ক্ষত

হাসনাত শোয়েব
২.
ঘাসের ভিতরে চ্যাপলিনকে লুকিয়ে রেখেছি বহুদিন। সেল্টা ভিগোর বিমান বন্দরে ভ্রমণকালীন বিরতিতে দেখা হয়ে যায় জীবনানন্দের সাথে। সেকি তুমুল আড্ডা! অথচ ঘাস এবং কুয়াশা ছাড়া জীবনানন্দের অন্যকোন শব্দের অর্থই চ্যাপলিন বুঝতে পারেনি। সে নিজে শুধু বলতে পেরেছিল উই লিভ ইন পোস্টমডার্ন টাইম। অতপর দীর্ঘ নীরবতা! নিঃসঙ্গ দেবদারুর গল্পটা জীবনানন্দ আর তুলতেই পারেনি। টেলিগ্রাফের তার বেয়ে নেমে আসা সন্ধ্যাটাই যখন পুরো সেল্টা ভিগো ছেয়ে যায় তখন দ্রুতগামী দুই বিপরীত ট্রামে দুজন উঠে পরে।

৩.
বন্ধ্যার জল পিরিতির কে না জানে? সাপ ও মন্ত্রীর লড়ায়ের মাঝে যে মানুষ একা দাঁড়িয়ে তার বুকে হাত রাখলেই পৃথিবীর ওজন সম্পর্কের ধারণা পাওয়া যাবে। এদিকে আমরা ক্রমশ সমুদ্রহীন হয়ে পরছি। প্রতিটি সমুদ্রহীন নিঃসঙ্গ মানুষের বুকপকেটে একটি অন্ধ গোল্ডফিস রাখতে হয়। বুকপকেটে গোল্ডফিস নিয়ে মহাপৃথিবীর পথ ধরে হেঁটে আসছি বহুদিন। দিতে চাই।

৪.

পরাবৈদিক মাছের পিঠে উল্কির দাগ দেখে বাস্তুসাপ বিষয়ক যাবতীয় কথা মনে পড়ে। ইদুরের পায়ে ভর দিয়ে যে শৈশব ক্রমশ আমার দিকে এগিয়ে আসছে শিশুদের খেলনা-বাটি অবধি পৌঁছানোর আগেই তা ভেঙ্গে পড়ে। ভাঙ্গা শৈশব কুড়িয়ে নিয়ে আমি শিরিষ গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। যার শৈশবের অর্ধেকটা অঙ্ক আগে থেকেই ভুল। বাকি অর্ধেকটার সাথে আমার ভাঙা অংশটুকু জোড়া দিয়ে তৈরি হয় মানুষীরিষের যৌথ শৈশব প্রক্রিয়া।

৫.
হাইওয়ের যেপাশে একসময় বাঘ ও বাঘের দুধ বিক্রি হত সেসব দোকানে এখন মিষ্টান্ন পাওয়া যায়। বিবিধ মিষ্টির রঙ দেখে আমরা বাঘের রঙ সম্পর্কে সচেতন জ্ঞান লাভ করি। আর অন্যপাশে যেখানে জেব্রার পায়ের ছাপ ধরে জেব্রাক্রসিং গড়ে উঠেছে সেখানে তৈরি হয়েছে মোটর গাড়ির বিশ্রামাগার। ভূমধ্যেসাগরীয় নারীরা এখনো আসে বাঘের খোঁজে। হাইওয়ের ক্রসিং এ নাক লাগিয়ে তারা শুষে নিতে চাই জেব্রার ঘ্রাণ। অতপর গলিপথ পেরিয়ে জমা হয় নগরীর সর্বশেষ যাদুরবাক্সে।

৬.
যূপকাঠে উঠে পরলে শীত শীত লাগাটাই স্বাভাবিক। শীতের মধ্যেই সারসেরা নগরে আসে। ল্যাম্পপোষ্টের গায়ে মানুষের ছবি আঁকে। সেইসব ছবি দেখে আমরা হাসি। তারা রেললাইনের দিকে উড়ে যায়। প্রকৃত অর্থে রেলালাইনই সারসের বেদনা বুঝেছিল। তাই অন্তরঙ্গভাবে সমান্তরাল থাকে। মানুষ এখনো ল্যাম্পপোষ্টের সামনে দাঁড়িয়ে। ক্রমাগত হাসার ভাণ করছে। মানুষ ছাড়া আর কেইবা ভাণ করতে পারে?


সারস ক্ষতের মাঝে শিশির ছাড়া আর কিছুই রাখতে পারেনা।

আপনার মতামত জানান