সময়ের জন্মগাথা

রেহান কৌশিক



স্তব্ধতায় ডুবে আছে ছিন্ন যত শ্বাসের সুন্দর
সংকলিত ক'রে আজ গর্ভগৃহে দেহদান করো
কণার গভীরে ওম গেঁথে নিক বিচ্ছিন্ন বিস্তার
ফেরাও স্পন্দনে তুমি অশরীরী অনন্ত মর্মরও
একটি স্পন্দনে ছোঁয়াও শর্তহীন প্রণয়ের গাথা
একটি কম্পন মুদ্রায় যেন জেগে ওঠে মায়ারাগ
পূর্বস্মৃতির আবহ যদি আঁকে কলহকলঙ্ক
এই জন্মকাল যেন মুছে দেয় সমস্থ বিবাদ
ভেসে যাক মূঢ়-বর্ম, শিরস্ত্রাণ, শিরোপা দখল
লুপ্ত হোক গুপ্তবিষ ছুঁয়ে থাকা শায়িত সম্পর্কে
চিহ্নহীন করো আজ আত্মঘাতী ক্রোধের অতল
প্রকৃত সময় দেখো, জন্ম নেবে মৌলকণা-গর্ভে
চুম্বনের বর্ণমালা হেঁটে যাবে পথের সুদূর
শরীরে শরীর-নদী, মনে মনে দুঃখহীন ধূলো
কী বা আর আসে য্য কে কখন প্রকাশ্য রাস্তায়
আদর-অক্ষর নিয়ে দুই হতে মুগ্ধতায় ছুঁলো!
নিবিড় চিহ্নেই বাজে স্নিগ্ধ-ঘোরে আবাহনী গান
নিভে যায় পরস্পর অস্ত্রহীন একক শরীরে
আনন্দের ছাই থেকে স্বপ্নময় অমৃত-পরাগ
ছড়ায় আশ্চর্য ঋতু জেগে ওঠা আলোর গভীরে
আঙুলে অমৃত রাখো, শ্বাসে রাখো তীব্র জলোচ্ছাস
জন্ম দাও জন্ম দাও, এঁকে দাও প্রিয় জন্মছক
আমাকে প্রসব করে বলো তুমি : আমার সময়
এক হাতে দৃশ্য যার, অন্য হাতে অদৃশ্য-কুহক...

(অলংকরণ- নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়)

আপনার মতামত জানান