মেয়েটা

সরোজ দরবার

ছবি- বিক্রমাদিত্য গুহ রায়


অচেনা কোন মেয়ের গায়ে হাত দেওয়া কি ঠিক হবে?
সিটে পাশে বসা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে নিজেকেই এই প্রশ্ন করল দীপ। ততক্ষণে সামনে-পিছনের সিট থেকে দু’একজন মেয়েটার দিকে ঘুরে তাকাতে শুরু করেছে। মেয়েটার সে দিকে খেয়াল নেই। তার কানে হেডফোন। জানলার বাইরে তাকিয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে সে এই জগতে নেই। গানের অতলে তলিয়ে গেছে। আর সেখান থেকেই মাঝে মাঝে গুণগুণ করে গেয়ে উঠছে। মেয়েটা বুঝতে পারছে না, আসলে সে বেশ শব্দ করেই গেয়ে ফেলছে। যতবার শব্দ হচ্ছে লোকজন তাদের সিটের দিকে তাকাচ্ছে। এই অবস্থায় ডাকলে তো মেয়েটা শুনতে পাবে না। অবশ্য ডাকার কি সেরকম কোনও দরকারও আছে? তবু কীরকম যেন অস্বস্তি হচ্ছে দীপের। সবাই তাকাচ্ছে। মেয়েটা বুঝতে পারছে না, কিন্তু সবারই চোখে মৃদু কৌতুক।
সাতপাঁচ ভেবে সে মেয়েটার হাতে ধরে মৃদু নাড়া দিল। মেয়েটা চমকে তার দিকে তাকাল। চোখে জিজ্ঞাসা। দীপ ঈঙ্গিতে তার কানের দিকে দেখাল। মেয়েটি চটজলদি এক কান থেকে ইপি সরিয়ে বলল, কিছু বলছেন? দীপ নীচুস্বরে বলল, তুমি মানে আপনি মাঝে মধ্যেই খুব জোরে গেয়ে ফেলছিলেন। সবাই তাকিয়ে দেখছে আপনাকে।
মেয়েটা এবার আর এক কান থেকেও ইপিটা খুলে ফেলল। বোঝা যাচ্ছে সে লজ্জা পেয়েছে। লজ্জিত স্বরেই বলল, সরি।
সরি বলার মতো তো সে কিছু করেনি। দীপ তাই বলল, না না সরি বলার কী আছে। ইনফ্যাক্ট আমার কোনও অসুবিধা হচ্ছিল না।খুব গান ভালোবাসেন বুঝি?
মেয়েটি হাসিমুখে বলল, ওই আর কী। এরই মধ্যে দীপ মেয়েটাকে ভালো করে দেখে নিয়েছে। তার পোশাক বলে দিচ্ছে, সে এই মুহূর্তে অফিস বা ঐ জাতীয় কোন প্রতিষ্ঠানেই যাচ্ছে। তাকে ঠিক সুন্দরী বলা চলে না। মুখে আলগা একটা শ্রী আছে। হ্য়তো তাড়া ছিল তাই স্নান করেই বেরিয়ে পড়েছে। ভেজা চুলে তাকে বেশ স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে। অবশ্য সকালবেলার দিকে যে সমস্ত মহিলারা অফিসে যান, তাঁরা প্রত্যেকেই এরকম এক ধরনের হালকা সাজগোজ করেন। এটাই শহর কলকাতার সকালের শ্রী। চুল ভিজে থাকে বলেই বোধহয় বেশীরভাগ মহিলাই বাসে উঠে চুল খুলে দেন। এ মেয়েটাও তাই করেছে। তার ব্যাগের হাতলে ক্ল্যাচার আটকানো। নামার আগে হয়তো আবার আটকে নেবে। সকালের অফিস যাত্রীদের কাছে এ খুব চেনা ছবি।আলাদা করে মনে রাখার মতো কিছু নয়, তবু কত কীই যে মনে থেকে যায়।
