মোজা

বিশ্বজিৎ রায়

অলংকরণ- কলঙ্ক

১.
অলোকেশ খেয়াল করেছে আজকালকার বেসরকারি স্কুলে রেনি ডে প্রায় হয় না বললেই চলে । অবশ্য বৃষ্টিও কি আর তেমন করে হয় ! সারাদিন একটানা ঝিম্‌ ঝিম্‌ , ঝম্‌ ঝম্‌ -- দু তিন দিন ধরে চলছে তো চলছেই । ভাড়া বাড়ির চুনকাম করা সাদা দেওয়াল ফেঁপে উঠছে , ড্যাম্পের দাগে চোখের সামনে ভেসে উঠছে নানা অচেনা পশু-পাখির মুখ , বাবা একদিন কোনওরকমে অফিস গেল তো পরের দিন গেল না , মা উনুন না ধরিয়ে স্টোভে হাঁড়িতে চাল- ডাল- আলু- টমেটো-লঙ্কা ফেলে খিচুড়ি বানিয়ে নিল – তেমন বর্ষা আর আজকাল হয় কোথায় ! সুতরাং রেনি ডে-ই বা কেমন করে হবে !
কয়েক পশলা লোকাল বৃষ্টিতে অবশ্য মাঝে মধ্যে কোনও কোনও ফ্ল্যাটের সামনের রাস্তায় জল জমে – তখন আটকেও যায় কেউ কেউ , তবে সবাই তো আর নয় । ফলে রেনি ডে হয় না । মোদ্দা কথা হল অলোকেশ বুঝেছে বিশ্ব যত এগোবে রেনি ডে তত কমবে । তবে বিশ্ব যে এখনও ততটা এগোয়নি বুধবার দুপুর বিকেল থেকেই অফিসে বসে তা টের পেল সে । অঝোর ধারায় নেমেছে । রিমাকে একবার চেষ্টা করল । মোবাইলটা বেজে গেল । বোধহয় ক্লাসে । রিমা যে প্রাইভেট স্কুলটায় পড়ায় সেটা এখনও বোর্ডের অ্যাফিলিয়েশান পায়নি , মাইনেও কম – তবে আজ না হয় কাল অ্যাফিলিয়েশান পেয়ে যাবে । সে জন্যই তো আরও লেগে থাকা । নইলে অলোকেশের একার পক্ষে ফ্ল্যাটের ই এম আই দিয়ে , বুবাইয়ের স্কুল-খরচ মিটিয়ে সংসার টানা প্রায় অসম্ভব হত । বৃষ্টিটা আরও জাঁকিয়ে এল । ওদের ফ্ল্যাটের ব্যালকনিটা এমনিতে ছোট । এখনও কাচ দিয়ে ঘেরা হয়নি । জামা-কাপড়গুলো ওখানেই কেচে মেলা থাকে । ভিজে না যায় । কিছু করার নেই অবশ্য।
২.
বুবাইয়ের সঙ্গে অলোকেশের সম্পর্কটা সার্কাস- সার্কাস , তুই- তুই , কিছু পারিস না- কিছু পারিস না।বুবাই সাত , অলোকেশ ছত্রিশ । তাকে বুবাই বাবা বলে না, ভাল্লুক বলে। নামটা কোথা থেকে কীভাবে আমদানি করেছে কে জানে ! এমন হয়। অলোকেশও ছোটবেলার এক জেঠিমাকে মিনাম বলত।
‘কিছু হোমওয়ার্ক আছে ?’ বুবাইকে জিজ্ঞেস করল সে। টিনটিন থেকে মুখ তুলে বুবাই বলল ,‘ থার্মোকল বল এনেছিস ? একটা ওয়ান ফোর্থ কালার চার্ট পেপারে কাউন্টিং অফ টেনস করতে হবে ।’ ভাগ্যিস অফিসে ঢোকার আগেই থার্মোকল বলের প্যাকেটটা কিনেছিল । না হলে ফিরতি পথে বৃষ্টিতে আর সম্ভবই হত না । চার্ট পেপার আগেই কেনা আছে । ‘টিনটিন ইন টিবেট’ বিছানায় রেখে মাটিতে নেমে এল বুবাই । চার্টপেপার , ফেভিস্টিক , পেনসিল বক্স , কাঁচি , আর নানা রঙের থার্মোকল বল নিয়ে বসে পড়ে ওরা । কাজটা তেমন কিছু নয় । চার্ট পেপারের ওপরে কার্সিভে কাউন্টিং অফ টেনস লিখে স্কেচপেন দিয়ে আন্ডারলাইন করে বুবাই । তারপর নিচে টেন , টোয়েন্টি আর থার্টি লিখে ফেলে । টেনের পাশে একটা, টোয়েন্টির পাশে দুটো আর থার্টির পাশে তিনটে গোল এঁকে সেই গোলে দশটা দশটা করে থার্মোকল বল আঠা দিয়ে চেটাতে হবে ।
