প্রভাব

দেবাঞ্জন মুখোপাধ্যায়


শালপাতার বাটিতে সবে প্রথম ফুচকাটা পড়েছে এমন সময় পিণ্টুদার ধমক শুনে চমকে উঠল তিয়াসা। পিণ্টুদা তাদের স্কুলবাসের ম্যানেজার। সবাইকে গুনে গুনে বাসে তোলা আর নামা্নো তার দায়িত্ব। কিন্তু সবার ব্যাপারে বড্ড নাক গলায়।
“আবার আজ এসব! তোমার মা না করে দিয়েছে না! তিন দিন স্কুল কামাই করেছ পেট খারাপের জন্যে। ফেল পাতা, বাসে ওঠো, নাহলে আজ কিন্তু আমি মাকে নালিশ করে দেব”, খিচখিচ করে বলল পিন্টুদা। সত্যি, মাও হয়েছে যেমন! দিল ত দিল এই পিণ্টুদার উপরেই দায়িত্ব দিল তার উপর ‘ওয়াচ’ রাখার। একটু পেট খারাপ হয়েছে তো কি হয়েছে? সে ত সেদিন ওই পাউরুটিটাতে ফাঙ্গাস হয়ে গেছিল বলে। বাবাই তো দেখে বলল। কত করে মাকে না করল ওই পাউরুটি দিতে, মা শুনলনা। ছুরি দিয়ে ফাঙ্গাসওয়ালা জায়গাগুলো বাদ দিয়ে দিয়ে নিজে খেল। ওকেও বোধহয় তাই দিয়েছে। অথচ আজ ও একটু ফুচকা খেতে পারবে না! বাসের বন্ধুরা ওদিকে তাকে ফ্যাসাদে পড়ে যেতে দেখে হাসাহাসি করছে। রিতিমত ‘ইন্সাল্টেড’ লাগল তিয়াসার।
“কি হল, কথা যাচ্ছেনা কানে? তুমি বাসে উঠবে নাকি আমি এক্ষুনি ফোন করব”, ফের ধমকে বলল পিণ্টুদা। ভিজে নরম হয়ে আসা ফুচকা সমেত বাটিটা রাস্তায় ফেলে ফুচকাওালাকে টাকা দিয়ে গটগট করে হেটে গিয়ে বাসে উঠে পরল তিয়াসা। ক্লাস নাইনের পায়েলদি রোজ তার পাশের সিটে বসে। এক বছরের বড় বলে দিদি ডাকতে হয় কিন্তু এমনিতে দুজনের খুবই বন্ধত্ব। বাস ছেড়ে দেওয়ার পর পায়েলদি বলল, “ব্যাটাকে একদিন জব্দ করতে হবে। এমন একটা কমপ্লেইন করব না, ওর বাসে সবার উপর মনিটারি করা বেরিয়ে যাবে। “তিয়াসার কথা বলতে ইচ্ছে করছিল না, রাগে, দুঃখে চখে জল এসে গেছে। কিন্তু পায়েলদির কথাটা ভাল লাগল তার। পায়েলদির পিন্টুদার উপরে রাগের কারণটা তিয়াসা জানে। সেদিন স্কুলের পর সংযুক্তা আন্টির সাথে দেখা করে ওনার সাথে বাড়ি ফিরবে বলে বাসে ওঠেনি পায়েলদি, কিন্তু পিণ্টুদার এমন চোখ, ওকে ঠিক দেখে ফেলেছিল বিবেকানন্দ পার্কের মধ্যে ক্লাস টেনের অভিরুপদার সাথে। ব্যাস, অমনি নেমে গিয়ে ধরে এনেছিল পায়েলদিকে আর বাস স্ট্যান্ডে ওর বাবাকে কমপ্লেইন করে দিয়েছিল।
“ধ্যাত, ইডিওটের মত কাদছিস কেন? চল একটা প্ল্যান করি ওকে টাইট দেওয়ার,” বলল পায়েল। তিয়াসা মুখে কিছু বলল না, মনে মনে ভাবল পায়েলদি বলছে বটে কিন্তু অত ‘ইজি’ হবেনা ব্যাপারটা। স্কুলের সব টিচার আর স্টাফেরা পিন্টুদাকে খুব ভালবাসে, বিশ্বাস করে। ওর নামে কমপ্লেইন করলে ওরা বিশ্বাস করবে? খিদে পাচ্ছিল খুব তাই টিফিনবক্সে জমিয়ে রাখা জ্যাম পাউরুটিতে কামড় দিল সে।
