় ভালো,
বয়স কম, বলা যায় কচি,
বড্ড বেশী চুলবুল করে, দোষের মধ্যে হালকা ছকবাজি, তবে তা মানাই যায়
বয়সের ধর্ম ওইটাই, সব ফুলে ঠোঁট রেখে নিজের আস্তানা চিনে নেওয়া
সে তুমি রাখো না ঠোঁট, দম থাকলে আরো কিছু করো
সম্পর্কে মামিমা আমি, কুচিপুচি কিশোরীও নয়, ঘর সামলে, স্বামী সামলে
ফিগারটাও রেখেছি অক্ষত
আয়ান পারে না কিছু, না দাঁড়াতে, না অস্ত্র চালাতে
কদ্দিনই বা মেনে নেবো চুপসনো মেল-ইগোর ঝ্যাঁটা ?
আমারও জীবন আছে, গয়নার বাক্স ভরা হিরেমণি সোনাদানা আছে
কাউকে তো দিতেই হবে, ম্যাদামারা ফসিল হবো নাকি ?
ভারতবর্ষের এই হাজার বছর ধরে বয়ে চলা ল্যাবা ইতিহাসে
প্রথম, প্রথম কোনো সিংগল উয়োমান আমি, পুরুষের তোয়াক্কা করিনি
একখানা ঘুসি মেরে নকআউট করেছি শালা, বর সংসার ভাঙা ঘর
সেকেন্ড আপার কাটে তাড়িয়ে দিয়েছি ওই ফালতু কালো মাগিবাজটাকে
সেই থেকে একাই থাকি, গান গাই, পথে পথে ঘুরি,
আহা এ মুক্তির স্বাদ সঙ্গমও পারে না ঠিক দিতে...



... ডাইগ্রেসআন হয়ে যাচ্ছে, গল্পে ফিরি, লাইট, সাউন্ড, অ্যাকশ্যন, কাট
মার্কেটে আকাল ছিল, এ বি সি ডি সব ওই সখীগুলো ওরই পেছনে পড়ে গেল
মাইন্ড করিনি সেটা, আমি জানি আমার দৌড় কতদূর
ও নাচাত সবাইকেই, যা আপনারা জানেন ঝুলন বলে, তবে
কমবেশি পাত্তা দিত, দেখো বস, আমি ঠিক পসেসিভ নই
যা ইচ্ছে বেড়াও করে, আমিও তো যা ইচ্ছেই করি
ইট, ড্রিঙ্ক, মেক মেরি, কুঞ্জবন নক্ষত্রের তলে
জ্যোৎস্নাজাত দুঃসাহস,
অথবা যমুনাবক্ষে ব্যক্তিগত ঢেউ স্রোতে স্নান
মিডলাইফে দিব্যি লাগে, দুধ ফেলে ক্ষীরটুকু খাওয়া
আলাদা চার্মের, আহা, যে মেরেছে সেই শুধু বোঝে
ডিভোর্সি নারীর চাপা উষ্ণ অনুরাগগুলো
তবে এই কাব্য কাব্য ঘামে ভেজা বায়োলজি ক্লাস একটানা কতটাই বা নেবো
রোম্যান্স অনন্ত হলে রোম্যান্সের জাত চলে যাবে
আর ছোকরা বড়ো বেশী ডিপেন্ডেন্ট হয়ে যেত বটে,
শেষে বলল, আমি নাকি ওরই হ্লাদিনী শক্তির গড়া
চ্যাংড়ামি পেয়েছো, বাঁড়া? আমাকে গড়েছি আমি নিজেকে,
তোমার আমোদজাত বাপের সম্পত্তি নই শালা
তা ছাড়া সমস্ত ছেলে আরো একটু বড়ো হয়ে গেলে
মেয়ে ছেড়ে কেরিয়ার নিয়ে বেশী নাড়াচাড়া করে
ওরও ধান্দা ছিল, রাজা হবে, ক্ষমতা বাড়াবে, কি বিশাল ইগো ওর
নিজেকে দেবতা ভাবে খালি, এসব পোষায় না বস,
তেমন দরকার হলে নেটে কেনা ভাইব্রেটর আছে,
তুমি রাজদন্ড ধরে একা একা নিজে খেলা করো
অতএব কাটিয়ে দিই এ জন্মের সেকেন্ড হ্যান্ড প্রেম



তবু কি সুন্দর আমি আজন্ম প্রেমিকা রয়েম যাই, স্বাধীন স্বেচ্ছাচারী
আত্ম গর্বে আমি বিনোবিনী
বরং ওই তো আর প্রেমটাই করতে পারল না
এক গুচ্ছ বিয়ে করল, অসংখ্য দেহের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে
আমাকে কি ভুলতে পেরেছিল ?
ওর জন্য কষ্ট হয়, কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্রে, রাজ্যজয়, ডিপ্লোম্যাসি সেরে
কোনোদিন কি বাজিয়েছে কৈশোরের ডাকাতিয়া বাঁশি?
কোনোদিন কি ও আর নিরালা নদীর চরে বসে
দেখেছে মেঘের আনাগোনা ?
লাথ খেয়ে অপমানে বৃন্দাবন ছাড়ল যেই রাতে
সেই দিনই ও কিন্তু চুপচাপ আত্মঘাতী হয়;
যে পুরুষ খুন করে নিজের প্রেমিক ঋতু স্থীরহস্তে কুল আন্ড কোল্ড
তাকে আমি সোজাসাপটা মৃত বলে জানি
ও জানে, আমিও জানি, ওর শবদেহ
একান্ত ছায়ার মতো আলো হয়ে আজও ফলো করি



এ কেচ্ছারই অন্য ভারসান আপনারা শুনে আজও আহা উহু করেই থাকেন
সত্যি বলুন তো স্যার, এক খানা প্রেমের জন্য কেউই কি পারে
জীবনটা গোল্লায় দিতে? অতটা কি মুর্খ সেই মেয়ে
যে একবার ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে পেরেছিল?
বরং ওই দেবদাস সিনড্রম ছেলেদেরই উত্তরাধিকার
ভেতরে সকলে চালু, অতটাও ঢ্যামনা কেউ নয়
সুগারকোটিং মাখা বলিউডি ল্যাং খাওয়া প্রেম সিনেমায় হিট হয়,
জীবনে ফ্লপের বিগ দাদু
এই রইল জানেমন, ন্যাকামির খোলস হাটাও
যা তুমি দিয়েছ ভরে আগুপিছু নাই ভেবে তা কেন ফেরত নিতে চাও?



(অলংকরণ- নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়)

আপনার মতামত জানান