এই মেয়েটার কথাও দীপের মনে থেকে গেল। সারাদিন অফিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে মনে পড়ল মেয়েটার কথা। কিন্তু সে মেয়েটার নাম জানে না। পার্ক সার্কাসে যখন দীপ নামছে তখন ইনস্টিংটের বশেই বোধহয় একবার সিটের দিকে তাকিয়েছিল। দেখল মেয়েটাও তাকে দেখছে। চোখাচুখি হতে মেয়েটা আলতো করে হাসল। দীপও হাসতে চেয়েছিল। কিন্তু বাস কনডাক্টর সাত টাকার টিকিটে এতখানি রোমান্সকে প্রশ্রয় দিতে নারাজ। ফলে হাসি ডিউ থেকে গেল।
সারাদিন দীপের শুধু এই কথাটাই মনে হচ্ছিল, এই শহরের একটা মেয়েকে হাসি ফিরিয়ে দেওয়া বাকি আছে তার।

২)
একই রুটে একই সময়ে রোজ যেতে থাকলে বাসগুলোও যেন খানিকক্ষণের সংসার হয়ে ওঠে। কনডাক্টরদের দশ টাকা দিলে কিছু জানতে না চেয়েই টিকিট আর বাকি পয়সা ফেরত দেয়। এমনকী কোন বাসের কোন সিটটা খারাপ সেটাও মনে থেকে যায়। দীপেরও আছে। কিন্তু এই চেনা সংসারে সেই মেয়েটির সঙ্গে আর কোনওদিন দেখা হয় না তার।
একসময় দীপ দেখা হওয়ার আশাও ছেড়ে দেয়। তার মনে পড়ে যায় নতুন একটা বাংলা সিনেমার গানের লাইন-এটা গল্প হলেও পারতো...। আসলে দীপ ভাবতে চাইছিল, এটা গল্প হতেও পারতো। বাংলা ছবির গানে কিন্তু এই ক’বছর বেশ একটা নতুন জোয়ার খেলে গেছে।
কিন্তু চাইলেই কী আর সবকিছু গল্প হয়। তাহলে তো ইনার সঙ্গে তার সম্পর্কটাও এতদিন উপন্যাস হয়ে যেতে পারত। সকাল সকাল আর স্মৃতির কালমেঘ গিলতে তার ইচ্ছে করল না। বরং এই অফিস আর বাসাবাড়ি, বাসা আর অফিস করে সে এখন দিব্য আছে।
অবশ্য মাঝে মাঝে মনটা যে উচাটন করে না তা নয়। না তো ইনার কথা মনে পড়ে কেন? শনিবার রাতে বন্ধুদের আড্ডা যখন পাঁচ পেগে গড়ায় তখন জীবনটা হঠাৎ খালি খালিই বা লাগে কেন? ওসব ছাড়, একদিন মাত্র দেখা একটা মেয়েকে নিয়ে যে গল্প হতে পারত এমনটাই বা সে ভাবছে কেন? এই এক অসুবিধে। জীবনে কেউ থাকলেও অশান্তি, না থাকলে অস্বস্তি। যেন দিল্লি কা লাড্ডু। দীপের মনে পড়ল কোথায় যেন পড়েছিল, সম্ভবত একজন বিখ্যাত অভিনেত্রীর কুখ্যাত নাতনির টুইটেই পড়েছিল একজন জার্মান দার্শনিকের উক্তি- the true man wants two things: danger and play. For the reason he wants woman, as the most dangerous plaything. ভদ্রলোকের নাম Friedrich nietzsche। কথাটা মনে পড়তে বাঁকা একটা হাসি খেলে গেল দীপের ঠোঁটে। তাহলে কি এই নতুন মেয়েটা একরকমের plaything? এবং ওই গানপাগল মেয়েটাও কী তবে বিপজ্জনক হতে পারে! কে জানে, হবেও বা!