লাল, নীল, হলুদ থার্মোকল বলগুলো বেশ দেখতে । অলোকেশ সেগুলোকে অর্ধেক করে কেটে দিচ্ছিল আর বুবাই গুনে গুনে লাগাচ্ছিল ।‘সমান করে কাটতেও পারিস না ভাল্লুক । এটা ছোট হয়েছে’।‘আর তুই ? আঠাও ঠিক মতো লাগাতে পারিস না’।
‘তুই তো কিছুই পারিস না । পচা ভাল্লুক । কাশে খুক খুক’।‘তবে রে । ছড়া কাটা । তোর ওটা হাতের লেখা হয়েছে ? কাউন্টিং-এর এন টা পড়াই যাচ্ছে না । হাতের লেখা বাজে , লাগে না কোনও কাজে’। পালটা ছড়া কাটে অলোকেশ ।
‘তোর থেকে ভালো যা । বুবাই জবাব দেয়’ ।
ওরা দুজনে সমানে লড়ে যাচ্ছে । রিমা দুজনকে নিয়ে আর পারে না । শেষে বুবাই রান্নাঘরে গিয়ে হয়তো বলবে,‘ভাল্লুক আমাকে শুধু শুধু বকেছে’ । অলোকেশ বলবে, ‘বাজে কথা । মোটেই বকিনি’। বাইরে বৃষ্টিটা একটু ধরে এসেছিল।

৩.
রাতে খাওয়ার পর ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আয়েস করে একটা সিগারেট খাওয়া অলোকেশের প্রতিদিনের অভ্যেস । এটুকুই স্মোকার্স’ জোন । ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছিল । সঙ্গে উড়ো বৃষ্টি । জামাকাপড় একটাও শুকোয়নি । হঠাৎ খেয়াল হল কাল বুবাইয়ের ক্যারাটে ক্লাস । মানে সাদাগেঞ্জি সাদাপ্যান্ট পরতে হবে । ক্যারাটে আর পি টি পরপর দুদিন । একই ইউনিফর্ম । এই ড্রেস স্কুল থেকে একটাই দিয়েছে । স্পেয়ার নেই বলে এসেই কেচে দিতে হয় । দুপুরে বুবাই স্কুল থেকে ফেরার পর গায়ত্রীদি কেচে মেলেও দিয়েছিল । কিন্তু শুকোয়নি। রিমা চারটে নাগাদ স্কুল থেকে ফিরলে গায়ত্রীদি চলে যায় । বুবাই দুপুরে ঘন্টা দুয়েক গায়ত্রীদির কাছে থাকে । মহিলা এমনিতে ভালো , বিশ্বাসীও । সাদা-গেঞ্জি আর প্যান্ট ঘরে পর্দার রডে মেলে ফুলস্পিডে ফ্যান চালিয়ে দিল অলোকেশ ।বাকিগুচ্ছের কাপড় অবশ্য ব্যালকনিতেই রইল। রিমার ভেতরের জামা দুটো
তুলে দিলে হত। ব্যালকনির গ্রিলে ক্লিপ দিয়ে আটকানো । পড়ে যেতে পারে । ভেবেও শেষ পর্যন্ত ও দুটোকে আর ঘরে ঢোকালো না অলোকেশ । বাবা মায়ের বিয়ের খাটে ছত্রী ছিল । বর্ষাকালে ছত্রীতে বেশ কাপড় মেলা যেত । ছত্রীর কাঠ মূল খাটের কাঠের মতো ভালো নয় । তাই মা অনেক সময়েই ছত্রী ফেঁপে যাবে বলে ঘরে দড়ি টাঙাত । এবার টাকা জমিয়ে একটা ভালো ওয়াশিং মেশিন কিনতে হবে । তাতে ড্রায়ার থাকে । জামা-কাপড় নিয়ে এমন সমস্যায় পড়তে হবে না ।
৪.
