পারাপার/জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

শেষ পর্ব

সকাল থেকেই বাইরে থাকত সনাতন, রাতে ফিরে এসে খাওয়ার সময় বাপের সামনে বউয়ের সাথে কথা হ’ত না। নতুন বউকে ঘোমটার ভেতরেই থাকতে হ’ত শ্বশুরের সামনে। রাতে খাটে শুয়ে হাত-পাখার হাওয়া খেতে খেয়ে হারিকেনের নিস্তেজ আলোয় সেই অন্য ঘরের মেয়েটির স্বল্প-সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে সনাতনের হঠাৎ কখনও মনে পড়ত, সেই মেয়েটি তা স্ত্রী আর তার প্রতি হয়ত তার কিছু কর্তব্য আছে। সেই কর্তব্য বোধেই সে তাকে কখনও প্রশ্ন করত “তোমার হেথায় কোনও অসুবিধা হসসে না তো? কিসু মনে হলি বোলো, না কইলে কিসসু টের পাব না। বাপও থাকে না, আমিও থাকি না... তোমার যদি কিসু দরকার হয়... জানিও।” দম্পতির বাক্যালাপে এহেন প্রশ্নের কি কি উত্তর পাওয়া যেত তা বলা মুশকিল। তবে শিউলির মনের মধ্যে রাতের পর রাত অভিমান ঘনীভূত হতে থাকল। একটি ঘোর অসন্তোষের বীজ ক্রমে চারা গাছের রূপ নিচ্ছিল।

নতুন বউ সারা জীবন নতুন থাকে না, সময়ের সাথে তারও মানসিক পরিবর্তন হয়। শিউলির মনে লালিত হওয়া অসন্তোষের সেই চারাগাছ সনাতন কে তার প্রথম কণ্টকাঘাত করার জন্য বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছিল। সেদিন রাত্রেই সে তার আক্রমণের ব্রহ্ম মুহূর্ত বেছে নিলো। রাতে সব কাজ শেষ করে, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে শিউলি হঠাৎ হারিকেনের দীপ্তি বাড়িয়ে দিয়ে মাটিতে বসল। সনাতন তার কাঁধে হাত রাখতে আহত বেড়ালের মত ফোঁস করে বলল “আমারে বাপের বাসায় রেখি এলেই ভাল হয়!” সনাতনের চোখে তখন সারাদিনের ক্লান্তি আর দ্বিধা মিশ্রিত প্রশ্ন। সে কিছু বলার আগেই শিউলি তার গ্রাম্য ভাষায় কিঞ্চিৎ নিম্ন মানের শব্দ প্রয়োগের সাথে স্পষ্ট করে দিল যে সে গরিবের ভিটেতে দাসীবৃত্তি করতে আসেনি। বাড়ির কাজ করতে তার কোনও আপত্তি নেই, কিন্তু গৃহিণীর মর্যাদার যে স্বরূপ সে তার নিজের পরিবারে দেখেছে, তার বিন্দুমাত্র এ সনাতনের থেকে পায়নি। আর পাওয়ার আশাও রাখে না। এতদিন ধরে ঘুমিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরি থেকে এইরূপ স্ফুলিঙ্গ বিস্ফোরণ দেখে সনাতন হতবাক হয়ে গেলো। পরদিন সকালেই সে শিউলিকে তার বাপের বাড়ি রেখে দিয়ে এলো। সে কবে ফিরবে সে নিয়ে কোনও আলোচনা হ’ল না। পরাণ ঘোষের সহধর্মিণীর বিচক্ষণ দৃষ্টির কিছুই অগোচর রইল না। আর পরাণ ঘোষ তার এই শ্রীহীনা কন্যাটির বিয়ে দিতে পেরেছেন, এই তার পরম ভাগ্য। এমন ছোটখাটো অশান্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কোনও আবশ্যকতা আছে বলে তার মনে হ’ল না। বিভূতিকে সনাতন এই ঘটনা সম্বন্ধে কিছুই জানাল না, আর বিভূতিও জানার বিশেষ কৌতূহল দেখাল না। পণের টাকার বেশির ভাগটাই খরচা হয়ে গেছে, আর যা আছে তা কোনওমতেই পরাণ কে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তার কাছেও ঘটনাটি ‘ছোটখাটো অশান্তি’-র বেশি কিছু মনে হ’ল না। অবশেষে কারও কিছু ক্ষতি হ’ল বলে মনে হ’ল না। এমন কি সনাতনও বাড়ি ফিরে বেশ হালকা বোধ করছিল। সেদিন সকালে তার আর ঘাটে যাওয়া হ’ল না। দুপুরের খাওয়া শেষ করে ঘাটের দিকে রওনা হ’ল। যাওয়ার সময় বিভূতির দোকানে একবার এসে শুধু বলল “বৌটারে বাপের বাড়ি রেখি এলাম। মেয়ে মানুষ, বাপের বাসায় যাওয়ার লগে কান্না কাটি করতাসিল তাই...” বিভূতি তাকে হাত তুলে থামিয়ে বলল “তর বউ, তুই কি করবি সে তুই জানস... আমার অত কৈফিয়তে কাম নাই। গেরামের লোকের কাসে যেন এই বয়সে পাঁস কথা শুনতি না হয়, এইটুক খেয়াল রাখস।” সনাতন আর কথা না বাড়িয়ে ঘাটের দিকে চলে গেল। সেদিন নৌকোতে দাড় বাইবার সময় হারান বা পবন কেউই তাকে কিছু জিজ্ঞেস করল না, কিন্তু তাদের কৌতূহলী দৃষ্টি সনাতনের নজর এড়িয়ে গেলো না।