৩)
বিপদ যে আসলে কখন কোন দিক থেকে আসে আগাম আঁচ করা অসম্ভব। যেমন এখন দীপের নতুন বিপদ হয়েছে অফিসে সুচেতার ন্যাকামি। এমনিতে তারা প্রায় সমবয়সি। সব অফিসেই সমবয়সিদের আলাদা একটা গ্রুপ থাকে। তারা একসঙ্গে চা খেতে বেরোয়। সিনিয়রদের নানারকম কোডনামে ডাকে। চোখে চোখে কথা বলে আর হঠাৎ হঠাৎ হেসে ওঠে। দীপদের অফিসে দীপ, সুচেতা, সায়ন, তমালিকা, মৃন্ময় সেরকম একটা গ্রুপ। দেদার হাসি ঠাট্টা ইয়ার্কি তাদের মধ্যে চলে। কখনও সখনও সে সবের মাত্রাও যে ছাড়িয়ে যায় তাও সত্যি। তবে শেষ মাসখানেক ধরে দীপ টের পাচ্ছে, তার প্রতি সুচেতার ন্যাকামোটা একটু অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। ইদানীং আবার সুচেতা সবার সামনেই ইয়ার্কি মেরে তাকে ‘হ্যাঁগো শুনছ’ বলে ডাকা শুরু করেছে। দীপ বুঝতে পারে, ব্যাপারটা নিয়ে অফিসে অনেকেই হাসাহাসি শুরু করেছে। কিন্তু ঐ বিশ্ব ন্যাকাকে থামাবে কার সাধ্য।
আরও একটা ব্যাপার সে খেয়াল করছে। সেটা তার নিজের মধ্যে। সেই মেয়েটাকে হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর থেকে, সে আর সহজে মেয়েদের উপর রেগে উঠতে পারছে না। নয়তো সুচেতাকে দু’চারটে ভুলভাল কথা বলে ভাগিয়ে দিতে পারত। এমনকি ইনার কথা মনে হলেও এখন আর রাগ হয় না। বরং পুরনো নাটুকেপনাগুলো মনে পড়লে হাসিই পাচ্ছে আজকাল।
কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হচ্ছে। সুচেতা সম্ভবত ভাবছে, দীপ তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আসলে সুচেতা কী চাইছে তা না বোঝার মতো নাবালক দীপ নয়। কিন্তু বৃষ্টিতে ভেজার পর এসিতে ঢুকতে যেমন সবাই ভয় পায়, নতুন করে সম্পর্কে ঢুকতে দীপের তেমনই সংকোচ হচ্ছে। সুচেতা কিন্তু খেলা এগিয়েই নিয়ে যাচ্ছে। রাত দুটোটেও সমানে টেক্সট করছে। ফেসবুকে যতক্ষণ অনলাইন, ততক্ষণ তার কথা বলা চাইই। অফিস তো আছেই। সায়ন, তমালিকারাও আলাদা করে বলাবলি শুরু করেছে, ভাই আর কদ্দিন, এবার লটকে পড়ো।
দীপ পড়েছে মহা ফাঁপরে। সুচেতাকে নিয়ে আলাদা করে কোনওদিন সে ভাবেনি। আর মুশকিল তো করেছে ওই মেয়েটা। কী এক তুক করে দিয়ে গেল, কিছুতেই আর সে শক্ত কথা বলে উঠতে পারছে না। এই তো কবে যেন সে ঠিক করল, সামনা সামনি না হোক, ফেসবুকেই সুচেতাকে বলে দেবে, এরকম করিস না, লোকে হাসাহাসি করছে। বললও তাই। সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের ফোন। বাধ্য হয়েই ধরল দীপ। কোথায় সিরিয়াসনেস! কোথায় শক্ত কথা! ফোনটা ধরামাত্র ন্যাকা সুরে সুচেতা গান গাইতে লাগল-মন্দ বলে লোকে বলুক না...। বোঝো। রাতদুপুরে ন্যাকামি বন্ধ কর, বলে ফোনটা কেটে দিতে দিতে দীপ ভাবল, সত্যিই বুঝি এবার দু’ছক্কা পাঁচ হতে চলেছে।
