বালুচরী

রুপালী গঙ্গোপাধ্যায়
বালুচরী

এই যে এইখানে সবুজ জমিতে আসনপিঁড়ি হয়ে
রামায়ণ গান গাইছে লবকুশ
একপাশে লাল মাটির বুকে পাষাণি অহল্যা
এখনও প্রতীক্ষায় ---- আরো আছে
নীল আকাশের নীচে মালা হাতে কত
কত দ্রৌপদী, গল্পগাথা পৌরাণিক
পাড় বেয়ে উঠে এসে ছড়িয়ে যাবে
শরীরময়, ড্রয়িংরুম পেরিয়ে চুপচাপ
শোবার ঘরে ---- দরদামে পোষালে
তবে ছেড়ে দিতে হবে হাতগুলো
ড্রয়িংরুমের বাইরেই। তারা ধরবে ফিরতি
বনগাঁ কি শান্তিপুর লোকালের ঠান্ডা লোহার রড
হু হু হাওয়ায় উল্টোদিকে উড়ে যাচ্ছে কুপীজ্বলা ঘর
গান থামিয়ে পয়সা গুনছে চেনা বৈরাগী
আর অনেক রাত্তিরে ঘরে ফিরে দেখবে
আসনপিঁড়ি লবকুশকে শাকান্ন বেড়ে দিয়ে
রঙজ্বলা ধনেখালিতে হাত মুছে নিচ্ছে
তার নিজস্ব দ্রৌপদী ।।

জিরাফ

সরাসরি স্বীকার করাই ভাল যে এযাবৎ আমার কোন নিজস্ব ভাষা নেই
পোষা কুকুর ছানার সঙ্গে আমি ওর বন্ধুর ভাষায় কথা বলি আর
অফিসের বড়বাবুর সঙ্গে বশংবদ ভৃত্যের ভাষা ও ভঙ্গীতে
পাড়ার মস্তান হোক কিম্বা মেয়ের দিদিমনি
কথা বলতে বলতে খেয়াল হয় এ ভাষাও আমার নয়
কোথায় শিখেছিলাম কার কাছে কবে প্রথম মনে করতে
পাতা উলটে চলে যাই
স্বরলপি থেকে বর্ণপরিচয় পর্যন্ত
যাবতীয় মাইলস্টোন পেরিয়ে এসেও তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে
দেখি বোঝাতে পারিনি কিছুই কিন্ত নিশ্চিৎ বুঝতে পারি
আমার জিরাফজন্ম আজও শেষ হয় নি ।।

আপনার মতামত জানান