রাতে ঘরে ফেরার পর দুই বছরে প্রথমবার একা শুয়ে সনাতন কিছু একটার অভাব অনুভব করল। একজন মানুষ আর একজন মানুষকে যতই দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করুক - একসাথে আগুন আর ঘি থাকা, এবং নারী-পুরুষের একত্রে শয্যার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। সনাতনের সেই অভাব বোধের কারণ শিউলির অনুপস্থিতি না রিপুর প্রকোপ তা অনুমান করা কঠিন। তবে বহুদিন পর তন্দ্রার মধ্যে কাজলের চোখদুটো বার বার সনাতনের সামনে ভেসে উঠতে লাগল। এরকমই স্বপ্ন-বাস্তবের রাজ্যে মিলেমিশে থেকে সনাতন একের পর এক রাত কাটিয়ে চলল। তার একবারের জন্যও ইচ্ছে হ’ল না বাপের বাড়ি থেকে শিউলিকে ফিরিয়ে আনতে। আর শিউলির বাড়ি থেকেও তাকে কোনোরকম জোর করা হ’ল না। এই স্বল্প দায়িত্বের জীবনই সনাতনের বেশি পছন্দের হয়ে উঠল। দার-পরিগ্রহের গুরুভার বহন করার থেকে এই জীবন অনেক স্বস্তির মনে হ’ল।