৪)
আসলে ওটা দু’ছক্কা চার ছিল। পাঁচ হল যখন, অফ ডের দিন দুপুরে সুচেতার ফোন এল। অফিসে বুঝুং ভাজং দিয়ে সে নাকি হাফ ডে নিয়েছে আজ। দীপের বাসায় আসতে চায়। অনেক রকমভাবে দীপ বোঝাল যে বাসায় আসার দরকার নেই, বাইরে কোথাও দেখা করছি। কিন্তু সে বাসাতে আসবেই। বাইরে নাকি কলেজ ছাত্রদের নিয়ে কী অশান্তি হয়েছে। তাই বাইরে যেতে চায় না। শেষমেশ যখন ব্যাপারটা সেন্টিমেন্টাল জায়গায় চলে গেল, তখন দীপ বলল, আচ্ছা, আয় বাবা আয়।
আধ ঘণ্টার মধ্যে সুচেতা চলে এল। দরজা খুলে দিতে গিয়ে বাড়িওয়ালি মাসিমার মুখোমুখি হয়ে একটু অপ্রস্তুত হল দীপ। সব জায়গায় তো আর ‘মালপো খামু’ দিয়ে ম্যানেজ হয় না। দীপ যা পারল না, তাই করে দেখাল সুচেতা। আপনি মাসিমা...আমি সুচেতা...দীপের বন্ধু...এই দিয়ে শুরু করে এক মিনিটে মোটামুটি সে একটা নভোলেট মুখে মুখে বলে ফেলল।একটু পরে দীপ বুঝল, ওটাও একটা পটানোর কায়দা, কেননা ঘরে ঢুকেই সে দরজাটা বন্ধ করে দিল। দীপ আপত্তি জানাতে যাচ্ছিল, সুচেতা মুখে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করল-চুপ! অগত্যা...। কোনওরকম গৌরচন্দ্রিকা না করেই দীপ জানতে চাইল, তোর এই সব পাগলামির মানে কী বলতো? কোনওরকম ভণিতা না করেই সুচেতা উত্তর দিল, পাগলামির মানে হল এই যে, আই লাভ য়ু।
দীপের মনে হল, এই কথাটাকে যারা ক্লিশে বলেন, তাঁরা বোধহয় দীর্ঘদিন এই কথাটা শোনেননি। একজন পূর্ণযুবতী কোন যুবককে এ কথা বললে আজও যে কী হয় আর কী হতে পারে, সেসবই এখন হচ্ছে দীপের মধ্যে। এখন তার ঠিক কী বলা উচিত, করা উচিত ভেবে না পেয়ে, খোলা ল্যাপটপে খুট খুট করতে শুরু করল সে। সুচেতা বলছে, কীরে ঘাবড়ে গেলি নাকি? বল তোর কী বলার আছে!
৫)
সত্যিই সে খুব ঘাবড়ে গেল ল্যাপটপে চোখ রেখে। আনমনে ফেসবুক ঘাঁটছিল আর ভাবছিল সিদ্ধান্তটা কি নিয়েই নেবে? হঠাৎ চোখ পড়ল অভীক একটা ভিডিও পোস্ট করেছে।একটা নিউজ চ্যানেলের সাইট থেকে পাওয়া। ছাত্রদের ডেপুটেসন নিয়ে যে ঝামেলা চলছিল, তাতে একজন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। কিছু না ভেবেই ভিডিওটা চালিয়ে দিল দীপ। দুঃখজনক ঘটনা। যে কারণেই মৃত্যু হোক, ছাত্রমৃত্যু বেদনার। অভীক যা লিখেছে, পুলিশ ভ্যানে ঝোলাঝুলি করে যাওয়ার সময় ছেলেটা পোস্টে ধাক্কা খায়। যাই হোক, নীচের কমেন্টে অনেকেই বলছে , এটা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু। যেভাবেই হোক কেন যে সমস্ত সম্ভাবনার এরকম অপমৃত্যু হয় কে জানে। ছেলেটার চলে যাওয়ায় কত জনের মুখের হাসি যে মিলিয়ে গেল, তার খবর কি নিউজ চ্যানেলের ক্যামেরা রাখে, নাকি এই ভিডিও দেখা জনগণ!
