অন্যমাত্রা

অনির্বাণ দত্ত


----“একে এই টেনশন , তারমধ্যে আবার সাজের ঘটা ।“
দাদাভাইয়ের এই ছুঁচলো চিমটিটা উপেক্ষা করতেই পারতো সৈকত , কিন্তু তবু গালে শেভিং ক্রিম লাগানোটা মাঝপথে থামিয়ে ঘুরে তাকালো একবার ।
--“এখন আমি দাড়িটা না কামালেই কি ট্রেনের রিজার্ভেশান কনফার্মড হয়েযাবে ? এমন গ্যারান্টি দিতে পারিস তুই ?”
--“আরে নে নে ... আর বোকা বোকা ভাষণ শুরু করিস না আবার । নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই বলেই তো এই হাল তোর ।“
--“না রে দাদাভাই , আমার কি মনে হয় জানিস তো কোনো ব্যাপারেই টেনশন করে শুধু শুধু নিজের ব্লাডপ্রেসার বাড়ানো ছাড়া আর কিছু হয়না । আমার হাতে যেটুকু আছে সেটুকু তো করেছি , এইবার কী হবে না হবে সেটা যখন আর আমার হাতে নেই তাহলে সেটা নিয়ে অকারণ চাপ নেবো কেন বলতো ?”
--“আরে, বুঝেছি , ওই ‘কর্মযোগ’ পড়ার বদহজম শুরু হয়েছে তোর । যখন যা হুজুগ চাপে তোর মাথায় ।“
--“ঠিক বলেছিস একদম , ওই হুজুগটাই তো চাই ।“ চাপা হাসি এইবার শেভিং ক্রিম সরিয়ে উঁকি মারছে সৈকতের মুখে ।
--“আচ্ছা , তুই থাম এইবার । সাবধানে কাট দাড়িটা । গাল কেটে সেদিনকার মতো কান্ড বাধাসনা আবার ।“
শিয়ালদা স্টেশনে নেমে মোবাইলে আরেকবার টিকিটের স্ট্যাটাস চেক করলো সৈকত । সেই ওয়েটিং লিস্ট-১৩ । তবে ফাইনাল চার্ট এখোনো হয়নি , কিছুক্ষণ পরেই হবে ।
খবরটা এলো হাওড়া স্টেশনে ঢোকার ঠিক মুখেই । দাদাভাই এতো জোরে কথা বলছিলো যে ফোনটা কান থেকে বেশ খানিকটা দূরে রেখেই শুনতে হোলো সৈকতকে ।
--“এ্যাই ছোটোন , শুনতে পাচ্ছিস ? তোর টিকিট কনফার্মড হয়েগেছে , এক্ষুনি চেক করলাম । চার্ট বেড়িয়ে গেছে ।
--“তাই নাকি , এ তো দারুণ খবর । বার্থ নাম্বার কতো রে ?”
--“ কোচ এ-টু , বার্থ নাম্বার সেভেন । সাইড লোয়ার পেয়েছিস ।“
--“বাঃ খুব ভালো , সাইড লোয়ারটাই ভালো ।“
--“সাবধানে যাস , টাকা পয়সা সাবধানে রাখিস , কোথায় এখন তুই ?”
--“এই তো হাওড়া পৌঁছে গেছি । ট্রেন বোধহয় বাইশ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দেবে ।“
--“ও.কে. , ট্রেন ছাড়ার পর একটা এসএমএস করে দিস । টেক কেয়ার । এই প্রথম একা একা ওতদূর যাচ্ছিসতো । বাবা মা খুব চিন্তা করছে । সাবধানে যাস রে ছোটোন ।“
--“ঠিক আছে । কোনো চিন্তা করিসনা তোরা । ছাড়লাম এইবার ।“
যাক বাবা , একটু আরামে যাওয়া যাবে তাহলে । ট্রেন ঠিকঠাক চললে কাল সন্ধ্যেবেলা চেন্নাই আর সেখান থেকে ট্রেনে বা বাসে পরশু মানে সোমবার ভোরবেলা ব্যাঙ্গালোর । সোমবারই কাজে যোগ দেওয়ার কথা একটা নতুন কোম্পানীতে । সেই বি.