আগেই বলছি, নৌকো চালানো ছাড়াও হারান মণ্ডলের অর্থ উপার্জনের কিছু আলাদা উপায় ছিল। সেই উপায় যে ঠিক কি তা হলফ করে বলা কঠিন, কিন্তু আন্দাজ করা কঠিন না। মাসে অন্তত দু-একবার তার ছেলে ভটভটি চেপে পশ্চিম পারে যেত। সেই যাত্রা হ’ত নিশীথে, ঘোর অন্ধকারে... কেউ জানতে পারত না কে যাচ্ছে, কি নিয়ে যাচ্ছে আর কোথায় যাচ্ছে। শুধু রাতের নিস্তব্ধতা চিরে ভটভটির যান্ত্রিক শব্দ নদীর বুক তোলপাড় করে পশ্চিম দিকে চলে যেত। সব কিছুই হ’ত অতি সন্তর্পণে। গ্রাম থেকে বাইরে পাচার হচ্ছে, নাকি বাইরে থেকে গ্রামে আসছে বোঝার উপায় নেই। আর সেই গুরু দায়িত্ব সামলাতেই পবনকে গঞ্জে এক-আধ রাত থাকতে হ’ত। বিভূতি সবটাই জানত, তবে কোনোদিন হারানের ওই ব্যবসায় শাগরেদ হয়নি। আর ছেলে সনাতনকেও নিষেধ করেছিল ও পথে যেতে। সনাতন এতদিন ওদের সাথে থেকে বেশ আন্দাজ করতে পারত পবন অত রাতে কি রকম জরুরি কাজে যায়। সনাতনের কখনও আগ্রহ হয়নি, রাত জেগে রোমাঞ্চকর অভিযান করার, পবনও তাকে জোর করেনি কখনও। পবনের এই রাতে যাওয়ার সময়টুকুই, এত বছর পর হঠাৎ, ঈশ্বরের কৃপা বলে মনে হ’তে লাগল সনাতনের। ঈশ্বরের এই অহেতুক কৃপা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা কোনও ভাবেই উচিৎ বলে মনে করল না। সনাতনের ওপর বিশেষ কোন দেবতা কি রূপে কৃপা বর্ষণ করেছিলেন জানি না, কেবল মণ্ডল পাড়ায় একদিন শোরগোল উঠল, হারান মণ্ডলের বাড়িতে চোর ঢুকেছে... কিন্তু চোর কে ধরার আগেই সে প্রেত অধ্যুষিত বাঁশ বাগানে মিশে যায়। সেই ধুরন্ধর চোর কে ধরা যায়নি আর “সোর ব্যাটাস্যেলি, কিছুই সরাতে পারে নাই।” বলে হারান মণ্ডলও এই নিয়ে বিশেষ চিন্তা করেননি।

তবে এই শোরগোলের এক মাসের মধ্যে দু’টি ঘটনা ঘটল। এক, হারান মণ্ডলের কূলবধু সন্তানসম্ভবা হয়েছেন বলে সংবাদ প্রচারিত হ’ল। দুই, পরান ঘোষ তার মেয়েকে পুনরায় শ্বশুরের ভিটেতে প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গেলেন। সংসারে কোনও কিছুই এমনি এমনি ঘটে না। একটি শুষ্ক তৃণ যদি হঠাৎ দুলে ওঠে, তো বুঝতে হয় বাতাসই তার কারণ। প্রথম ঘটনার কারণ আপাত দৃষ্টিতে জটিল না হলেও দ্বিতীয় ঘটনাটির কারণ বড়ই জটিল হয়ে দেখা দিলো। সেই কারণ বাইরে থেকে আন্দাজ করা কঠিন। কিছুদিন বাদে সেই একই খাটে শুয়ে স্ত্রী কানে কানে স্বামী কে বলল “তুমি কি ভাবসিলে? আমারে বাপের বাড়ি ফেলি রাখবে, আর নিজে অন্য মেয়ে-মানুষের সাথে ফুর্তি করবে?... তা আমি মেনে নেবো?” দম্পতির ব্যক্তিগত আলোচনায় আর আগ্রহ দেখিয়ে কাজ নেই। সনাতন যদি শিক্ষিত হ’ত, তাহলে বুঝত “এ হয়ত স্ত্রীজাতির ঈশ্বরদত্ত ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়র স্বরূপ, ইতিহাস যার মহিমার সাক্ষী হয়ে আছে।”