**********
মুডটা এত অফ হয়ে গেছে যে সন্ধ্যেবেলা পড়ায় মন বসল না তিয়াসার। পড়াশোনায় সে খুবই ভাল, প্রতি বছর স্ট্যান্ড করে ক্লাসে, তাই মাঝে মাঝে ব্রেক নিতে চাইলে বাবা, মা বকাবকি করেনা। কিন্তু এখন সে করবেই বা কি? একটু টিভি দেখারও উপায় নেই। সন্ধ্যেটা হল বাবার নিউজ দেখার সময়। তবুও সে বসার ঘরেই গেল। বাবার কোলে মাথা দিয়ে শুল। এভাবে শুলেই বাবা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। আজও তাই হল। রোজকারের মত নিউজ চ্যানেলে কয়েকজন লোক জড়ো হয়েছে ‘ডিস্কাশনের’ জন্যে। শহরে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঘটনা বেড়ে গেছে, তাই নিয়েই বকবকানি চলছে। তিয়াসা আগে এই কথাগুলোর মানে জানত না কিতু আজকাল এগুলো এত শুনছে যে দিব্যি বুঝতে পারে। সেদিন তো বেশ একটা মজার ঘটনাই ঘটে গেল স্কুলে। বাংলা টিচার কলকাতা শহরের উপর ‘এসে’ লিখতে দিয়েছিল, বলেছিল চারপাশের সব ঘটনা, যেমন দুর্গা পুজো, দিওয়ালি এবং অন্যান্য সব উৎসব নিয়ে লিখতে। তিয়াসার মনে হয়েছিল সেসবের পাশাপাশি নিউজ চ্যানেলের ডিস্কাশনের সাব্জেক্টগুলো নিয়েও লেখা উচিত। লিখেওছিল, কিন্তু তখন অবধি কথাগুলো শুধু কানেই শোনা ছিল, তাই ‘ধর্ষণ’ লিখতে গিয়ে ‘দর্শন’ লিখে ফেলেছিল। ও মাথা খাটিয়ে এই ব্যাপারে লিখেছে বলে টিচার ‘গুড’ বলেছিল আর স্পেলিংটা কারেক্ট করে দিয়েছিল।
টিভিতে জোর ‘আর্গুমেন্ট’ চলছে। একজন টিচার টিচার দেখতে ভদ্রমহিলা বললেন, “কোনো মেয়ে নিজের নামে এরকম অভিযোগ বানিয়ে বানিয়ে করতে পারেনা। কোর্টের নির্দেশ আছে এরকম অভিযোগ আসলেই পুলিশকে অ্যাকশন নিতে হবে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে”। ব্যাপারটা বেশ ‘ইন্টারেস্টিং’ লাগল তিয়াসার। অন্যান্যরাও নানান ওপিনিওন দিচ্ছে এই ব্যাপারে। এরই মধ্যে আলোচনায় ইন্ধন জুগিয়ে ‘ব্রেকিং নিউজ’ এল, গ্রামের দিকে কোনো একটা স্কুলে তিয়াসারই বয়সি একটি মেয়ে এরকমই অভিযোগ করেছে স্কুলের পিওনের নামে। দেখতে দেখতে বাবার কোল ছেড়ে টান হয়ে বসল তিয়াসা কিন্তু ব্যাপারটা ডিটেলে শোনা হল না। মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, “একি মাম, তুমি এখন এখানে কি করছ? এটা কি তোমার টিভি দেখার সময়?” মা একদম পছন্দ করেনা তিয়াসার সন্ধ্যেবেলা টিভি দেখা। সে বলল “আজ পড়তে ইচ্ছে করছেনা মা তাই বাবার কাছে বসে আছি”। “পড়তে ইচ্ছে করছে না তো ঘরে গিয়ে সিন্থেসাইসার প্র্যাকটিস করো”, জোর ধমক দিল মা। বাবার ইচ্ছে ছিল মেয়ে সাথেই থাকুক কিন্তু মার কথার উপর কিছু বলল না। উঠে পড়ল তিয়াসা। ঘরে যেতে যেতে শুনল মা বাবাকে মেজাজ করে বলছে, “তোমার কি কোনো সেন্স নেই? মেয়ের সামনে বসে এসব আলোচনা শুনছ? চ্যানেলটা চেঞ্জ করে দিতে পারলেনা! এই একই জিনিস নিয়ে রোজ আলোচনারই বা কি আছে আর সেসব শোনারই বা কি আছে বুঝিনা।এত আলোচনা করে কমছে কি অন্যায়, অপরাধ একটুও?”