টেক্ পাশ করার পর প্রায় ছয়মাস কোনো চাকরীই পায়নি সৈকত । অবশেষে একটা চাকরী । খুব একটা যে নামকরা কোম্পানী তা নয় , কিম্বা প্রাথমিক মাইনেও সেরকম উল্লেখযোগ্য কিছু নয় । কিন্তু কোথাও একটা শুরু তো করতে হবে , কাজের অভিজ্ঞতা তো অর্জন করতে হবে । সেটাই সবচেয়ে বেশী দরকার এখন । সরাসরি ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার জন্য গতকাল রাতের ওই হাওড়া-যশবন্তপুর এক্সপ্রেসেই টিকিট কাটা ছিলো । কিন্তু কিছুতেই কনফার্ম হোলোনা টিকিট । ওয়েট লিস্ট ৮–এ এসে আটকে গেলো । তারপর হাওড়া স্টেশন থেকেই এই করমন্ডল এক্সপ্রেসের তৎকাল টিকিট কাটা । ওয়েট লিস্ট ১৭ ছিলো কাটার সময় । একটা ক্ষীণ আশা ছিলো যে RAC হয়ে যাবে , কিন্তু একেবারে যে কনফার্ম হয়েযাবে এতটা আশা করেনি সৈকত ।
বড়ো লাগেজটাকে বেশ ভালো ভাবেই সীটের নীচে সেট করে দেওয়া গেছে । এইবার একটু পেছনের গদিতে পিঠ রেখে মাথাটা এলিয়ে দেওয়াই যায় । ঐ ভারী লাগেজটা নিয়ে এই মে মাসের গরমে ২২ নাম্বার প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত হন্তদন্ত হয়ে হেঁটে এসে এবার যেন চোখে অন্ধকার দেখার উপক্রম । জল যেটুকু অবশিষ্ট ছিলো তা তো একবারেই শেষ হয়েগেলো । আবার জলের বোতল নিয়ে কোনো হকার উঠলে কিনতে হবে ।
সাইড আপারের সীটেতো কেউ এলোনা এখনো । ট্রেন ছাড়ার তো সময় হয়েই গেলো প্রায় । কে জানে , খড়গপুর থেকেও উঠতে পারে । ভালোই হোলো একদিক দিয়ে যতক্ষণ না আসে একটু পা টা ছড়িয়ে আরাম করে নেওয়া যাবে ।
যাত্রীরা আর তাদের বিদায় জানাতে আসা প্রিয় বা অপ্রিয় এক কাঁড়ি মানুষের শোরগোলের মধ্যেও সামান্য তন্দ্রামতো এসেছিলো বোধহয় । তবে ট্রেন স্টার্ট হতেই তন্দ্রাটা ছুটে গেলো এক ঝাঁকুনিতে । আর ,চোখ খুলেই সসঙ্কোচে পা টা সরিয়ে উঠে বসতে হোলো সৈকতকে । কারণ ওর সহযাত্রী এসে গেছেন । আর তিনি দিব্যি ভাবলেশহীন মূখ করে বসে আছেন জানলার দিকে তাকিয়ে ওর পায়ের কাছে একটুখানি জায়গায় ।
---“আরে আপনি কখন এলেন ?”
---“এই তো , ট্রেন ছাড়ার একটু আগে । তুমি ঘুমাচ্ছো দেখে আর বিরক্ত করিনি । তুমি চাইলে পা টান করে শুতে পারো । আমি তাহলে ওপরের বার্থে চলে যাবো ।“
---“না না এখন ঘুমাবো না । এই জাস্ট একটু চোখটা লেগে এসেছিলো ।“
---“তা কতদূর যাবে তুমি ?”
---“আমি একদম সেই চেন্নাই পর্যন্ত । তারপর আবার সেখান থেকে ব্যাঙ্গালোর । আপনি ?”
---“আমার দৌড় ঐ চেন্নাই পর্যন্তই । তা , ব্যাঙ্গালোরের ঐ ডাইরেক্ট ট্রেনটায় টিকিট পাওনি তাই না ?”
---“না , ওয়েটিং লিস্ট থেকে আর এগোলোই না । আজকের এই ট্রেনেও খুব একটা আশা ছিলোনা । কনফার্ম হয়েগেলো ভাগ্যক্রমে ।“
---“হুমম ... তা ভালোই হয়েছে , তোমার সাথে আমার এই আলাপ হওয়ার ছিলো বলেই হয়তো কাল হলোনা আর আজ কনফার্ম হয়েগেলো ।“
হাসলে বেশ ছেলেমানুষ লাগে মাঝবয়সী এই লোকটাকে । তা নাহলে আর কোনো বিশেষত্ব নেই চেহারায় । মাথার পেছন দিকটায় বেশ কিছু কাঁচা পাকা চুল থাকলেও সামনের দিকে অনেকটাই টাক পড়েগেছে । তবে মোটা ফ্রেমের এই মান্ধাতার আমলের চশমার নীচে চোখদুটো এতটাই উজ্জ্বল যে লোকটার দিকে তাকালে প্রথমে চোখ ছাড়া আর কিছু চোখেই পড়বেনা কারো ।
---“তা যা বলেছেন ... আপনি চেন্নাইতে কি অফিসের কাজে না কি এমনি বেড়াতে যাচ্ছেন ?”