বছর ঘুরতেই হারান মণ্ডলের ঘর আলো করে পৌত্র জন্মগ্রহণ করল। যে বংশের সবাই ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, সেই বংশে চন্দ্রকনার মত নাতির মুখ দেখে সকলেরই মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কেবল হারানের কপালে ভাঁজ পড়ল। পবনকে দেখে বোঝা গেলো না সে সত্যিই প্রথম সন্তান লাভের আনন্দে আনন্দিত কি না। আর পাঁচজনের মত বিভূতিও একদিন সপরিবারে হারান মণ্ডলের নাতিকে আশীর্বাদ করে গেলো। পবনের চোখে যে চাপা অসন্তোষ মাঝে মধ্যেই ঝিলিক দিয়ে উঠছিল, সেই ঝিলিক কেবল মাত্র আর একজনের চোখেই দেখা গেল... সনাতনের সহধর্মিণী শিউলি। হারানের নাতির চোখ-মুখের ছাঁচ দেখে বিভূতিও মনে মনে কিঞ্চিৎ আশ্চর্য না হয়ে পারল না। সেই রাতে বন্ধ ঘরের ভেতর পাইন দম্পতির মধ্যে তুমুল অশান্তি হ’ল। শিউলির ক্ষুরধার কণ্ঠস্বর বিভূতি বাইরে থেকে শুনতে পেল –“... তোমার সাথে কাজলদির ফষ্টিনষ্টি বিয়ের আগেও সিল! সেকি আমি জানতাম না ভেবেস? কালো মা-বাপের অমন ফুটফুটে বাস্‌সা হয়ে কেম্‌নে? বিয়ের দু বসর হয়ে গেলো, নিজের ঘরে নজর দিলে না... আর ওই ক’মাসেই কিনা... সি সি! মরণ হয় না আমার!” হাতেনাতে ধৃত হত্যার আসামীও আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য রাখে। সনাতনও যে নিজের স্বপক্ষে জোরালো যুক্তি রাখবে সে কথা বলাই বাহুল্য। কিন্তু বিভূতির আর সেই যুক্তি শোনার প্রবৃত্তি হ’ল না। রাতের অন্ধকারে ডুবে মরে যেতে ইচ্ছে হ’ল। মৃত্যু এলো না... দরিদ্র শরীরে ক্লান্তির নিদ্রা নেমে এলো।

এর কিছুদিন পরেই গ্রামে পুলিস এলো দু’টি খুনের তদন্ত করতে। আইনের দৃষ্টিতেও দু’টি আপাত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিল। প্রথম দিন খবর এলো নদীর ধারে এক গৌরবর্ণ যুবকের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আগে খুব ভারি জিনিস দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, তারপর দেহটিকে জলে ফেলে দেওয়া হয়। পরে সেই দেহ ঘাট থেকে বেশ খানিক দূরে নদীর পারে ভেসে ওঠে। ফুলে ওঠা মৃতদেহ দেখে সনাক্ত করা যতই কঠিন হোক, নিজের ছেলেকে চিনতে বিভূতির ভুল হ’ল না। সেই দিন থেকেই পবনকে আর ওই গ্রামে দেখা যায়নি। প্রবীণ বিভূতি বা হারান বা অন্যরা অনেকেই এই অন্তর্ধান আর খুন কে দুইয়ে দুইয়ে চার করে নিলো। পুলিস ময়না তদন্ত করার জন্য মৃতদেহ নিয়ে গেলো। দারোগাবাবু তখনও জানতেন না, দু’সপ্তাহ পরেই তাকে আবার আসতে হবে আর এক হত্যার তদন্ত করতে। সনাতনের মৃতদেহ উদ্ধারের দিন পনেরো পর একদিন ভোরবেলা মণ্ডল বাড়ির বউকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেলো। রাতের অন্ধকারে কেউ এসে, গলায় কাটারীর মত ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে দিয়ে গেছে। হত্যার রকম দেখে পুলিসের মনে হ’ল কোনও পুরুষ-মানুষের কাজ। কিন্তু তদন্তের গোড়াতেই সনাতনের সদ্য-বিধবা স্ত্রী পুলিসের কাছে এসে অপরাধ স্বীকার ও আত্মসমর্পণ করল। সেই আত্মসমর্পণ আর খুনের উদ্দেশ্য তার বয়ানে তখনকার মত এতই জোরালো হয়ে উঠল, যে তাকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া উপায় রইল না। পরাণ আর বিভূতির শত কাকুতি-মিনতি পুলিশ, হারান মণ্ডল বা শিউলি কেউই গ্রাহ্য করল না। শিউলিকে নিয়ে পুলিসের ভটভটি পশ্চিম পারের দিকে ভেসে গেলো।