ঘরে বসে টিভির ডিস্কাশনটা নিয়েই ভাবতে লাগল তিয়াসা আর হঠাতই মাথায় একটা প্ল্যান এসে গেল।নোটবুক থেকে পায়েলদির বাড়ির ফোন নাম্বার বের করে ডায়াল করল সে। পায়েলদিকে তার প্ল্যান বলল। প্ল্যান শুনে তো পায়েলদি একদম ‘এক্সাইটেড’। বলল, “দাড়া, আমাকে একটু ভাবতে দে। কি ভাবে কি করবি কাল বাসে উঠে তোকে বুঝিয়ে দেব। তুই জাস্ট সেটা ফলো করবি, ওকে? চল, কাল আমরা ধর্ষণ ধর্ষণ খেলব!”
********
পরদিন বাসের সিটে বসে ঘন ঘন ঘড়ি দেখতে লাগল তিয়াসা। কতক্ষণে যে বাসটা এইট বি স্ট্যান্ডে পৌছবে! ওখান থেকেই বাসে ওঠে পায়েলদি। অন্যান্য দিন বাকি বন্ধুদের সাথে গান, হাসি, মজা করতে করতে যায় তিয়াসা কিন্তু আজ সেসবে তার মন নেই। এইট বি পৌছতেই বাসের দরজার দিকে তাকাল তিয়াসা। হ্যা, ওই তো পায়েলদি উঠছে। দুজনে ঠিক করে নিল কি করতে হবে। প্ল্যান অনুযায়ী বাসটা গোলপার্কের কাছে পৌছোতেই তিয়াসা চেচিয়ে বলল, “পিন্টুদা, জানলাটা একটু ঠেলে দাও না, খুব গরম লাগছে”। পিন্টু এগিয়ে এসে জানলা ঠেলার জন্যে ওর দিকে ঝুকতেই পায়েল চেচিয়ে উঠল, “একি পিন্টুদা তুমি ওর গায়ে হাত দিচ্ছ কেন? শার্টের বাটনে হাত দিচ্ছ কেন?” পিন্টু চমকে উঠে সরে দাড়াল। “এ কি বলছে ওরা? আমি তো কিছুই করিনি”, প্রচন্ড ভয় পেয়ে গিয়ে মনে মনে বলল সে। জানলা খুলতে গেলে একটু তো ঝুকতেই হবে। এছাড়া তো আর কিছুই সে করেনি!