---“না ভাই , এই গরমে চেন্নাইতে কি আর কেউ সাধ ক’রে যায় ... কাজেই যাচ্ছি । তুমি কি চাকরীতে জয়েন করতে যাচ্ছ ?”
---“হ্যাঁ , কি করে বুঝলেন ?”
---“সে তোমার বয়স আর তোমার লাগেজের সাইজ দেখে যে কেউ আন্দাজ করতে পারবে ।“
---“তা অবশ্য ঠিক্ ... তা আপনি কোথায় চাকরী করেন ?”
---“সে আছে , ছাড়োতো ওসব চাকরী বাকরির কথা । লেবু চা উঠেছে , খাবে নাকি ?”
---“না , এখন আর চা খাবনা , আপনি খান ।“
---“ও.কে , আমিই খাই তাহলে । যা বলছিলাম তোমায় , তোমার কি মনে হয়না যে তোমার টিকিট ওই কালকের ট্রেনে না হয়ে আজ একদম অপ্রত্যাশিতভাবে একেবারে কনফার্ম হয়েগেলো , আমার হঠাৎ চেন্নাইতে কাজ পড়ে গেলো আর আমার টিকিটও কনফার্ম হয়ে এই বার্থেই পড়লো , এসবের পেছনে একটা কোনো পরিকল্পনা আছে ।“
---“পরিকল্পনা ? সে আবার কি ? এরকমতো হতেই পারে , আরো কত লোকেরই হয়তো এরকম হয়েছে । আর তাছাড়া, পরিকল্পনাটা করবেই বা কে ?”
আরেকবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত লোকটাকে ভালোকরে দেখলো সৈকত । চোখদুটো যেন আরো বড়ো আর উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে এখন । এছাড়া চোখে পড়ার মতো আর কিছুই নেই চেহারায় । দিব্যি সিটের ওপর দুই পা তুলে দিয়ে চা খেতে খেতে সোজা তাকিয়ে আছে সৈকতের দিকে একমুখ হাসি নিয়ে । এতদূর যাচ্ছে অথচ লাগেজ বলতে শুধু একটা ঝোলা ব্যাগ । কে জানে ঠগ জোচ্চোর কিনা । শুধু কথা বললে তাও ঠিক আছে । সময়টাও কেটে যাবে । কিন্তু কিছু খাওয়া যাবেনা এর কাছ থেকে । যা সব হচ্ছে আজকাল চারদিকে ।
---“এটা বেশ মজার প্রশ্ন তুমি করলে বটে । পরিকল্পনা কে করবে ? কেন এই ব্রহ্মান্ড , এই প্রকৃতি । তোমার কি মনে হয়না এই যে মহাবিশ্ব , পৃথিবী , জীবজগৎ ধাপে ধাপে এইসব সৃষ্টির পেছনে কোনো অতি বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা আছে ? তুমি নিশ্চয়ই ইঞ্জিনিয়ারীং নিয়েই পড়েছো আশাকরি । ব্যাঙের ছাতার মতো পাড়ায় পাড়ায় যে ভাবে ইঞ্জিনিয়ারীং কলেজ গজিয়ে উঠছে আজকাল । তা ফিজিক্সও নিশ্চয়ই পড়েছো বেশ কিছু । এই যে পদার্থের এত নিয়ম ... অভিকর্ষজ বল , কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ , ভর ও শক্তির নিত্যতা কিম্বা তাপ গতিবিদ্যার সূত্র গুলো অথবা পরমাণুর ভেতর বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেকট্রন বিন্যাস বা ইলেকট্রন প্রোটনের ভর কিম্বা চার্জের পরিমান , হিগস-বোসন কণার ভর ... এর মধ্যে কোনো একটার একচুল এদিক ওদিক হলে কোনোভাবেই সম্ভব হতোনা এই সৃষ্টির , প্রাণের আবির্ভাব তো অনেক দূরের ব্যাপার । তোমার কি মনে হয়না যে এই একটার পর একটা নিখুঁত গাণিতিক সামঞ্জস্য , কোনো অতি বুদ্ধিমান একটা মস্তিষ্ক বা চেতনা ছাড়া কোনো মতেই সম্ভব নয় । এই যে আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানে যা কিছু আবিষ্কার হয়েছে সব যেন সেই একটা প্রকান্ড কোনো ধাঁধার একটা সামান্য অংশের উন্মোচন মাত্র । তাই না ? আর এত হাজার বছরের চেষ্টায় সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব এই মানুষ যে রহস্যের অতি সামান্যই উন্মোচন করতে পেরেছে সেই রহস্য সৃষ্টির পেছনে কি কোনো সচেতন বুদ্ধিমত্তা নেই ?”