রাতে বুবাই আর অলোকেশের রেষারেষিটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে । বিশেষ করে বুবাই যতক্ষণ না ঘুমোচ্ছে । তখন রিমাকে একটা কথা বলতে গেলেও বুবাই রেগে যায় । বলে, ‘ভাল্লুক তুই যা।’ তারপর মিষ্টি মতো ছোট্ট ছোট্ট দুটো হাতে রিমাকে জাপটে ধরে । বলে, ‘এটা আমার , পুরোটা আমার । আমার চাই পুরোটা । পচা ভাল্লুক যা । যা যা।’ অলোকেশ হেসে ফেলে । ঠাট্টা করে বলে,
ইদিপাস কমপ্লেক্স-এর হদ্দমুদ্দ । ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় রিমা আর বুবাইয়ের প্রতিবিম্ব দেখা যায়। দুজনেই হাসছে । কপালে যে ছোটো ছোটো টিপ পরে রিমা তা ড্রেসিং টেবিলের আয়নার একদিকের ওপরে আটকে রাখা ওর স্বভাব । টিপের আকার এক রকম , তবে রং আলাদা আলাদা । শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করা । আজকেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল । অলোকেশ পাশের ঘরে গিয়ে পর্দার রডে ঝোলানো ভিজে গেঞ্জি-প্যান্টটাকে উল্‌টে দিল একবার , নাহলে শুকোবে না । অনেক সময় বুবাই ঘুমিয়ে পড়লে রিমা এঘরে আসে । রিমা না আসা পর্যন্ত জেগে কাগজ পড়ে অলোকেশ কিম্বা বইয়ের পাতা ওলটায় । আজ অফিস ফেরতা জলের ছাটে ভিজে গেছে । জুতো ভিজে ছিল বলে পায়ের পাতায় জল । পায়ের ডিমেতে একটু ব্যাথা । ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ল সে । জামা শুকনোর জন্য ফুল স্পিডে ফ্যান চলছিল । শীত শীত করছিল অলোকেশের । পায়ের তলায় রাখা চাদরটা ঘুমের মধ্যেই টেনে নেয় বুক অবধি । ছোটোবেলায় ঘুমের মধ্যে শীত করলে মা গায়ে কখন যেন চুপিচুপি চাদর ঢাকা দিয়ে যেত । মাথার চুলে হাত বোলাত। বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও-বাড়িতেই থাকে। অলোকেশ রিমা মাঝে মাঝে যায় । মাও আসে মাঝে মাঝে । তবে একটানা কিছুতেই থাকতে চায় না । রিটায়েরমেন্টের পর বাবা বানিয়েছিল বাড়িটা । ভাড়া বাসা থেকে নিজেদের বাড়িতে গিয়ে মায়ের খুব সুখ হয়েছিল । অনেকদিন পর অলোকেশের অজান্তেই আজকে স্বপ্নে ধরা দিল ছোটবেলার মা । সেই স্বপ্নের ভেতরে বাইরে একটানা একঘেয়ে বৃষ্টি পড়ছে । তাদের সেই দেওয়াল খসা ড্যাম্প লাগা ভাড়া বাড়ি ।শীত করছে । লোডশেডিং । ঝিঁ ঝিঁ-র শব্দ । মা জিগ্যেস করল, ‘ও দিদি আপনার বাড়িতে আজ কী রান্না হল ?’ সে আর তার মা পাশাপাশি শুয়ে ‘হ্যাঁ-দিদি কী দিদি’ খেলছে । মা আর পাশের বাড়ির জেঠিমা যেমন করে সংসারের গল্প করে ঠিক তেমন করে এ খেলায় গল্প করতে হয় । স্বপ্নঘুমে বড়ো অলোকেশ, ছোটোবেলার মতো বলে ওঠে , ‘চালে-ডালে বসিয়ে দিয়েছি । কালও বাপ্পাকে আর ইস্কুল পাঠাব না। যা বৃষ্টি , জ্বর জ্বর । ’ স্বপ্নে ছোটোবেলার মতো সে হেসেও ওঠে বোধহয় ।
৫.