গোলপার্কের মোড়ে তখন অফিসযাত্রীদের ভিড়। তারই মধ্যে ওরা চেচ্যামেচি করে চলেছে। তিয়াসা নিজেই জানলা ঠেলে দিয়ে বাইরে মুখ বের করে চেচাতে লাগল, “প্লিজ হেল্প! এই লোকটা আমার সাথে অসভ্যতা করছে।” এই লাইনটাও পায়েলদিরই শেখানো। ওর চিৎকারে খুব দ্রুত কাজ হল।জনা কয়েক লোক আর মহিলা হুড়মুড় করে বাসের ভিতরে ঢুকে এসে পিন্টুর গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে রাস্তায় নামিয়ে নিল। তিয়াসা দেখল পিন্টুদা খুব ভয় পেয়ে গেছে, প্রায় কেঁদে ফেলেছে। বলছে, “আমি কিছু করিনি বিশ্বাস করুন। ও জানলা খুলে দিতে বলেছিল তাই আমি গেট ছেড়ে ভিতরে গেছিলাম। আপনারা অন্য বাচ্চাদের জিগ্যেস করুন”। লোকগুলো শুনলনা পিন্টুদার কোনো কথা, এলোপাথাড়ি মারতে লাগলো তাকে।বাসে উঠে আসা একজন ভদ্রমহিলা তিয়াসাকে কোলে টেনে নিয়ে বললেন, “ভয় পেও না, ঠিক কি করেছে বলো তো?” আরেকজন বললেন, “ আরে ভীষণ অসভ্য ছেলে! আমি তো দেখেছি কিভাবে ঝুকে পড়েছিল মেয়েটার উপর।
স্কুলে সেদিন পড়াশোনা মাথায় উঠল সবার। শুধু তিয়াসাকে নিয়ে হইচই। স্টাফরুমে সব টিচাররা তাকে জিগ্যেস করতে লাগল ঠিক কি হয়েছিল আর তিয়াসাও একই উত্তর দিয়ে চলল সবাইকে-“আমার সাথে অসভ্যতা করেছে”। এর বেশি আর এগোতে পারছেনা সে। এগোবে কি করে, এইটুকুই যে ছিল প্ল্যানে!ঘন্টখানেক পরে পুলিশ এল পিন্টুদাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। পিন্টুদা এখন আর কিছুই বলছে না, চুপ করে বসে আছে স্টাফরুমের বাইরের বেঞ্চটার উপর। একটু পরে মা স্কুলে এল কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার, ওকে কিচ্ছু জিগ্যেস করল না। মায়ের তাকানোটা দেখে একটু ভয়ই লাগলো তিয়াসার। “মা কি তাহলে বিশ্বাস করছে না ব্যাপারটা”, মনে মনে ভাবলো সে। গোলপার্কের মোড়ের লোকগুলোর সাথে খানিকক্ষন কথা বলল মা। তারপর হেডমিস্ট্রেসকে বলল, “আমি ওর সাথে একটু কথা বলতে চাই”।
সটাফরুম থেকে বেরিয়ে লাইব্রেরির দিকে যাওয়ার সময় তিয়াসা দেখল পিন্টুদা বেঞ্চটার উপর বসে হাউহাউ করে কাঁদছে আর ওর সামনে বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একজন মহিলা। নিশ্চয়ই ওর বৌ। এবার একটু খারাপ লাগলো তার। বোধহয় একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে সে, মনে হলো তিয়াসার। ফাকা লাইব্রেরির একটা চেয়ারে ওকে বসিয়ে রেখে মা দরজাটা ভেজিয়ে দিল। তারপর সেখানে দারিয়েই বলল, “মাম, সত্যি করে বলো কি হয়েছিল। তুমি জান না কত বড় একটা কান্ড করেছ। সত্যি কথা বলবে কিন্তু, নাহলে আমি আর কোনোদিন তোমার সাথে কথা বলবো না আর তুমিও আমাকে আজ থেকে আর মা বলে ডাকবে না”। এই টোনটা তিয়াসার খুব চেনা। মা প্রচন্ড রেগে গেলে এই ভাবে কথা বলে। মায়ের চোখের দিকে একবার তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিল সে। ভেঙ্গে পড়ল কান্নায়। সব কথা খুলে বলল মাকে।