---“হ্যাঁ, এগুলো আমাকেও খুব ভাবায় জানেন ..... আমারও মনেহয় আপনার মতো যে এ যেন একদম হিসেব নিকেশ করে বানানো একটা খুব জটিল গাণিতিক ধাঁধা । একটা অমোঘ নিয়মে হয়ে চলেছে সব কিছু আদি অনন্ত কাল ধরে । একটা অদ্ভুত কার্য্য-কারণ আন্তর্জালে যেন বাঁধা সমস্ত জাগতিক ঘটনা গুলো ।“
---“খুব সুন্দর বলেছো তুমি । কিছু কিছু অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী আছেন যাঁরা বলেন যে এই সব কিছুই নাকি আপনা আপনি হয়েছে , কেউ আবার বলেন ‘অ্যাক্সিড্যান্ট’ । গাঁজাখুরী যত্তোসব । বিখ্যাত অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ফ্রেড হয়েল এবং গণিতবিদ চন্দ্র বিক্রমসিংহে গণনা করে দেখিয়েছিলেন যে বিভিন্ন ধরণের অ্যামাইনো অ্যাসিড নিজে থেকেই একটা নির্দিষ্ট বিন্যাসে যুক্ত হয়ে প্রোটিন অণু এবং বিভিন্ন প্রোটিন অনুর সমন্বয়ে প্রাণ সৃষ্টির সম্ভাব্যতা হোলো ওয়ান বাই টেন টু দা পাওয়ার ফর্টি থাউজেন্ড । অর্থাৎ গাণিতিক ভাষায় তা কার্যত একেবারেই অসম্ভব । এ যেন কোনো শিম্পাঞ্জীকে ল্যাপটপ দিয়ে বসিয়ে দিলে সেই শিম্পাঞ্জীর ইচ্ছেমতো কীবোর্ড টিপে একটা আস্ত মহাভারত টাইপ করে ফেলার চেয়েও বেশী অসম্ভব ।“
---“খুব ইন্টারেস্টিং লাগছে কিন্তু আপনার কথাগুলো । একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে কালকের টিকিটটা কনফার্ম না হয়ে ।“ ঠোঁট চেপে হাসতে যথেষ্টই অপটু সৈকত । আর তাই ওর হাসি মানে সবকটা দাঁতই প্রায় উঁকি মারবে অন্তঃপুর থেকে এটাতো খুবই স্বাভাবিক । কিন্তু সমস্যাটা হোলো এই যে ছোটোবেলার একটা অ্যাক্সিডেন্টে সামনের দুটো দাঁত একটু অদ্ভুত রকম ভাবে ভাঙ্গা । সেদিকে অবশ্য যে খুব একটা লক্ষ্য আছে উল্টোদিকের মানুষটার তেমন নয় । বরং তাঁর নজর কেড়েছে এখন টমেটো স্যুপ নিয়ে ওঠা ওই কিশোর হকার ।
---“খাবে নাকি হে .. খুব টেস্টী খেতে ...”
---“না , আপনিই খান” .... এবার চাপা হাসিতে অনেকটাই সফল সৈকত ।
----“হ্যাঁ খাই একটা ....”