নৌকোয় ওঠার পর সহৃদয় এক পুলিস কর্মী শিউলিকে জিজ্ঞেস করল “অমন করে একটা মানুষকে খুন করতে তোর হাত কাঁপল না? ওর কোলের বাচ্চাটার কি হবে ভেবে মায়া হ’ল না?” শিউলি নদীর জলের দিকে ঘাড় কাত করে চেয়ে রইল। ভাঁটার স্রোতের দিকে তাকিয়ে বলল “জন্মে যে পাপ করসি, তার থেকি বড় পাপ করতি পারবো কি? যদি মনে হয় সত্যিই খুব অপরাধ হইসে, তা’হলি ফাঁসির হুকুম দেবেন কত্তা... যে বাস্‌সা, পোলা হয়ে জন্মায়, তার সিন্তা করার লোকের দুনিয়ায় অভাব হয় না।” সেই পুলিসকর্মী আরও একটু কাছে এসে সহানুভূতির স্বরে বলল “কেন? মরবি কেন? তোকে যাবজ্জীবন দিতে পারে যদি কায়দা জানা উকিল ধরতে পারিস।”
সেই একই ভাবে জলের দিকে তাকিয়ে শিউলি উত্তর দিলো “মরতি যে হবেই গো কত্তা, না হ’লি ওই মিনসে যে মরে বেঁচি যাবে...”

… … …

আসলে হত্যার কি কারণ, কারাই বা খুন করেছিল, সেই রহস্য উদ্‌ঘাটনের অবকাশ আছে বলে মনে হয় না। আর তা জানতে পারলেও, যারা মনুষ্য দেহ ত্যাগ করেছে তারা পুনরায় ফিরে আসবে না। কাজেই এই পণ্ডশ্রম পুলিস আর মহামান্য আদালত করুক। আমরা বরং শেষবারের মত একবার নদীর দিকে তাকিয়ে দেখি। পুবের ঘাটে দাঁড়িয়ে পশ্চিম পারে তাকালে দেখা যায় সূর্য আসতে আসতে পাটে বসছে। নদীর জলে নৌকো পারাপারের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ শোনা যায়। নদীর পারে ছোটো ছোটো ঢেউ আছড়ে পড়ে। কিন্তু মাঝ দরিয়ায় এক নৌকোয় বসে থাকা শিউলির চাপা কান্নার শব্দ কোনও পারেই পৌঁছয় না। সেই অশ্রু বিন্দু বিন্দু ঝরে পড়ে নদীর বুকে। আর কখনও উজানে, কখনও ভাঁটায় বয়ে যায়। নদীর পারে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায়, পারে বেড়ে ওঠা গাছগুলোর পাতা ঝরে পড়েছে রাস্তায়। কখনও দমকা হাওয়ায় তারা উড়ে গিয়ে পড়ে নদীর কোলে। নদীর ঢেউ তাদের কখনও সযত্নে বুকে তুলে নিয়ে যায়, আবার কখনও আদর করে ঘুমন্ত শিশুর মত তাদের নদীর কূলে ফিরিয়ে দিয়ে যায়... তারা মাটিতে ঘুমবে... কিছুদিন পর মাটিতেই মিশে যাবে।


আপনার মতামত জানান