দু জোড়া সাদা মোজার এক জোড়া কাচা হয়নি আর অন্য জোড়া যে ব্যালকনি থেকে কাল রাতে তুলে শুকোতে দেওয়াই হয়নি এ দুটো ঘটনা সকালে একসঙ্গে যখন আবিষ্কার করল রিমা তখন বৃষ্টি নেই । স্কুল-বাস আসতে আর মিনিট পনেরো দেরি । অন্যদিনের মতো অলোকেশ ঘুম থেকে ওঠেনি । না-কাচা মোজাটা বেশ নোংরা । নতুন পি টি টিচার কড়া মেজাজের । কাজেই ওটা পরে গেলে বকুনি খেতে হবে । অন্যটা আধ-শুকনো, ভিজেই বলা চলে, পরলে জ্বর আসবে । সুতরাং স্কুল যাওয়াই বুঝি বন্ধ করতে হয় । এদিকে বুবাই আজ স্কুলে যাবেইঠিক করেছে । নটি বয়ের সঙ্গে নাকি কী একটা চ্যালেঞ্জ আছে । স্কুলে না গেলে নাকি নটি বয় বলবে সে ভীতুর ডিম । মোজা এপিসোড নিয়ে মা আর ছেলে কাঁই-মাই করছে । দোষ নাকি সবটাই অলোকেশের – কাজ ইন্‌কমপ্লিট রাখাটা ওর স্বভাব । রিমার সঙ্গে বুবাই গলা মেলালো, ‘ভাল্লুক কিচ্ছু পারে না । পচা পচা।’ অলোকেশের ঘুম ভাঙলেও তখনও রাত স্বপ্নের ঘোর কাটেনি । চেঁচামেচির মধ্যে চুপ করে ঠায় বসেছিল । অন্যদিন রিমাকে, বুবাইকে রেডি করার কাজে, ও অনেক সাহায্য করে । আজ উঠতেই ইচ্ছে করছিল না ।খালি মনে হচ্ছিল ছোটোবেলার মতো মা স্টোভে দুধ বসিয়ে ভুলে গেছে । আর বলছে, ‘নিজের ওপর নিজেরই এতো রাগ ধরে’ ।
ওথলানো দুধ স্টোভের গা-বেয়ে মাটিতে নামছে । বাবা ভুরু কুঁচকে বসে আছে । বুবাই আর রিমার কথা শুনতে শুনতে একসময় মায়ের ঘোর নিয়েই উঠে পড়ে অলোকেশ । ভেজা মোজাটা একটানে হাতে নেয় । রান্নাঘরে ঢুকে কেউ কিছুবোঝার আগেই একটা স্টিলের বাটি কম আঁচে বসিয়ে দেয় ওভেনে।তারপর একটা চিমটে দিয়ে মোজাটা গরম বাটিতে আলতো করে ঠেকায় আর তোলে , তোলে আর ঠেকায় । গরম মোজা থেকে ভাপ উঠতে থাকে । একটুবেশি সময় রাখলেই মোজার ইলাস্টিক বাটিতে আটকে যাবে । বুবাই আর রিমা রান্না ঘরে ওর কাণ্ড দেখছে । বুবাই চীৎকার করছে , ‘এই ভাল্লুক কী হচ্ছে কী? নষ্ট হয়ে যাবে ?’ অলোকেশ কথা শোনে না । একমনে কাজ করে যায় । একবার এ পাটি , আর একবার ও পাটি । মোজাটা প্রায় শুকিয়ে আসছে । অবশ্য একটা জায়গা যেন কুঁচকে গেল একটু । প্রায় শুকনো মোজা দুটোকে নিয়ে খাটে এসেবসে অলোকেশ । পায়ের পাজামাটা একটু করে তুলে মোজা দুটোকে চেপে ধরে নিজের গায়ে । যে টুকু ভিজে আছে এবার তাও শুকোবে ।
রিমা দ্রুত হাতে বুবাইয়ের রুটিন গোছায় , টিফিন বক্স ঢোকায় । অলোকেশতখন মোজায় ফিনিশিং টাচ দিচ্ছে ।মোজা দুটোকে খাটে পাশাপাশি মেলে দেয় । মোজার গোড়ালি আর ইলাস্টিকের জায়গা ভিজে । দ্রুত ইস্ত্রি চালানোর ভঙ্গিতে মোজার ওপর হাতের তালু বোলাতে থাকে ঘন ঘন । মনে মনে বলতে থাকে , ‘ওরে হাত, চল ঘন ঘন / মোজা যেন হয় শুকনো / ওরে ওরে ভাল্লুক / থাকে যেন তোর মুখ।’ মা সেই ছোটোবেলায় শিখিয়েছিল কোন কাজ করার সময় ছড়ার মন্ত্র বানিয়ে নিলে নাকি আর ভয় নেই । বিপদ নেই কোনও । সব ঠিক হয়ে যাবে । বুবাই যে মাঝে মাঝে ছড়া কাটে সে স্বভাবটাও না জেনেই ঠামের কাছ থেকে পেয়েছে । এখন বৃষ্টি নেই । সকালের ব্যালকনি দিয়ে চিলতে রোদ্দুর উঁকি দিচ্ছে । বুবাই স্কুলের জন্য পুরোপুরি রেডি । মোজাও শুকিয়ে গেছে । নটি বয়ের চ্যালেঞ্জ নিতে আর অসুবিধে নেই । অলোকেশ বুবাইকে নিয়ে নিচে নামছে । রিমা হাসি হাসি মুখে ব্যালকনিতে গেল । ওখান থেকে বুবাইয়ের স্কুল বাস দেখা যায় । বুবাই এবার ছড়া কাটছে, সেই ছড়ার ছন্দ-মিল দুই কিন্তু খুবই দুর্বল ।‘ভাল্লুকটা পচা / খালি শুকোতে পারে মোজা।’ ‘ভাল্লুকটা পচা / খালি শুকোতে পারে মোজা।’ একই ছড়া বারবার সুর করে বলতে বলতে ব্যালকনির রিমার
হাসিমুখের তলা দিয়ে গিয়ে স্কুল বাসে উঠে পড়ে বুবাই ।

আপনার মতামত জানান