---“আচ্ছা আপনি ওই যে বলছিলেন ..... পরিকল্পনা না কীসব ... বলুন না শুনি আরো , খুব ভালো লাগছিলো ।“
---“বলার জন্যেই তো শুরু করেছি ভাই , আর যেটুকু বলার সেটুকু না বলে আমি যে যাবনা এ বিষয়ে তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো । আর তোমার এই যে ভালো লাগছে এর কারণ হোলো এই যে এটা তুমি একটু একটু বুঝতে পারছো । বেশীরভাগ মানুষেরই তো এসব বোঝার মতো ক্ষমতা হয়নি এখনো , তাই হেসে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের বুদ্ধিমান মনে করে । কিন্তু তুমি সেরকম নও ।“
---“এটা কী করে বঝলেন ? এই তো মাত্র কিছুক্ষণের আলাপ আমাদের , তাওতো কেউ কারো নাম পর্যন্ত জানিনা এখনো ।“
---“কী করে বুঝলাম বা তোমায় কেন গায়ে পড়ে বলতে শুরু করলাম এইসব , তা এখন বুঝবেনা তুমি । একদিনে সব জেনে ফেলবে নাকি তুমি ? আর, নাম জেনে কী হবে , নাম পদবী ডিগ্রী এইসব তো মানুষের মুখোশ মাত্র ..... আসল মানুষটাই হারিয়ে যায় এসবের পেছনে ।“ .... এই মানুষটা অবশ্য হাসতেই পারেন সবকটা দাঁত বের করে , কারণ এনার প্রায় সবকটা দাঁত বেশ বহাল তবিয়তেই আছে ।
---“আচ্ছা , শুরু করুন এইবার ।“
---“হ্যাঁ , যা বলছিলাম , খুব মনদিয়ে শোনো । আর শোনার সাথে সাথে অনুভব করার চেষ্টা করো । এই যে আমরা এখন এখানে বসে কথা বলছি , এটা কত সহস্র সম্ভাবনার একটা জানো তুমি ? ধর, প্রথমে তোমাকে দিয়েই শুরু করা যাক ... তুমি এই যে এখন এই মুহুর্তে এই ট্রেনের এই সীটে বসে আছো এই ঘটনার পেছনে একদম সরাসরি একটা প্রত্যক্ষ কারণ হোলো এই যে গতকালের ওই ট্রেনে তোমার টিকিট কনফার্ম না হওয়া । অর্থাৎ গতকালের ট্রেনে টিকিট কনফার্ম হওয়া বা না হওয়া এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে একটা ঘটেছে এক্ষেত্রে । আবার তুমি এই ট্রেনে এ.সি থ্রি টায়ারে তৎকাল টিকিট কেটেছিলে ওয়েট লিস্টে । অর্থাৎ এই ট্রেনের তিনটে এ.সি কোচের তিন ইন্টু সেভেনটি টু এই টোটাল দুশো ষোলোটা সীটের বা দুশো ষোলোটা সম্ভাবনার একটা হচ্ছে এইটা । আবার একটু ভাবলে বুঝবে যে এর পেছনেও কতো বিভিন্ন সম্ভাবনার একটা হয়েছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে , যেমন ধরো কিছু মানুষ টিকিট ক্যানসেল করেছেন বলেই তুমি এই সীটটা পেলে । সেই প্রত্যেকটা টিকিট ক্যানসেলেশান আবার অনেকগুলো সম্ভাবনার একটা মাত্র । আবার যদি পরোক্ষো কারণ গুলো ধরো তাহলে দেখবে আরো কত সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারতো । যেমন ধরো তুমি যে কোম্পানীতে জয়েন করতে যাচ্ছ সেই কোম্পানী ছাড়াও আরো অনেক কোম্পানীতেই নিশ্চয় অ্যাপ্লাই করেছিলে , ওগুলোর যেকোনো একটায় পেতে পারতে । অথবা , এই কোম্পানীরই অন্য কোনো ব্রাঞ্চে মানে ব্যাঙ্গালোর ছাড়া অন্যকোনো শহরে তোমার পোস্টিং হতে পারতো । ব্যাঙ্গালোরেই ওদের ভ্যাকান্সি হওয়াটাও অনেকগুলো সম্ভাবনার একটা মাত্র । এইবার তুমি আমার কথা ভাবো , আমার এখন এই সীটে বসে থাকাটাও কিন্তু অনেক অনেক সম্ভাবনার একটা মাত্র । যেমন , হঠাৎ করে চেন্নাইতে আমার কাজ পড়া , আমার কোম্পানী থেকে অন্য অনেক লোকের মধ্যে চেন্নাই যাওয়ার জন্য আমাকেই সিলেক্ট করা , আর ওই সেই দুশো ষোলোটা সীটের মধ্যে আমার জন্যে ঠিক এই সীটটাই বরাদ্দ হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি । এইবার পারমুটেশেন কম্বিনেশানের নিয়মে তোমার আর আমার সমস্ত সম্ভাবনা গুলো গুণ করলে দেখবে যে কত অসংখ্য সম্ভাবনার একটা হচ্ছে আজ এখন তোমার আর আমার এই দেখা হওয়া ।“
---“কী অপুর্ব আপনার চিন্তা আর বিশ্লেষণ ...”
---“তাহলে এখন প্রশ্ন হোলো ... এই যে অজস্র সম্ভাবনা গুলোর মধ্যে একটা ঘটলো , এটা ছাড়া অন্য কিছু ঘটলোনা কেন ? এটা কি জাস্ট একটা বাই চান্স ? নাকি এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা পরিকল্পনা আছে ? তুমি যদি সত্যি সত্যিই বিজ্ঞান বা দর্শন বুঝতে পারো তাহলে অবশ্যই মানবে যে কারণ ছাড়া কোনো কার্য্য হয়না । সেই কজ অ্যান্ড এফেক্ট কিন্তু মহাবিশ্বের সমস্ত ঘটনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।“
---“হুঁ , সে তো বটেই , কিন্তু এক্ষেত্রে মানে আপনার সাথে আমার এই দেখা হওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে বলে আপনার মনেহয় ?”