এরকমই আন্দাজ করেছিলেন মা স্নিগ্ধা দত্ত। মনস্তত্বের ছাত্রী ও বিশেষজ্ঞ স্নিগ্ধা শারীরিকভাবে নির্যাতিত হওয়া একটা মেয়ের চোখে মুখে যে আতঙ্কের ছাপ থাকা উচিৎ তা দেখেননি তার মেয়ের চোখের চাহনি আর শরীরি ভাষায়। মেয়ের কথায় একই সাথে আশ্বস্ত আর আতঙ্কিত বোধ করলেন তিনি। যা শুনে ছুটে এসেছেন ঘরের দরজায় কোনো রকমে একটা হুড়কো এটে, তা সত্যি নয়, এ কথা তাঁকে আশ্বস্ত করছে বটে কিন্তু তিনি আতঙ্কিত হচ্ছেন এর পর কি করবেন তা ভেবে। কি বলবেন এবার তিনি সকলকে? নিজের মেয়েকে দোষী বলে চিনহিত করতে পারবেন সবার সামনে? মা হয়ে মেয়ের গায়ে লাগতে দিতে পারবেন এই কাদা? পারা কি সম্ভব? আর যদি না পারেন তাহলে ওই গরিব, নির্দোষ ছেলেটার জীবন নষ্ট করে দিতে হবে তাঁকে। এমন একটা ছেলে যাকে তিনি শুধু চেনেনই না, ভীষণ রকম বিশ্বাসও করেন।
এগিয়ে এসে মাথা নিচু করে বসে থাকা মেয়ের সামনে দাড়ালেন স্নিগ্ধা। থুতনিটা ধরে মেয়ের মুখটা তুলে বললেন, “কেন এরকম করলে তুমি মাম? তুমি জান ধর্ষণ মানে কি? জান ওই গরিব ছেলেটার কত বড় ক্ষতি করলে? তোমার নিজের কত বড় সর্বনাশ করলে? তোমার একবারও মনে হলো না যে সত্যি কথাটা জানতে পারলে সবাই তোমাকে কতটা খারাপ ভাববে? তুমি কি করে ধরে নিলে সবাই তোমার এই মিথ্যেটা বিশ্বাস করবে?” তিয়াসা চোখ মুছতে মুছতে বলল, “সবাই তো বিশ্বাস করছে মা। টিভি চ্যানেলগুলো তে যে রোজ দেখায়, সবাই তো বিশ্বাস করে”!
মেয়ের এই কথার কোনো উত্তর খুজে পেলেননা স্নিগ্ধা। ঠিক বুঝে উঠতে পারলেননা কাকে দায়ী করবেন তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটার জন্যে। সেদিন মেয়ের স্কুলের বাংলা খাতার পাতাতেই অশনি সঙ্কেত দেখেছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যেবেলাও টিভির সামনে বসে থাকা মামের দৃষ্টি ভাল লাগেনি স্নিগ্ধার। কিন্তু আসল দোষী কে? প্রশাসন, যার উদাসীনতার জন্যে মেয়েদের উপর ঘৃণ্য অত্যাচারের ঘটনা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে গ্রাম থেকে শহরে নাকি টিভি চ্যানেলগুলো যেখানে আলোচনার নামে প্রতি সন্ধ্যায় আড্ডা বসছে এই সব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে? নাকি তাঁদের মতো অভিভাবকরা যারা তাঁদের সন্তানদের ঠিকমতো শাসন করতে পারেননা, বোঝাতে পারেননা কোনটা তাদের দ্রষ্টব্য আর কোনটা নয়? মনে মনে নিজেকেই দোষী সাব্যস্ত করলেন স্নিগ্ধা কারন বাকিরা তাদের দোষটা দেখবে না। প্রশাসন ঘুমিয়েই থাকবে কারন সে জানে তার পিছনে জনসমর্থন আছে, পাঁচ বছর ঘুমিয়ে থাকার অনুমতিপত্র আছে। টিভি চ্যানেলও ভাববে না প্রাইম টাইমে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো বিষয় নিয়ে আড্ডা বসানোর কুপ্রভাবের কথা, কারন ওতেই আছে দর্শক টানার চুম্বক। অভিভাভকেরা যদি তাঁদের সন্তানদের আড়াল করতে না পারেন, তার দায় তো তাদের। কোথায় কোন কিশোরীর মনে তাদের একটা অনুষ্ঠানের কুপ্রভাব পড়বে তার জন্যে টিভি চ্যানেল ‘সমাজ সচেতনতার’ কাজ বন্ধ রাখবে! এটা হয় নাকি?
স্নিগ্ধা বেরিয়ে এলেন মেয়েকে নিয়ে। স্টাফরুমে পুলিশ বসে আছে পিন্টুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। স্নিগ্ধা জানেন সেটা অন্যায় কিন্তু ন্যায়বিচার করার মতো জায়গায় কি আছেন তিনি? সেই ন্যায়বিচারের বিপুল ওজন যে তিনি নিতে পারবেন না। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁকে আজ একটা মিথ্যেকেই সমর্থন করতে হবে।

আপনার মতামত জানান