রেমাক্রিগুচ্ছ

ফজলুল কবিরী
রেমাক্রিগুচ্ছ- ৭

সাদা ঢেউ এক আঁকাবাঁকা জল ভেঙে লাফ দেয়
শূন্যে, বুকের গভীরে ভয় হঠাৎ সাঁতার কাটে
আমরা পথের খুঁজে চোখ রাখি ধীরে- অন্ধ হয়ে
যে-পথে গিয়াছে একবার কোনো এক দেবতার
আদিম বজরা, সে-পথের খুঁজে পায়ের গোড়ালি
ভিজাই শীতল জলে, মাথার ওপরে মেঘ হাসে
সুগন্ধি বাতাস নাকে নিয়ে পথ শুধু ফেরি করি
অগুনতি পাখি ওড়াউড়ি করে খাবারের খুঁজে

এত জল কোথায় রেখেছে নদী বিস্ময়ে ভাবতে
থাকি, মনে হয় বয়োবৃদ্ধ পাথরের দেহ গলে
জন্ম নেয়া নদীর গভীরে শত শত পাথরের
কান্না বয়ে চলে- ভেসে থাকে নৌকার সমান্তরালে
ভাষা নাই তার, ক্ষোভ নাই- শুধু গভীর আবেশে
নদীর শরীরে জমা করে মানুষের পদচ্ছায়া



রেমাক্রিগুচ্ছ- ৮

চালতা গাছের ছায়া ভেঙে আচমকা উড়ে আসে
এক চিলতে সোনালি রোদ, মাথার ওপর ফের
শীতল পাহাড় হাসে, আমাদের মনে পড়ে যায়
কোনো এক আদিম পর্যটকের কথা, যে একদা
খুঁজে পেয়েছিল দুর্গম পথের সবুজ নকশা
ভাবি, তারও কি ছিল রহস্য-বদের দুর্নিবার
লোভ? ছিল কেতাবি পোশাক, বাহারি-রঙিন টুপি?
বাতাসে এখনো হাঁটে বুটের জমাট কলরব?

হেঁটে যায় যেন সেই আজন্ম পরিব্রাজক এক
হাতে মস্ত দূরবিন; সৈনিকের উত্তুঙ্গ পায়ের
ভাষা লেগে থাকে সবুজ ঘাসের ঘুম-ঘুম দেহে
অঝোরে ঝরছে জল পাহাড়ের শত শত চোখে
চালতা গাছের ডালে উড়ে আসা সোনালি রোদের
ঝিলিক মিলিয়ে যায় ফের মেঘের ঈষান কোণে

আপনার মতামত জানান