---“সে তো তুমি ভাববে , ঠিক বুঝবে তুমি । আমি তো শুধু একটু শুরু করিয়ে দিলাম তোমায় । শুধু মনে রাখবে যে ‘কাকতালীয়’ নামের শব্দটা শুধু বোকারাই বলে । কাকতালীয় কিম্বা মিরাক্যাল বলে কিচ্ছু নেই । একটা ধূলিকণা থেকে ঐ সূর্য্য পর্যন্ত কিম্বা একটা গাছের পাতা নড়া থেকে জন্ম-মৃত্যু-পুনর্জন্ম পর্যন্ত সমস্ত ঘটনাই একটা নিয়মে বাঁধা । এখন এই নিয়ম কে বানালো বা কোথা থেকে এলো সে ভাবনা এখন ভেবোনা । শুধু এই নিয়মের অস্তিত্বকে একটু একটু করে অনুভব করতে চেষ্টা করো । সব রহস্যের উত্তর তোমার মধ্যেই পেয়ে যাবে তুমি । তোমাকে একটু হিন্টস্ দিই ..... যদি জীবের বিবর্তনের ধারা সত্যিই বুঝতে পারো তাহলে দেখবে যে , উড়ে বেরানোর ইচ্ছে বা প্রয়োজন হয়েছিলো বলেই একদিন ডানা গজিয়েছিলো সরীসৃপের , কিম্বা ডাঙায় উঠে হেঁটে বেড়ানোর তাগিদ থেকেই পা গজিয়েছিলো মাছের । আশা করি বুঝতে পারছো কী বলতে চাইছি আমি ....”
---“হ্যাঁ, ... পারছি বোধহয় ”
---“ তুমি পারবে ঠিক । যাইহোক, খড়গপুর ঢোকার সময় হয়ে এলো প্রায় .... এইবার আর একটা দিকের কথা বলি তোমায় । এটাও তুমি বুঝতে পারবে কিছুটা অন্তত আশা করি । ওই যে বললাম অসংখ্য কিছু সম্ভাবনার একটা হোলো এই তোমার সাথে আমার আজকের আলাপ , তাই তো ? ... কিন্তু, এখন প্রশ্ন হোলো যে , তাহলে বাকি সম্ভাবনা গুলোর কি হোলো ? ওগুলোর কি কোনো অস্তিত্ব নেই ?
---“নিশ্চয়ই কোনো অস্তিত্ব নেই , ওগুলোতো ঘটেইনি , আর তাই ওগুলোর কোনো তাৎপর্য্যই নেই আর ।“
---“আচ্ছা , ধরো একটা লাল রঙের গোল ফুটবল । তোমার চোখ যা সংবাদ পাঠাচ্ছে সেটা তোমার মস্তিষ্কের নিউরাল সিস্টেম প্রসেস করে আউটপুট দিচ্ছে যে ওটা গোল এবং ওর রঙ লাল । তাই তো ? এখন কোনো একটা বেড়াল বা চড়ুই পাখী বা অন্য যেকোনো প্রজাতিও কি ওই একই বস্তুকে গোল এবং লাল রঙের দেখছে ?? নিশ্চয়ই না । হয়তো একটা প্যাঁচা ওই একই বলকে দেখছে চৌকো আর কালো । তার কাছে কিন্তু ওটাই একমাত্র সত্য , যেমন তোমার কাছে সত্য যে ওটা গোল আর লাল । এমনকি মনুষ্য প্রজাতির মধ্যেও যাদের বর্ণান্ধতা আছে , তারা হয়তো ওই একই বলকে ভিন্ন কোনো রঙের দেখবে । তাহলে , কোনো বস্তু কেমন দেখতে সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে যে দেখছে তার গ্রহণ ক্ষমতার ওপর । এবং তুমি যে এটাকে গোল আর লাল দেখছো সেটাও কিন্তু এর চরম অবস্থা নয় । বাস্তবিক হয়তো এর কোনো আকারই নেই । অসংখ্য ইলেকট্রন কিম্বা ইলেকট্রন ক্লাউড শুধু ঘুরে চলেছে এর ভেতরে প্রচন্ড গতিতে । সেই ভয়ংকর একটা গতিশক্তিকে তুমি বা আমি আমাদের মতো করে একটা গোলাকার লাল বল হিসেবে দেখছি । এর কোনো অ্যাবসলিউট এক্সিসটেন্স আছে কি ? এইবার তাহলে একই বস্তুকে একইসময়ে বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্ন ভাবে দেখছে । যেমন ধরো এটা বৈজ্ঞানিকভাবে এখন প্রমাণিত যে কুকুর বা বেড়াল এমন অনেক কিছু দেখতে পারে বা বুঝতে পারে যা আমরা পারিনা । এইবার যদি তুমি এই সম্পুর্ণ জগতের কথা চিন্তা করো তাহলে সহজেই বুঝতে পারবে যে প্রত্যেকটা প্রজাতি তাদের নিজেদের মতো করে এই জগতটাকে দেখছে বা অনুভব করছে । অর্থাৎ প্রজাতি পাল্টানোর সাথে সাথে জগৎটাও পাল্টে যাচ্ছে । কিম্বা বলতে পারো বিভিন্ন মাত্রার অজস্র জগৎ সমান্তরাল ভাবে অবস্থান করছে ।“
---“এবং সেগুলোর কোনোটাই অ্যাবসলিউট নয় । সবগুলোই যে দেখছে তার মস্তিষ্ক বা মন যেভাবে দেখাচ্ছে সেভাবেই তৈরী হচ্ছে , তাই তো ?”