বাফারিংয়ের পর এতক্ষণে ভিডিওটা চলতে শুরু করেছে। ছেলেটির মৃতদেহ ঘিরে কমরেডদের ভিড়। পুলিশেরও। তারই মধ্যে একজনের দিকে আচমকা চোখ আটকে গেল দীপের। নাহ সে ভুল করছে না। সেই মেয়েটিই তো! একটু তফাতে দাঁড়িয়ে অপলকে তাকিয়ে আছে মৃত ছেলেটির দিকে। চোখে এক ফোঁটা জল নেই। কীরকম যেন নিঝুম দৃষ্টি! ভিডিওটাকে পিছিয়ে এনে আবার ওই জায়গাটা দেখল দীপ। হ্যাঁ সেইই।
মেয়েটা কি ছেলেটার নিকট আত্মীয় কেউ? নাকি প্রেমিকা? নাকি শুধুই সহযোদ্ধা?হ্য়তো ছেলেটাকে তার কিছু বলার ছিল। কিংবা বলেওছিল, ছেলেটা হয়তো বিপ্লবের ঝোঁকে এতটাই বুঁদ ছিল যে মেয়েটাকে কোন উত্তর দেয়নি। সে উত্তর আর সে কোনওদিন পাবেও না।
অথবা এ সবের কিছুই নয়। দীপ জানে এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে না। কিন্তু মেয়েটার ওই খাঁ খাঁ চেয়ে থাকায় কী যেন আছে, দীপ জানে আগামীকালের ফিচার স্টোরিও তা ছুঁতে পারবে না। ভিডিওটার বাফারিং হচ্ছিল। আবার চলতে শুরু করলে দেখা গেল, আর মেয়েটাকে দেখা যাচ্ছে না। ক্যামেরা তার শিকারে পৌঁছে গেছে। শুধু ওই এক ঝলক। আর কোথাও নেই মেয়েটি। বোধহয় আর কোথাও থাকবেও না সে।
কিরে কিছু তো বল, না হয় নাইই বলে দে, মনের দুঃখে বনে চলে যাই-মুনমুন সেনের থেকে সামান্য কম তুলতুলে স্বরে জানতে চাইল সুচেতা। এতক্ষণে ল্যাপটপ থেকে মুখ তুলেছে দীপ। মুখ তুলেই দেখল সামনে সুচেতার উত্তর চাওয়া চোখ।
টার্ণ অফে ক্লিক করতে করতে দীপ বলল, কী বলব? জানিসই তো উত্তর কী-
সুচেতা লাফিয়ে উঠে দীপের প্রায় কোলের উপর উঠে এসে বলল, সত্যি!
অন্য কোন সময় হলে সুচেতার এই এক্সপ্রেসনে দীপ মেকি হলেও রাগ দেখাত। কিন্তু এখন সে এতটুকু বিরক্ত হল না। বরং হেসেই ফেলল। কোনও একজনের হাসির ঋণে, সে তো রাগ করতে প্রায় ভুলেই গেছে।
হাসছে দীপ। তার হাসি সুচেতাকে অনেক কিছু ফিরিয়ে দিচ্ছে।
দীপ জানে হাসিতে অনেক কিছু ফিরিয়ে দেওয়া যায়। তবু কখনও সখনও হাসিটাই আর ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আর কোনদিনই এ শহরের একটা মেয়েকে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারবে না সে। নাহ, এরপর কোথাও দেখা হয়ে গেলেও নয়।

আপনার মতামত জানান