চারটি কবিতা

তোফায়েল তফাজ্জল
ঝাড়ু

এয়ারপোর্ট মেলে ধরা ছাতার নিন্মাংশে
ঝাড়ু দিচ্ছে বিদ্যুতের ছড়াছড়ি আলো।

ভাবি, বাড়াচ্ছে যাত্রীর জুতোর কদর
অথচ লোকের আচরণ কতো অগোছালো, ময়লা –
যে লাগোয়া অত্যাচারে জর্জরিত সঞ্জীবনী মত
সদিচ্ছার নবজাত, সুস্থ-সাবালক
সেখানে নগন্য কেনো নজরে পড়ার পদক্ষেপ ?


দেহের সেবায় লেগে-পড়ে আছে সাবান বা শেম্পু
নিরবে জড়িয়ে নামিদামি অঙ্গরাগ,
প্রকৃতির উন্মুক্ত ছোঁয়ার নকশা মানাচ্ছে পোশাকে
অথচ লোকের অন্তঃপুরে সাত স্তর পড়া গন্ধ,
নাক ছিটকানোর মতো মাছি-অনাচার
সেখানে দেখি না কেনো ঝাড়ুর জরিপ,
মালীর অধীনে নয় কেনো সে বাগান ?

সবার প্রথমে মন চাই কচিডাব পরিষ্কার।


ঝরনাধারা আর বারিপাত

ঝরনাধারা আর বারিপাত মানে, হুমড়ি খেয়ে মঞ্চে নেমে পড়া
এক ঝাঁক প্রতিযোগী শিল্পী,
নাচে গায় তাল, লয় মেনে উদার, অমৃত কন্ঠে,
কখনো অদ্বৈত,দ্বৈত কিংবা সমবেত।

ব্যাঙ লাফের এমন সচিত্র ডায়মন্ড বাইরে বাইরে কে ছড়ায় ?
বিন্নির ফুটন্ত খই বা চামেলি জুঁই ভাঁট তারাফুল
সাঁট বুঝে থোকা থোকা,দলে দলে নাকি নেমে গেলো
খুশির মিছিলে ?

না মাতাল ভালোবাসা পাপড়ির আবেগে
অত্র এলাকাকে করছে সাদরে বরণ ?

কান টের পাচ্ছে ফোকলা দাঁতের দূর্লভ হাসি
জড়ো করে কে বা কারা পাঠাচ্ছে একযোগে !
পলক না-মেরে মশা না-মারা ভক্তও
এঁকেবেঁকে চলা ঝরনাধারায় ও পিয়ানু খেলার
বারিপাতে একাকার ভাবে প্রিয় বক্তৃতার।

মৃত কিংবা দূরের মাঠও নড়েচড়ে বসে এ রকম উৎসব আমেজে।


আঙ্গুলের উষ্ণতা

বলো, কার আঙ্গুলের উষ্ণতায়
হাঁড়ির খবর বাইরে বাইরে নাচে কোমর দুলিয়ে –
উপভোগে, টাবুটুবু দর্শকের সারি – এরা কারা ?
এই সব হাতে তুলে দিচ্ছো কেনো সুযোগের ছোরা ?

অন্যের গচ্ছিত গোপনতা ফাঁক করা
এক লক্ষ পচা সাপে এক যোগে বাতাস দেয়ার
চেয়েও দ্বিগুণ নিম্নস্তর গন্ধের দোসর, ঢিঢি পরে যাওয়া
এক অপেয় অধ্যায় – বিবেকের কোর্টে
হয় এক ইজ্জত হত্যার দাগী বন্দী ।

খাটো দৃষ্টির টেবিলে হয়তো মনে হবে
বেল পাকা কথার কৌশলী স্বকীয়তা
সমাজ অপাঠ্য খাজুরে গল্পের অংশ এটি
অথচ স্বামীর কাছে এ সব সংশয়
তৌলোদন্ডে নগদানগদি ঝালিয়ে নেয়ার অধিকার।

চোখ

বিকীর্ণ আলোর পথে সবেগে দৌড়ায় দৃষ্টিশক্তি,
দেয় গন্ডিতে চক্কর।এখানেই আয়ত, হরিণী উপমার
সপ্তাশ্চর্য ঝর্না বহমান।
আলাদিনের প্রদীপ থেকে
শতো বছর পরেও বের হয়ে পড়ার সুযোগে

আপনার মতামত জানান