---“একদম তাই ।“
---“আচ্ছা, আপনি তো শুধু বস্তুর কথা বললেন । কিন্তু কোনো ঘটনার ক্ষেত্রেওতো এটা প্রযোজ্য । যেমন ধরুন একই ঘটনায় বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ভাবে রিঅ্যাক্ট করতে পারে । অর্থাৎ একই সময়ে একই ঘটনা বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে । আবার দেখুন প্রত্যেক মানুষের কিন্তু আলাদা আলাদা নিজস্ব জগৎ আছে ...... তার নিজস্ব সংস্কার বা চেতনা অনুযায়ী । সেই অনুসারে তার নিজস্ব বন্ধু বান্ধব , চাহিদা , আবেগ , পেশা বা নেশা ইত্যাদি গড়ে ওঠে । তাহলে এটাও তো বলতে পারি যে এই মনুষ্য প্রজাতির মধ্যেও অসংখ্য সমান্তরাল জগৎ আছে ভিন্ন মাত্রার । সেই জগৎ গুলো কোনো কোনো সময় ওভারল্যাপ করে বা একে অন্যের সাথে মিলেযায় কিছুদূর পর্যন্ত । যেমন আপনার জগৎ আর আমার জগৎ ওভারল্যাপ করেছে এই গত একঘন্টা ধরে । অর্থাৎ যেন একই মাত্রায় এতক্ষণ অবস্থান করছি আমরা । তাই না ?”
---“তাহলেই দেখো সব কী সুন্দর নিজে থেকেই বুঝে গেলে তুমি । আমি তো শুধু ধরিয়ে দিলাম একটুখানি । আর তাই, ওই যে তুমি বললেনা যে , অন্য সম্ভাবনা গুলোর অস্তিত্বই নেই , সেই কথাটা মনেহয় ঠিক নয় । এখন তুমি যে মাত্রায় অবস্থান করছো , অর্থাৎ তোমার মনোজগৎ এখন যে মাত্রায় আছে সেখানে হয়তো বাকি সম্ভাবনা গুলো ঘটেনি , কিন্তু হয়তো অন্য কোনো মাত্রায় সেগুলো দিব্যি ঘটে চলেছে অন্য মাত্রার কোনো সমান্তরাল জগতে । জানি এটা তোমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে । আমিই ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারিনি , আর তুমি তো সবে অ আ ক খ শিখছো এখন ।
---“আর একটু বুঝিয়ে বলুন না ...”
