তাঁরা

বংপেন (তন্ময় মুখোপাধ্যায়)


-আরে বাবা কেউ দরজাটা খোল, কখন থেকে কড়া নেড়ে চলেছি...বিশ্রি মানুষ তোরা...

-কে এসেছেন ?

-যাক এতক্ষনে অন্তত কেউ ডাক শুনেছে , বলছি দরজাটা খোল তাড়াতাড়ি।

-দরজা খোলার ভার যার ওপর সে কিছুক্ষনের জন্যে নেই। আপনি একটু অপেক্ষা করুন।

-তুই একটু প্লিজ খুলে দে না , এই এলাম। ঘেমে-নেয়ে একাকার। ভিতরে ঢুকে আগে একটু জিরিয়ে নিই।

-দরজা খোলার অধিকার যে আমার নেই ভাই। একটু দাঁড়াও, তাঁর আসার সময় হল বলে। তোমার কণ্ঠস্বর শুনে মনে হয় বয়স অল্প-তুমি করে ডাকছি।

-অবশ্যই। তুই করে বল না। আমি কিন্তু পাইকারি হারে তুই চালিয়ে থাকি।

-অসুবিধে নেই।

-তোর কন্ঠস্বর চেনা ঠেকছে।

-বটে।

-হ্যাঁ ? তুই কি ...? তুই কি...?

-হ্যাঁ, আমিই। তোমার গলাও আমি বেশ চিনেছি। এ বয়েসে এ অঞ্চলে ঢুঁ মারবে ভাবিনি। মনে হয় দারোয়ান-বাবুর সহজে পাত্তা মিলবে না। একটু না হয় তোমার জন্যে নিয়ম ভাঙলাম। দাঁড়াও, দরজা খুলে দিই।

-বাঁচালি, এখানেও দেখছি কলকাতার মত ভ্যাপসা গরম।

সত্যজিৎ দরজা খুলে ঋতুপর্ণ’কে ভেতরে নিয়ে গেলেন।

(ঋতুপর্ণর মৃত্যুর পরের দিন লেখা)

আপনার মতামত জানান