---“আসলে আমাদের অবচেতন মন যে কী অসীম ক্ষমতাবান , তা আমরা ধারণাও করতে পারিনা । এমনও তো হতে পারে যে প্রত্যেকটা সম্ভাবনাই ঘটে চলেছে অবচেতন জগতে এবং তার মধ্যে যেটা তোমার সচেতন মনের বর্তমান মাত্রার সাথে খাপ খাচ্ছে শুধু সেটাই ঘটছে বলে তুমি দেখতে পারছো । ধরো যখন কোনো স্বপ্ন দেখি আমরা ঘুমের মধ্যে , অর্থাৎ আমাদের অবচেতন মন কত কিছু দৃশ্য বা ঘটনা তৈরী করে স্বপ্নের ভেতর ... এবং যতক্ষণ স্বপ্নটা চলে মনেহয় যেন সেটাই সত্যি । আবার স্বপ্ন ভেঙে গেলেই বুঝি যে ওগুলো সব মিথ্যে কিম্বা একদম ভুলেই যাই বেশীরভাগ স্বপ্ন । অর্থাৎ যতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম ততক্ষণ অন্য মাত্রায় ছিলাম আবার ঘুম ভেঙে গেলেই মাত্রার পরিবর্তন । আবার এই বর্তমান যেটাকে সত্য মনেহচ্ছে সেটাই হয়তো অন্য কোনো মাত্রার সাপেক্ষে স্বপ্নমাত্র । যেমন ধরো আমি এই মাত্রায় তোমার সাথে বসে এত গভীর দার্শনিক তত্ত্ব আলোচনা করছি, আবার অন্য কোনো মাত্রায় হয়তো ট্রাফিক জ্যামে আটকে ট্রেন মিস্ করে বাড়ী ফিরেগেছি । সবটাই তো আমাদের মনের বিভিন্ন স্তরের প্রোজেকসান মাত্র । আসল সত্যটা যে কি সেটা ধারণা করার মতো বুদ্ধি এখনো হয়নি মানুষের ।”
---“সত্যিই কী বিশাল একটা সত্যের দরজা খুলে দিলেন আপনি । এইভাবে কাউকেই ভাবতে দেখিনি আগে কোনোদিন । অনেককিছু জানতে ইচ্ছা করছে আপনার সম্পর্কে ।“
---“জানবে , জানবে সব জানবে । নিজেকে সঠিক ভাবে জানো , তাহলেই দেখবে সব জানতে পারবে তুমি । আচ্ছা , একটু পিঠটা টান করি এবার উপরে গিয়ে । পরে গল্প হবে আবার ।“
---“হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়ই ।“
রৌদ্রের তেজ অনেকটাই কমেছে এখন । কাঁচের ভেতর দিয়ে যেটুকু আকাশ ধরা পড়ছে তার পুরোটা জুরেই এখন আগুন মুছে ফেলে বাসায় ফেরার সোনালী প্রস্তুতি । একটু পরেই সন্ধ্যে নামবে । আর সেই তখন সন্ধ্যের ঝাপসা আলোয় ভীষণ ভীষণ রহস্যময় হয়ে উঠবে খুব দ্রুত পেছনে সরে যাওয়া ঝোপঝাড় , আলপথগুলো । শুধু যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া বহুদূরগামী কোনো ব্যস্ত বাতাসের মতো ... ঐ আলপথ ধরে হেঁটে যাওয়া হবেনা কোনোদিনও ।
--- “টিকিট প্লীজ ... টিকিটটা দেখান”
চমকে উঠে চোখ খুলে টিকিট বার করতে গিয়েই সৈকতের নজর গেলো পাশে রাখা মোবাইল ফোনটায় । বাইশটা মিসড কল ! ফোন সাইলেন্ট করা থাকলেও ভাইব্রেশন তো হয়েছে নিশ্চয়ই । তাও যে টের পায়নি কেন কে জানে ।
---“এই যে স্যার টিকিট ।“
---“থ্যাঙ্ক ইউ”
---“আচ্ছা , স্যার , আমার ওপরের বার্থটাতো খালিই দেখছি ....কেউ এলোনা তো ।“
---“হ্যাঁ, হাওড়া থেকেই রিজার্ভেশন ছিলো । আসেনি তো দেখছি । ট্রাফিকে আটকে পড়েছিলো হয়তো । হাওড়া ময়দানের দিকে একটা অবরোধ চলছিলো । খড়গপুরটা পার হলেই অন্য কাউকে অ্যালোট করে দেবো এই বার্থটা । অনেক RAC আছে ।“
ট্রাফিক জ্যামে আটকে ট্রেন ফেল ..... কোথায় যেন কে বলছিলো একটু আগে ! কিন্তু কেই বা বলবে । মাথাটাই যেন একটা বিশাল ট্রাফিক জ্যাম এখন দূর ছাই । এদিকে এখন এই বাইশটা মিসড কলেরই বা কী হবে । দাদাভাই , মা আর বাবা নিশ্চয়ই এতক্ষণে হইচই বাধিয়ে ফেলেছে চিন্তায় । ঘুমিয়ে পড়েছিলো বললে কি আর বিশ্বাস করবে ওরা .... ওর নিজেরই তো বিশ্বাস হচ্ছেনা । আচ্ছা, টমেটো স্যুপ , লেবু চা কি উঠেছিলো ?
---“হ্যালো হ্যালো ... মা ... শুনতে পাচ্ছো ?”

আপনার মতামত জানান